ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভয়মুক্ত ভোটের নিশ্চয়তা সেনাবাহিনীর ভূমিকায় গণতন্ত্রের নিরাপত্তা সময় নষ্ট না করে নেতাকর্মীদের মাঠে নামার আহ্বান তারেক রহমানের তফসিলের পর বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ–আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন আসিফ মাহমুদ, পদত্যাগের গুঞ্জন ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে : মমতা প্রাথমিকে শীতকালীন ছুটি বাতিল করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেল টাঙ্গাইলের শাড়ি বুননশিল জামায়াতের মুখে মুখে বিপ্লব আর অন্তরে আওয়ামী লীগ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মানসম্পন্ন কন্টেন্ট নির্মিত হলে দেশের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছাবে: তথ্য উপদেষ্টা ৪ দিন আগে চাকরি পান গৃহকর্মী, হত্যার দিন দুই ঘণ্টা ফ্ল্যাটে

রানা দাশের ভারতের সহায়তা চাওয়া রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত ও অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চাওয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের মন্ত্রী, রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের ভাষ্য, একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাওয়া কোনোভাবেই শোভন নয়। এটা রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের শামিল।

যে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হয়ে রানা দাশগুপ্ত ও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের পদক্ষেপ কামনা করেছে, সেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও তাদের এই বক্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দেশের সরকার বাদ দিয়ে অন্য দেশের সরকারের পদক্ষেপ চাওয়া কাম্য নয়।

গত রবিবার বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই নেতা রানা দাশগুপ্ত ও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে হিন্দুদের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ দাবি করে তাদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ চান বলে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই খবর পরিবেশন করে। এ নিয়েই দেশে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

রানা দাশগুপ্ত পিটিআইকে বলেন, “বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দুরা ঝুঁকির মুখে। আমরা মনে করি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ভারত এ ক্ষেত্রে কিছু করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আমাদের বড় আশা রয়েছে।” রানা আরও বলেন, “ভারত যদি এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা চায় তাহলে আমাদের দেশে (বাংলাদেশে) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিনাশ করা বন্ধ করতে তাদের (ভারত) পদক্ষেপ নিতে হবে।”

পিটিআইয়ের খবরে পিযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে কথা বলা হয়, “এ অঞ্চলে ভারত একটি বড় শক্তিধর দেশ। প্রতিবেশী দেশে যখন হিন্দুদের নৃশংসভাবে জবাই করা হয় ভারত তখন অলস বসে থাকতে পারে না।”

হিন্দু পুরোহিত হত্যার পর বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন তাদের কর্মকর্তাদের নিহতের পরিবার ও আশ্রমের সহযোগীদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পাঠানোর প্রশংসা করে রানা দাসগুপ্ত ও পিযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভারতকে এর চেয়ে বেশি কিছু করতে হবে।

তাদের এসব বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে জানান, “পরিস্থিতি ঘোলাটে করতেই তারা এসব কথাবার্তা বলছে। তারা অন্য দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে। তবে এটা মোটেই ঠিক নয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “এসব তো আসলে স্পর্শকাতর বিষয়। কথা না বলাই ভালো। দেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো। কিছু লোক আছে সুযোগসন্ধানী। তারা সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।”

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ আলম লেনিন  বলেন, “বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যে হামলাগুলো হয়েছে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। এটা দমনের জন্য বাংলাদেশের সরকার যথেষ্ট ক্ষমতা ধারণ করে। এখানে বাইরের হস্তক্ষেপ নিষ্প্রয়োজন। তবে কেউ যদি বাইরের হস্তক্ষেপ চায়, তাহলে তারা ‘প্রভোক’ করছে বাইরের দেশ যেন আমাদের বিষয়ে মাথা ঘামায়। এটা ঠিক নয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে লেনিন বলেন, “রানা দাশগুপ্ত কী বলেছে সেটা আমি জানি না। তবে যে-ই এসব কথা (মোদীর হস্তক্ষেপ) বলুক না কেন, এটা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধও বটে।”

