ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

শেখ মুজিব ‘ফাইনাল খেলার ক্যাপ্টেন’ মেজর জিয়া খেলায় নেমেই ‘সেঞ্চুরিয়ান’

আমি কোনো পরিস্থিতির চাপে মুক্তিযুদ্ধে যাইনি। বরং আমি নিজেই মুক্তিযুদ্ধ তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফের নেতৃত্বে গঠিত বিএলএফ টিমে আমি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্ত হই। আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হলো, ১৯৬৯ সালের ১৪ নভেম্বর। সেদিন সুবেহ সাদিকের সময় ইকবাল হলের পুকুরপারে নিজের বাম হাতের অনামিকার রক্ত দিয়ে আমি শপথ নিয়েছিলাম যে, বাঙালির মুক্তির জন্য আমি জীবনপণ যুদ্ধ করব

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘আমি মনে করি, শেখ মুজিবুর রহমান হলেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ‘ফাইনাল খেলার ক্যাপ্টেন’ এবং জিয়াউর রহমান সংকটের সময় খেলায় নেমে ‘সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়’। গণমাধ্যমে স্বকণ্ঠে মহান স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে মাঠে নেমেই তিনি সেঞ্চুরি করেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ও মেজর জিয়াউর রহমানের মূল্যায়নসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা উপরোক্ত মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে গেলেন তার পারিপার্শ্বিক ও প্রারম্ভিক অবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় স্মৃতি, ২৬ মার্চের ঘটনা, মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শ্রবণ, শেখ মুজিবুর ও জিয়াউর রহমান-এই দুই শীর্ষ নেতাকে মূল্যায়ন, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি আসন পাওয়া যা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে নতুন রেকর্ড স্থাপনসহ নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এ ছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস রক্ষায় তাঁর নিজের দল বিএনপির পলিসি কী হওয়া উচিত সে বিষয়টিও খোলাসা করেন।

আপনি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে গেলেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : আমি কোনো পরিস্থিতির চাপে মুক্তিযুদ্ধে যাইনি। বরং আমি নিজেই মুক্তিযুদ্ধ তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফের নেতৃত্বে গঠিত বিএলএফ টিমে আমি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্ত হই। আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হলো, ১৯৬৯ সালের ১৪ নভেম্বর। সেদিন সুবেহ সাদিকের সময় ইকবাল হলের পুকুরপারে নিজের বাম হাতের অনামিকার রক্ত দিয়ে আমি শপথ নিয়েছিলাম যে, বাঙালির মুক্তির জন্য আমি জীবনপণ যুদ্ধ করব। তখন থেকেই আমি মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে কাজ শুরু করি।

মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় স্মৃতি সম্পর্কে বলুন।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে অজস্র স্মৃতি রয়েছে। যা এই কম সময়ে বলে শেষ করা যাবে না। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে যে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বা পাঁচজনের বিশেষ টিম ছিল, আমি সেই টিমের একজন সদস্য ছিলাম। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক আহ্বানের পর আমি শাজাহান সিরাজের কাছ থেকে বাংলাদেশের সাতটি পতাকা গ্রহণ করি এবং এলাকায় গিয়ে মানুষকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার নির্দেশ পাই। ১০ মার্চ আমি কিশোরগঞ্জে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে নিজ হাতে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করি। এরপর ১২ মার্চ থেকে আমরা স্থানীয় আনসার ও পুলিশের সহায়তায় ইটনায় যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু করি।

স্বাধীনতার ঘোষণা ও বেতারের বার্তা সম্পর্কে বলুন। মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা কীভাবে শুনেছিলেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার দিকে ইটনা সদরের এক ওয়্যারলেস অপারেটরের মাধ্যমে আমি একটি গোপন বার্তা পাই। সেই বার্তায় লেখা ছিল, পাকিস্তানিরা পুলিশ ও ইপিআরের ওপর আক্রমণ করেছে এবং শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এরপর ২৭ মার্চ বিকালে আমি ইটনা দেওয়ানবাড়ির এক দিঘির পাড়ে বসে ফোর ব্যান্ড রেডিওতে মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণা নিজ কানে শুনি। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছেন। এটিই ইতিহাসের ধ্রুব সত্য।

