ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

‘অপারেশন নয়, আগে বিকল্প ভাবুন’—নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সবাই বলেছিল অপারেশন জরুরি। প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নিজের সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চিকিৎসায় অপারেশনই শেষ কথা নয়—আগে বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করতে হবে।

রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ফেইজ-এ ভর্তি হওয়া রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ইনডাকশন প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল চিকিৎসকদের জন্য তার অভিজ্ঞতাভিত্তিক বার্তা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় এক সহিংস ঘটনার মধ্যে তার ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

‘পুলিশ ভেতরে ঢুকে রাইফেলের আঘাত করে। আমার ডান পায়ের টেন্ডন ছিঁড়ে যায়। আমি পড়ে যাই, আর উঠতে পারিনি,’ বলেন তিনি।

ঘটনার পর তার ঘনিষ্ঠজন এবং অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মত দেন—অপারেশন প্রয়োজন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল।

সিদ্ধান্ত বদলের মুহূর্ত

এই সময় এক বন্ধু তাকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রথমে রাজি না হলেও পরে পরিবারের অনুরোধে সেখানে যান তিনি।

বেঙ্গালুরুতে এক চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি সরাসরি পা পরীক্ষা করেন এবং এমআরআই করতে বলেন। রিপোর্ট দেখার পর চিকিৎসক জানান, অপারেশন প্রয়োজন নেই।

‘আমি দাঁড়াতে পারছিলাম না। অথচ তিনি বললেন, অপারেশন লাগবে না,’—স্মৃতিচারণ করেন মন্ত্রী।

বিশেষ জুতা ও অনুশীলন

চিকিৎসক তাকে একটি বিশেষ জুতা পরতে দেন এবং ২১ দিন তা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট অনুশীলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মন্ত্রী জানান, ২১ দিন জুতা ব্যবহারের পর ৭ দিনের অনুশীলন করেন। ধাপে ধাপে তিনি দাঁড়াতে ও হাঁটতে সক্ষম হন। ‘কোনো অপারেশন লাগেনি’, বলেন তিনি।

চিকিৎসকদের জন্য বার্তা

নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা অদক্ষ ছিলেন না। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবসময় বিকল্প চিন্তার জায়গা রাখতে হবে।

অপারেশনের আগেও চিকিৎসা আছে। সেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে, বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডাক্তারি বিদ্যায় শেখার শেষ নেই। প্রতিনিয়ত নতুন জ্ঞান, নতুন পদ্ধতি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শিখতে হবে। শেখার কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না,—জোর দিয়ে বলেন তিনি।

চিকিৎসায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান

মন্ত্রী বলেন, আধুনিক চিকিৎসায় কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট, রিহ্যাবিলিটেশন এবং রোগীভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। কেবল অস্ত্রোপচার নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নবীন রেসিডেন্ট চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।

নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বক্তব্য শেষ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জ্ঞান ও বিচক্ষণতা। কখন অপারেশন করতে হবে, আর কখন বিকল্প পথে হাঁটতে হবে—সেই সিদ্ধান্তই আসল দক্ষতা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

‘অপারেশন নয়, আগে বিকল্প ভাবুন’—নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

সবাই বলেছিল অপারেশন জরুরি। প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নিজের সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চিকিৎসায় অপারেশনই শেষ কথা নয়—আগে বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করতে হবে।

রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ফেইজ-এ ভর্তি হওয়া রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ইনডাকশন প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল চিকিৎসকদের জন্য তার অভিজ্ঞতাভিত্তিক বার্তা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় এক সহিংস ঘটনার মধ্যে তার ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

‘পুলিশ ভেতরে ঢুকে রাইফেলের আঘাত করে। আমার ডান পায়ের টেন্ডন ছিঁড়ে যায়। আমি পড়ে যাই, আর উঠতে পারিনি,’ বলেন তিনি।

ঘটনার পর তার ঘনিষ্ঠজন এবং অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মত দেন—অপারেশন প্রয়োজন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল।

সিদ্ধান্ত বদলের মুহূর্ত

এই সময় এক বন্ধু তাকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রথমে রাজি না হলেও পরে পরিবারের অনুরোধে সেখানে যান তিনি।

বেঙ্গালুরুতে এক চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি সরাসরি পা পরীক্ষা করেন এবং এমআরআই করতে বলেন। রিপোর্ট দেখার পর চিকিৎসক জানান, অপারেশন প্রয়োজন নেই।

‘আমি দাঁড়াতে পারছিলাম না। অথচ তিনি বললেন, অপারেশন লাগবে না,’—স্মৃতিচারণ করেন মন্ত্রী।

বিশেষ জুতা ও অনুশীলন

চিকিৎসক তাকে একটি বিশেষ জুতা পরতে দেন এবং ২১ দিন তা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট অনুশীলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মন্ত্রী জানান, ২১ দিন জুতা ব্যবহারের পর ৭ দিনের অনুশীলন করেন। ধাপে ধাপে তিনি দাঁড়াতে ও হাঁটতে সক্ষম হন। ‘কোনো অপারেশন লাগেনি’, বলেন তিনি।

চিকিৎসকদের জন্য বার্তা

নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা অদক্ষ ছিলেন না। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবসময় বিকল্প চিন্তার জায়গা রাখতে হবে।

অপারেশনের আগেও চিকিৎসা আছে। সেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে, বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডাক্তারি বিদ্যায় শেখার শেষ নেই। প্রতিনিয়ত নতুন জ্ঞান, নতুন পদ্ধতি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শিখতে হবে। শেখার কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না,—জোর দিয়ে বলেন তিনি।

চিকিৎসায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান

মন্ত্রী বলেন, আধুনিক চিকিৎসায় কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট, রিহ্যাবিলিটেশন এবং রোগীভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। কেবল অস্ত্রোপচার নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নবীন রেসিডেন্ট চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।

নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বক্তব্য শেষ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জ্ঞান ও বিচক্ষণতা। কখন অপারেশন করতে হবে, আর কখন বিকল্প পথে হাঁটতে হবে—সেই সিদ্ধান্তই আসল দক্ষতা।