ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত তাদের ঈদের সকাল

বৃহস্পতিবার, সকাল সোয়া ৭টা। রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান। নিত্যদিনের ভোরের এ সময়টাতে সাধারণত কবরস্থানে নীরবতা বিরাজ করে। কিন্তু ঈদুল আজহার দিনে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। আজ ২৮ মে ঈদের দিন ভোর থেকেই বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের কবর জিয়ারত করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে ছুটে আসেন মানুষ।

কবরস্থানের গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার আগেই চোখে পড়ে সারি সারি মানুষের ভিড়। কারও হাতে গোলাপের পাপড়ি কারও হাতে আতর। কেউ আবার প্রিয়জনের কবরের ওপর একটু পানি ছিটিয়ে দোয়া করছেন। কবরের পাশে বসা বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে শিশুরাও হাত তুলে মোনাজাত করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন কবরের সামনে স্বজনদের উপস্থিতি। কেউ একা এসেছেন আবার কেউবা এসেছেন স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে। তাদের কেউ নীরবে চোখ মুছছেন কেউবা বিড়বিড় করে দোয়া-দরুদ পড়ছেন। ঈদের আনন্দের মধ্যেও কবরস্থানজুড়ে ছিল এক ধরনের চাপা বেদনার আবহ।

jagonews24

তাদেরই একজন মোহাম্মদ রাসেল। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। ভোরে টঙ্গী থেকে স্ত্রী ও পাঁচ বছরের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন মা রাশিদা বেগমের কবর জিয়ারত করতে। সাত মাস আগে তার মা মারা যান।

আলাপকালে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, সকাল থেকেই মায়ের জন্য মনটা ছটফট করছিল। তাই ভোরে উঠেই কবর জিয়ারত করতে সপরিবারে ছুটে এসেছি। ইচ্ছে ছিল কবরস্থান সংলগ্ন হানিফ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবো। একটুর জন্য সকাল সাতটার জামাত ধরতে পারিনি। এখন কবর জিয়ারত করে আটটার জামাতে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরবো।

টঙ্গীতে বাসা থাকা সত্ত্বেও কেন আজিমপুরে দাফন করা হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আজিমপুর কবরস্থানে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ কবর জিয়ারত করতে আসেন। তারা সব কবরবাসীর জন্য দোয়া করেন। তাছাড়া আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন আশপাশের এলাকাতেই থাকেন। সবার পরামর্শেই এখানে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

jagonews24

মাসুম বিল্লাহ নামে আরেক ব্যক্তি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। তিনি জানান, কামরাঙ্গীরচরের একটি মসজিদে সকাল ৬টায় ঈদের নামাজ আদায় করে ছেলেকে নিয়ে আজিমপুরে উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তিনি বলেন, আমার বাবা আব্দুল হালিম চলতি বছরের জানুয়ারিতে মারা গেছেন। মা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। সময়-সুযোগ পেলেই আমি কবরস্থানে এসে বাবা-মাসহ অন্যান্য কবরবাসীর জন্য দোয়া করি।

ভোরবেলায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বিতরণ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই সকালেই কবর জিয়ারত করে বাসায় ফিরে কোরবানি দেবো।

প্রতিবছরই ঈদের দিন রাজধানীর শুধু আজিমপুরের কবরস্থানেই নয়, বনানী ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানসহ বিভিন্ন কবরস্থানে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

নগরজীবনের ব্যস্ততায় সারাবছর অনেকেই কবর জিয়ারত করতে না পারলেও ঈদের দিনে প্রিয়জনদের স্মরণ করতে ছুটে আসেন।

jagonews24

বংশাল থেকে সপরিবারে এসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমিন মিয়া। মায়ের কবরের পাশে তাকে দীর্ঘ সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আলাপকালে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমরা বাবা-মা জীবিত থাকতে অনেক সময় তাদের মূল্য বুঝি না। কিন্তু তাদের হারানোর পর মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি, আমরা আসলে কী হারিয়েছি।

ঈদের আনন্দের দিনেও আজিমপুর কবরস্থানে ছিল এক অন্যরকম আবহ। স্বজন হারানোর বেদনা, স্মৃতির ভার আর প্রিয়জনদের জন্য নীরব প্রার্থনায় ভরা এক মানবিক সকাল। দিন শেষে মানুষগুলো আবার পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন, কিন্তু হৃদয়ের এক টুকরো অংশ যেন রয়ে যাবে এই কবরস্থানেই—প্রিয়জনদের স্মৃতি আর অশ্রুসিক্ত দোয়ার সঙ্গে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত তাদের ঈদের সকাল