রণাঙ্গনের লড়াই ও মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা সম্পর্কে বলুন।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : আমি ভারতের দেরাদুনে (উত্তরাখণ্ড) ৫ সপ্তাহ কঠোর কমান্ডো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি এবং কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে প্রবেশ করি। আমি ৫ নম্বর সেক্টরের অধীনে মেজর মীর শওকত আলীর নেতৃত্বে তামাবিল-জাফলং এলাকায় আমরা প্রথম সম্মুখযুদ্ধ করি। ৯ ডিসেম্বরের বিখ্যাত ‘কালনী-কুশিয়ারা যুদ্ধে’ আমার নেতৃত্বে আমরা ১৬৯ জন পাঞ্জাবি ও মিলিশিয়াকে আটক করি এবং প্রচুর রসদ ও স্টিমার দখল করি। এ ছাড়া আমি তারাইল ও করিমগঞ্জ থানায় বিভিন্ন সফল অপারেশন পরিচালনা করি।

মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান এই দুই শীর্ষ নেতার ভূমিকাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : আমি মনে করি, শেখ মুজিবুর রহমান হলেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ‘ফাইনাল খেলার ক্যাপ্টেন’ এবং জিয়াউর রহমান সংকটের সময় খেলায় নেমে ‘সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়’। গণমাধ্যমে স্বকণ্ঠে মহান স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে মাঠে নেমেই তিনি সেঞ্চুরি লাভ করেন। আমরা তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত হয়েছিলাম। একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখা উচিত, মুজিবনগর সরকারের অধীনেই সেনাবাহিনী গঠিত হয়েছিল এবং এ সরকারই অফিসারদের পদোন্নতি ও অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস রক্ষায় আপনার দল বিএনপিকে আপনি কী পরামর্শ দেবেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : বিএনপিকে তার নিজের অস্তিত্বের স্বার্থেই স্বাধীনতার পক্ষে থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তা ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার। পাশাপাশি জেড ফোর্সেরও প্রধান। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীরউত্তম খেতাব পেয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল যদি ৭১-এর আদর্শ বিচ্যুত হয়, তাহলে এ দেশের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারবে না। কারণ ৭১-এর বিরোধীরা এখন সংগঠিত, তাই বিএনপিকে টিকে থাকতে হলে ৭১-এর আদর্শের মাঠেই খেলতে হবে। আমি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের তৎকালীন ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানাই। কারণ তারা সেদিন বাঙালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। একই সঙ্গে আমি ড. ইউনূসের পরিবারের ভূমিকারও সমালোচনা করি, কারণ তাঁদের কেউ মুক্তিযুদ্ধে ছিল না।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী (জোট) ৭৭টি আসন পেয়েছে, যা স্বাধীনতার পর নতুন রেকর্ড-এটাকে কীভাবে দেখছেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : জামায়াতে ইসলামী জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে কখনোই এত সংখ্যক আসন পাবে না। স্বাধীনতাবিরোধী একটা উগ্র-জঙ্গি সংগঠন কখনোই এত ভোট পেতে পারে না। তারা ছলচাতুরী করে এ আসনগুলো নিয়েছে। রাজধানীতে যে কটি আসন পেয়েছে তার সবই হয়েছে দয়াদাক্ষিণ্যের ফসল। বিশেষ করে ড. ইউনূস সাহেবের বদান্যতায় তাদের এই বিশাল প্রাপ্তি। একই সঙ্গে আমি ড. ইউনূসের পরিবারের ভূমিকারও সমালোচনা করি। কারণ তাদের কেউ মুক্তিযুদ্ধে ছিল না। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে ভবিষ্যতে আর ইউনূসের সরকারও আসবে না, জামায়াতে ইসলামীও আর কখনো সংসদে ৭৭টি আসন পাবে না।

সবশেষে রণাঙ্গনের বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানীসহ সব সেক্টর কমান্ডার এবং ৩০ লাখ শহীদ ও মা-বোনের ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে ইতিহাস নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, ১০০ বছর পর হলেও প্রকৃত সত্য ইতিহাস মানুষ জানতে পারবে। ২৮ মার্চ সংসদীয় দলের বৈঠকে আমি উপস্থিত থাকব।  জাতীয় সংসদে আমি আমার বক্তব্যে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করব।

 আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

শেখ মুজিব ‘ফাইনাল খেলার ক্যাপ্টেন’ মেজর জিয়া খেলায় নেমেই ‘সেঞ্চুরিয়ান’

আপডেট টাইম : ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

আমি কোনো পরিস্থিতির চাপে মুক্তিযুদ্ধে যাইনি। বরং আমি নিজেই মুক্তিযুদ্ধ তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফের নেতৃত্বে গঠিত বিএলএফ টিমে আমি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্ত হই। আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হলো, ১৯৬৯ সালের ১৪ নভেম্বর। সেদিন সুবেহ সাদিকের সময় ইকবাল হলের পুকুরপারে নিজের বাম হাতের অনামিকার রক্ত দিয়ে আমি শপথ নিয়েছিলাম যে, বাঙালির মুক্তির জন্য আমি জীবনপণ যুদ্ধ করব

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘আমি মনে করি, শেখ মুজিবুর রহমান হলেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ‘ফাইনাল খেলার ক্যাপ্টেন’ এবং জিয়াউর রহমান সংকটের সময় খেলায় নেমে ‘সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়’। গণমাধ্যমে স্বকণ্ঠে মহান স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে মাঠে নেমেই তিনি সেঞ্চুরি করেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ও মেজর জিয়াউর রহমানের মূল্যায়নসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা উপরোক্ত মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে গেলেন তার পারিপার্শ্বিক ও প্রারম্ভিক অবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় স্মৃতি, ২৬ মার্চের ঘটনা, মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শ্রবণ, শেখ মুজিবুর ও জিয়াউর রহমান-এই দুই শীর্ষ নেতাকে মূল্যায়ন, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি আসন পাওয়া যা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে নতুন রেকর্ড স্থাপনসহ নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এ ছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস রক্ষায় তাঁর নিজের দল বিএনপির পলিসি কী হওয়া উচিত সে বিষয়টিও খোলাসা করেন।

আপনি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে গেলেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : আমি কোনো পরিস্থিতির চাপে মুক্তিযুদ্ধে যাইনি। বরং আমি নিজেই মুক্তিযুদ্ধ তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফের নেতৃত্বে গঠিত বিএলএফ টিমে আমি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্ত হই। আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হলো, ১৯৬৯ সালের ১৪ নভেম্বর। সেদিন সুবেহ সাদিকের সময় ইকবাল হলের পুকুরপারে নিজের বাম হাতের অনামিকার রক্ত দিয়ে আমি শপথ নিয়েছিলাম যে, বাঙালির মুক্তির জন্য আমি জীবনপণ যুদ্ধ করব। তখন থেকেই আমি মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে কাজ শুরু করি।

মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় স্মৃতি সম্পর্কে বলুন।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে অজস্র স্মৃতি রয়েছে। যা এই কম সময়ে বলে শেষ করা যাবে না। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে যে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বা পাঁচজনের বিশেষ টিম ছিল, আমি সেই টিমের একজন সদস্য ছিলাম। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক আহ্বানের পর আমি শাজাহান সিরাজের কাছ থেকে বাংলাদেশের সাতটি পতাকা গ্রহণ করি এবং এলাকায় গিয়ে মানুষকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার নির্দেশ পাই। ১০ মার্চ আমি কিশোরগঞ্জে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে নিজ হাতে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করি। এরপর ১২ মার্চ থেকে আমরা স্থানীয় আনসার ও পুলিশের সহায়তায় ইটনায় যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু করি।

স্বাধীনতার ঘোষণা ও বেতারের বার্তা সম্পর্কে বলুন। মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা কীভাবে শুনেছিলেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার দিকে ইটনা সদরের এক ওয়্যারলেস অপারেটরের মাধ্যমে আমি একটি গোপন বার্তা পাই। সেই বার্তায় লেখা ছিল, পাকিস্তানিরা পুলিশ ও ইপিআরের ওপর আক্রমণ করেছে এবং শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এরপর ২৭ মার্চ বিকালে আমি ইটনা দেওয়ানবাড়ির এক দিঘির পাড়ে বসে ফোর ব্যান্ড রেডিওতে মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণা নিজ কানে শুনি। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছেন। এটিই ইতিহাসের ধ্রুব সত্য।

