ঢাকা , রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পিলখানা ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক ঘটনা: সেনাপ্রধান

পিলখানা ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক ঘটনা  বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আজ বুধবার সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহিদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের কর্তৃক সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান নির্দোষ সেনা কর্মকর্তারা, যা জাতির ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে একটি কলঙ্কজনক দিন হিসেবে। পিলখানা ট্র্যাজেডির পর শহিদ পরিবারগুলোর যে সংগ্রামী জীবন শুরু হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শহিদ সেনা সদস্যদের সন্তানরা জীবন গড়ার পথে পিতামাতার স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘শহিদদের প্রতিটি সন্তান, আমাদেরই সন্তান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা তাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা আজও অটুট রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখতে উভয় বাহিনী যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় জীবনে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মতো ঘটনা যেন আর কখনো পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।’

সেনাপ্রধান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আজ এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি পিলখানায় শাহাদাতবরণকারী সেনা সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে আস্থা ও আশার সঞ্চার করেছে। অতি সম্প্রতি দায়িত্বভার গ্রহণ করা সত্ত্বেও দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শত ব্যস্ততার মধ্যেও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে আয়োজন করার জন্য সেনাসদরের এজি শাখা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সেনাপ্রধান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

পিলখানা ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক ঘটনা: সেনাপ্রধান

আপডেট টাইম : ০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিলখানা ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক ঘটনা  বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আজ বুধবার সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহিদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের কর্তৃক সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান নির্দোষ সেনা কর্মকর্তারা, যা জাতির ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে একটি কলঙ্কজনক দিন হিসেবে। পিলখানা ট্র্যাজেডির পর শহিদ পরিবারগুলোর যে সংগ্রামী জীবন শুরু হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শহিদ সেনা সদস্যদের সন্তানরা জীবন গড়ার পথে পিতামাতার স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘শহিদদের প্রতিটি সন্তান, আমাদেরই সন্তান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা তাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা আজও অটুট রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখতে উভয় বাহিনী যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় জীবনে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মতো ঘটনা যেন আর কখনো পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।’

সেনাপ্রধান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আজ এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি পিলখানায় শাহাদাতবরণকারী সেনা সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে আস্থা ও আশার সঞ্চার করেছে। অতি সম্প্রতি দায়িত্বভার গ্রহণ করা সত্ত্বেও দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শত ব্যস্ততার মধ্যেও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে আয়োজন করার জন্য সেনাসদরের এজি শাখা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সেনাপ্রধান।