ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জিয়া শিশু একাডেমির আয়োজনে ‎‘শাপলাকুঁড়ি’র প্রাথমিক বাছাই শুরু প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সরকারের : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ক্যানসার চিকিৎসায় ৩৬ কোটি অনুদান মেসির চুক্তিতে সেতু বিভাগের সচিব হলেন আবদুর রউফ নিউইয়র্কের পথে ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত স্পিকার ও ইসির : শিশির মনির ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হতে পারে জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইডলাইনে পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত চুক্তিতে ভারত কেন ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর পৃথিবীর ইতিহাসে বিশেষ মুহূর্ত: মাহদী আমিন দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ২ শতাংশেরও নিচে

জাপানে প্রমোদতরিতে থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এশিয়ান গেমস। স্বাগতিক জাপান জিতে নিয়েছে প্রথম সোনার পদক। বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের সামনে অবশ্য পদকের প্রত্যাশা খুব একটা নেই। এর মধ্যেই এবার ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের অনেক ক্রীড়াবিদ। কারণ, অন্যবারের মতো এবার অ্যাথলেটস ভিলেজ তৈরি করেনি আয়োজক জাপান। হোটেলের পাশাপাশি থাকার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশাল এক ক্রুজ শিপকে। অর্থাৎ প্রমোদতরিই হয়ে উঠেছে এক অর্থে ‘ভাসমান গেমস ভিলেজ’।

খরচ কমানোর লক্ষ্যেই অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজক কমিটি। ইতালীয় পতাকাবাহী বিশাল ক্রুজ শিপটির নাম ‘কোস্টা সেরেনা’। নাগোয়া বন্দরের কিঞ্জো পিয়ারে নোঙর করে রাখা হয়েছে জাহাজটি। ২৯০ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেবিন। গেমস চলাকালে ধাপে ধাপে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৬০০ অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা এখানে অবস্থান করবেন।

বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদেরও অনেকে এই প্রমোদতরিতে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। অ্যাথলেটিকস, আরচারি, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, কুস্তি, টেবিল টেনিস ও উশু-এই ডিসিপ্লিনগুলোর ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা এখানে থাকছেন।

প্রমোদতরির নাম কোস্টা সেরেনা।জাপানে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে আবাসন হিসেবে ক্রুজ শিপ ব্যবহারের ঘটনা এবারই প্রথম। অভিনব এই ব্যবস্থাকে ঘিরে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি কিছুটা বিতর্কও রয়েছে। অনেক দেশের অ্যাথলেট কক্ষের সংকীর্ণতা এবং ক্রীড়া সরঞ্জাম রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জামিলের অভিজ্ঞতাও মিশ্র। তবে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন তারা।

 তিনি বলেন, ‘এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনও আমাদের হয়নি। এবারই প্রথম জাহাজে থাকছি। রুমগুলো বেশ ছোট। পরিসর কম। তারপরও মানিয়ে নিতে হচ্ছে। পানির ওপর থাকা জাহাজ মাঝে মধ্যে দুলে। তখন একটু অন্যরকম লাগে। এছাড়া সব রকমের সুবিধাই আছে এখানে। সুইমিং পুলসহ অন্য সবকিছুই আছে। ১০ তলা জাহাজে অন্য দেশের ক্রীড়াবিদরাও আছেন। আমরা ৯ তলায় ডাইনিংয়ে গেলে সবার সঙ্গে দেখা হয়।’

জাহাজে থেকে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বেশ উপভোগ করছেন জিমন্যাস্ট রাজিব চাকমাও। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক ভালো লাগছে। জাহাজে থেকে গেমসে অংশ নেবো, এটা আগে কখনও শুনিনি। জাহাজে থেকে অনুশীলন করতে খারাপ লাগছে না। কখনও এভাবে জাহাজে থেকে খেলিনি। পরিবেশটা সবাই মিলে উপভোগ করছি বলতে পারেন।’