আপডেট টাইম : ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

বৃহস্পতিবার, সকাল সোয়া ৭টা। রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান। নিত্যদিনের ভোরের এ সময়টাতে সাধারণত কবরস্থানে নীরবতা বিরাজ করে। কিন্তু ঈদুল আজহার দিনে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। আজ ২৮ মে ঈদের দিন ভোর থেকেই বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের কবর জিয়ারত করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে ছুটে আসেন মানুষ।

কবরস্থানের গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার আগেই চোখে পড়ে সারি সারি মানুষের ভিড়। কারও হাতে গোলাপের পাপড়ি কারও হাতে আতর। কেউ আবার প্রিয়জনের কবরের ওপর একটু পানি ছিটিয়ে দোয়া করছেন। কবরের পাশে বসা বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে শিশুরাও হাত তুলে মোনাজাত করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন কবরের সামনে স্বজনদের উপস্থিতি। কেউ একা এসেছেন আবার কেউবা এসেছেন স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে। তাদের কেউ নীরবে চোখ মুছছেন কেউবা বিড়বিড় করে দোয়া-দরুদ পড়ছেন। ঈদের আনন্দের মধ্যেও কবরস্থানজুড়ে ছিল এক ধরনের চাপা বেদনার আবহ।

jagonews24

তাদেরই একজন মোহাম্মদ রাসেল। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। ভোরে টঙ্গী থেকে স্ত্রী ও পাঁচ বছরের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন মা রাশিদা বেগমের কবর জিয়ারত করতে। সাত মাস আগে তার মা মারা যান।

আলাপকালে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, সকাল থেকেই মায়ের জন্য মনটা ছটফট করছিল। তাই ভোরে উঠেই কবর জিয়ারত করতে সপরিবারে ছুটে এসেছি। ইচ্ছে ছিল কবরস্থান সংলগ্ন হানিফ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবো। একটুর জন্য সকাল সাতটার জামাত ধরতে পারিনি। এখন কবর জিয়ারত করে আটটার জামাতে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরবো।

টঙ্গীতে বাসা থাকা সত্ত্বেও কেন আজিমপুরে দাফন করা হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আজিমপুর কবরস্থানে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ কবর জিয়ারত করতে আসেন। তারা সব কবরবাসীর জন্য দোয়া করেন। তাছাড়া আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন আশপাশের এলাকাতেই থাকেন। সবার পরামর্শেই এখানে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

jagonews24

মাসুম বিল্লাহ নামে আরেক ব্যক্তি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। তিনি জানান, কামরাঙ্গীরচরের একটি মসজিদে সকাল ৬টায় ঈদের নামাজ আদায় করে ছেলেকে নিয়ে আজিমপুরে উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তিনি বলেন, আমার বাবা আব্দুল হালিম চলতি বছরের জানুয়ারিতে মারা গেছেন। মা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। সময়-সুযোগ পেলেই আমি কবরস্থানে এসে বাবা-মাসহ অন্যান্য কবরবাসীর জন্য দোয়া করি।

ভোরবেলায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বিতরণ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই সকালেই কবর জিয়ারত করে বাসায় ফিরে কোরবানি দেবো।

প্রতিবছরই ঈদের দিন রাজধানীর শুধু আজিমপুরের কবরস্থানেই নয়, বনানী ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানসহ বিভিন্ন কবরস্থানে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

নগরজীবনের ব্যস্ততায় সারাবছর অনেকেই কবর জিয়ারত করতে না পারলেও ঈদের দিনে প্রিয়জনদের স্মরণ করতে ছুটে আসেন।

jagonews24

বংশাল থেকে সপরিবারে এসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমিন মিয়া। মায়ের কবরের পাশে তাকে দীর্ঘ সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আলাপকালে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমরা বাবা-মা জীবিত থাকতে অনেক সময় তাদের মূল্য বুঝি না। কিন্তু তাদের হারানোর পর মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি, আমরা আসলে কী হারিয়েছি।

ঈদের আনন্দের দিনেও আজিমপুর কবরস্থানে ছিল এক অন্যরকম আবহ। স্বজন হারানোর বেদনা, স্মৃতির ভার আর প্রিয়জনদের জন্য নীরব প্রার্থনায় ভরা এক মানবিক সকাল। দিন শেষে মানুষগুলো আবার পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন, কিন্তু হৃদয়ের এক টুকরো অংশ যেন রয়ে যাবে এই কবরস্থানেই—প্রিয়জনদের স্মৃতি আর অশ্রুসিক্ত দোয়ার সঙ্গে।