ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

এক-এগারোতে আপস করেননি খালেদা জিয়া

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই নেত্রীকে রাখা হয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ কারাগারে। সেখানেই আগামী নির্বাচন, কারামুক্তি, দেশের পরবর্তী শাসনভারসহ নানা ইস্যুতে তৎকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে দরকষাকষি করেছিলেন। ওই সময়ে খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয়েছিল ১৩টি শর্ত। কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থবিরোধী হওয়ায় তিনি কোনো শর্তই মানেননি। আপস করেননি এক-এগারোর সরকারের সঙ্গে। এ ছাড়া কারাগারেও কোনো বাড়তি সুবিধা নেননি। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ওই সময় ১/১১-এর সরকারের পক্ষে ডিজিএফআই কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী বেশির ভাগ সময় বিশেষ কারাগারে দুই নেত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থবিরোধী প্রস্তাব হওয়ায় এক বৈঠকে ডিজিএফআইয়ের দুই কর্মকর্তার ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন খালেদা জিয়া। ওই সময় কিছুটা দূরে উপস্থিত ছিলেন কারা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের

তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন্স মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী। তিনি গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, আমি অধিকাংশ বৈঠকে উপস্থিত থাকতাম। কিন্তু অনেক দূরে থাকতাম। ফলে তাদের মধ্যে কী আলোচনা হতো, জানার সুযোগ কম ছিল। একদিন দুই সেনা কর্মকর্তার ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন বিএনপি চেয়ারপারসন। তাদের উচ্চৈঃস্বরে ধমকও দেন।

সূত্র বলেছে, ওয়ান ইলেভেন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে থামাতে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকেও আটক করেছিল। দুই ছেলেকে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশ যেতে রাজি হলে কারামুক্তি মিলবেÑ এমন শর্তও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া এসব শর্ত মানেননি। তিনি তখন বলেছিলেন, দেশের মাটি ও মানুষ ছেড়ে বিদেশ যাবেন না। এমনকি সরকারের শর্ত মানলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় বসবে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেনÑ এমন প্রস্তাবের সঙ্গেও আপস করেননি খালেদা জিয়া। তারেক রহমানকে রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে এই শর্তও মানেননি তিনি।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি দিনাজপুরে খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যু হলে পরদিন ১৯ জানুয়ারি ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তাকে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নানির লাশ দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। ওই দিন সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, প্যারোলে মুক্তির পর যেন খালেদা জিয়া ও তার দুই সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাৎ যেন না হয়। সে অনুযায়ী বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের সময় কোকোকে নানির মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের বাসায় নেওয়া হয়। কোকো দেখে চলে যাওয়ার পর তারেক রহমানকে বিকাল ৫টা ৫২ মিনিটে নানির মরদেহ দেখতে আনা হয়। তারেক রহমান চলে যাওয়ার পর মায়ের মুখ দেখাতে মইনুল রোডের বাসায় আনা হয় খালেদা জিয়াকে। মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখে মইনুল রোডের বাসাতেই পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে ভাত খেতে বসেছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু প্যারোলের সময় পূর্ণ হওয়ায় বাসার ভেতর খবর পাঠান তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন্স মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী। এ খবর জানার পর খালেদা জিয়া টেবিলে খাবার রেখেই বিস্কুট খেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের তিনি বলেন, এখন না গেলে কারা কর্মকর্তাদের সমস্যা হবে। কারাগারে গিয়ে খেতে পারব।

মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী আমাদের সময়কে বলেন, আমি জানতাম না যে, তিনি তখন খাবার খেতে বসেছেন। তিনি আমাদের কথা চিন্তা করে বিস্কুট খেয়েই বেরিয়ে পড়েন। এটা আমার সারাজীবনের আপসোস থেকে যাবে। যতদিন কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া কখনও বাড়তি সুবিধা চাননি। সব সময় আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমার খোঁজ নিয়েছেন।

সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় কারাবন্দি তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে একদিন তিন-চার লাইনের একটি চিঠি লেখেন বিএনপি চেয়ারপারসন। চিঠির শুরুটা ছিল ‘প্রিয় পিনু’। শেষটা ছিল ‘ইতি তোমার মা খালেদা জিয়া’। পরে সেই চিঠি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন। আমি চিঠিটি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম। তারেক রহমান কারাগারে আমাকে আঙ্কেল বলে সম্বোধন করতেন। আমি এক সময় এসএসএফে থাকার সময় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলাম।

শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী গতকাল আরও বলেন, খালেদা জিয়া তাঁকে একদিন ডেকে বলেন, ‘আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তি, ক্ষমতায় গেলে আপনাদের সমস্যা হবে না। কিন্তু ওরা ক্ষমতায় আসলে আপনাদের মেরে ফেলবে।

জানা গেছে, কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এক হাঁড়িতে রান্না করা খাবার খেতেন। তবে কখনও তাদের এক জায়গায় আনা হয়নি। তারা একজন আরেকজনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পর খালেদা জিয়ার ওপর নেমে আসে নানা খড়গ। সক্রিয় করা হয় এক-এগারো আমলে দায়ের করা দুর্নীতি মামলা। এমনকি খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জেলে পর্যন্ত নেওয়া হয়।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান। ওই সরকারের আমলেই ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর যৌথবাহিনী তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় আরাফাত রহমান কোকোকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে বিশেষ কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে যৌথবাহিনী ২০০৭ সালের ৭ মার্চ রাতে তারেক রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। একপর্যায়ে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য সুপ্রিমকোর্ট জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়। মুক্তির পর ১১ সেপ্টেম্বর অসুস্থ তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

