ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

করোনা মহামারী কালে আমরা এ সব কি দেখছি ও করছি

ড.  গোলসান আরা বেগমঃ কবিড- ১৯ ভাইরাসটি সারা পৃথিবীর মানব সভ্যতাকে তছনছ করে দিচ্ছে। মানুষ মাথায় হাত রেখে বাঁচার উপায় খুঁজছে।গবেষকদের চোখে ঘুম নেই।করোনার ভেকসিন আবিস্কার করার জন্য পৃথিবীর গবেষণাগারে রাত দিন কাজ চলছে।করোনার ভয়ে কাঁপছে মানুষ আর চোখ মুছছে চুপি চুপি। পৃথিবীর শক্তিধর ব্যক্তিরা অত্ম রক্ষার্থে বাংকারে লুকিয়েছে। মানুষ হয়েছে ঘরে বন্দি।কারো মুখে হাসি নেই, প্রকৃতিও জবুথবু অবস্থায় বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।দুঃশ্চিন্তায় কেউ পাগলের প্রলাপ বকছে, অনেকেই স্ট্রোক করে না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছে।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের দেশও প্রতিদিন লাশের বহরে লাশ যুক্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মিরা সহকর্মিদের হারিয়ে চোখের পানি কেন নাকের নিঃশ্বাস ফেলারও সময় পাচ্ছে না।তারা করোনার রুগী সামলাবে,না মৃত্যু ঠেকাবে। করোনা রুগের সনাক্তকারী পরীক্ষায় রয়েছে নানা জটিলতা– রির্পোট পেতে,সেম্পল দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো প্রাথমিক পর্যায়ে। রির্পোট পেতে ইমেইল আইডি দিতে হতো, আমাদের দেশে কয় জনের ইমেইল আইডি আছে।এই শব্দটির সাথেও বহুজন পরিচিত নয়।বেসরকারি ভাবে টেষ্ট করাবেন – গুনতে হবে তিন থেকে চার হাজার টাকা।বেসরকারী হাসপাতালে করোনা রুগীর চিকিৎসা করাবে, প্রতিদিন ব্যয় করতে হবে পষ্ণাশ হাজার টাকা।এ দিকে সরকার বলছে — হাপাতালে সিট ফাঁকা রয়েছে।বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। ডাঃ ফেরদৌস নামে এক জন চিকিৎসক সুদুর অ্যামেরিকা থেকে ছুটে এসেছিলো নিজের দেশের করোনা রুগীদের স্বেচ্ছা শ্রমে সেবা করার জন্য।তাকে রাজাকার রং মাখানো হলো, কোন সুযোগ দেয়া হলো না।

অবশেষে বহুভাবে হেস্তন্যাস্ত হবার পর ৫ জুলাই ২০২০এ কাউকে কিছু না বলে ফিরে গেলো সেই বিদেশের মাটিতে। আবার শুনেছিলাম -আসিফ মাহমুদ নামে এক গবেষক করোনা ভেকসিন আবিস্কার করেছে আমাদের দেশের ল্যাবে বসে।খবরটি শুনে আত্মায় পানি এসেছিলো ফিরে।কিন্তু সে ব্যাপারেও চুড়ান্ত পর্যায়ে আশার আলো দেখলাম না।গণ সস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্টাতা ও রানৈদদতিক ব্যক্তিত্ব ডাক্তার জাফর উল্লাহ এর কিট নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠার পর সেখান থেকেও কোন সুসংবাদ পাওয়া গেলো না। এ সব তাল বাহানার কি হচ্ছে কেউ কি তা বুঝতে পারছে।? জনগনের মনে নানা বিভ্রান্তি তৈরী করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্যই কি এই সব নানা উপসর্গ তৈরী করার চেষ্টা চলছে?

