ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খাবার থেকে শরীরে বাড়ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে যা বলছে বিজ্ঞান সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরকার ও বিএনপিতে বড় রদবদলের আভাস ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি সেবা দিতে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা সেই তাহসিন মোদির আমন্ত্রণ রিভিউ করছে ঢাকা বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন কৃষকের ‘কপাল পুড়িয়ে’ ভেকু দিয়ে খাল খনন খাদ্য নিরাপত্তা-কৃষকের স্বার্থে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে

কেন নিজের সন্তানদের আইপ্যাড দেননি স্টিভ জবস

স্টিভ জবস ছিলেন একজন আমেরিকান প্রযুক্তি উদ্ভাবক, দূরদর্শী উদ্যোক্তা এবং বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ইনকরপোরেটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তাকে বিশ্বব্যাপী পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৭৬ সালে তিনি স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েনের সঙ্গে মিলে অ্যাপল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিওসেরও প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। ৫ অক্টোবর ২০১১ সালে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন স্টিভ জবস।

বিশ্ব প্রযুক্তির অন্যতম এই পথিকৃৎ স্টিভ জবস নিজের সন্তানদের আইপ্যাড বা অ্যাপল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দেননি। কারণ তিনি এর আসক্তি এবং ক্ষতিকর দিকগুলো খুব ভালো করেই জানতেন।

ব্রিটিশ উদ্যোক্তা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ‘দ্য ডায়েরি অব এ সিইও’ পডকাস্টের হোস্ট স্টিভেন বার্টলেটও তার শো-তে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শিশুদের আইপ্যাড দেওয়ার ভয়াবহ বিপত্তিগুলো তুলে ধরেছেন।

নেটমাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “স্টিভ জবসও নিজের সন্তানদের আইপ্যাড দেননি।” কিন্তু কেন?

এই দুই ব্যক্তিত্বের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আইপ্যাড বা স্ক্রিন টাইম নিষিদ্ধ করার মূল কারণগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

স্টিভ জবস কেন সন্তানদের আইপ্যাড দেননি?

২০১০ সালে প্রথম আইপ্যাড বাজারে আসার পর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিক নিক বিলটন স্টিভ জবসকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনার ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই আইপ্যাড খুব পছন্দ করে?”

জবাবে জবস বলেছিলেন, “তারা এটি ব্যবহার করে না। আমরা বাড়িতে ছেলেমেয়েদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি।”

এর মূল কারণগুলো ছিল-
প্রযুক্তির আসক্তি রোধ: জবস নিজেই এই ডিভাইসগুলো তৈরি করেছিলেন এবং তিনি জানতেন এগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা মানুষকে সহজে আসক্ত করে ফেলে। তিনি চাননি তার সন্তানরা এই ফাঁদে পড়ুক।

পারিবারিক বন্ধন ও কথোপকথন: স্টিভ জবসের জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসন জানান, জবস প্রতিদিন রাতে তার বাড়ির ডাইনিং টেবিলে পরিবারের সবার সাথে রাতের খাবার খেতেন। সেখানে কোনও আইপ্যাড বা কম্পিউটার আনা নিষিদ্ধ ছিল। তারা সবাই মিলে বই, ইতিহাস এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামনাসামনি আলোচনা করতেন।

সৃজনশীলতা রক্ষা: অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দেয়। জবস বিশ্বাস করতেন, ডিভাইস থেকে দূরে থাকলেই শিশুরা বাস্তব জগৎ সম্পর্কে আরও বেশি কৌতূহলী হবে।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর স্টিভেন বার্টলেটও কেন শিশুদের আইপ্যাড দেওয়ার বিরোধিতা করেন?

স্টিভেন বার্টলেট তার বিখ্যাত পডকাস্ট ‘দ্য ডায়েরি অব এ সিইও’ -তে বিভিন্ন নিউরোসায়েন্টিস্ট ও শিশু বিশেষজ্ঞদের সাথে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বারবার শিশুদের হাতে আইপ্যাড বা স্মার্টফোন তুলে না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন।

তার আলোচিত মূল পয়েন্টগুলো হলো:-
মস্তিষ্ক বিকাশে বাধা: বার্টলেটের শো-তে আসা বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছেন যে, অতিরিক্ত আইপ্যাড ব্যবহারের ফলে শিশুদের মস্তিষ্কের কর্টেক্স পাতলা হয়ে যায়, যা তাদের ভাষা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক সমস্যা: শৈশবেই আইপ্যাডের মতো স্ক্রিনে অভ্যস্ত হলে শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এটি শিশুদের মধ্যে অল্প বয়সেই বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো মানসিক সমস্যা তৈরি করে।

ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া: অনেক অভিভাবক সন্তানকে শান্ত রাখতে বা খাবার খাওয়াতে আইপ্যাড ধরিয়ে দেন।

বার্টলেটের পডকাস্টের আলোচনা অনুযায়ী, এই অভ্যাস শিশুদের নিজে নিজে শান্ত হওয়ার বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার স্বাভাবিক ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, যে প্রযুক্তির পেছনে সাধারণ মানুষ ছুটছে, তার পেছনের কারিগর ও বিশ্লেষকরাই এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। আর এই সচেতনতা থেকেই তারা সন্তানদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখার কঠোর পক্ষপাতী। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবার থেকে শরীরে বাড়ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে যা বলছে বিজ্ঞান

কেন নিজের সন্তানদের আইপ্যাড দেননি স্টিভ জবস

আপডেট টাইম : ০৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

স্টিভ জবস ছিলেন একজন আমেরিকান প্রযুক্তি উদ্ভাবক, দূরদর্শী উদ্যোক্তা এবং বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ইনকরপোরেটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তাকে বিশ্বব্যাপী পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৭৬ সালে তিনি স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েনের সঙ্গে মিলে অ্যাপল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিওসেরও প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। ৫ অক্টোবর ২০১১ সালে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন স্টিভ জবস।

বিশ্ব প্রযুক্তির অন্যতম এই পথিকৃৎ স্টিভ জবস নিজের সন্তানদের আইপ্যাড বা অ্যাপল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দেননি। কারণ তিনি এর আসক্তি এবং ক্ষতিকর দিকগুলো খুব ভালো করেই জানতেন।

ব্রিটিশ উদ্যোক্তা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ‘দ্য ডায়েরি অব এ সিইও’ পডকাস্টের হোস্ট স্টিভেন বার্টলেটও তার শো-তে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শিশুদের আইপ্যাড দেওয়ার ভয়াবহ বিপত্তিগুলো তুলে ধরেছেন।

নেটমাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “স্টিভ জবসও নিজের সন্তানদের আইপ্যাড দেননি।” কিন্তু কেন?

এই দুই ব্যক্তিত্বের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আইপ্যাড বা স্ক্রিন টাইম নিষিদ্ধ করার মূল কারণগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

স্টিভ জবস কেন সন্তানদের আইপ্যাড দেননি?

২০১০ সালে প্রথম আইপ্যাড বাজারে আসার পর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিক নিক বিলটন স্টিভ জবসকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনার ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই আইপ্যাড খুব পছন্দ করে?”

জবাবে জবস বলেছিলেন, “তারা এটি ব্যবহার করে না। আমরা বাড়িতে ছেলেমেয়েদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি।”

এর মূল কারণগুলো ছিল-
প্রযুক্তির আসক্তি রোধ: জবস নিজেই এই ডিভাইসগুলো তৈরি করেছিলেন এবং তিনি জানতেন এগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা মানুষকে সহজে আসক্ত করে ফেলে। তিনি চাননি তার সন্তানরা এই ফাঁদে পড়ুক।

পারিবারিক বন্ধন ও কথোপকথন: স্টিভ জবসের জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসন জানান, জবস প্রতিদিন রাতে তার বাড়ির ডাইনিং টেবিলে পরিবারের সবার সাথে রাতের খাবার খেতেন। সেখানে কোনও আইপ্যাড বা কম্পিউটার আনা নিষিদ্ধ ছিল। তারা সবাই মিলে বই, ইতিহাস এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামনাসামনি আলোচনা করতেন।

সৃজনশীলতা রক্ষা: অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দেয়। জবস বিশ্বাস করতেন, ডিভাইস থেকে দূরে থাকলেই শিশুরা বাস্তব জগৎ সম্পর্কে আরও বেশি কৌতূহলী হবে।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর স্টিভেন বার্টলেটও কেন শিশুদের আইপ্যাড দেওয়ার বিরোধিতা করেন?

স্টিভেন বার্টলেট তার বিখ্যাত পডকাস্ট ‘দ্য ডায়েরি অব এ সিইও’ -তে বিভিন্ন নিউরোসায়েন্টিস্ট ও শিশু বিশেষজ্ঞদের সাথে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বারবার শিশুদের হাতে আইপ্যাড বা স্মার্টফোন তুলে না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন।

তার আলোচিত মূল পয়েন্টগুলো হলো:-
মস্তিষ্ক বিকাশে বাধা: বার্টলেটের শো-তে আসা বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছেন যে, অতিরিক্ত আইপ্যাড ব্যবহারের ফলে শিশুদের মস্তিষ্কের কর্টেক্স পাতলা হয়ে যায়, যা তাদের ভাষা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক সমস্যা: শৈশবেই আইপ্যাডের মতো স্ক্রিনে অভ্যস্ত হলে শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এটি শিশুদের মধ্যে অল্প বয়সেই বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো মানসিক সমস্যা তৈরি করে।

ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া: অনেক অভিভাবক সন্তানকে শান্ত রাখতে বা খাবার খাওয়াতে আইপ্যাড ধরিয়ে দেন।

বার্টলেটের পডকাস্টের আলোচনা অনুযায়ী, এই অভ্যাস শিশুদের নিজে নিজে শান্ত হওয়ার বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার স্বাভাবিক ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, যে প্রযুক্তির পেছনে সাধারণ মানুষ ছুটছে, তার পেছনের কারিগর ও বিশ্লেষকরাই এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। আর এই সচেতনতা থেকেই তারা সন্তানদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখার কঠোর পক্ষপাতী। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম