বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ গত চারদশকে পদ্মাসহ দেশের প্রধান নদনদীগুলোর নাব্য হ্রাস পাওয়ায় হাজার হাজার মাইল নৌপথ বিলুপ্ত হলেও রূপালি ইলিশের উৎপাদন এ সময়ে বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুন হয়েছে। দেশের জনসংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে এ সময়ে খাদ্য উৎপাদনও দ্বিগুন হয়েছে। তবে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ধারাবাহিকভাবে সরকারের কিছু সময়োপযোগি উদ্যোগ। বিশেষত: জাটকা নিধন রোধ এবং মাছের প্রজননকালে মা মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারির সুফল পাওয়া যাচ্ছে। জাটকা ও মাছধরা নিষিদ্ধের সময় কর্মহীন জেলেদের জন্য সরকারের বিশেষ সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভ’মিকা পালন করেছে। মাত্র দুই দশক আগেও যেখানে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল প্রায় ২ লাখ টন। সরকারী উদ্যোগগুলোর সুফল হিসেবে গত মওসুমে প্রায় ৪ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। এক দশকের বেশী কাল ধরে ইলিশ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি শতকরা প্রায় ১০ ভাগ। পদ্মার উজানে গঙ্গায় ভারতের ফারাক্কা বাঁধ না থাকলে ইলিশের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। দেশে মাছ ও প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদার এক বিশাল অংশই এককভাবে ইলিশের মাধ্যমে পূরণ হয়। প্রায় ২ লাখ জেলের কর্মসংস্থানসহ জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা। দেশের বিপুল চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইলিশ রফতানী থেকে বছরে জিডিপিতে সরাসরি যোগ হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।
ইলিশ মাছ ভারতসহ বিশ্বের আরো অনেক দেশেই উৎপাদিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের জুড়ি মেলা ভার। পদ্মার ইলিশের স্বাদ, গন্ধ ও সৌন্দর্যের কারণেই সারাবিশ্বে এর বিপুল চাহিদা রয়েছে। এ কারণেই পদ্মার(চাঁদপুরের) ইলিশ আমাদের অন্যতম ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য। ইলিশের উৎপাদন যতই বাড়ছে আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে বাজারমূল্যও। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অন্যসব মাছের চেয়ে ইলিশের মূল্য কয়েকগুণ বেশী। জাটকা সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে ইলিশের উৎপাদন যেমন বাড়ছে সেই সাথে ইলিশের আকার আকৃতিও বাড়ছে। যদিও সাধারণ মানুষের পক্ষে বড় সাইজের ইলিশ মাছ কেনা অনেকটাই দু:সাধ্য। জাটকা সংরক্ষণে গৃহীত নানা উদ্যোগের পরও মওসুমে হাজার হাজার টন জাটকা ধরার খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন সহায়ক উদ্যোগগুলো আরো যথার্থভাবে বাস্তবায়িত হলে বড় ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে সমুদ্রপথে ইলিশ পাচার ও অবৈধ চোরাচালান বন্ধ করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
‘মাছচাষে গড়বো দেশ বদলে দেব বাংলাদেশ’ শ্লোগান নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৭। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ চলার সময় আগামী ২২ জুলাই অমাবস্যার ‘ভরা জো’ তে নদী মোহনা ও সমুদ্রোপক’লে ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ার আশা করছে জেলে ও আড়তদাররা। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সরকারী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রক্ষার সুফল হিসেবেই দেড় দশকে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুন হয়েছে। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহ ও কঠোর নির্দেশনা এবং মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ও নজরদারির ফলেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আরো শতভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা অসম্ভব নয়। দেশে মাছের চাহিদার জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের মৎস্য উৎপাদকরা বছরে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের মাছ রফতানী করতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে শতকোটি মানুষের দেশ চীন বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের মাছ বিশ্ববাজারে রফতানী করে শীর্ষ স্থান অধিকার করে আছে, একইভাবে ভারতও বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের মাছ রফতানী করছে, সেখানে বাংলাদেশে নদনদী ও সমুদ্রোপকুলের মৎস্য সম্পদ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের মাছ রফতানী সম্ভব। মৎস্য সংরক্ষণ ও আহরণের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনার পাশাপাশি উপক’লীয় জেলেদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ নৌদস্যুতা থেকে রক্ষার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সমুদ্রপথে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইলিশের চোরাচালান বন্ধ করতে হবে। জাতীয় মাছ ইলিশের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও রফতানী বাণিজ্য থেকে যেমন দেশের জন্য আরো হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে নৌদস্যুতা, ডাকাতি ও চোরাচালান বন্ধের মাধ্যমে ইলিশের স্বাদ সাধারণ মানুষের কাছে আরো সহজলভ্য করা সম্ভব। সমুদ্রোপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের নিরাপত্তা ও মৎস্যসম্পদ আহরণ নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর টহল ও নজরদারি আরো জোরদার করা আবশ্যক। ইলিশ ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সরকার আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ
ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন
রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো
চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি
প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির
সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন
এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা
ইলিশে আশার আলো
-
বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক - আপডেট টাইম : ০১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০১৭
- 464
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ



