সরকার তো গালে হাত দিয়ে বসে নেই।তার যত কলা কৌশল আছে অত্যান্ত ধৈর্যের সাথে করোনা মুখাবেলায় প্রয়োগ করে যাচ্ছে। করোনা ব্যাধিটি বাংলাদেশের মানুষকে আক্রান্ত করার পর থেকে আওয়ামী ঘরানার মাঠ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মুত্যু ঝুকি মাথায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।আর সরকার বিরুধী সমলোচকরা রাত জেগে টকশো করে সরকারের ত্রুটি বিচ্যুতি উগ্রভাষায় উপস্থাপন করে বেড়াছে। তাদেরকে তো জনগনের পাশে দাঁড়াতে দেখছি না।টিভির পর্দা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখি প্রতিদিনই করোনায় মানুষে মৃত্যু ও আক্রাত্নের হার বাড়ছেই। ১৪জুলাই ২০২১ এর সরকারী পরিসংখ্যানগত তথ্য অনুয়ায়ী দেখা যায় করোনায় সে দিন ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ২২০জন,এ পর্যন্ত ১৭০০০এর অধিক লোক মারা গেছে বাংলাদেশে।ছড়িয়ে পড়ছে ছোঁয়াছে ব্যাধিটি সারা দেশে এমন কি গ্রামে গঞ্জে ঘরে ঘরে। মহা আতংকে ঘর বন্দি জীবন যাপন করছে মানুষ।কেউ রক্ত চাপ বেড়ে যাওয়ায় ষ্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে ভয়ে ও দুশ্চিন্তায়া।করোনার ব্যাপ্তি ও আচার আচরন দেখে মনে হচ্ছে সে পৃথিবী ছেড়ে যাবে না বা বিলুপ্ত হবে না।করোনার হিংস্রতার সঙ্গে সহ অবস্থান করেই মানিয়ে চলতে হবে মানুষকে।

আমাদের দেশের মানুষ বড় অবুঝ, লক ডাইন বা স্বাস্থ্য সচেতনতা বিধি মানতে চায় না। এ কারণেই করোনা লাফিয়ে লাফিয়ে একে ওকে ধরছে। নাস্তনাবোধ করছে মানুষকে। কোন শক্তি্ই তার সামনে পথ আগলে দাঁড়াতে পারছে না। মানুষও হয়ে যাচ্ছে র্নিদয় অমানবিক। মা তার করোনায় আক্রান্ত মৃত্য সন্তানকে জঙ্গলে ফেলে দিচ্ছে। লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে স্বজনরা। মৃত্য ব্যক্তি বা অক্রান্ত রুগীর ধারে কাছেও কেউ ভয়ে এগিয়ে যায় না। খালি ঘরে ছটফট করতে করতে মারা যায়। করোনা মানুষের হৃদয়েও পঁচন ধরিয়েছে।

