ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় গায়কসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে প্রাণভয়ে ভারতে গিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় অবস্থানের অভিযোগে এক বাংলাদেশি গায়কসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মেডিকেল ভিসায় ভারতে প্রবেশ করলেও তাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারপরও তাঁরা দেশে ফিরে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরের পার্ক স্ট্রিট ও কলিন স্ট্রিট এলাকার বিভিন্ন হোটেলে গোপনে অবস্থান করছিলেন।

পার্ক স্ট্রিট থানার কর্মকর্তারা নিয়মিত হোটেল তল্লাশির সময় বিদেশি বোর্ডারদের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পান, ছয়জনের ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। পরে কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আজম মোল্লা নামের একজন নিজেকে বাংলাদেশি গায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তিনি নিজের গিটার ছাড়তে চাননি এবং গান গাওয়ার অনুমতিও চেয়েছিলেন। অন্যদের নাম আবির হোসেন, মোহাম্মদ মামুন রশিদ, মোহাম্মদ আলিমুন গাজী, ফয়জল আমিন ও জায়দুল ইসলাম। সবার কাছ থেকেই বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। বাড়ি নোয়াখালী ও টাঙ্গাইল জেলায়। তাঁরা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, গত বছর বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে শুরু করলে তাঁরা আলাদাভাবে ভারতে যান। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মেডিকেল ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন। পরে কলকাতায় এসে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও হোটেল পরিবর্তন করে অবস্থান করতে থাকেন। কয়েকজন স্থানীয়ভাবে কাজের খোঁজও করছিলেন। গায়ক আজম মোল্লা বিভিন্ন পরিচিত মহলে গান গেয়ে আয়ের চেষ্টা করছিলেন বলেও জানা গেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যেই তাঁদের সবার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তবে দেশে না ফিরে তাঁরা কলকাতা থেকে অন্য দেশে গিয়ে কাজের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, দণ্ডভোগ শেষে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (পুশ ব্যাক) প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

কলকাতায় গায়কসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ০৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে প্রাণভয়ে ভারতে গিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় অবস্থানের অভিযোগে এক বাংলাদেশি গায়কসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মেডিকেল ভিসায় ভারতে প্রবেশ করলেও তাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারপরও তাঁরা দেশে ফিরে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরের পার্ক স্ট্রিট ও কলিন স্ট্রিট এলাকার বিভিন্ন হোটেলে গোপনে অবস্থান করছিলেন।

পার্ক স্ট্রিট থানার কর্মকর্তারা নিয়মিত হোটেল তল্লাশির সময় বিদেশি বোর্ডারদের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পান, ছয়জনের ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। পরে কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আজম মোল্লা নামের একজন নিজেকে বাংলাদেশি গায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তিনি নিজের গিটার ছাড়তে চাননি এবং গান গাওয়ার অনুমতিও চেয়েছিলেন। অন্যদের নাম আবির হোসেন, মোহাম্মদ মামুন রশিদ, মোহাম্মদ আলিমুন গাজী, ফয়জল আমিন ও জায়দুল ইসলাম। সবার কাছ থেকেই বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। বাড়ি নোয়াখালী ও টাঙ্গাইল জেলায়। তাঁরা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, গত বছর বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে শুরু করলে তাঁরা আলাদাভাবে ভারতে যান। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মেডিকেল ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন। পরে কলকাতায় এসে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও হোটেল পরিবর্তন করে অবস্থান করতে থাকেন। কয়েকজন স্থানীয়ভাবে কাজের খোঁজও করছিলেন। গায়ক আজম মোল্লা বিভিন্ন পরিচিত মহলে গান গেয়ে আয়ের চেষ্টা করছিলেন বলেও জানা গেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যেই তাঁদের সবার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তবে দেশে না ফিরে তাঁরা কলকাতা থেকে অন্য দেশে গিয়ে কাজের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, দণ্ডভোগ শেষে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (পুশ ব্যাক) প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।