ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানালেন যেসব তারকা

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের একদফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল সারা দেশ।শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। এনিয়ে মুখোমুখি আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের বিভ্ন্নি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজধানীসহ সারা দেশে আন্দোলকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

গতকাল (সোমবার) ছাত্রলীগের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ ঘটনায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও সোমবার ঢাবির ঘটনায় সরব হয়েছেন দেশের বিনোদন জগতের অনেক তারকা।শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে কোটা সংস্কারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন একাধিক তারকা।

চিত্রনায়িকা পরীমনি আহত এক শিক্ষার্থীর ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতায় আপনার জবান বন্ধ থাকলে আপনি মুনাফিক।’

শবনম বুবলী লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরবে কেন?’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে অভিনেতা নিলয় আলমগীর লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজকের ছাত্রছাত্রীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই একটা সময় দেশের হাল ধরবে। এত এত ছাত্রছাত্রী ভুল দাবি করতে পারে না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও বলছি, দয়া করে কোটা সংস্কার করে দিন। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারকে যে সম্মান এবং ভালোবাসা আপনি সব সময় দেখিয়েছেন, তার জন্য আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার এখন হাসির পাত্র। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের জায়গাটা ঠিক রাখতে হলেও কোটা সংস্কার মেনে নিন। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের এই দুরবস্থা সহ্য করার মতো না। পুরো জাতি আপনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।’

শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির লেখেন, ‘এমন কোনো ছাত্র আছেন, যিনি হামলার শিকার হয়েছেন অথবা হলে ঢুকতে পারছেন না? আমি আপনাদের খেয়াল রাখব।… কারও যদি থাকার জায়গার প্রয়োজন হয় অথবা চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হয়, আমি আছি।… আমি সত্যিই ভেঙে পড়েছি, বিব্রত বোধ করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জবাব চেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ক্যাম্পাস রক্তাক্ত কেন? শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরবে কেন?’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে নির্মাতা সুমন আনোয়ার লেখেন, ‘দুর্দান্ত ঢাকা, উত্তেজিত দেশ। ঘুরে দাঁড়াবেই বাংলাদেশ।’

নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ লেখেন, ‘একের পর এক ভুল। সব পক্ষেরই ভুল। যুক্তি, চিন্তা, স্ট্যাটিকস— সব ভুলে বসে আছি সবাই। হুজুগ আর ক্ষমতা লড়ছে। সংলাপ বসে আছে অসহায় হয়ে।’

নির্মাতা খিজির হায়াত খান লিখেছেন, ‘আমাদের আগামীরা আজকে দেশব্যাপী রাজপথে। ওদের স্লোগান নিয়ে অনেক প্রশ্ন কিন্তু কেন এই স্লোগান সেটা নিয়ে কোনো কথা নাই। ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন কাউকে রাজাকার বানায় না, বরং ওদের হাত ধরেই স্বাধিকার আসে। আমি ওদের পক্ষে দাঁড়ালাম।’

নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত লেখেন, ‘এরা বুক ফুঁলিয়ে যতই জয় বাংলা বলে চেঁচাক, ১৯৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ২০২৪ এর আজকের এই ছাত্রলীগের কোনো ধরনের সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না। আজ এরা চেতনাহীন, পথভ্রষ্ট, অর্থলোভী পঙ্গপাল ছাড়া কিছুই নয়। আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে এই পঙ্গপাল বাহিনী লেলিয়ে দেওয়া কোন আদর্শের রাজনীতি আমি জানি না। তবে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি বা দর্শনের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই, তা ঢের বলতে পারি। এই পঙ্গপাল পুষতে পুষতে কবে গোটা জাতিই চেতনাহীন, পথভ্রষ্ট, ও অর্থলোভী হয়ে যায়!’