আবার দেখছি লুটপাটকারীদের দানবিক আচরণ। করোনা মহামারীকে নিয়ে যখন সরকার সহ সবাই ঘর্মাক্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, তখন কিছু দানব অর্থ আয়ের নগ্ন রাস্তায় ফাঁদ তৈরী করছে। অবৈধ পথ অবলম্বন করে অর্থের কুমির হয়ে যাচ্ছে। কি ভাবে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার সাবরিনা বিবেক বোধ বিসর্জন দিয়ে ভূয়া করোনার সার্টিফিকেটন বিক্রি করে তা আমাদোর বোধগম্য নয়। কি ভাবে সরকারে সর্ব উচচ মহলের সাথে ঘুরা ফেরা করে হাইব্রিড নেতা হয়ে যায় রিজেন্ট হাসপাতালে চেয়ারম্যান সাহেদ? সেবা খাতে মানুষ হত্যাকারী ব্যবসার ডাল পালা ছড়িয়ে দেয়। সরকার বার বার চেষ্টা করেও তার পেশী শক্তির দাপটের কারণে কোন যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি। শক্তির কুমির,টাকার রাজা,প্রতারক তো আর এক দিনে হয়নি।
আজকাল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সাহেদের ব্যপারে যে সকল তথ্য বেড়িয়ে আসছে, তা দেখে সাধারন জনগণের চোখ কপালে ওঠে যাচ্ছে। এরা শুধু অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন করেনি, বিশ্ব দরবারে দেশের ভাব মূর্তিও কুন্ন করেছ।
বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তার কর্ম দক্ষতা দিয়ে প্রমান করেছেন তিনি বাবার মত যোগ্য নেতা। জনগনের মনিকোঠোয় আস্থার জায়গা তৈরী করে নিয়েছেন। সবার গভীর বিশ্বাস রয়েছে, যত বড় গড ফাদারই হউক,দুর্নীতিবাজ,মুখোশধারীরা সরকারের আঙ্গুলের ফাঁক গলিয়ে রেহাই পাবে না।জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে বহু লোককে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। কিন্তু বাঁচার উপায় হিসেবে বিধি বিধান ৫০%মানুষওানছে না। মুখে মাক্স ব্যবহার করছে না।১৪ জুলাই ২০২১ পর্যন্ত ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন দিয়েছিলো সরকার। কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে ৮ দিনের জন্য লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে। আবারও আগামী মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত লক ডাউন চলবে।জানি না এভাবে করোনাকে কতটুকু প্রতিরোধ করা যারে। দেশে মাত্র ২% মানুষকে ভেকসিন দেয়া হয়েছে।আবারও চলছে গণহারে ভ্যাগসিন প্রদানের কর্মসুচি।
পৃথিবীতে
জীবনের প্রেমময় মোহ কেউ ত্যাগ করতে পারে না। দোযকের আগুনে পোড়ে হলেও সুন্দর পৃথিবীর আলো বাতাসে বাঁচতে চায়। তাই সবার মনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন — মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানুষের মাঝে বাঁচিবারে চাই। এই
বাঁচা, না বাঁচার আশংকায় পরে অজকাল মানুষ বেশী বেশী ধর্ম কর্ম করছে।মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে বাঁচার আবেদন রাখছে। নাজুক এই পরিস্থিতির ভেতরে কতিপয় মানুষের দানবীয় কান্ড দেখে চোখ ছানা বড়া হয়ে যাচ্ছে মানুষের ও মানবতার। এ সব কি দেখছি বা শুনছি, তা নিজের বিবেককে বুঝাতে পারছি না।
লেখকঃঅধ্যক্ষ ড.গোলসান আরা বেগম, কবি,কলামিষ্ট, সিনেট সদস্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়। উপদেষ্টা- বাংলাদেশ কুষকলীগ। 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

করোনা মহামারী কালে আমরা এ সব কি দেখছি ও করছি

আপডেট টাইম : ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুলাই ২০২১

ড.  গোলসান আরা বেগমঃ কবিড- ১৯ ভাইরাসটি সারা পৃথিবীর মানব সভ্যতাকে তছনছ করে দিচ্ছে। মানুষ মাথায় হাত রেখে বাঁচার উপায় খুঁজছে।গবেষকদের চোখে ঘুম নেই।করোনার ভেকসিন আবিস্কার করার জন্য পৃথিবীর গবেষণাগারে রাত দিন কাজ চলছে।করোনার ভয়ে কাঁপছে মানুষ আর চোখ মুছছে চুপি চুপি। পৃথিবীর শক্তিধর ব্যক্তিরা অত্ম রক্ষার্থে বাংকারে লুকিয়েছে। মানুষ হয়েছে ঘরে বন্দি।কারো মুখে হাসি নেই, প্রকৃতিও জবুথবু অবস্থায় বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।দুঃশ্চিন্তায় কেউ পাগলের প্রলাপ বকছে, অনেকেই স্ট্রোক করে না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছে।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের দেশও প্রতিদিন লাশের বহরে লাশ যুক্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মিরা সহকর্মিদের হারিয়ে চোখের পানি কেন নাকের নিঃশ্বাস ফেলারও সময় পাচ্ছে না।তারা করোনার রুগী সামলাবে,না মৃত্যু ঠেকাবে। করোনা রুগের সনাক্তকারী পরীক্ষায় রয়েছে নানা জটিলতা– রির্পোট পেতে,সেম্পল দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো প্রাথমিক পর্যায়ে। রির্পোট পেতে ইমেইল আইডি দিতে হতো, আমাদের দেশে কয় জনের ইমেইল আইডি আছে।এই শব্দটির সাথেও বহুজন পরিচিত নয়।বেসরকারি ভাবে টেষ্ট করাবেন – গুনতে হবে তিন থেকে চার হাজার টাকা।বেসরকারী হাসপাতালে করোনা রুগীর চিকিৎসা করাবে, প্রতিদিন ব্যয় করতে হবে পষ্ণাশ হাজার টাকা।এ দিকে সরকার বলছে — হাপাতালে সিট ফাঁকা রয়েছে।বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। ডাঃ ফেরদৌস নামে এক জন চিকিৎসক সুদুর অ্যামেরিকা থেকে ছুটে এসেছিলো নিজের দেশের করোনা রুগীদের স্বেচ্ছা শ্রমে সেবা করার জন্য।তাকে রাজাকার রং মাখানো হলো, কোন সুযোগ দেয়া হলো না।

