ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, চিকিৎসকদের নজর ‘টাইম উইন্ডোতে

নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন ও অপরিবর্তিত রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, তিনি এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দেশটির নিউরোসার্জনদের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, হাদির মস্তিষ্কের ইস্কেমিক ক্ষতি ও ফোলা এখনও বিদ্যমান।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিঙ্গাপুরে হাদির চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জন ও হাদির চিকিৎসায় যুক্ত ডা. আব্দুল আহাদ।

তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢাকায় অস্ত্রোপচার ও নিবিড় চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে ভর্তির পর থেকেই নিউরোসার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিম যৌথভাবে তার চিকিৎসা শুরু করে। মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানে তার বাম পাশের ইস্কেমিক পরিবর্তন অপরিবর্তিত রয়েছে এবং মস্তিষ্কে ফোলা এখনো আছে। ব্রেন স্টেমে আঘাতের কারণে সৃষ্ট চাপ চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডা. আহাদ জানান, বর্তমানে হাদির কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস কৃত্রিম ভেন্টিলেশনের সহায়তায় সচল রাখা হয়েছে। তার নিউরোলজিক্যাল রেসপন্সে (জিসিএস স্কোর) এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি; অর্থাৎ দৃশ্যমান কোনো উন্নতি বা অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়। মস্তিষ্কের আঘাতের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘টাইম উইন্ডো’ থাকে, যার মধ্যে শরীরের ইতিবাচক সাড়া দাতার ভবিষ্যৎ অবস্থার সম্ভাবনা তৈরি করে। সেই সময়সীমার মধ্যেই হাদির শরীর কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে কিনা, সেদিকেই এখন নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হাদির ফুসফুসের সিটি স্ক্যানে আগের মতোই রক্তের উপস্থিতি দেখা গেছে, যা বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় তার বুকে চেস্ট ড্রেন দেওয়ার কারণ ছিল। সিঙ্গাপুরেও এই জটিলতা বিবেচনায় শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থাপনা চলমান রয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির অবস্থার উন্নতি বা চোখ খোলাসহ বিভিন্ন গুজব নিয়ে ডা. আহাদ স্পষ্ট করে বলেন, ‘হাদি চোখ খুলেছেন বা অবস্থার উন্নতি হয়েছে-এ ধরনের কোনো তথ্য সত্য নয়। তার অবস্থা এখনো স্ট্যাটিক, অর্থাৎ আগের জায়গাতেই রয়েছে।’ জ্ঞান ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা এখনই কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস দিতে পারছেন না। তবে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটে; সে আশাতেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাদির পরিবার ও সহকর্মীরাও দেশবাসীর কাছে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুজব বা অনুমানভিত্তিক তথ্য না ছড়িয়ে দায়িত্বশীল থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, চিকিৎসকদের নজর ‘টাইম উইন্ডোতে

আপডেট টাইম : ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন ও অপরিবর্তিত রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, তিনি এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দেশটির নিউরোসার্জনদের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, হাদির মস্তিষ্কের ইস্কেমিক ক্ষতি ও ফোলা এখনও বিদ্যমান।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিঙ্গাপুরে হাদির চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জন ও হাদির চিকিৎসায় যুক্ত ডা. আব্দুল আহাদ।

তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢাকায় অস্ত্রোপচার ও নিবিড় চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে ভর্তির পর থেকেই নিউরোসার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিম যৌথভাবে তার চিকিৎসা শুরু করে। মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানে তার বাম পাশের ইস্কেমিক পরিবর্তন অপরিবর্তিত রয়েছে এবং মস্তিষ্কে ফোলা এখনো আছে। ব্রেন স্টেমে আঘাতের কারণে সৃষ্ট চাপ চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডা. আহাদ জানান, বর্তমানে হাদির কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস কৃত্রিম ভেন্টিলেশনের সহায়তায় সচল রাখা হয়েছে। তার নিউরোলজিক্যাল রেসপন্সে (জিসিএস স্কোর) এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি; অর্থাৎ দৃশ্যমান কোনো উন্নতি বা অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়। মস্তিষ্কের আঘাতের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘টাইম উইন্ডো’ থাকে, যার মধ্যে শরীরের ইতিবাচক সাড়া দাতার ভবিষ্যৎ অবস্থার সম্ভাবনা তৈরি করে। সেই সময়সীমার মধ্যেই হাদির শরীর কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে কিনা, সেদিকেই এখন নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হাদির ফুসফুসের সিটি স্ক্যানে আগের মতোই রক্তের উপস্থিতি দেখা গেছে, যা বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় তার বুকে চেস্ট ড্রেন দেওয়ার কারণ ছিল। সিঙ্গাপুরেও এই জটিলতা বিবেচনায় শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থাপনা চলমান রয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির অবস্থার উন্নতি বা চোখ খোলাসহ বিভিন্ন গুজব নিয়ে ডা. আহাদ স্পষ্ট করে বলেন, ‘হাদি চোখ খুলেছেন বা অবস্থার উন্নতি হয়েছে-এ ধরনের কোনো তথ্য সত্য নয়। তার অবস্থা এখনো স্ট্যাটিক, অর্থাৎ আগের জায়গাতেই রয়েছে।’ জ্ঞান ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা এখনই কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস দিতে পারছেন না। তবে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটে; সে আশাতেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাদির পরিবার ও সহকর্মীরাও দেশবাসীর কাছে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুজব বা অনুমানভিত্তিক তথ্য না ছড়িয়ে দায়িত্বশীল থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।