ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

আধুনিক নারীবাদঃ উম্মে কুলসুম বেবী

১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী দার্শনিক ও ইউরোপীয় সমাজবাদী চার্লস ফুরিয়ে প্রথম নারীবাদ (feminism) শব্দটির আনুষ্ঠানিক ব্যাবহার করেছিলেন। ১৮৮০ সালে ফ্রান্স এ ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্য ও ১৯১০ সালে  যুক্তরাষ্ট্র নারীবাদ শব্দটি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়। যেখানে নারীবাদ ধারণাটি ছিল নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

নারীবাদ সমান পুরুষবাদ কখনো ছিলোনা আর তা কখনো হওয়ারও নয়। নারী সৃষ্টিকর্তার তৈরী এক অনন্য স্বত্বা অতএব তার অধিকারও হবে অনন্য এটাই স্বাভাবিক। কেন তারা পুরুষের অনুকরণ করবে কেনই বা তারা পুরুষের কাছে অধিকারের প্রার্থী হিসেবে হাতজোড় করবে। নারী ও পুরুষ এ যে একে অন্যের পরিপূরক, মানব জাতির অবিচ্ছেদ্য দু’টি শাখা। যেহেতু নারী ও পুরুষ উভয়ই মানুষ তাই এদের কিছু সাধারণ অধিকার থাকবে যার নাম মানবাধিকার। এরপর নারী হিসেবে নারীর কিছু অনন্য অধিকার থাকবে এবং পুরুষের কিছু অনন্য অধিকার থাকবে। তবে কখনোই কারো অধিকার অন্যের অধিকার খর্বের কারণ হতে পারবে না। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রগুলো মানবাধিকার এর আওতাভুক্ত। মানবাধিকার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমানভাবে প্রযোজ্য।

আমাদের সমাজে একটা ধারণা বদ্দমূল হয়ে উঠছে যে পুরুষরাই নারীদের চলার পথে বাধা। আমরা দিন দিন যেন পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে উঠছি। নারীর অবনতি কিংবা নীরবতার পিছনে আমরা সবসময় পুরুষকে দোষারোপ করি। আমার কথা গুলো অনেক নারীর কাছেই হয়তো তেঁতো লাগবে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে আমি তাই বলছি। নারীবাদ মানেই পুরুষ বিদ্বেষ বা উগ্রতা নয়। আমরা নারীবাদ কিংবা সমঅধিকারের কথা বলে আন্দোলন, সম্মেলন, সেমিনারে গলা ফাটিয়ে যে অধিকারের কথা বলি  সেটা কতটুকু কাজে আসে তা বলার পূর্বে একটু জেনে নেয়া দরকার আমাদের দেশে আধুনিক নারীবাদ নিয়ে যে তোড়জোড় চলছে সেটা আসলে কি? আমরা কতজন নারী সচেতন এই ব্যাপারে?

আজকে একজন পুরুষ যখন গভীর রাতে নেশা করে ঘরে ফিরে তখন যদি একজন নারী আপত্তি করে যে পুরুষরা যদি এত রাতে নেশা করে রাস্তায় একা চলতে পারে আমরা কেন পারবনা। পুরুষরা নাইট ক্লাবে মাস্তি করে তাদের সাথে বর্তমান যুগের আধুনিক নারীরা যারা পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে সেই পার্টিতে অংশগ্রহণ করেন। পুরুষরা শুধু শার্ট গেঞ্জি পড়ে ঘোরাফেরা করতে পারে এই ভেবে যদি একজন নারী আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে পুরুষরা যদি পারে আমরা কেন পারবনা। যারা এই সকল বিষয়ে আগ্রহী প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়ে নারীবাদ কিংবা সমধিকার ভেবে লিখালিখি করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, নারীবাদ বা মানবাধিকার কি সেটা নিয়ে একটু ভাবুন, বুঝার চেষ্টা করুন। কাউকে ইমোশনাল্যি ব্ল্যাকমেইল করাটা খুবই সহজ, কিন্তু মনে রাখবেন ইমোশনাল্যি ব্ল্যাকমেইলটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না।

আপনি যখন পুরুষের এই কুকর্মটাকে সুকর্ম ভেবে নারীকে ইন্ধন দিয়ে রাজপথে প্রতিবাদী মিছিলে ঠেলে দিবেন, মনে রাখবেন সেই নারীর ভিতর মনুষত্বটা (নারীত্ব জাগার দরকার নেই) জাগার সাথে সাথেই উনি বিচার করতে সচেষ্ট হবেন। এটা খুবই স্পষ্ট (বিবেকবান ব্যাক্তিদের জন্য) যে মদ্যপান কিংবা গভীর রাতে বাসায় ফেরা, নাইট ক্লাবে রাত কাটানো কিংবা হাফপ্যান্ট পড়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো এটা পুরুষের জন্যই ক্ষতিকর। এটা পুরুষের কোন অধিকার নয় বরঞ্চ নৈতিক অবক্ষয়। আর আপনি যখন সেটা নিয়ে লাফালাফি করবেন সেটা সত্যিই আপনার অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই না।

নারীবাদ নিয়ে কথা বলুন, কর্মক্ষেত্রে যেখানে নারীরা অবহেলিত হচ্ছে, যাত্রী পরিবহনে যেখানে নারীরা শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সেগুলোতে বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলোন। পুরুষদের দোষারোপ না করে তাদেরকেও এই বজ্রকন্ঠে যুক্ত করুন। কুকুর যেমন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্যই হিংস্র তেমনি সমাজের কিছু কুলাঙ্গার রয়েছে যা সবার জন্যই ত্রাসের কারণ। এটা সমাজের নারী পুরুষ উভয়ে হাতে হাত রেখেই নির্মুল করতে হবে। তবে এজন্য নারীকে জ্ঞান, বিদ্যা এবং বুদ্ধি দিয়ে পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করতে হবে।

পুরুষের ছিদ্রান্বেষী হয়ে অযথা কালক্ষেপণ না করে নিজস্ব গুণাবলী অর্জন করতে হবে। সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি কিংবা অর্থনীতির মত মানবাধিকারের ক্ষেত্রগুলোতে পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করতে হবে। তখন এমনিতেই নারীদের প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসবে এবং নারীমুক্তির সনদ রচিত হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

আধুনিক নারীবাদঃ উম্মে কুলসুম বেবী

আপডেট টাইম : ০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০১৭

১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী দার্শনিক ও ইউরোপীয় সমাজবাদী চার্লস ফুরিয়ে প্রথম নারীবাদ (feminism) শব্দটির আনুষ্ঠানিক ব্যাবহার করেছিলেন। ১৮৮০ সালে ফ্রান্স এ ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্য ও ১৯১০ সালে  যুক্তরাষ্ট্র নারীবাদ শব্দটি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়। যেখানে নারীবাদ ধারণাটি ছিল নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

নারীবাদ সমান পুরুষবাদ কখনো ছিলোনা আর তা কখনো হওয়ারও নয়। নারী সৃষ্টিকর্তার তৈরী এক অনন্য স্বত্বা অতএব তার অধিকারও হবে অনন্য এটাই স্বাভাবিক। কেন তারা পুরুষের অনুকরণ করবে কেনই বা তারা পুরুষের কাছে অধিকারের প্রার্থী হিসেবে হাতজোড় করবে। নারী ও পুরুষ এ যে একে অন্যের পরিপূরক, মানব জাতির অবিচ্ছেদ্য দু’টি শাখা। যেহেতু নারী ও পুরুষ উভয়ই মানুষ তাই এদের কিছু সাধারণ অধিকার থাকবে যার নাম মানবাধিকার। এরপর নারী হিসেবে নারীর কিছু অনন্য অধিকার থাকবে এবং পুরুষের কিছু অনন্য অধিকার থাকবে। তবে কখনোই কারো অধিকার অন্যের অধিকার খর্বের কারণ হতে পারবে না। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রগুলো মানবাধিকার এর আওতাভুক্ত। মানবাধিকার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমানভাবে প্রযোজ্য।

