ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সভাপতির বৈঠক ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই মহোৎসবের নির্বাচন হবে : প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতের পথে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আগামী ফেব্রæয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেটি হবে ‘জাতির নবজন্মের মহোৎসব। নতুন বাংলাদেশ গড়তে, নিজেদের সব চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে যে সুযোগ এসেছে, তা আর আসবে না। এই সুযোগ হারাতে চাই না। ছোট-খাটো বিষয়ে আটকে গিয়ে আমরা যেন বড় জিনিস হারিয়ে না ফেলি। আমরা এমনভাবে এই জাতিকে দাঁড় করিয়ে দিতে চাই যে, এটা শুধু উপরের দিকে উঠবে, ডানে-বায়ে তাকানোর দরকার হবে না। আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি। এই পথেই যাব। আমাদের যাত্রাপথ পরিষ্কার। নির্বাচন হবে। জুলাই সনদে একমত হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আমরা নির্বাচনে যেতে চাই।
গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৃতীয় ধাপের সংলাপের দ্বিতীয় দিনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুরুতে যখন কমিশনের ধারণা এলো, আমি নিশ্চিত ছিলাম না এটা টিকবে কি না। কিন্তু দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পরে আপনাদের আলোচনা ও সিদ্ধান্তে আমি অভিভ‚ত হয়েছি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কমিশনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও অনুসরণ করবে। এটা শুধু বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে না, সারা দুনিয়া লক্ষ্য করবে আমরা কীভাবে সমস্যার সমাধান করলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতির সামনে আর কোনো বিকল্প পথ নেই। যে পথে আমরা শুরু করেছি, সেই পথ থেকে বের হবার কোনো সুযোগ নেই। এই সমতায় আমাদের আসতেই হবে। এটাই ছাত্র-জনতার দেয়া সুযোগ, যেখান থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। ড. ইউনূস বলেন, আমরা বারবার বলেছি ফেব্রæয়ারিতে নির্বাচন হবে, ফেব্রæয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন হবে। সেটি হবে মহোৎসবের নির্বাচন, যদি আমরা ঐক্যমতের মাধ্যমে ফয়সালা করতে পারি। এই নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়, এটি হবে জাতির নবজন্ম। জাতি সত্যিকার নবজন্ম হবে এটা শুধু নির্বাচন না, এটা নবজন্ম। এই যে এত ত্যাগ, এতো রক্ত এগুলো সার্থক হবে যদি আমরা এই নবজন্মটা লাভ করতে পারি। তিনি সতর্ক করে দেন, বিভাজন বা দ্বিমতের কোনো স্থান নেই। আমরা অনেক কথা বলতে পারি, কিন্তু দ্বিমত রেখে সমাপ্ত করতে পারব না। যখন ঐকমত্যে পৌঁছাবো, তখনই নির্বাচন সার্থক হবে।

ইউনূস উদাহরণ টেনে বলেন, আমাদের হাতে এখন আলাদিনের প্রদীপের মতো সুযোগ এসেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সেই শক্তি এনে দিয়েছে। আমরা চাইলে ছোটখাটো বিষয় চাইতে পারি, আবার চাইলে পুরো জাতিকে নতুনভাবে গড়তে পারি। এই সুযোগ একবারই এসেছে, আর আসবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। ‘এত বড় কাজ আর কোনোদিন পাওয়া যাবে না। তাই ধৈর্য ধরে আমাদের এগোতে হবে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আমাদের কাজ হলোÑ কোনো দ্ব›দ্ব ছাড়াই মহোৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি, এখন শুধু সাইনবোর্ড বসানো বাকি। পথ ঠিক আছে, গন্তব্য পরিষ্কার। এই নির্বাচন হবে উৎসবের নির্বাচন, দেশের শান্তি ও নতুন যাত্রার সূচনা। আমাদের সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো সব পথঘাট বন্ধ করা যাতে কোনো স্বৈরাচার আর ফিরে আসতে না পারে। এজন্য সবাইকে একমত হতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা শুধু নির্বাচন না, এটা নবজাগরণ। এই যে এতো ত্যাগ, আত্মাহুতিÑ এগুলো সার্থক হবে যদি আমরা ওই নবজন্মটা লাভ করতে পারি। মাঝখানে মনে পড়ছিল আলাদীনের প্রদীপের কথা। প্রদীপে ঘষা দিলে একটা দৈত্য বেরিয়ে আসে। দৈত্য এসে জিজ্ঞাসা করেÑ কী করতে হবে? এই যে প্রশ্নটা করে, এর উত্তর নানাভাবে দেয়া যায়। তার কাছে চা চাইলে চা নিয়ে আসতো, সারা দুনিয়া নিয়ে আসতে বললে দুনিয়া নিয়ে আসতো। এখন ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই দৈত্য সৃষ্টি করে দিয়েছে আমাদের জন্য। আমরা কি তার কাছে চা চাইব? নাকি আমরা দুনিয়া পাল্টে ফেলতে চাইব? কোনো বিষয় ছোট আকারে দেখা ঠিক না। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা এই জাতিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তৈরি করে দিয়ে যাব। ছোট-খাটো বিষয়ে আটকে গিয়ে আমরা যেন বড় জিনিস হারিয়ে না ফেলি। আমরা এমনভাবে এই জাতিকে দাঁড় করিয়ে দিতে চাই যে এটা শুধু উপরের দিকে উঠবে ডানে-বায়ে তাকানোর দরকার নেই। তিনি বলেন, আমাদের এতো সংস্কার কেন দরকার হচ্ছে? কারণ স্বৈরাচার যাতে আর কোনোভাবে ঢুকতে না পারে এজন্য সব পথঘাট বন্ধ করতে হবে। আমাদের সবার একমত হয়ে এই কাজটা করতে হবে। সবার কাছে আবেদন থাকবে যখনই জুলাই সনদ করবেন, কোলাকুলি করে করবেন, যে আমরা একমত হয়ে গেছি। তাহলে সবকিছু সার্থক হবে। যেহেতু আলাদীনের দৈত্য আমাদের সামনে আছে, আমাদের শুধু চাইতে হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, যখন ঐকমত্য কমিশন গঠন করলাম, তখন সদস্যরা কেউ জানতো না এটা কি জিনিস। না জেনেও এটাকে আপনারা গ্রহণ করেছেন। এ আলোচনা চলতে থাকবে। এই দৈত্যকে আমরা আর পাব না। একবারই পেয়েছি। তার কাছে আমাদের মনের সব আশা পূরণের দায়িত্ব দিয়ে দেব। আজ এই পর্বে সমাপ্তি হলো। এই আনন্দঘন পরিবেশ বজায় রেখেই আমরা নির্বাচন পর্যন্ত যেতে চাই। ভেতরে কোনো দুঃশ্চিন্তা রেখে যেন আমাদের নির্বাচনে যেতে না হয়। উৎসব এখান থেকে সৃষ্টি হবে। সেই উৎসব নিয়েই নির্বাচন হবে। এবং ফেব্রæয়ারির প্রথমার্ধেই হবে। এটাই পথ। আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি। এই পথেই যাব। আমাদের যাত্রাপথ পরিষ্কার। তিনি বলেন, যে সব জিনিস হয়ে গেছে তা থেকে পুরো দেশের মানুষ মুক্ত হতে চায়। সমস্ত পথ-ঘাট বন্ধ করতে চায়। এখন থেকে ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত এই কাজটা যদি আমরা করে ফেলতে পারি, তাহলে আমাদের দেশ যেমন নিশ্চিন্ত হবে, তেমনি সারা পৃথিবী আমাদেরকে অনুসরণ করবে। এখনো আমরা সবাই বুঝছি না যে, ঐকমত্য কমিশন আমাদের কী দিয়েছে। এক বছর পর যখন এদিকে ফিরে দেখবেন তখন বুঝতে পারবেন কী মহাকাÐ আপনারা করেছেন। দুই বছর, দশ বছর পর যখন অন্যরা দেখবে, তারা অবাক দৃষ্টিতে তাকাবে। সেই কাজটা যেন নিখুঁত হয়। এমনভাবে করব যে এটা থেকে একটা নতুন জাতি জন্মগ্রহণ করবে। সেই আবেদন আপনাদের কাছে। এটা ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটাই একমাত্র সুযোগ, এবং এটাকে আমাদের গ্রহণ করতেই হবে। সমঝোতা বলেন, ঐক্য বলেন, যখন নির্বাচনে যাব, একমত হয়েই যাব। নির্বাচন শেষ করে আমরা উৎসব করব। যে সব ভয়ঙ্কর কথাবার্তা আমরা শুনি, সেগুলো যেন বাস্তবে দেখতে না হয়। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। ঐকমত্য কমিশনের যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে এই কাজটা করেছেন, তাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমার আলাদিনের প্রদীপের গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো। প্রদীপে ঘষা দিলে দৈত্য বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করেÑ কী করতে হবে আমার। এই যে প্রশ্নটা করে, এর উত্তর নানাভাবে দেয়া যায়। চাইলে তার কাছে চা খেতে চাইতে পারি, তাকে যদি বলা হয় সারা দুনিয়া এনে দিতে, এনে দিতো। ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে একটি দৈত্য তৈরি করে দিয়েছে। আমাদের এতো সংস্কার কেন করতে হচ্ছে। সংস্কার করা কারণ হচ্ছে যাতে করে আর স্বৈরাচার ফিরে আসতে না পারে।