টেবিল টেনিস খেলোয়াড় রাম হিম বমের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক। কিছু অসুবিধা থাকলেও সেটিকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তিনি। রাম হিম বলেন, ‘জাহাজের ভেতরেই রান্না হচ্ছে। নিরাপত্তাও ভালো। তবে রুম ছোট হওয়ার কারণে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। তবে তা বড় কোনো সমস্যা নয়। নদীর ওপর বিশাল একটা জাহাজের মধ্যে থেকে গেমসে খেলতে পারাটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জিয়া শিশু একাডেমির আয়োজনে ‎‘শাপলাকুঁড়ি’র প্রাথমিক বাছাই শুরু

জাপানে প্রমোদতরিতে থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা

আপডেট টাইম : ২৪ ঘন্টা আগে

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এশিয়ান গেমস। স্বাগতিক জাপান জিতে নিয়েছে প্রথম সোনার পদক। বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের সামনে অবশ্য পদকের প্রত্যাশা খুব একটা নেই। এর মধ্যেই এবার ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের অনেক ক্রীড়াবিদ। কারণ, অন্যবারের মতো এবার অ্যাথলেটস ভিলেজ তৈরি করেনি আয়োজক জাপান। হোটেলের পাশাপাশি থাকার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশাল এক ক্রুজ শিপকে। অর্থাৎ প্রমোদতরিই হয়ে উঠেছে এক অর্থে ‘ভাসমান গেমস ভিলেজ’।

খরচ কমানোর লক্ষ্যেই অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজক কমিটি। ইতালীয় পতাকাবাহী বিশাল ক্রুজ শিপটির নাম ‘কোস্টা সেরেনা’। নাগোয়া বন্দরের কিঞ্জো পিয়ারে নোঙর করে রাখা হয়েছে জাহাজটি। ২৯০ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেবিন। গেমস চলাকালে ধাপে ধাপে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৬০০ অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা এখানে অবস্থান করবেন।

বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদেরও অনেকে এই প্রমোদতরিতে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। অ্যাথলেটিকস, আরচারি, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, কুস্তি, টেবিল টেনিস ও উশু-এই ডিসিপ্লিনগুলোর ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা এখানে থাকছেন।

প্রমোদতরির নাম কোস্টা সেরেনা।জাপানে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে আবাসন হিসেবে ক্রুজ শিপ ব্যবহারের ঘটনা এবারই প্রথম। অভিনব এই ব্যবস্থাকে ঘিরে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি কিছুটা বিতর্কও রয়েছে। অনেক দেশের অ্যাথলেট কক্ষের সংকীর্ণতা এবং ক্রীড়া সরঞ্জাম রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জামিলের অভিজ্ঞতাও মিশ্র। তবে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন তারা।

 তিনি বলেন, ‘এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনও আমাদের হয়নি। এবারই প্রথম জাহাজে থাকছি। রুমগুলো বেশ ছোট। পরিসর কম। তারপরও মানিয়ে নিতে হচ্ছে। পানির ওপর থাকা জাহাজ মাঝে মধ্যে দুলে। তখন একটু অন্যরকম লাগে। এছাড়া সব রকমের সুবিধাই আছে এখানে। সুইমিং পুলসহ অন্য সবকিছুই আছে। ১০ তলা জাহাজে অন্য দেশের ক্রীড়াবিদরাও আছেন। আমরা ৯ তলায় ডাইনিংয়ে গেলে সবার সঙ্গে দেখা হয়।’

জাহাজে থেকে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বেশ উপভোগ করছেন জিমন্যাস্ট রাজিব চাকমাও। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক ভালো লাগছে। জাহাজে থেকে গেমসে অংশ নেবো, এটা আগে কখনও শুনিনি। জাহাজে থেকে অনুশীলন করতে খারাপ লাগছে না। কখনও এভাবে জাহাজে থেকে খেলিনি। পরিবেশটা সবাই মিলে উপভোগ করছি বলতে পারেন।’

টেবিল টেনিস খেলোয়াড় রাম হিম বমের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক। কিছু অসুবিধা থাকলেও সেটিকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তিনি। রাম হিম বলেন, ‘জাহাজের ভেতরেই রান্না হচ্ছে। নিরাপত্তাও ভালো। তবে রুম ছোট হওয়ার কারণে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। তবে তা বড় কোনো সমস্যা নয়। নদীর ওপর বিশাল একটা জাহাজের মধ্যে থেকে গেমসে খেলতে পারাটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা।’