ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন : আইজিপি এআই-সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সে গবেষণায় তরুণদের নীতিসহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর: স্বপন প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪ স্তরের নিরাপত্তা প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ সঠিক প্যারেন্টিং যেভাবে গড়ে দেয় শিশুর ভবিষ্যৎ তারপরও দলে উন্নতির ছাপ দেখছেন হামজা খায়রুল বাসার-সাদনিমা জুটির ‘তোমার ঠিকানায়’ পাকিস্তান কেন রূপপুর প্রকল্পের ইউরেনিয়াম বহনের অনুমতি দেয়নি

মাঠজুড়ে সূর্যমুখীর হাসি, রূপ নিয়েছে পর্যটন কেন্দ্রে

ভোরের আলো ফুটতেই সবুজের বুক চিরে জেগে ওঠে এক অপরূপ সোনালি দৃশ্য। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা হাজারো সূর্যমুখী যেন সূর্যের দিকে মুখ তুলে জানাচ্ছে নতুন দিনের গল্প। এমন নয়নকাড়া দৃশ্যের দেখা মিলছে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের গরুল গ্রামে। মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই সোনালি আভা শুধু কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে না, নজর কাড়ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমীদেরও।

গরুল গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম এবার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি জানান, গত মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এবার বড় পরিসরে আবাদ করেছেন। তার ক্ষেতের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চলতি মৌসুমে বিরল উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় চার হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে।

ফুলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা মেতেছেন সেলফিতে। দর্শনার্থী সুমি বেগম বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সোনালি ফুলের সমুদ্র দেখে থমকে দাঁড়াই। প্রতিটি কোণই ছবি তোলার জন্য অসাধারণ।

আরেক দর্শনার্থী বিউটি আক্তার জানান, পরিবারের সবাইকে নিয়ে এমন শান্ত ও সুন্দর পরিবেশে সময় কাটিয়ে তিনি দারুণ উচ্ছ্বসিত।

কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখীর ফলন দেখে মনটা ভরে যায়। গতবার ভালো ফলন হওয়ায় এবার চাষ বাড়িয়েছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লাভবান হব। উপজেলা কৃষি অফিস থেকেও নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা পাচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, ভোজ্য তেলের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে সূর্যমুখী এই জেলার একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হয়ে উঠতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন : আইজিপি

মাঠজুড়ে সূর্যমুখীর হাসি, রূপ নিয়েছে পর্যটন কেন্দ্রে

আপডেট টাইম : ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ভোরের আলো ফুটতেই সবুজের বুক চিরে জেগে ওঠে এক অপরূপ সোনালি দৃশ্য। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা হাজারো সূর্যমুখী যেন সূর্যের দিকে মুখ তুলে জানাচ্ছে নতুন দিনের গল্প। এমন নয়নকাড়া দৃশ্যের দেখা মিলছে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের গরুল গ্রামে। মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই সোনালি আভা শুধু কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে না, নজর কাড়ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমীদেরও।

গরুল গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম এবার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি জানান, গত মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এবার বড় পরিসরে আবাদ করেছেন। তার ক্ষেতের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চলতি মৌসুমে বিরল উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় চার হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে।

ফুলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা মেতেছেন সেলফিতে। দর্শনার্থী সুমি বেগম বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সোনালি ফুলের সমুদ্র দেখে থমকে দাঁড়াই। প্রতিটি কোণই ছবি তোলার জন্য অসাধারণ।

আরেক দর্শনার্থী বিউটি আক্তার জানান, পরিবারের সবাইকে নিয়ে এমন শান্ত ও সুন্দর পরিবেশে সময় কাটিয়ে তিনি দারুণ উচ্ছ্বসিত।

কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখীর ফলন দেখে মনটা ভরে যায়। গতবার ভালো ফলন হওয়ায় এবার চাষ বাড়িয়েছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লাভবান হব। উপজেলা কৃষি অফিস থেকেও নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা পাচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, ভোজ্য তেলের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে সূর্যমুখী এই জেলার একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হয়ে উঠতে পারে।