কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ফের হামলা

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ফের হামলার শিকার হয়েছেন। সোমবার সকাল ১১ টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ করতে জড়ো হলে তাদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আন্দোলনকারী এক ছাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন হামলাকারীরা।

হামলাকারীরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের বেশ কিছু কলেজের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সানি।

মেহেদী হাসান সানী বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল তারা পতাকা মিছিল করবে। আর পতাকার লাঠি হামলার কাজে ব্যবহার করবে। তাই আমরা প্রতিহত করেছি। নাশকতা ঠেকাতে তাদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে।’

হামলার সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক ও একজন ছাত্রীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি আবুল হোসেন। তবে তিনি এ বিষয়ে এর বেশি কথা বলতে রাজি হননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে পূর্ব ঘোষিত মানববন্ধন ও পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালন করতে আজ সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে কোটা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানসহ আন্দোলকারীদের বেদম পিটুনি দেয়। এরপর দুইজনকে তুলে নিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেছে। এছাড়াও আরও কয়েকজনকে থানায় নিয়ে গেছে ছাত্রলীগ। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নারী শিক্ষার্থীদেরও নিপীড়ন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এর আগে, সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে থাকে ছাত্রলীগ। মধুর ক্যান্টিন থেকে টিএসসি, শাহবাগ ও শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে তারা। ক্যাম্পাসের কোথাও কাউকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। আন্দোলনকারী হিসেবে কাউকে সন্দেহ হলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ১৫-২০ জন মানববন্ধনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন এসে আমাদের ওপর হামলা করে। আমি দৌড় দিয়ে পালাতে পারলেও ফারুকসহ কয়েকজনকে মারধর করে তারা। পরে ফারুকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর নাহার মিলা বলেন, গত শনিবার সংবাদ সম্মেলন করতে না দেওয়া এবং হামলার প্রতিবাদে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল আজ। আমরা শহীদ মিনারে আসতেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের উপর হামলা করে। মেয়েদেরকেও তারা লাথি-ঘুষি মেরেছে। একজন মেয়ের মাথাও ফেটে গেছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরসহ সাত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর রোববার কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেক নেতা রাশেদ খানকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর