ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন বিশ্ব নেতারা

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের উন্নয়নে ও বিকাশে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থায়ন কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের যে কোন সমাধানে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বুধবার (নিউইয়র্ক স্থানীয় সময়) জাতিসংঘের সাইড লাইনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তারা এ আশ্বাস দেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রতিটি বৈঠকে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়েও আলোচনা হয়। একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তারও আশ্বাস দেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইতালি, পাকিস্তান, ফিনল্যান্ড ও কসোভো এই চার দেশের সরকার বা রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে অনুরোধ করলে তিনি বাংলাদেশ-ইতালি বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নয়নে ইতালি বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রোহিঙ্গা বিষয়ক সম্মেলনে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবে।

এমনকি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আশা প্রকাশ করেছেন যে তিনি আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফর করবেন।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি তার দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এ ছাড়া ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

কসোভার প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানী সাদরিউ তার দেশ উন্নয়নের কৌশল প্রধান উপদেষ্টাকে জানান।

কোসোভা একটি ছোট দেশ হলেও এর অর্থনীতি ইউরোপে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯০-র দশকে এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ছিল, তবে গত দুই বছরে এটি ইউরোপের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। কিভাবে বাংলাদেশ কসোভার মতো উন্নয়ন করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নে কসোভার সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাণহানির প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (ইউএসবিবিসি) আয়োজিত অ্যাডভান্সিং রিফর্ম, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে মেটলাইফ, শেভরন এবং এক্সেলেরেটসহ শীর্ষ মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যাপারে ইতিবাচক কথা বলেছেন।

ক্লাব ডি মাদ্রিদের সভাপতি ও স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে একটি হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে দানিলো তুর্ক অধ্যাপক ইউনূসকে সংগঠনের সদস্য হতে আমন্ত্রণ জানান।

তিনি ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে অধ্যাপক ইউনূসের পথপ্রদর্শকমূলক কাজের প্রশংসা এবং এর বৈশ্বিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সম্মানিত হব যদি আপনি আমাদের কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিষয়ে আপনার মতামত আমরা বিশেষভাবে মূল্যায়ন করব।’

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে দানিলো তুর্ক বলেন, এ আন্দোলন দুনিয়াকে বিস্মিত করেছে এবং এ ধরনের রূপান্তর সম্পর্কে বৈশ্বিক নেতাদের আরও ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।

তিনি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ এবং অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক অনুশীলনকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

বুধবারের এসব বৈঠক বাংলাদেশের সঙ্গে চার দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

নিউইয়র্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা আজ নিউইয়র্ক সফরের তৃতীয় দিনে চার বিশ্ব নেতার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং আমরা বলব যে এই বৈঠকের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ক ওই দেশগুলোর সঙ্গে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের সভাপতি অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা করেন।

এর মধ্যে রয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন, দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, চট্টগ্রাম বন্দর পুনরুজ্জীবন, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণ এবং এশিয়াজুড়ে তরুণদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা।

এছাড়াও তারা দেশের চুরি হয়ে যাওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার সম্পদ পুনরুদ্ধারের বিষয়েও আলোচনা করেন।

সভাপতি অজয় বাঙ্গা গত ১৪ মাসে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তিনি কাজ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন বিশ্ব নেতারা

আপডেট টাইম : ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের উন্নয়নে ও বিকাশে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থায়ন কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের যে কোন সমাধানে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বুধবার (নিউইয়র্ক স্থানীয় সময়) জাতিসংঘের সাইড লাইনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তারা এ আশ্বাস দেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রতিটি বৈঠকে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়েও আলোচনা হয়। একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তারও আশ্বাস দেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইতালি, পাকিস্তান, ফিনল্যান্ড ও কসোভো এই চার দেশের সরকার বা রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে অনুরোধ করলে তিনি বাংলাদেশ-ইতালি বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নয়নে ইতালি বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রোহিঙ্গা বিষয়ক সম্মেলনে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবে।

এমনকি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আশা প্রকাশ করেছেন যে তিনি আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফর করবেন।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি তার দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এ ছাড়া ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

কসোভার প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানী সাদরিউ তার দেশ উন্নয়নের কৌশল প্রধান উপদেষ্টাকে জানান।

কোসোভা একটি ছোট দেশ হলেও এর অর্থনীতি ইউরোপে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯০-র দশকে এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ছিল, তবে গত দুই বছরে এটি ইউরোপের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। কিভাবে বাংলাদেশ কসোভার মতো উন্নয়ন করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নে কসোভার সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাণহানির প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (ইউএসবিবিসি) আয়োজিত অ্যাডভান্সিং রিফর্ম, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে মেটলাইফ, শেভরন এবং এক্সেলেরেটসহ শীর্ষ মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যাপারে ইতিবাচক কথা বলেছেন।

ক্লাব ডি মাদ্রিদের সভাপতি ও স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে একটি হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে দানিলো তুর্ক অধ্যাপক ইউনূসকে সংগঠনের সদস্য হতে আমন্ত্রণ জানান।

তিনি ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে অধ্যাপক ইউনূসের পথপ্রদর্শকমূলক কাজের প্রশংসা এবং এর বৈশ্বিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সম্মানিত হব যদি আপনি আমাদের কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিষয়ে আপনার মতামত আমরা বিশেষভাবে মূল্যায়ন করব।’

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে দানিলো তুর্ক বলেন, এ আন্দোলন দুনিয়াকে বিস্মিত করেছে এবং এ ধরনের রূপান্তর সম্পর্কে বৈশ্বিক নেতাদের আরও ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।

তিনি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ এবং অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক অনুশীলনকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

বুধবারের এসব বৈঠক বাংলাদেশের সঙ্গে চার দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

নিউইয়র্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা আজ নিউইয়র্ক সফরের তৃতীয় দিনে চার বিশ্ব নেতার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং আমরা বলব যে এই বৈঠকের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ক ওই দেশগুলোর সঙ্গে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের সভাপতি অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা করেন।

এর মধ্যে রয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন, দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, চট্টগ্রাম বন্দর পুনরুজ্জীবন, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণ এবং এশিয়াজুড়ে তরুণদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা।

এছাড়াও তারা দেশের চুরি হয়ে যাওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার সম্পদ পুনরুদ্ধারের বিষয়েও আলোচনা করেন।

সভাপতি অজয় বাঙ্গা গত ১৪ মাসে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তিনি কাজ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।