ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরবরাহ নিশ্চিতে এক লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন সেচকাজে ডিজেলচালিত পাম্পের পরিবর্তে সৌর বিদ্যুৎচালিত পাম্প দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী আত্মঘাতী হয়ে উঠছে মানুষ জামায়াতের লং মার্চের দাবি আর সংসদের বক্তব্য দ্বিমুখী : চরমোনাই পীর ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাজ্যের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি লেবার নেতা করবিনের ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ব্যালন ডি’অর: সুযোগ থাকলে মেসিকে ১০০ বার ভোট দিতেন জিদান রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় শারীরিক অবস্থার অবনতি, লাইফ সাপোর্টে মেঘমল্লার বসু পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আরেকটু ধারাবাহিকতা চাই: কোর্টনি ওয়ালশ

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  বাংলাদেশে আসার পর থেকে একটার পর একটা সিরিজে ব্যস্ত থাকতে দেখেছেন খেলোয়াড়দের। অবশেষে একটু সুযোগ পেয়েই জাতীয় দল ও আশেপাশের পেসারদের নিয়ে নিবিড় কাজ করা শুরু করেছেন। সেই কাজের অগ্রগতি, মুস্তাফিজের চিন্তা, তাসকিনের পেস; সব নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার কথা বললেন সাবেক গ্রেট বোলার কোর্টনি ওয়ালশ
ক্যাম্পে মূলত কী নিয়ে কাজ হচ্ছে?
এই প্রথম আমি তাদের নিয়ে সিরিয়াস কিছু করার সুযোগ পেলাম। আমার এখানে আসার পর থেকে তারা খেলার মধ্যে ছিল। খেলা চলা অবস্থায় খুব বেশি কিছু কাজ করা যায় না। ফলে লোকে যেমন বলছে বা লিখছে যে, আমি কারো অ্যাকশন বদলে দিয়েছি; এরকম কিছু ঘটেনি। আমরা স্রেফ তাদের আরো উৎসাহ দিয়েছি এবং একটু সহযোগিতা করেছি। এখন আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে, এ কয় দিন যেসব ত্রুটি দেখেছি, তার কিছু সংশোধন করার। এ জন্যই আমি আগে আগে চলে এসেছি। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, তা সংশোধন করব।
উন্নতি কেমন দেখছেন?
উন্নতি হচ্ছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাজে আবহাওয়া আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে যতটা উন্নতি আশা করেছিলাম, তা হয়নি। তারপরও আমরা সময় নষ্ট করছি না। যখনই সুযোগ পাচ্ছি, বাইরে যাচ্ছি। আর সেটা না হলে ভেতরে মিটিং করছি। ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করছি। চেষ্টা করছি যাতে ক্রিকেট মস্তিষ্ক আরো ক্ষুরধার হয়ে ওঠে।
কোনো মৌলিক ব্যাপার নিয়ে কী কাজ করছেন?
একটা মৌলিক ব্যাপার হলো ধারাবাহিকতা। তারা যতটা ধারাবাহিক হওয়া উচিত বা হতে পারত, তা হচ্ছে না। এটা আসলে অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা খুব একটা সফর করি না। তাদেরকে খুব বড় কিছু করতে হবে, তা নয়। তবে তাদের ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে। তখন ওদের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে যাবে।
পেসাররা তরুণ হওয়াটা কী একটা সুবিধা হয়েছে?
হ্যাঁ, এটা একটা বড় সুবিধার ব্যাপার। ওরা এখনো অনেক কম বয়সী। ওরা সামনে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে আরো শিখবে। সফর খুব উপকার করে। যেমন তারা এখন নিউজিল্যান্ড আর ভারতের পার্থক্য বোঝে। এই দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ হলো ম্যাশ। ও কন্ডিশনটা ভালো বোঝে। ও তরুণদের কাছে উপদেশ ও টিপস পৌঁছে দেয়। আমাদের তরুণরা শেখার ব্যাপারে খুব আগ্রহী।
তাসকিনের পেসটা কী কমানো হচ্ছে?
ও আরো ধারাবাহিক হতে চাচ্ছে। আমার মনে হয়েছে, ও যেখানে বল ফেলতে চাচ্ছে, সেটা পারছে না। আমরা চাই ও জোরে বল করুন। কারণ ওর পেস আছে। ও সেটা ব্যবহার করতে পারে। তবে তার আগ্রাসনটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতে হবে। ওকে সঠিক জায়গায় বল ফেলতে হবে, তবে লোকে পেসটাকে পাত্তা দেবে।
মুস্তাফিজের ঠিক কী অবস্থা?