চিরকুট ব্যান্ডের শারমিন সুলতানা সুমি লেখেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের প্রজন্ম, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সকলের নিরাপত্তা ও সুদিন; সদ্বিবেচনার সঙ্গে নিশ্চিত করার বিনীত অনুরোধ রইল।’ শিক্ষার্থীদের সমর্থন দিয়ে চিরকুটের ফেসবুক পেজ থেকেও পোস্ট করা হয়েছে।

নির্মাতা আশফাক নিপুন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে কোটা আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ফেসবুকে এ প্রসঙ্গে শোবিজের মানুষদের নীরব থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্মাতা মিশুক মনি।

এদিকে কোটাবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অনেক তারকা। মিছিলে ‘রাজাকার’ স্লোগান দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন তারা।

লেখক ও নির্দেশক মাসুম রেজা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যারা একাত্তরে পরাজিত হলো তাদের পরিচয়ে নিজেদেরকে পরিচিত করছেন! কী দারুণ মেধাবী আপনারা! এত মেধা আপনাদের কোন প্রেতাত্মা সাপ্লাই করছে!’

অভিনেতা রওনক হাসান লিখেছেন, ‘কোটা সংস্কার হতেই পারে।..কিন্তু হাজারো সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে সুকৌশলে যেদিকে প্রবাহিত করা হলো তা দেখে এটাই স্পষ্ট এর মাস্টারমাইন্ড কারা।’

অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি লেখেন, ‘যারা নিজেদের রাজাকার বলতেও দ্বিধা করে না, আবার তারাই সরকারি চাকরির জন্য কোটা চায়, তাদের হাতে দেশ গেলে কী হবে সেটাই ভাবছি।’

চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাত এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমার নানা-দাদা মুক্তিযোদ্ধা। আমার কোটা লাগে না। অনেক চাকুরি আছে, কেন শুধু সরকারি চাকুরিই করতে হবে। আর কিছু কোটা থাকলে সমস্যাটা কি? এত মারামারি কেন?’

এ ছাড়া কোটা নিয়ে আন্দোলনের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হচ্ছে- এমন দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ।

 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানালেন যেসব তারকা

আপডেট টাইম : ০১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের একদফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল সারা দেশ।শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। এনিয়ে মুখোমুখি আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের বিভ্ন্নি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজধানীসহ সারা দেশে আন্দোলকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

গতকাল (সোমবার) ছাত্রলীগের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ ঘটনায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও সোমবার ঢাবির ঘটনায় সরব হয়েছেন দেশের বিনোদন জগতের অনেক তারকা।শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে কোটা সংস্কারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন একাধিক তারকা।

চিত্রনায়িকা পরীমনি আহত এক শিক্ষার্থীর ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতায় আপনার জবান বন্ধ থাকলে আপনি মুনাফিক।’

শবনম বুবলী লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরবে কেন?’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে অভিনেতা নিলয় আলমগীর লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজকের ছাত্রছাত্রীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই একটা সময় দেশের হাল ধরবে। এত এত ছাত্রছাত্রী ভুল দাবি করতে পারে না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও বলছি, দয়া করে কোটা সংস্কার করে দিন। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারকে যে সম্মান এবং ভালোবাসা আপনি সব সময় দেখিয়েছেন, তার জন্য আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার এখন হাসির পাত্র। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের জায়গাটা ঠিক রাখতে হলেও কোটা সংস্কার মেনে নিন। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের এই দুরবস্থা সহ্য করার মতো না। পুরো জাতি আপনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।’

শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির লেখেন, ‘এমন কোনো ছাত্র আছেন, যিনি হামলার শিকার হয়েছেন অথবা হলে ঢুকতে পারছেন না? আমি আপনাদের খেয়াল রাখব।… কারও যদি থাকার জায়গার প্রয়োজন হয় অথবা চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হয়, আমি আছি।… আমি সত্যিই ভেঙে পড়েছি, বিব্রত বোধ করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জবাব চেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ক্যাম্পাস রক্তাক্ত কেন? শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরবে কেন?’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে নির্মাতা সুমন আনোয়ার লেখেন, ‘দুর্দান্ত ঢাকা, উত্তেজিত দেশ। ঘুরে দাঁড়াবেই বাংলাদেশ।’

নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ লেখেন, ‘একের পর এক ভুল। সব পক্ষেরই ভুল। যুক্তি, চিন্তা, স্ট্যাটিকস— সব ভুলে বসে আছি সবাই। হুজুগ আর ক্ষমতা লড়ছে। সংলাপ বসে আছে অসহায় হয়ে।’

নির্মাতা খিজির হায়াত খান লিখেছেন, ‘আমাদের আগামীরা আজকে দেশব্যাপী রাজপথে। ওদের স্লোগান নিয়ে অনেক প্রশ্ন কিন্তু কেন এই স্লোগান সেটা নিয়ে কোনো কথা নাই। ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন কাউকে রাজাকার বানায় না, বরং ওদের হাত ধরেই স্বাধিকার আসে। আমি ওদের পক্ষে দাঁড়ালাম।’

নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত লেখেন, ‘এরা বুক ফুঁলিয়ে যতই জয় বাংলা বলে চেঁচাক, ১৯৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ২০২৪ এর আজকের এই ছাত্রলীগের কোনো ধরনের সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না। আজ এরা চেতনাহীন, পথভ্রষ্ট, অর্থলোভী পঙ্গপাল ছাড়া কিছুই নয়। আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে এই পঙ্গপাল বাহিনী লেলিয়ে দেওয়া কোন আদর্শের রাজনীতি আমি জানি না। তবে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি বা দর্শনের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই, তা ঢের বলতে পারি। এই পঙ্গপাল পুষতে পুষতে কবে গোটা জাতিই চেতনাহীন, পথভ্রষ্ট, ও অর্থলোভী হয়ে যায়!’

চিরকুট ব্যান্ডের শারমিন সুলতানা সুমি লেখেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের প্রজন্ম, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সকলের নিরাপত্তা ও সুদিন; সদ্বিবেচনার সঙ্গে নিশ্চিত করার বিনীত অনুরোধ রইল।’ শিক্ষার্থীদের সমর্থন দিয়ে চিরকুটের ফেসবুক পেজ থেকেও পোস্ট করা হয়েছে।

নির্মাতা আশফাক নিপুন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে কোটা আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ফেসবুকে এ প্রসঙ্গে শোবিজের মানুষদের নীরব থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্মাতা মিশুক মনি।

এদিকে কোটাবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অনেক তারকা। মিছিলে ‘রাজাকার’ স্লোগান দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন তারা।

লেখক ও নির্দেশক মাসুম রেজা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যারা একাত্তরে পরাজিত হলো তাদের পরিচয়ে নিজেদেরকে পরিচিত করছেন! কী দারুণ মেধাবী আপনারা! এত মেধা আপনাদের কোন প্রেতাত্মা সাপ্লাই করছে!’

অভিনেতা রওনক হাসান লিখেছেন, ‘কোটা সংস্কার হতেই পারে।..কিন্তু হাজারো সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে সুকৌশলে যেদিকে প্রবাহিত করা হলো তা দেখে এটাই স্পষ্ট এর মাস্টারমাইন্ড কারা।’

অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি লেখেন, ‘যারা নিজেদের রাজাকার বলতেও দ্বিধা করে না, আবার তারাই সরকারি চাকরির জন্য কোটা চায়, তাদের হাতে দেশ গেলে কী হবে সেটাই ভাবছি।’

চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাত এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমার নানা-দাদা মুক্তিযোদ্ধা। আমার কোটা লাগে না। অনেক চাকুরি আছে, কেন শুধু সরকারি চাকুরিই করতে হবে। আর কিছু কোটা থাকলে সমস্যাটা কি? এত মারামারি কেন?’

এ ছাড়া কোটা নিয়ে আন্দোলনের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হচ্ছে- এমন দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ।