ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রেশন সুবিধা পাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান অবিস্মরণীয়: স্পিকার প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন: মাহদী আমিন নিজের অধিকার আদায়ে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে : ড. মঈন খান গাজার যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

কোরআনের বাণী রাসুলের আদর্শই সফলতার একমাত্র পথ

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : আহযাব, আয়াত : ২১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

لَقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ كَانَ یَرۡجُوا اللّٰهَ وَ الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَ ذَكَرَ اللّٰهَ كَثِیۡرًا ﴿ؕ۲۱﴾

সরল অনুবাদ

(২১) অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে রাসুলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আশা রাখে আল্লাহ ও শেষ দিনের এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ-অনুকরণের প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতাকে মূলনীতিরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে উত্তম অনুপম আদর্শ রয়েছে।’

আয়াতে বলা হচ্ছে, হে মুসলিমগণ! তোমাদের জন্য রসুল (সা.)-এর ব্যক্তিত্বে উত্তম আদর্শ রয়েছে, অতএব তোমরা জীবনের সর্বত্র তাঁরই অনুসরণ করো।

উক্ত আয়াত যদিও আহযাব যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে যুদ্ধের সময় বিশেষভাবে রাসুল (সা.)-এর আদর্শকে সামনে রাখা ও তাঁর অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি একটি ব্যাপক আদেশ। অর্থাৎ নবী (সা.)-এর সব কথা, কাজ ও অবস্থাতে মুসলিমের জন্য তাঁর অনুসরণ আবশ্যক। তা ইবাদত সম্পর্কিত হোক বা সমাজ সম্পর্কিত, জীবিকা সম্পর্কিত হোক বা রাজনীতি সম্পর্কিত, জীবনের সব ক্ষেত্রে তাঁরই নির্দেশ পালন করা একান্ত কর্তব্য।
 (ومَآاََتَكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ ) সুরা হাশরের ৭ নম্বর আয়াত এবং (اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ) সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতের দাবিও তাই।এই আয়াতে এটাও পরিষ্কার যে রাসুল (সা.)-এর আদর্শে ওই ব্যক্তি আদর্শবান হবে, যে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতে বিশ্বাসী এবং যে বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে। বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান উক্ত দুই গুণ থেকে বঞ্চিত। যার ফলে তাদের অন্তরে রাসুল (সা.)-এর আদর্শের কোনো গুরুত্ব নেই।

আজকের দিনে মুসলিম সমাজের অনেকেই নিজে নিজ ভালো লাগা পীর ও  রাজনৈতিক নেতাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসার কথা এরা মুখে খুব দাবি করে, কিন্তু কার্যত তাঁকে নিজেদের আদর্শ, নেতা ও পথপ্রদর্শক মানার ব্যাপারে অধিকাংশই পেছনে। সুতরাং এ দ্বিচারিতার প্রাপ্য যথাসময়ে সবাইকে ভোগ করতে হবে।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

রেশন সুবিধা পাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা

কোরআনের বাণী রাসুলের আদর্শই সফলতার একমাত্র পথ

আপডেট টাইম : ০১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : আহযাব, আয়াত : ২১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

لَقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ كَانَ یَرۡجُوا اللّٰهَ وَ الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَ ذَكَرَ اللّٰهَ كَثِیۡرًا ﴿ؕ۲۱﴾

সরল অনুবাদ

(২১) অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে রাসুলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আশা রাখে আল্লাহ ও শেষ দিনের এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ-অনুকরণের প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতাকে মূলনীতিরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে উত্তম অনুপম আদর্শ রয়েছে।’

আয়াতে বলা হচ্ছে, হে মুসলিমগণ! তোমাদের জন্য রসুল (সা.)-এর ব্যক্তিত্বে উত্তম আদর্শ রয়েছে, অতএব তোমরা জীবনের সর্বত্র তাঁরই অনুসরণ করো।

উক্ত আয়াত যদিও আহযাব যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে যুদ্ধের সময় বিশেষভাবে রাসুল (সা.)-এর আদর্শকে সামনে রাখা ও তাঁর অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি একটি ব্যাপক আদেশ। অর্থাৎ নবী (সা.)-এর সব কথা, কাজ ও অবস্থাতে মুসলিমের জন্য তাঁর অনুসরণ আবশ্যক। তা ইবাদত সম্পর্কিত হোক বা সমাজ সম্পর্কিত, জীবিকা সম্পর্কিত হোক বা রাজনীতি সম্পর্কিত, জীবনের সব ক্ষেত্রে তাঁরই নির্দেশ পালন করা একান্ত কর্তব্য।
 (ومَآاََتَكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ ) সুরা হাশরের ৭ নম্বর আয়াত এবং (اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ) সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতের দাবিও তাই।এই আয়াতে এটাও পরিষ্কার যে রাসুল (সা.)-এর আদর্শে ওই ব্যক্তি আদর্শবান হবে, যে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতে বিশ্বাসী এবং যে বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে। বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান উক্ত দুই গুণ থেকে বঞ্চিত। যার ফলে তাদের অন্তরে রাসুল (সা.)-এর আদর্শের কোনো গুরুত্ব নেই।

আজকের দিনে মুসলিম সমাজের অনেকেই নিজে নিজ ভালো লাগা পীর ও  রাজনৈতিক নেতাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসার কথা এরা মুখে খুব দাবি করে, কিন্তু কার্যত তাঁকে নিজেদের আদর্শ, নেতা ও পথপ্রদর্শক মানার ব্যাপারে অধিকাংশই পেছনে। সুতরাং এ দ্বিচারিতার প্রাপ্য যথাসময়ে সবাইকে ভোগ করতে হবে।