আমি দেখলাম ও ইংল্যান্ডে সামান্য দূরে দূরে বল ফেলছিল। আমরা ওকে আরেকটু ভারসাম্যপূর্ণ করতে চাচ্ছি। আমরা ওর পেসটাকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছি, যেটাতে ও অভ্যস্ত ছিল। আর চাচ্ছি যে, ও স্ট্যাম্পের আরেকটু কাছে বল করুক। ও আসলে জানে, ওকে কী করতে হবে। আমি ওকে কৃতিত্ব দেব, কারণ ও নিজে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। আর অনেক অনুশীলন করছে। সে সেরা হতে চায়। সে আসলেই একটা বিশেষ প্রতিভা। এই আবহাওয়ার কারণে ও একটু হতাশ। কারণ, আমরা উন্নতি করছিলাম।
ওর বোলিং অ্যাকশন বদলে ফেলা হবে?
না। ওকে নতুন বোলিং অ্যাকশনে দেখা যাবে, তা বলছি না। ওকে ক্রিজে আরেকটু ভারসাম্যপূর্ণ চাচ্ছি আমরা। আরেকটু কাছে চাচ্ছি স্ট্যাম্পের। যতক্ষণ পর্যন্ত খুব দরকার না হয়, কারো অ্যাকশন বদলানোর পক্ষে না আমি। অপারেশনের ফলে ও একটু দূরে সরে গেছে। এখন ও সঠিক পথে আছে। ফলে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না।
চম্পকা রমানায়েকে আসছেন…
বাংলাদেশের ক্রিকেটের যাতে উপকার হবে, আমি তার পক্ষে। এখনো তো এটা অফিসিয়াল কিছু না। তবে আমি শুনেছি, সে আসছে। আমি ওকে দু হাত খুলে স্বাগত জানাব। আমরা দু জন একসঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে পারব।
ক্যাম্পশেষে কী দেখতে চান?
আমি দেখতে চাইব যে, তাদের ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণ, বৈচিত্র্য আরো বেড়েছে। এরা অনেক তরুণ। আমরা যদি এদের সামান্য একটু ধারাবাহিক করে তুলতে পারি তাহলে অনেক এগিয়ে যাবে। আমি সবসময় ওদের বলি, ‘তোমাদের ভাগ্য তোমাদের হাতে। মাঠে যাও আর কাজটা করে যাব। সবসময় উন্নতি করার চেষ্টা করবে এবং শেখার চেষ্টা করবে।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সরবরাহ নিশ্চিতে এক লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

আরেকটু ধারাবাহিকতা চাই: কোর্টনি ওয়ালশ

আপডেট টাইম : ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০১৭
বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  বাংলাদেশে আসার পর থেকে একটার পর একটা সিরিজে ব্যস্ত থাকতে দেখেছেন খেলোয়াড়দের। অবশেষে একটু সুযোগ পেয়েই জাতীয় দল ও আশেপাশের পেসারদের নিয়ে নিবিড় কাজ করা শুরু করেছেন। সেই কাজের অগ্রগতি, মুস্তাফিজের চিন্তা, তাসকিনের পেস; সব নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার কথা বললেন সাবেক গ্রেট বোলার কোর্টনি ওয়ালশ
ক্যাম্পে মূলত কী নিয়ে কাজ হচ্ছে?
এই প্রথম আমি তাদের নিয়ে সিরিয়াস কিছু করার সুযোগ পেলাম। আমার এখানে আসার পর থেকে তারা খেলার মধ্যে ছিল। খেলা চলা অবস্থায় খুব বেশি কিছু কাজ করা যায় না। ফলে লোকে যেমন বলছে বা লিখছে যে, আমি কারো অ্যাকশন বদলে দিয়েছি; এরকম কিছু ঘটেনি। আমরা স্রেফ তাদের আরো উৎসাহ দিয়েছি এবং একটু সহযোগিতা করেছি। এখন আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে, এ কয় দিন যেসব ত্রুটি দেখেছি, তার কিছু সংশোধন করার। এ জন্যই আমি আগে আগে চলে এসেছি। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, তা সংশোধন করব।
উন্নতি কেমন দেখছেন?
