ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খলিলুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখনও ফাঁকা ৩৪ হাজার কোটা, হজ নিবন্ধনের আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কিনা, যা বললেন স্পিকার বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ভারত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বই ঘিরে রাজপরিবারে তোলপাড় নদীর বুকে পিলার আছে শুধু, সেতুর নেই দেখা জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তারের দাবি যুবদল সভাপতির নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

প্রথম এমপি হয়েই তিন মন্ত্রণালয়ে হাবিবুর রশিদের চমকপ্রদ উত্থান

এবার প্রথমবারের মতো ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনের মধ্যে ৭টিতে জয় পেয়েছে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা। ঢাকার আসনগুলোতে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধানও ছিল খুবই কম। তবে এই সময়ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের প্রার্থীকে ৫৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি মনোনিত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

শুরুতে দলের মনোনয়ন দৌঁড়েই জায়গা না পাওয়া হাবিব এমপি নির্বাচিত হয়ে পেয়েছেন মন্ত্রিত্বও। একটি দুটি নয় তাকে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

হাবিবের জিতে আসা ঢাকা-৯ আসনে ব্যাপক প্রভাব ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের। তিনি নিজে পার্শ্ববর্তী ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদন্দ্বিতা করার পাশাপাশি এই আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তার স্ত্রী এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। এখানে নির্বাচন করার আগ্রহ ছিল বিএনপির আরেক ত্যাগী নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেলের। গুঞ্জন ছিল বিএনপির সমর্থনে এখানে নির্বাচন করতে পারেন ডা. তাসনিম জারাও। এত আলোচিত প্রার্থীর ভিড়ে শুরুতে তেমন একটা আলোচনায় না থাকলেও দল মনোনয়ন দেয় হাবিবুর রশিদ হাবিবকেই। মনোনয়ন পেয়ে নিজের অবস্থান জানানও দিয়েছেন তিনি।

হাবিবুর রশিদ হাবিবের জন্ম ঢাকা-৯ আসনেরই সবুজবাগ এলাকায়। তিনি রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। হাবিবুর রশিদ হাবিবের রাজনীতিতে আগমন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হাত ধরে। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীকালে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি  বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বিএনপির পরীক্ষিত, সাহসী এবং ত্যাগী নেতাদের অন্যতম একজন। বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে ব্যাপক রোশানলের শিকার হয়েছেন তিনি। হামলা, মামলা এবং জেল-জুলুমের পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকেও ফিরে এসেছেন তিনি। সবশেষ নাশকতার মামলা সাজাও হয়ে গিয়েছিল তার। ২০২৪ সালের এপ্রিলে কারাবান্দীও হন তিনি। পরে সে বছরের আগস্টে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে সেইসব রাজনৈতিক মামলায় খালাশ পান হাবিবুর রশিদ।

হাবিব জীবনে এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম নির্বাচনেই তিনি ঢাকার আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলের প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াত জোটের প্রার্থীর তুলনায় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ত্যাগী ও সাহসী যোদ্ধা এবং সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ের পুরষ্কার হিসেবে জীবনে প্রথম এমপি হওয়া হাবিবুর রশিদ হাবিবকে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করেছেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি তার নির্বাচনী এলাকা রাজধানীর তুলনামূলক অনুন্নত অঞ্চল সবুজবাগ, মুগদা ও খিলগাঁওকে নতুন করে সাজাবেন হাবিবুর রশিদ হাবিব-এমনটাই প্রত্যাশা তার এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

খলিলুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রথম এমপি হয়েই তিন মন্ত্রণালয়ে হাবিবুর রশিদের চমকপ্রদ উত্থান

আপডেট টাইম : ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার প্রথমবারের মতো ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনের মধ্যে ৭টিতে জয় পেয়েছে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা। ঢাকার আসনগুলোতে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধানও ছিল খুবই কম। তবে এই সময়ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের প্রার্থীকে ৫৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি মনোনিত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

শুরুতে দলের মনোনয়ন দৌঁড়েই জায়গা না পাওয়া হাবিব এমপি নির্বাচিত হয়ে পেয়েছেন মন্ত্রিত্বও। একটি দুটি নয় তাকে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

হাবিবের জিতে আসা ঢাকা-৯ আসনে ব্যাপক প্রভাব ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের। তিনি নিজে পার্শ্ববর্তী ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদন্দ্বিতা করার পাশাপাশি এই আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তার স্ত্রী এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। এখানে নির্বাচন করার আগ্রহ ছিল বিএনপির আরেক ত্যাগী নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেলের। গুঞ্জন ছিল বিএনপির সমর্থনে এখানে নির্বাচন করতে পারেন ডা. তাসনিম জারাও। এত আলোচিত প্রার্থীর ভিড়ে শুরুতে তেমন একটা আলোচনায় না থাকলেও দল মনোনয়ন দেয় হাবিবুর রশিদ হাবিবকেই। মনোনয়ন পেয়ে নিজের অবস্থান জানানও দিয়েছেন তিনি।

হাবিবুর রশিদ হাবিবের জন্ম ঢাকা-৯ আসনেরই সবুজবাগ এলাকায়। তিনি রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। হাবিবুর রশিদ হাবিবের রাজনীতিতে আগমন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হাত ধরে। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীকালে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি  বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বিএনপির পরীক্ষিত, সাহসী এবং ত্যাগী নেতাদের অন্যতম একজন। বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে ব্যাপক রোশানলের শিকার হয়েছেন তিনি। হামলা, মামলা এবং জেল-জুলুমের পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকেও ফিরে এসেছেন তিনি। সবশেষ নাশকতার মামলা সাজাও হয়ে গিয়েছিল তার। ২০২৪ সালের এপ্রিলে কারাবান্দীও হন তিনি। পরে সে বছরের আগস্টে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে সেইসব রাজনৈতিক মামলায় খালাশ পান হাবিবুর রশিদ।

হাবিব জীবনে এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম নির্বাচনেই তিনি ঢাকার আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলের প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াত জোটের প্রার্থীর তুলনায় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ত্যাগী ও সাহসী যোদ্ধা এবং সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ের পুরষ্কার হিসেবে জীবনে প্রথম এমপি হওয়া হাবিবুর রশিদ হাবিবকে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করেছেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি তার নির্বাচনী এলাকা রাজধানীর তুলনামূলক অনুন্নত অঞ্চল সবুজবাগ, মুগদা ও খিলগাঁওকে নতুন করে সাজাবেন হাবিবুর রশিদ হাবিব-এমনটাই প্রত্যাশা তার এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।