পিটিআইয়ের খবরে রানা দাশের ভারতের হস্তক্ষেপ কামনার বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ  বলেন, “কোনো জাতিগোষ্ঠী যদি মনে করে যে তারা নিষ্পেষিত হচ্ছে, তাহলে তারা প্রতিকার চাইতে পারে। তবে সেটা চাইতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে। বিদেশি কোনো রাষ্ট্রপ্রধান তো আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা হয়তো চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সে জন্য বিদেশিদের কাছে গিয়ে আমাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা ঠিক নয়।”

রানা দাশের কথা মানতে পারছেন না হিন্দু নেতারা

রানা দাশগুপ্ত ও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন হস্তক্ষেপ কামনা মানতে পারছেন না সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারাও। তাদের ভাষ্য, দেশে একজন নাগরিক হিসেবে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ কামনা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধের শামিল।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল  বলেন, “রানা দাশগুপ্ত দাবি করেছেন তিনি এ কথা বলেননি। তবে কেউ যদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা  নিয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ কামনা করে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

বিএনপির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে নিরাপত্তা চাওয়া অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। রানা দাশগুপ্ত কোনোভাবেই এ ধরনের সাহায্য চাইতে পারেন না।”

দুই হিন্দু নেতার ভারতের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অবশ্য বলেছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাইরের কোনো দেশ বা সরকারের সহায়তা চাওয়ার প্রয়োজন নেই।  তবে কেউ উদ্বেগ জানালে সরকার সেটি বিবেচনা করে দেখবে।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে ভারতের সহায়তা চেয়ে তাদের যে বক্তব্য প্রচার হয়েচে ওই অংশ অস্বীকার করেছেন রানা দাশগুপ্ত ও অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। রানা দাশগুপ্ত বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও তাদের মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে তিনি পিটিআইয়ের ওই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাননি।

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পিটিআইকে সাক্ষাৎকার দিলেও যেভাবে তার বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, সেভাবে তিনি বলেননি।

তবে পিটিআই বলছে, তাদের ভুলভাবে উদ্ধৃত করার কোনো সুযোগ নেই। রানা দাশগুপ্ত যেভাবে বলেছেন, তাকে ঠিক সেভাবেই উদ্ধৃত করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রানা দাশগুপ্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবাদও পাঠাননি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়মুক্ত ভোটের নিশ্চয়তা সেনাবাহিনীর ভূমিকায় গণতন্ত্রের নিরাপত্তা

রানা দাশের ভারতের সহায়তা চাওয়া রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল

আপডেট টাইম : ০৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুন ২০১৬

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত ও অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চাওয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের মন্ত্রী, রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের ভাষ্য, একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাওয়া কোনোভাবেই শোভন নয়। এটা রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের শামিল।

যে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হয়ে রানা দাশগুপ্ত ও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের পদক্ষেপ কামনা করেছে, সেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও তাদের এই বক্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দেশের সরকার বাদ দিয়ে অন্য দেশের সরকারের পদক্ষেপ চাওয়া কাম্য নয়।

গত রবিবার বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই নেতা রানা দাশগুপ্ত ও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে হিন্দুদের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ দাবি করে তাদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ চান বলে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই খবর পরিবেশন করে। এ নিয়েই দেশে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

রানা দাশগুপ্ত পিটিআইকে বলেন, “বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দুরা ঝুঁকির মুখে। আমরা মনে করি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ভারত এ ক্ষেত্রে কিছু করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আমাদের বড় আশা রয়েছে।” রানা আরও বলেন, “ভারত যদি এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা চায় তাহলে আমাদের দেশে (বাংলাদেশে) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিনাশ করা বন্ধ করতে তাদের (ভারত) পদক্ষেপ নিতে হবে।”

পিটিআইয়ের খবরে পিযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে কথা বলা হয়, “এ অঞ্চলে ভারত একটি বড় শক্তিধর দেশ। প্রতিবেশী দেশে যখন হিন্দুদের নৃশংসভাবে জবাই করা হয় ভারত তখন অলস বসে থাকতে পারে না।”

