ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

পবিত্র ঈদুল ফিতর

পবিত্র ঈদুল ফিতর সমাগত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম উম্মাহর দু’টি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুল ফিতর একটি। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কর্তৃক ঘোষিত পুরস্কারের প্রত্যাশায় এই ঈদ অনেক বেশি মহিমান্বিত ও আনন্দঘন। সিয়াম সাধনার পাশাপাশি জাকাত ও ফিতরা আদায় শেষে পাপ-পঙ্কিলমুক্ত হয়ে অনাবিল আনন্দ লাভ এই ঈদের বিশেষ সওগাত। পবিত্র কোরআন নাজিলের এই মাসে রোজা পালন, তারাবি নামাজসহ বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের প্রয়াস, প্রতিটি ফরজ ও নফল ইবাদতের অতিরিক্ত ফজিলত এবং হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ লাইলাতুল কদরে গোনাহ মাফের অনন্য সুযোগ ইত্যাদি অভিব্যঞ্জনায় রোজা এবং ঈদুল ফিতর ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যবহ ও আধ্যাত্মিক সুষমামন্ডিত।

ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছে এবং ফিরছে। প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করা আমাদের দেশে ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সারাবছর দেখা না হলেও অন্তত ঈদ উপলক্ষে অনেকের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়। আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সময় কাটানো যায়। এক পারিবারিক ও সামাজিক মেলবন্ধনের সৃষ্টি হয়। অন্য যেকোনো আনন্দ-উৎসব ও ঈদের আনন্দ-উৎসবের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কেবল আনন্দ-উল্লাস নয়, ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ, ক্ষমা ও সন্তুষ্টিলাভ এবং মানব কল্যাণের সুযোগ রয়েছে এর মধ্যে। কঠোর সিয়াম সাধনা, সংযম, দান-খয়রাত, পরার্থপরতা, ত্যাগ ও সার্বজনীন কল্যাণে আত্মনিবেদনের সমন্বয়ে ঈদ-উৎসব অনেক বেশি বাস্তবিক শুভময়তা এবং পারলৌকিক মুক্তির প্রত্যাশায় ঋদ্ধ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন: ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন, আসমানী তাকিদ। আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন হাত মিলাও হাতে। দে যাকাত মুর্দা-মুসলিমের আজ ভাঙ্গাইতে নিদ।’ ঈদের এই সার্বজনীন ও পারলৌকিক কল্যাণ, সাম্য-সৌহার্দ্যের বার্তা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হৃদয়ে ও কর্মে যথার্থভাবে প্রতিফলিত হলেই ঈদের অন্তর্নিহিত আহবান সফল ও সার্থক হবে। মুসলমানদের মধ্যে ধনী-দরিদ্র, অবস্থানগত পার্থক্য ও উঁচু-নিচু ভেদাভেদের কোনো সুযোগ নেই। ঈদ আমাদের দেশে বরাবরই ব্যাপক আয়োজন, উদ্দীপনা ও উৎসব মুখরতার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে সকল মানুষই তাদের সাধ্যানুযায়ী ঈদ-উৎসবে অংশগ্রহণ করে। প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর ও কর্মস্থল থেকে গ্রামে যায়। এ সময় সড়ক-মহাসড়কে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, মাইলের পর মাইল যানজটে পড়ে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। এমনকি পথেই ঈদ হয়ে গেছে। তবে এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। বাস, ট্রেনের টিকেট নিয়ে মানুষকে যেভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হতো, তা ছিল না। ট্রেনের টিকেটের জন্য ভোর রাত থেকে মানুষকে কমলাপুর রেল স্টেশনে লাইন দিতে হয়নি। বাস, ট্রেন, লঞ্চ স্বাভাবিকভাবে সময় মতো যাতায়াত করছে। এবার দীর্ঘ প্রায় ৯ দিনের ছুটির কারণে মানুষ স্বস্তির সাথে বাড়িতে যেতে পেরেছে। সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানজট ছিল না। যেটুকু হয়েছে, ঈদে স্বাভাবিকের তুলনায় সড়ক-মহাসড়কে গাড়ির সংখ্যা ও চাপ বেড়েছে। এটা হওয়া স্বাভাবিক। তবে আগের মতো যানজটে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। মানুষ আনন্দ ও স্বস্তির সাথে ঈদযাত্রা করতে পারছে। যানবাহন চালকদের সতর্ক থাকতে হবে, মসৃণ ও যানজটমুক্ত সড়ক পেয়ে যাতে তারা বেপরোয়া হয়ে না উঠে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রবল থাকে। যাত্রীদেরও এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। এ কথাও স্মরণে রাখা দরকার, ঘরে ফেরার পথটি যেমন অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে, ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী হওয়ার পথটিও মসৃণ হওয়া সকলের কাম্য। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ কাজটি করতে সক্ষম হবে। ঈদের এ সময়টাতে ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধী বেপরোয়া হয়ে উঠে। অনেক মানুষ বাসাবাড়ি ছেড়ে গ্রামে ঈদ করতে যায়। ফলে এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অধিক সতর্ক থাকা আবশ্যক। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ঈদের ছুটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ ও স্বস্তিদায়ক করার জন্য সরকার যে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা সার্বিক পরিস্থিতি দেখেই বোঝা গেছে। সরকার সময় মতো চমৎকার ব্যবস্থা নেয়ায় এমন স্বস্তির ঈদযাত্রা মানুষ করতে পেরেছে। এজন্য সরকারকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার নগর ছেড়ে মানুষ বেশি গ্রামে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন এর অন্যতম কারণ। এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকবে। সবার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, ঈদ শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় হবে। ইসলামের শিক্ষা এই, প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই। ফলে ঈদকে উপলক্ষ করে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ দৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদে পাশে দাঁড়ানো উচিৎ। মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরের শিক্ষাও তাই। মানুষের মধ্যে ইসলামের অহিংসা, ক্ষমা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা জাগরিত হোক। সকল দুর্বিপাক, কষ্ট ও যাতনার অবসান হোক, সবার মধ্যে প্রকৃত ধর্মবোধ ও মূল্যবোধ, প্রীতি, সহানুভূতি সংহত হোক, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে এটাই আমাদের আন্তরিক কামনা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