রণাঙ্গনের লড়াই ও মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা সম্পর্কে বলুন।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : আমি ভারতের দেরাদুনে (উত্তরাখণ্ড) ৫ সপ্তাহ কঠোর কমান্ডো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি এবং কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে প্রবেশ করি। আমি ৫ নম্বর সেক্টরের অধীনে মেজর মীর শওকত আলীর নেতৃত্বে তামাবিল-জাফলং এলাকায় আমরা প্রথম সম্মুখযুদ্ধ করি। ৯ ডিসেম্বরের বিখ্যাত ‘কালনী-কুশিয়ারা যুদ্ধে’ আমার নেতৃত্বে আমরা ১৬৯ জন পাঞ্জাবি ও মিলিশিয়াকে আটক করি এবং প্রচুর রসদ ও স্টিমার দখল করি। এ ছাড়া আমি তারাইল ও করিমগঞ্জ থানায় বিভিন্ন সফল অপারেশন পরিচালনা করি।

মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান এই দুই শীর্ষ নেতার ভূমিকাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : আমি মনে করি, শেখ মুজিবুর রহমান হলেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ‘ফাইনাল খেলার ক্যাপ্টেন’ এবং জিয়াউর রহমান সংকটের সময় খেলায় নেমে ‘সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়’। গণমাধ্যমে স্বকণ্ঠে মহান স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে মাঠে নেমেই তিনি সেঞ্চুরি লাভ করেন। আমরা তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত হয়েছিলাম। একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখা উচিত, মুজিবনগর সরকারের অধীনেই সেনাবাহিনী গঠিত হয়েছিল এবং এ সরকারই অফিসারদের পদোন্নতি ও অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস রক্ষায় আপনার দল বিএনপিকে আপনি কী পরামর্শ দেবেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : বিএনপিকে তার নিজের অস্তিত্বের স্বার্থেই স্বাধীনতার পক্ষে থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তা ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার। পাশাপাশি জেড ফোর্সেরও প্রধান। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীরউত্তম খেতাব পেয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল যদি ৭১-এর আদর্শ বিচ্যুত হয়, তাহলে এ দেশের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারবে না। কারণ ৭১-এর বিরোধীরা এখন সংগঠিত, তাই বিএনপিকে টিকে থাকতে হলে ৭১-এর আদর্শের মাঠেই খেলতে হবে। আমি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের তৎকালীন ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানাই। কারণ তারা সেদিন বাঙালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। একই সঙ্গে আমি ড. ইউনূসের পরিবারের ভূমিকারও সমালোচনা করি, কারণ তাঁদের কেউ মুক্তিযুদ্ধে ছিল না।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী (জোট) ৭৭টি আসন পেয়েছে, যা স্বাধীনতার পর নতুন রেকর্ড-এটাকে কীভাবে দেখছেন?

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান : জামায়াতে ইসলামী জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে কখনোই এত সংখ্যক আসন পাবে না। স্বাধীনতাবিরোধী একটা উগ্র-জঙ্গি সংগঠন কখনোই এত ভোট পেতে পারে না। তারা ছলচাতুরী করে এ আসনগুলো নিয়েছে। রাজধানীতে যে কটি আসন পেয়েছে তার সবই হয়েছে দয়াদাক্ষিণ্যের ফসল। বিশেষ করে ড. ইউনূস সাহেবের বদান্যতায় তাদের এই বিশাল প্রাপ্তি। একই সঙ্গে আমি ড. ইউনূসের পরিবারের ভূমিকারও সমালোচনা করি। কারণ তাদের কেউ মুক্তিযুদ্ধে ছিল না। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে ভবিষ্যতে আর ইউনূসের সরকারও আসবে না, জামায়াতে ইসলামীও আর কখনো সংসদে ৭৭টি আসন পাবে না।

সবশেষে রণাঙ্গনের বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানীসহ সব সেক্টর কমান্ডার এবং ৩০ লাখ শহীদ ও মা-বোনের ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে ইতিহাস নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, ১০০ বছর পর হলেও প্রকৃত সত্য ইতিহাস মানুষ জানতে পারবে। ২৮ মার্চ সংসদীয় দলের বৈঠকে আমি উপস্থিত থাকব।  জাতীয় সংসদে আমি আমার বক্তব্যে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করব।

 আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।