হিন্দু পুরোহিত হত্যার পর বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন তাদের কর্মকর্তাদের নিহতের পরিবার ও আশ্রমের সহযোগীদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পাঠানোর প্রশংসা করে রানা দাসগুপ্ত ও পিযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভারতকে এর চেয়ে বেশি কিছু করতে হবে।

তাদের এসব বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে জানান, “পরিস্থিতি ঘোলাটে করতেই তারা এসব কথাবার্তা বলছে। তারা অন্য দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে। তবে এটা মোটেই ঠিক নয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “এসব তো আসলে স্পর্শকাতর বিষয়। কথা না বলাই ভালো। দেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো। কিছু লোক আছে সুযোগসন্ধানী। তারা সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।”

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ আলম লেনিন  বলেন, “বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যে হামলাগুলো হয়েছে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। এটা দমনের জন্য বাংলাদেশের সরকার যথেষ্ট ক্ষমতা ধারণ করে। এখানে বাইরের হস্তক্ষেপ নিষ্প্রয়োজন। তবে কেউ যদি বাইরের হস্তক্ষেপ চায়, তাহলে তারা ‘প্রভোক’ করছে বাইরের দেশ যেন আমাদের বিষয়ে মাথা ঘামায়। এটা ঠিক নয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে লেনিন বলেন, “রানা দাশগুপ্ত কী বলেছে সেটা আমি জানি না। তবে যে-ই এসব কথা (মোদীর হস্তক্ষেপ) বলুক না কেন, এটা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধও বটে।”

পিটিআইয়ের খবরে রানা দাশের ভারতের হস্তক্ষেপ কামনার বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ  বলেন, “কোনো জাতিগোষ্ঠী যদি মনে করে যে তারা নিষ্পেষিত হচ্ছে, তাহলে তারা প্রতিকার চাইতে পারে। তবে সেটা চাইতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে। বিদেশি কোনো রাষ্ট্রপ্রধান তো আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা হয়তো চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সে জন্য বিদেশিদের কাছে গিয়ে আমাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা ঠিক নয়।”

রানা দাশের কথা মানতে পারছেন না হিন্দু নেতারা

রানা দাশগুপ্ত ও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন হস্তক্ষেপ কামনা মানতে পারছেন না সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারাও। তাদের ভাষ্য, দেশে একজন নাগরিক হিসেবে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ কামনা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধের শামিল।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল  বলেন, “রানা দাশগুপ্ত দাবি করেছেন তিনি এ কথা বলেননি। তবে কেউ যদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা  নিয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ কামনা করে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

বিএনপির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে নিরাপত্তা চাওয়া অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। রানা দাশগুপ্ত কোনোভাবেই এ ধরনের সাহায্য চাইতে পারেন না।”

দুই হিন্দু নেতার ভারতের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অবশ্য বলেছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাইরের কোনো দেশ বা সরকারের সহায়তা চাওয়ার প্রয়োজন নেই।  তবে কেউ উদ্বেগ জানালে সরকার সেটি বিবেচনা করে দেখবে।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে ভারতের সহায়তা চেয়ে তাদের যে বক্তব্য প্রচার হয়েচে ওই অংশ অস্বীকার করেছেন রানা দাশগুপ্ত ও অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। রানা দাশগুপ্ত বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও তাদের মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে তিনি পিটিআইয়ের ওই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাননি।

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পিটিআইকে সাক্ষাৎকার দিলেও যেভাবে তার বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, সেভাবে তিনি বলেননি।

তবে পিটিআই বলছে, তাদের ভুলভাবে উদ্ধৃত করার কোনো সুযোগ নেই। রানা দাশগুপ্ত যেভাবে বলেছেন, তাকে ঠিক সেভাবেই উদ্ধৃত করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রানা দাশগুপ্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবাদও পাঠাননি।