অবশেষে বহুভাবে হেস্তন্যাস্ত হবার পর ৫ জুলাই ২০২০এ কাউকে কিছু না বলে ফিরে গেলো সেই বিদেশের মাটিতে। আবার শুনেছিলাম -আসিফ মাহমুদ নামে এক গবেষক করোনা ভেকসিন আবিস্কার করেছে আমাদের দেশের ল্যাবে বসে।খবরটি শুনে আত্মায় পানি এসেছিলো ফিরে।কিন্তু সে ব্যাপারেও চুড়ান্ত পর্যায়ে আশার আলো দেখলাম না।গণ সস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্টাতা ও রানৈদদতিক ব্যক্তিত্ব ডাক্তার জাফর উল্লাহ এর কিট নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠার পর সেখান থেকেও কোন সুসংবাদ পাওয়া গেলো না। এ সব তাল বাহানার কি হচ্ছে কেউ কি তা বুঝতে পারছে।? জনগনের মনে নানা বিভ্রান্তি তৈরী করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্যই কি এই সব নানা উপসর্গ তৈরী করার চেষ্টা চলছে?

সরকার তো গালে হাত দিয়ে বসে নেই।তার যত কলা কৌশল আছে অত্যান্ত ধৈর্যের সাথে করোনা মুখাবেলায় প্রয়োগ করে যাচ্ছে। করোনা ব্যাধিটি বাংলাদেশের মানুষকে আক্রান্ত করার পর থেকে আওয়ামী ঘরানার মাঠ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মুত্যু ঝুকি মাথায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।আর সরকার বিরুধী সমলোচকরা রাত জেগে টকশো করে সরকারের ত্রুটি বিচ্যুতি উগ্রভাষায় উপস্থাপন করে বেড়াছে। তাদেরকে তো জনগনের পাশে দাঁড়াতে দেখছি না।টিভির পর্দা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখি প্রতিদিনই করোনায় মানুষে মৃত্যু ও আক্রাত্নের হার বাড়ছেই। ১৪জুলাই ২০২১ এর সরকারী পরিসংখ্যানগত তথ্য অনুয়ায়ী দেখা যায় করোনায় সে দিন ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ২২০জন,এ পর্যন্ত ১৭০০০এর অধিক লোক মারা গেছে বাংলাদেশে।ছড়িয়ে পড়ছে ছোঁয়াছে ব্যাধিটি সারা দেশে এমন কি গ্রামে গঞ্জে ঘরে ঘরে। মহা আতংকে ঘর বন্দি জীবন যাপন করছে মানুষ।কেউ রক্ত চাপ বেড়ে যাওয়ায় ষ্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে ভয়ে ও দুশ্চিন্তায়া।করোনার ব্যাপ্তি ও আচার আচরন দেখে মনে হচ্ছে সে পৃথিবী ছেড়ে যাবে না বা বিলুপ্ত হবে না।করোনার হিংস্রতার সঙ্গে সহ অবস্থান করেই মানিয়ে চলতে হবে মানুষকে।

আমাদের দেশের মানুষ বড় অবুঝ, লক ডাইন বা স্বাস্থ্য সচেতনতা বিধি মানতে চায় না। এ কারণেই করোনা লাফিয়ে লাফিয়ে একে ওকে ধরছে। নাস্তনাবোধ করছে মানুষকে। কোন শক্তি্ই তার সামনে পথ আগলে দাঁড়াতে পারছে না। মানুষও হয়ে যাচ্ছে র্নিদয় অমানবিক। মা তার করোনায় আক্রান্ত মৃত্য সন্তানকে জঙ্গলে ফেলে দিচ্ছে। লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে স্বজনরা। মৃত্য ব্যক্তি বা অক্রান্ত রুগীর ধারে কাছেও কেউ ভয়ে এগিয়ে যায় না। খালি ঘরে ছটফট করতে করতে মারা যায়। করোনা মানুষের হৃদয়েও পঁচন ধরিয়েছে।