আমাদের সমাজে একটা ধারণা বদ্দমূল হয়ে উঠছে যে পুরুষরাই নারীদের চলার পথে বাধা। আমরা দিন দিন যেন পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে উঠছি। নারীর অবনতি কিংবা নীরবতার পিছনে আমরা সবসময় পুরুষকে দোষারোপ করি। আমার কথা গুলো অনেক নারীর কাছেই হয়তো তেঁতো লাগবে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে আমি তাই বলছি। নারীবাদ মানেই পুরুষ বিদ্বেষ বা উগ্রতা নয়। আমরা নারীবাদ কিংবা সমঅধিকারের কথা বলে আন্দোলন, সম্মেলন, সেমিনারে গলা ফাটিয়ে যে অধিকারের কথা বলি  সেটা কতটুকু কাজে আসে তা বলার পূর্বে একটু জেনে নেয়া দরকার আমাদের দেশে আধুনিক নারীবাদ নিয়ে যে তোড়জোড় চলছে সেটা আসলে কি? আমরা কতজন নারী সচেতন এই ব্যাপারে?

আজকে একজন পুরুষ যখন গভীর রাতে নেশা করে ঘরে ফিরে তখন যদি একজন নারী আপত্তি করে যে পুরুষরা যদি এত রাতে নেশা করে রাস্তায় একা চলতে পারে আমরা কেন পারবনা। পুরুষরা নাইট ক্লাবে মাস্তি করে তাদের সাথে বর্তমান যুগের আধুনিক নারীরা যারা পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে সেই পার্টিতে অংশগ্রহণ করেন। পুরুষরা শুধু শার্ট গেঞ্জি পড়ে ঘোরাফেরা করতে পারে এই ভেবে যদি একজন নারী আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে পুরুষরা যদি পারে আমরা কেন পারবনা। যারা এই সকল বিষয়ে আগ্রহী প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়ে নারীবাদ কিংবা সমধিকার ভেবে লিখালিখি করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, নারীবাদ বা মানবাধিকার কি সেটা নিয়ে একটু ভাবুন, বুঝার চেষ্টা করুন। কাউকে ইমোশনাল্যি ব্ল্যাকমেইল করাটা খুবই সহজ, কিন্তু মনে রাখবেন ইমোশনাল্যি ব্ল্যাকমেইলটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না।

আপনি যখন পুরুষের এই কুকর্মটাকে সুকর্ম ভেবে নারীকে ইন্ধন দিয়ে রাজপথে প্রতিবাদী মিছিলে ঠেলে দিবেন, মনে রাখবেন সেই নারীর ভিতর মনুষত্বটা (নারীত্ব জাগার দরকার নেই) জাগার সাথে সাথেই উনি বিচার করতে সচেষ্ট হবেন। এটা খুবই স্পষ্ট (বিবেকবান ব্যাক্তিদের জন্য) যে মদ্যপান কিংবা গভীর রাতে বাসায় ফেরা, নাইট ক্লাবে রাত কাটানো কিংবা হাফপ্যান্ট পড়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো এটা পুরুষের জন্যই ক্ষতিকর। এটা পুরুষের কোন অধিকার নয় বরঞ্চ নৈতিক অবক্ষয়। আর আপনি যখন সেটা নিয়ে লাফালাফি করবেন সেটা সত্যিই আপনার অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই না।

নারীবাদ নিয়ে কথা বলুন, কর্মক্ষেত্রে যেখানে নারীরা অবহেলিত হচ্ছে, যাত্রী পরিবহনে যেখানে নারীরা শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সেগুলোতে বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলোন। পুরুষদের দোষারোপ না করে তাদেরকেও এই বজ্রকন্ঠে যুক্ত করুন। কুকুর যেমন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্যই হিংস্র তেমনি সমাজের কিছু কুলাঙ্গার রয়েছে যা সবার জন্যই ত্রাসের কারণ। এটা সমাজের নারী পুরুষ উভয়ে হাতে হাত রেখেই নির্মুল করতে হবে। তবে এজন্য নারীকে জ্ঞান, বিদ্যা এবং বুদ্ধি দিয়ে পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করতে হবে।

পুরুষের ছিদ্রান্বেষী হয়ে অযথা কালক্ষেপণ না করে নিজস্ব গুণাবলী অর্জন করতে হবে। সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি কিংবা অর্থনীতির মত মানবাধিকারের ক্ষেত্রগুলোতে পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করতে হবে। তখন এমনিতেই নারীদের প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসবে এবং নারীমুক্তির সনদ রচিত হবে।