উন্নতি হচ্ছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাজে আবহাওয়া আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে যতটা উন্নতি আশা করেছিলাম, তা হয়নি। তারপরও আমরা সময় নষ্ট করছি না। যখনই সুযোগ পাচ্ছি, বাইরে যাচ্ছি। আর সেটা না হলে ভেতরে মিটিং করছি। ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করছি। চেষ্টা করছি যাতে ক্রিকেট মস্তিষ্ক আরো ক্ষুরধার হয়ে ওঠে।
কোনো মৌলিক ব্যাপার নিয়ে কী কাজ করছেন?
একটা মৌলিক ব্যাপার হলো ধারাবাহিকতা। তারা যতটা ধারাবাহিক হওয়া উচিত বা হতে পারত, তা হচ্ছে না। এটা আসলে অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা খুব একটা সফর করি না। তাদেরকে খুব বড় কিছু করতে হবে, তা নয়। তবে তাদের ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে। তখন ওদের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে যাবে।
পেসাররা তরুণ হওয়াটা কী একটা সুবিধা হয়েছে?
হ্যাঁ, এটা একটা বড় সুবিধার ব্যাপার। ওরা এখনো অনেক কম বয়সী। ওরা সামনে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে আরো শিখবে। সফর খুব উপকার করে। যেমন তারা এখন নিউজিল্যান্ড আর ভারতের পার্থক্য বোঝে। এই দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ হলো ম্যাশ। ও কন্ডিশনটা ভালো বোঝে। ও তরুণদের কাছে উপদেশ ও টিপস পৌঁছে দেয়। আমাদের তরুণরা শেখার ব্যাপারে খুব আগ্রহী।
তাসকিনের পেসটা কী কমানো হচ্ছে?
ও আরো ধারাবাহিক হতে চাচ্ছে। আমার মনে হয়েছে, ও যেখানে বল ফেলতে চাচ্ছে, সেটা পারছে না। আমরা চাই ও জোরে বল করুন। কারণ ওর পেস আছে। ও সেটা ব্যবহার করতে পারে। তবে তার আগ্রাসনটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতে হবে। ওকে সঠিক জায়গায় বল ফেলতে হবে, তবে লোকে পেসটাকে পাত্তা দেবে।
মুস্তাফিজের ঠিক কী অবস্থা?
আমি দেখলাম ও ইংল্যান্ডে সামান্য দূরে দূরে বল ফেলছিল। আমরা ওকে আরেকটু ভারসাম্যপূর্ণ করতে চাচ্ছি। আমরা ওর পেসটাকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছি, যেটাতে ও অভ্যস্ত ছিল। আর চাচ্ছি যে, ও স্ট্যাম্পের আরেকটু কাছে বল করুক। ও আসলে জানে, ওকে কী করতে হবে। আমি ওকে কৃতিত্ব দেব, কারণ ও নিজে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। আর অনেক অনুশীলন করছে। সে সেরা হতে চায়। সে আসলেই একটা বিশেষ প্রতিভা। এই আবহাওয়ার কারণে ও একটু হতাশ। কারণ, আমরা উন্নতি করছিলাম।
ওর বোলিং অ্যাকশন বদলে ফেলা হবে?
না। ওকে নতুন বোলিং অ্যাকশনে দেখা যাবে, তা বলছি না। ওকে ক্রিজে আরেকটু ভারসাম্যপূর্ণ চাচ্ছি আমরা। আরেকটু কাছে চাচ্ছি স্ট্যাম্পের। যতক্ষণ পর্যন্ত খুব দরকার না হয়, কারো অ্যাকশন বদলানোর পক্ষে না আমি। অপারেশনের ফলে ও একটু দূরে সরে গেছে। এখন ও সঠিক পথে আছে। ফলে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না।
চম্পকা রমানায়েকে আসছেন…
বাংলাদেশের ক্রিকেটের যাতে উপকার হবে, আমি তার পক্ষে। এখনো তো এটা অফিসিয়াল কিছু না। তবে আমি শুনেছি, সে আসছে। আমি ওকে দু হাত খুলে স্বাগত জানাব। আমরা দু জন একসঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে পারব।
ক্যাম্পশেষে কী দেখতে চান?
আমি দেখতে চাইব যে, তাদের ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণ, বৈচিত্র্য আরো বেড়েছে। এরা অনেক তরুণ। আমরা যদি এদের সামান্য একটু ধারাবাহিক করে তুলতে পারি তাহলে অনেক এগিয়ে যাবে। আমি সবসময় ওদের বলি, ‘তোমাদের ভাগ্য তোমাদের হাতে। মাঠে যাও আর কাজটা করে যাব। সবসময় উন্নতি করার চেষ্টা করবে এবং শেখার চেষ্টা করবে।