ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরতেই ৫৭ ধারা

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ চলছেই। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ধারায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে সাংবাদিকরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বিতর্কিত এই ধারায়। একের পর এক সাংবাদিকের নামে মামলার পর ধারাটি বাতিলের দাবিতে সোচ্চার সাংবাদিক সমাজ। তারা ৫৭ ধারাকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

৫৭ ধারা একটি বিতর্কিত আইন এবং সর্বত্রই এ আইনের অপপ্রয়োগ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল  সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মধুসূদন মণ্ডল।

তিনি বলেন, ৫৭ ধারা কালো কী সাদা আইন তা জানি না। তবে অবশ্যই এটি একটি বিতর্কিত আইন। সর্বত্রই এর অপপ্রয়োগ চলছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ৫৭ ধারা বর্তমানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছুটা আশার বাণী হচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব থানায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, ৫৭ ধারায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট থানাকে পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। তবে এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়।কারণ আদালতে মামলা করার সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।

এ সাংবাদিক নেতা আরো বলেন, ৫৭ ধারা নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে তার ঊর্ধ্বে থেকে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা খুবই জরুরি।

তিনি বলেন, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় এক সময় সাংবাদিকদের ব্যাপক হয়রানি করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এ ধারা রহিত করেছেন। সেই সরকারের আমলেই ৫৭ ধারার মতো বিতর্কিত একটি ধারা মেনে নেয়া যায় না।

একটি স্বাধীন সম্প্রচার নীতিমালা গঠন করা গেলে ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ করা যাবে বলে তথ্যমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে মধুসূদন মণ্ডল বলেন, দেশে যেসব কমিশন আছে তারা যে কতটা স্বাধীন তা জনগণ জানে। তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, কারো পদত্যাগ বড় বিষয় নয়। আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান সম্ভব। কেউ যেন স্বাধীনতার নামে অবাধ কোন কিছু করতে না পারে সে বিষয়েও আইন থাকতে হবে। সরকার অবশ্যই এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ সাংবাদিক নেতা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেছেন, ৫৭ ধারা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। গণতন্ত্রের সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও খুবই জরুরি। স্বাধীন সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরার জন্য ৫৭ ধারার মতো কালো আইন করা হয়েছে। অতীতে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এ ধরণের আইন করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। এখনও পারবে না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এ আইন করা হয়েছে। অনেক সাংবাদিকই ৫৭ ধারার জন্য স্বাধীন মতামত তুলে ধরতে পারছেন না।

তথ্যমন্ত্রীকে জনবিচ্ছিন্ন আখ্যা দিয়ে এ সাংবাদিক নেতা বলেন, তথ্যমন্ত্রী ৫৭ ধারার আদলে যে নতুন আইন করার চেষ্টা করছেন তা সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। গণমাধ্যম বন্ধ হওয়ার জন্যে তিনি তথ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন। গণতন্ত্র বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে একটি সুষ্ঠু আইন পাস করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। অন্যথায় এর পরিণতি ভালো হবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরতেই ৫৭ ধারা

আপডেট টাইম : ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ অগাস্ট ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ চলছেই। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ধারায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে সাংবাদিকরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বিতর্কিত এই ধারায়। একের পর এক সাংবাদিকের নামে মামলার পর ধারাটি বাতিলের দাবিতে সোচ্চার সাংবাদিক সমাজ। তারা ৫৭ ধারাকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

৫৭ ধারা একটি বিতর্কিত আইন এবং সর্বত্রই এ আইনের অপপ্রয়োগ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল  সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মধুসূদন মণ্ডল।

তিনি বলেন, ৫৭ ধারা কালো কী সাদা আইন তা জানি না। তবে অবশ্যই এটি একটি বিতর্কিত আইন। সর্বত্রই এর অপপ্রয়োগ চলছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ৫৭ ধারা বর্তমানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছুটা আশার বাণী হচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব থানায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, ৫৭ ধারায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট থানাকে পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। তবে এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়।কারণ আদালতে মামলা করার সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।

এ সাংবাদিক নেতা আরো বলেন, ৫৭ ধারা নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে তার ঊর্ধ্বে থেকে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা খুবই জরুরি।

তিনি বলেন, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় এক সময় সাংবাদিকদের ব্যাপক হয়রানি করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এ ধারা রহিত করেছেন। সেই সরকারের আমলেই ৫৭ ধারার মতো বিতর্কিত একটি ধারা মেনে নেয়া যায় না।

একটি স্বাধীন সম্প্রচার নীতিমালা গঠন করা গেলে ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ করা যাবে বলে তথ্যমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে মধুসূদন মণ্ডল বলেন, দেশে যেসব কমিশন আছে তারা যে কতটা স্বাধীন তা জনগণ জানে। তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, কারো পদত্যাগ বড় বিষয় নয়। আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান সম্ভব। কেউ যেন স্বাধীনতার নামে অবাধ কোন কিছু করতে না পারে সে বিষয়েও আইন থাকতে হবে। সরকার অবশ্যই এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ সাংবাদিক নেতা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেছেন, ৫৭ ধারা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। গণতন্ত্রের সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও খুবই জরুরি। স্বাধীন সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরার জন্য ৫৭ ধারার মতো কালো আইন করা হয়েছে। অতীতে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এ ধরণের আইন করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। এখনও পারবে না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এ আইন করা হয়েছে। অনেক সাংবাদিকই ৫৭ ধারার জন্য স্বাধীন মতামত তুলে ধরতে পারছেন না।

তথ্যমন্ত্রীকে জনবিচ্ছিন্ন আখ্যা দিয়ে এ সাংবাদিক নেতা বলেন, তথ্যমন্ত্রী ৫৭ ধারার আদলে যে নতুন আইন করার চেষ্টা করছেন তা সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। গণমাধ্যম বন্ধ হওয়ার জন্যে তিনি তথ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন। গণতন্ত্র বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে একটি সুষ্ঠু আইন পাস করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। অন্যথায় এর পরিণতি ভালো হবে না।