পবিত্র ঈদুল ফিতর

আপডেট টাইম : ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

পবিত্র ঈদুল ফিতর সমাগত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম উম্মাহর দু’টি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুল ফিতর একটি। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কর্তৃক ঘোষিত পুরস্কারের প্রত্যাশায় এই ঈদ অনেক বেশি মহিমান্বিত ও আনন্দঘন। সিয়াম সাধনার পাশাপাশি জাকাত ও ফিতরা আদায় শেষে পাপ-পঙ্কিলমুক্ত হয়ে অনাবিল আনন্দ লাভ এই ঈদের বিশেষ সওগাত। পবিত্র কোরআন নাজিলের এই মাসে রোজা পালন, তারাবি নামাজসহ বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের প্রয়াস, প্রতিটি ফরজ ও নফল ইবাদতের অতিরিক্ত ফজিলত এবং হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ লাইলাতুল কদরে গোনাহ মাফের অনন্য সুযোগ ইত্যাদি অভিব্যঞ্জনায় রোজা এবং ঈদুল ফিতর ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যবহ ও আধ্যাত্মিক সুষমামন্ডিত।

ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছে এবং ফিরছে। প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করা আমাদের দেশে ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সারাবছর দেখা না হলেও অন্তত ঈদ উপলক্ষে অনেকের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়। আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সময় কাটানো যায়। এক পারিবারিক ও সামাজিক মেলবন্ধনের সৃষ্টি হয়। অন্য যেকোনো আনন্দ-উৎসব ও ঈদের আনন্দ-উৎসবের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কেবল আনন্দ-উল্লাস নয়, ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ, ক্ষমা ও সন্তুষ্টিলাভ এবং মানব কল্যাণের সুযোগ রয়েছে এর মধ্যে। কঠোর সিয়াম সাধনা, সংযম, দান-খয়রাত, পরার্থপরতা, ত্যাগ ও সার্বজনীন কল্যাণে আত্মনিবেদনের সমন্বয়ে ঈদ-উৎসব অনেক বেশি বাস্তবিক শুভময়তা এবং পারলৌকিক মুক্তির প্রত্যাশায় ঋদ্ধ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন: ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন, আসমানী তাকিদ। আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন হাত মিলাও হাতে। দে যাকাত মুর্দা-মুসলিমের আজ ভাঙ্গাইতে নিদ।’ ঈদের এই সার্বজনীন ও পারলৌকিক কল্যাণ, সাম্য-সৌহার্দ্যের বার্তা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হৃদয়ে ও কর্মে যথার্থভাবে প্রতিফলিত হলেই ঈদের অন্তর্নিহিত আহবান সফল ও সার্থক হবে। মুসলমানদের মধ্যে ধনী-দরিদ্র, অবস্থানগত পার্থক্য ও উঁচু-নিচু ভেদাভেদের কোনো সুযোগ নেই। ঈদ আমাদের দেশে বরাবরই ব্যাপক আয়োজন, উদ্দীপনা ও উৎসব মুখরতার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে সকল মানুষই তাদের সাধ্যানুযায়ী ঈদ-উৎসবে অংশগ্রহণ করে। প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর ও কর্মস্থল থেকে গ্রামে যায়। এ সময় সড়ক-মহাসড়কে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, মাইলের পর মাইল যানজটে পড়ে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। এমনকি পথেই ঈদ হয়ে গেছে। তবে এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। বাস, ট্রেনের টিকেট নিয়ে মানুষকে যেভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হতো, তা ছিল না। ট্রেনের টিকেটের জন্য ভোর রাত থেকে মানুষকে কমলাপুর রেল স্টেশনে লাইন দিতে হয়নি। বাস, ট্রেন, লঞ্চ স্বাভাবিকভাবে সময় মতো যাতায়াত করছে। এবার দীর্ঘ প্রায় ৯ দিনের ছুটির কারণে মানুষ স্বস্তির সাথে বাড়িতে যেতে পেরেছে। সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানজট ছিল না। যেটুকু হয়েছে, ঈদে স্বাভাবিকের তুলনায় সড়ক-মহাসড়কে গাড়ির সংখ্যা ও চাপ বেড়েছে। এটা হওয়া স্বাভাবিক। তবে আগের মতো যানজটে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। মানুষ আনন্দ ও স্বস্তির সাথে ঈদযাত্রা করতে পারছে। যানবাহন চালকদের সতর্ক থাকতে হবে, মসৃণ ও যানজটমুক্ত সড়ক পেয়ে যাতে তারা বেপরোয়া হয়ে না উঠে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রবল থাকে। যাত্রীদেরও এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। এ কথাও স্মরণে রাখা দরকার, ঘরে ফেরার পথটি যেমন অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে, ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী হওয়ার পথটিও মসৃণ হওয়া সকলের কাম্য। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ কাজটি করতে সক্ষম হবে। ঈদের এ সময়টাতে ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধী বেপরোয়া হয়ে উঠে। অনেক মানুষ বাসাবাড়ি ছেড়ে গ্রামে ঈদ করতে যায়। ফলে এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অধিক সতর্ক থাকা আবশ্যক। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ঈদের ছুটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ ও স্বস্তিদায়ক করার জন্য সরকার যে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা সার্বিক পরিস্থিতি দেখেই বোঝা গেছে। সরকার সময় মতো চমৎকার ব্যবস্থা নেয়ায় এমন স্বস্তির ঈদযাত্রা মানুষ করতে পেরেছে। এজন্য সরকারকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার নগর ছেড়ে মানুষ বেশি গ্রামে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন এর অন্যতম কারণ। এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকবে। সবার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, ঈদ শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় হবে। ইসলামের শিক্ষা এই, প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই। ফলে ঈদকে উপলক্ষ করে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ দৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদে পাশে দাঁড়ানো উচিৎ। মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরের শিক্ষাও তাই। মানুষের মধ্যে ইসলামের অহিংসা, ক্ষমা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা জাগরিত হোক। সকল দুর্বিপাক, কষ্ট ও যাতনার অবসান হোক, সবার মধ্যে প্রকৃত ধর্মবোধ ও মূল্যবোধ, প্রীতি, সহানুভূতি সংহত হোক, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে এটাই আমাদের আন্তরিক কামনা।