আবার দেখছি লুটপাটকারীদের দানবিক আচরণ। করোনা মহামারীকে নিয়ে যখন সরকার সহ সবাই ঘর্মাক্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, তখন কিছু দানব অর্থ আয়ের নগ্ন রাস্তায় ফাঁদ তৈরী করছে। অবৈধ পথ অবলম্বন করে অর্থের কুমির হয়ে যাচ্ছে। কি ভাবে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার সাবরিনা বিবেক বোধ বিসর্জন দিয়ে ভূয়া করোনার সার্টিফিকেটন বিক্রি করে তা আমাদোর বোধগম্য নয়। কি ভাবে সরকারে সর্ব উচচ মহলের সাথে ঘুরা ফেরা করে হাইব্রিড নেতা হয়ে যায় রিজেন্ট হাসপাতালে চেয়ারম্যান সাহেদ? সেবা খাতে মানুষ হত্যাকারী ব্যবসার ডাল পালা ছড়িয়ে দেয়। সরকার বার বার চেষ্টা করেও তার পেশী শক্তির দাপটের কারণে কোন যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি। শক্তির কুমির,টাকার রাজা,প্রতারক তো আর এক দিনে হয়নি।
আজকাল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সাহেদের ব্যপারে যে সকল তথ্য বেড়িয়ে আসছে, তা দেখে সাধারন জনগণের চোখ কপালে ওঠে যাচ্ছে। এরা শুধু অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন করেনি, বিশ্ব দরবারে দেশের ভাব মূর্তিও কুন্ন করেছ।
বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তার কর্ম দক্ষতা দিয়ে প্রমান করেছেন তিনি বাবার মত যোগ্য নেতা। জনগনের মনিকোঠোয় আস্থার জায়গা তৈরী করে নিয়েছেন। সবার গভীর বিশ্বাস রয়েছে, যত বড় গড ফাদারই হউক,দুর্নীতিবাজ,মুখোশধারীরা সরকারের আঙ্গুলের ফাঁক গলিয়ে রেহাই পাবে না।জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে বহু লোককে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। কিন্তু বাঁচার উপায় হিসেবে বিধি বিধান ৫০%মানুষওানছে না। মুখে মাক্স ব্যবহার করছে না।১৪ জুলাই ২০২১ পর্যন্ত ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন দিয়েছিলো সরকার। কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে ৮ দিনের জন্য লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে। আবারও আগামী মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত লক ডাউন চলবে।জানি না এভাবে করোনাকে কতটুকু প্রতিরোধ করা যারে। দেশে মাত্র ২% মানুষকে ভেকসিন দেয়া হয়েছে।আবারও চলছে গণহারে ভ্যাগসিন প্রদানের কর্মসুচি।
পৃথিবীতে
জীবনের প্রেমময় মোহ কেউ ত্যাগ করতে পারে না। দোযকের আগুনে পোড়ে হলেও সুন্দর পৃথিবীর আলো বাতাসে বাঁচতে চায়। তাই সবার মনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন — মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানুষের মাঝে বাঁচিবারে চাই। এই
বাঁচা, না বাঁচার আশংকায় পরে অজকাল মানুষ বেশী বেশী ধর্ম কর্ম করছে।মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে বাঁচার আবেদন রাখছে। নাজুক এই পরিস্থিতির ভেতরে কতিপয় মানুষের দানবীয় কান্ড দেখে চোখ ছানা বড়া হয়ে যাচ্ছে মানুষের ও মানবতার। এ সব কি দেখছি বা শুনছি, তা নিজের বিবেককে বুঝাতে পারছি না।
লেখকঃঅধ্যক্ষ ড.গোলসান আরা বেগম, কবি,কলামিষ্ট, সিনেট সদস্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়। উপদেষ্টা- বাংলাদেশ কুষকলীগ।