এক-এগারোতে আপস করেননি খালেদা জিয়া

আপডেট টাইম : ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই নেত্রীকে রাখা হয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ কারাগারে। সেখানেই আগামী নির্বাচন, কারামুক্তি, দেশের পরবর্তী শাসনভারসহ নানা ইস্যুতে তৎকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে দরকষাকষি করেছিলেন। ওই সময়ে খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয়েছিল ১৩টি শর্ত। কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থবিরোধী হওয়ায় তিনি কোনো শর্তই মানেননি। আপস করেননি এক-এগারোর সরকারের সঙ্গে। এ ছাড়া কারাগারেও কোনো বাড়তি সুবিধা নেননি। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ওই সময় ১/১১-এর সরকারের পক্ষে ডিজিএফআই কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী বেশির ভাগ সময় বিশেষ কারাগারে দুই নেত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থবিরোধী প্রস্তাব হওয়ায় এক বৈঠকে ডিজিএফআইয়ের দুই কর্মকর্তার ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন খালেদা জিয়া। ওই সময় কিছুটা দূরে উপস্থিত ছিলেন কারা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের

তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন্স মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী। তিনি গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, আমি অধিকাংশ বৈঠকে উপস্থিত থাকতাম। কিন্তু অনেক দূরে থাকতাম। ফলে তাদের মধ্যে কী আলোচনা হতো, জানার সুযোগ কম ছিল। একদিন দুই সেনা কর্মকর্তার ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন বিএনপি চেয়ারপারসন। তাদের উচ্চৈঃস্বরে ধমকও দেন।

সূত্র বলেছে, ওয়ান ইলেভেন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে থামাতে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকেও আটক করেছিল। দুই ছেলেকে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশ যেতে রাজি হলে কারামুক্তি মিলবেÑ এমন শর্তও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া এসব শর্ত মানেননি। তিনি তখন বলেছিলেন, দেশের মাটি ও মানুষ ছেড়ে বিদেশ যাবেন না। এমনকি সরকারের শর্ত মানলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় বসবে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেনÑ এমন প্রস্তাবের সঙ্গেও আপস করেননি খালেদা জিয়া। তারেক রহমানকে রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে এই শর্তও মানেননি তিনি।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি দিনাজপুরে খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যু হলে পরদিন ১৯ জানুয়ারি ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তাকে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নানির লাশ দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। ওই দিন সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, প্যারোলে মুক্তির পর যেন খালেদা জিয়া ও তার দুই সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাৎ যেন না হয়। সে অনুযায়ী বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের সময় কোকোকে নানির মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের বাসায় নেওয়া হয়। কোকো দেখে চলে যাওয়ার পর তারেক রহমানকে বিকাল ৫টা ৫২ মিনিটে নানির মরদেহ দেখতে আনা হয়। তারেক রহমান চলে যাওয়ার পর মায়ের মুখ দেখাতে মইনুল রোডের বাসায় আনা হয় খালেদা জিয়াকে। মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখে মইনুল রোডের বাসাতেই পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে ভাত খেতে বসেছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু প্যারোলের সময় পূর্ণ হওয়ায় বাসার ভেতর খবর পাঠান তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন্স মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী। এ খবর জানার পর খালেদা জিয়া টেবিলে খাবার রেখেই বিস্কুট খেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের তিনি বলেন, এখন না গেলে কারা কর্মকর্তাদের সমস্যা হবে। কারাগারে গিয়ে খেতে পারব।

মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী আমাদের সময়কে বলেন, আমি জানতাম না যে, তিনি তখন খাবার খেতে বসেছেন। তিনি আমাদের কথা চিন্তা করে বিস্কুট খেয়েই বেরিয়ে পড়েন। এটা আমার সারাজীবনের আপসোস থেকে যাবে। যতদিন কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া কখনও বাড়তি সুবিধা চাননি। সব সময় আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমার খোঁজ নিয়েছেন।

সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় কারাবন্দি তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে একদিন তিন-চার লাইনের একটি চিঠি লেখেন বিএনপি চেয়ারপারসন। চিঠির শুরুটা ছিল ‘প্রিয় পিনু’। শেষটা ছিল ‘ইতি তোমার মা খালেদা জিয়া’। পরে সেই চিঠি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন। আমি চিঠিটি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম। তারেক রহমান কারাগারে আমাকে আঙ্কেল বলে সম্বোধন করতেন। আমি এক সময় এসএসএফে থাকার সময় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলাম।

শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী গতকাল আরও বলেন, খালেদা জিয়া তাঁকে একদিন ডেকে বলেন, ‘আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তি, ক্ষমতায় গেলে আপনাদের সমস্যা হবে না। কিন্তু ওরা ক্ষমতায় আসলে আপনাদের মেরে ফেলবে।

জানা গেছে, কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এক হাঁড়িতে রান্না করা খাবার খেতেন। তবে কখনও তাদের এক জায়গায় আনা হয়নি। তারা একজন আরেকজনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পর খালেদা জিয়ার ওপর নেমে আসে নানা খড়গ। সক্রিয় করা হয় এক-এগারো আমলে দায়ের করা দুর্নীতি মামলা। এমনকি খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জেলে পর্যন্ত নেওয়া হয়।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান। ওই সরকারের আমলেই ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর যৌথবাহিনী তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় আরাফাত রহমান কোকোকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে বিশেষ কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে যৌথবাহিনী ২০০৭ সালের ৭ মার্চ রাতে তারেক রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। একপর্যায়ে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য সুপ্রিমকোর্ট জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়। মুক্তির পর ১১ সেপ্টেম্বর অসুস্থ তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।