ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান পর্যটন মন্ত্রীর আমরা মালিক নই, ১৮ কোটি জনগণের সেবক : ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালু ও দূষণ রোধের সিদ্ধান্ত টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা যেভাবে বানাবেন এক কাপ ‘পারফেক্ট’ দুধ চা বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার ড্রোন নির্মাতাদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ ফুটবল লিগে খেলতে তিন ক্লাবকে ‘আমন্ত্রণ’ বাফুফের মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের ৩৬ জুলাই উদ্‌যাপনে কনসার্ট ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ রাজনীতি বিভেদ বাড়ায়, আমরা সম্প্রীতির সমাজ চাই: মির্জা ফখরুল

কনটেন্ট সরানো নিয়ে বাংলাদেশ থেকে অনুরোধ বেড়েছে

এ বছরের প্রথম ছয় মাসে গুগলের কাছে কনটেন্ট সরানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো অনুরোধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গুগলের কাছে ২৭৯টি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়, যেগুলোতে মোট আইটেম ছিল ১ হাজার ২৩টি। গুগল–অ্যালফাবেট সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫ সালের স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাঠানো অনুরোধগুলোর মধ্যে সর্বাধিক অংশ ছিল সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট অপসারণ সংক্রান্ত। এ ধরনের অনুরোধ ছিল ১৮১টি, এবং এগুলোর সবই ছিল ইউটিউব–সম্পর্কিত। এরপর নিয়ন্ত্রিত পণ্য ও সেবাবিষয়ক ৩৮টি এবং মানহানির অভিযোগে করা হয় ৩২টি অনুরোধ। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে।

গত বছরের তুলনায় এবার অনুরোধের সংখ্যা কম। ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে অনুরোধ ছিল ৩৩৭টি এবং আইটেম ছিল ৪ হাজার ৪৭০টি। সেই সময়ে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। পরে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর আগস্টে সেই সরকার পরিবর্তিত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।

গুগলের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অনুরোধগুলোর ৬৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ১৬ দশমিক ১ শতাংশে, আর ৯ শতাংশ কনটেন্ট অনুরোধ পাওয়ার আগেই মুছে ফেলা ছিল। আইনি প্রক্রিয়ায় অপসারণ হয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, নীতিমালা অনুযায়ী সরানো হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৫ শতাংশ আইটেম খুঁজেই পাওয়া যায়নি।

স্বতন্ত্রভাবে ইউটিউবও জানায়, কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গ করায় বাংলাদেশ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় লাখেরও বেশি ভিডিও—সংখ্যায় ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৫৫টি—অপসারণ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। এতে ধারা ৮ অনুযায়ী বিটিআরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাছে কনটেন্ট ব্লক করার অনুরোধ করতে পারে। এই ক্ষমতা পূর্বের আইনেও থাকলেও নতুন অধ্যাদেশে যুক্ত করা হয়েছে—যে কনটেন্ট ব্লক করা হবে, সরকার তা স্বচ্ছতার স্বার্থে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করবে।

ডিজিটাল অধিকার–সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নতুন বিধান বাস্তবায়ন হলে জনগণ জানতে পারবে কোন ধরনের অনলাইন সমালোচনা কর্তৃপক্ষ অপসারণ করতে আগ্রহী। তবে এখন পর্যন্ত গুগলকে যে নির্দিষ্ট কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ পাঠানো হয়েছে—তার তালিকা সরকার প্রকাশ করেনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান পর্যটন মন্ত্রীর

কনটেন্ট সরানো নিয়ে বাংলাদেশ থেকে অনুরোধ বেড়েছে

আপডেট টাইম : ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

এ বছরের প্রথম ছয় মাসে গুগলের কাছে কনটেন্ট সরানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো অনুরোধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গুগলের কাছে ২৭৯টি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়, যেগুলোতে মোট আইটেম ছিল ১ হাজার ২৩টি। গুগল–অ্যালফাবেট সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫ সালের স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাঠানো অনুরোধগুলোর মধ্যে সর্বাধিক অংশ ছিল সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট অপসারণ সংক্রান্ত। এ ধরনের অনুরোধ ছিল ১৮১টি, এবং এগুলোর সবই ছিল ইউটিউব–সম্পর্কিত। এরপর নিয়ন্ত্রিত পণ্য ও সেবাবিষয়ক ৩৮টি এবং মানহানির অভিযোগে করা হয় ৩২টি অনুরোধ। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে।

গত বছরের তুলনায় এবার অনুরোধের সংখ্যা কম। ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে অনুরোধ ছিল ৩৩৭টি এবং আইটেম ছিল ৪ হাজার ৪৭০টি। সেই সময়ে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। পরে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর আগস্টে সেই সরকার পরিবর্তিত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।

গুগলের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অনুরোধগুলোর ৬৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ১৬ দশমিক ১ শতাংশে, আর ৯ শতাংশ কনটেন্ট অনুরোধ পাওয়ার আগেই মুছে ফেলা ছিল। আইনি প্রক্রিয়ায় অপসারণ হয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, নীতিমালা অনুযায়ী সরানো হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৫ শতাংশ আইটেম খুঁজেই পাওয়া যায়নি।

স্বতন্ত্রভাবে ইউটিউবও জানায়, কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গ করায় বাংলাদেশ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় লাখেরও বেশি ভিডিও—সংখ্যায় ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৫৫টি—অপসারণ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। এতে ধারা ৮ অনুযায়ী বিটিআরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাছে কনটেন্ট ব্লক করার অনুরোধ করতে পারে। এই ক্ষমতা পূর্বের আইনেও থাকলেও নতুন অধ্যাদেশে যুক্ত করা হয়েছে—যে কনটেন্ট ব্লক করা হবে, সরকার তা স্বচ্ছতার স্বার্থে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করবে।

ডিজিটাল অধিকার–সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নতুন বিধান বাস্তবায়ন হলে জনগণ জানতে পারবে কোন ধরনের অনলাইন সমালোচনা কর্তৃপক্ষ অপসারণ করতে আগ্রহী। তবে এখন পর্যন্ত গুগলকে যে নির্দিষ্ট কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ পাঠানো হয়েছে—তার তালিকা সরকার প্রকাশ করেনি।