এ সময় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সভাপতির বৈঠক ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই মহোৎসবের নির্বাচন হবে : প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট টাইম : ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতের পথে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আগামী ফেব্রæয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেটি হবে ‘জাতির নবজন্মের মহোৎসব। নতুন বাংলাদেশ গড়তে, নিজেদের সব চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে যে সুযোগ এসেছে, তা আর আসবে না। এই সুযোগ হারাতে চাই না। ছোট-খাটো বিষয়ে আটকে গিয়ে আমরা যেন বড় জিনিস হারিয়ে না ফেলি। আমরা এমনভাবে এই জাতিকে দাঁড় করিয়ে দিতে চাই যে, এটা শুধু উপরের দিকে উঠবে, ডানে-বায়ে তাকানোর দরকার হবে না। আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি। এই পথেই যাব। আমাদের যাত্রাপথ পরিষ্কার। নির্বাচন হবে। জুলাই সনদে একমত হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আমরা নির্বাচনে যেতে চাই।
গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৃতীয় ধাপের সংলাপের দ্বিতীয় দিনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুরুতে যখন কমিশনের ধারণা এলো, আমি নিশ্চিত ছিলাম না এটা টিকবে কি না। কিন্তু দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পরে আপনাদের আলোচনা ও সিদ্ধান্তে আমি অভিভ‚ত হয়েছি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কমিশনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও অনুসরণ করবে। এটা শুধু বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে না, সারা দুনিয়া লক্ষ্য করবে আমরা কীভাবে সমস্যার সমাধান করলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতির সামনে আর কোনো বিকল্প পথ নেই। যে পথে আমরা শুরু করেছি, সেই পথ থেকে বের হবার কোনো সুযোগ নেই। এই সমতায় আমাদের আসতেই হবে। এটাই ছাত্র-জনতার দেয়া সুযোগ, যেখান থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। ড. ইউনূস বলেন, আমরা বারবার বলেছি ফেব্রæয়ারিতে নির্বাচন হবে, ফেব্রæয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন হবে। সেটি হবে মহোৎসবের নির্বাচন, যদি আমরা ঐক্যমতের মাধ্যমে ফয়সালা করতে পারি। এই নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়, এটি হবে জাতির নবজন্ম। জাতি সত্যিকার নবজন্ম হবে এটা শুধু নির্বাচন না, এটা নবজন্ম। এই যে এত ত্যাগ, এতো রক্ত এগুলো সার্থক হবে যদি আমরা এই নবজন্মটা লাভ করতে পারি। তিনি সতর্ক করে দেন, বিভাজন বা দ্বিমতের কোনো স্থান নেই। আমরা অনেক কথা বলতে পারি, কিন্তু দ্বিমত রেখে সমাপ্ত করতে পারব না। যখন ঐকমত্যে পৌঁছাবো, তখনই নির্বাচন সার্থক হবে।

ইউনূস উদাহরণ টেনে বলেন, আমাদের হাতে এখন আলাদিনের প্রদীপের মতো সুযোগ এসেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সেই শক্তি এনে দিয়েছে। আমরা চাইলে ছোটখাটো বিষয় চাইতে পারি, আবার চাইলে পুরো জাতিকে নতুনভাবে গড়তে পারি। এই সুযোগ একবারই এসেছে, আর আসবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। ‘এত বড় কাজ আর কোনোদিন পাওয়া যাবে না। তাই ধৈর্য ধরে আমাদের এগোতে হবে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আমাদের কাজ হলোÑ কোনো দ্ব›দ্ব ছাড়াই মহোৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি, এখন শুধু সাইনবোর্ড বসানো বাকি। পথ ঠিক আছে, গন্তব্য পরিষ্কার। এই নির্বাচন হবে উৎসবের নির্বাচন, দেশের শান্তি ও নতুন যাত্রার সূচনা। আমাদের সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো সব পথঘাট বন্ধ করা যাতে কোনো স্বৈরাচার আর ফিরে আসতে না পারে। এজন্য সবাইকে একমত হতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা শুধু নির্বাচন না, এটা নবজাগরণ। এই যে এতো ত্যাগ, আত্মাহুতিÑ এগুলো সার্থক হবে যদি আমরা ওই নবজন্মটা লাভ করতে পারি। মাঝখানে মনে পড়ছিল আলাদীনের প্রদীপের কথা। প্রদীপে ঘষা দিলে একটা দৈত্য বেরিয়ে আসে। দৈত্য এসে জিজ্ঞাসা করেÑ কী করতে হবে? এই যে প্রশ্নটা করে, এর উত্তর নানাভাবে দেয়া যায়। তার কাছে চা চাইলে চা নিয়ে আসতো, সারা দুনিয়া নিয়ে আসতে বললে দুনিয়া নিয়ে আসতো। এখন ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই দৈত্য সৃষ্টি করে দিয়েছে আমাদের জন্য। আমরা কি তার কাছে চা চাইব? নাকি আমরা দুনিয়া পাল্টে ফেলতে চাইব? কোনো বিষয় ছোট আকারে দেখা ঠিক না। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা এই জাতিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তৈরি করে দিয়ে যাব। ছোট-খাটো বিষয়ে আটকে গিয়ে আমরা যেন বড় জিনিস হারিয়ে না ফেলি। আমরা এমনভাবে এই জাতিকে দাঁড় করিয়ে দিতে চাই যে এটা শুধু উপরের দিকে উঠবে ডানে-বায়ে তাকানোর দরকার নেই। তিনি বলেন, আমাদের এতো সংস্কার কেন দরকার হচ্ছে? কারণ স্বৈরাচার যাতে আর কোনোভাবে ঢুকতে না পারে এজন্য সব পথঘাট বন্ধ করতে হবে। আমাদের সবার একমত হয়ে এই কাজটা করতে হবে। সবার কাছে আবেদন থাকবে যখনই জুলাই সনদ করবেন, কোলাকুলি করে করবেন, যে আমরা একমত হয়ে গেছি। তাহলে সবকিছু সার্থক হবে। যেহেতু আলাদীনের দৈত্য আমাদের সামনে আছে, আমাদের শুধু চাইতে হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, যখন ঐকমত্য কমিশন গঠন করলাম, তখন সদস্যরা কেউ জানতো না এটা কি জিনিস। না জেনেও এটাকে আপনারা গ্রহণ করেছেন। এ আলোচনা চলতে থাকবে। এই দৈত্যকে আমরা আর পাব না। একবারই পেয়েছি। তার কাছে আমাদের মনের সব আশা পূরণের দায়িত্ব দিয়ে দেব। আজ এই পর্বে সমাপ্তি হলো। এই আনন্দঘন পরিবেশ বজায় রেখেই আমরা নির্বাচন পর্যন্ত যেতে চাই। ভেতরে কোনো দুঃশ্চিন্তা রেখে যেন আমাদের নির্বাচনে যেতে না হয়। উৎসব এখান থেকে সৃষ্টি হবে। সেই উৎসব নিয়েই নির্বাচন হবে। এবং ফেব্রæয়ারির প্রথমার্ধেই হবে। এটাই পথ। আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি। এই পথেই যাব। আমাদের যাত্রাপথ পরিষ্কার। তিনি বলেন, যে সব জিনিস হয়ে গেছে তা থেকে পুরো দেশের মানুষ মুক্ত হতে চায়। সমস্ত পথ-ঘাট বন্ধ করতে চায়। এখন থেকে ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত এই কাজটা যদি আমরা করে ফেলতে পারি, তাহলে আমাদের দেশ যেমন নিশ্চিন্ত হবে, তেমনি সারা পৃথিবী আমাদেরকে অনুসরণ করবে। এখনো আমরা সবাই বুঝছি না যে, ঐকমত্য কমিশন আমাদের কী দিয়েছে। এক বছর পর যখন এদিকে ফিরে দেখবেন তখন বুঝতে পারবেন কী মহাকাÐ আপনারা করেছেন। দুই বছর, দশ বছর পর যখন অন্যরা দেখবে, তারা অবাক দৃষ্টিতে তাকাবে। সেই কাজটা যেন নিখুঁত হয়। এমনভাবে করব যে এটা থেকে একটা নতুন জাতি জন্মগ্রহণ করবে। সেই আবেদন আপনাদের কাছে। এটা ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটাই একমাত্র সুযোগ, এবং এটাকে আমাদের গ্রহণ করতেই হবে। সমঝোতা বলেন, ঐক্য বলেন, যখন নির্বাচনে যাব, একমত হয়েই যাব। নির্বাচন শেষ করে আমরা উৎসব করব। যে সব ভয়ঙ্কর কথাবার্তা আমরা শুনি, সেগুলো যেন বাস্তবে দেখতে না হয়। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। ঐকমত্য কমিশনের যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে এই কাজটা করেছেন, তাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমার আলাদিনের প্রদীপের গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো। প্রদীপে ঘষা দিলে দৈত্য বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করেÑ কী করতে হবে আমার। এই যে প্রশ্নটা করে, এর উত্তর নানাভাবে দেয়া যায়। চাইলে তার কাছে চা খেতে চাইতে পারি, তাকে যদি বলা হয় সারা দুনিয়া এনে দিতে, এনে দিতো। ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে একটি দৈত্য তৈরি করে দিয়েছে। আমাদের এতো সংস্কার কেন করতে হচ্ছে। সংস্কার করা কারণ হচ্ছে যাতে করে আর স্বৈরাচার ফিরে আসতে না পারে।

এ সময় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার।