ঢাকা , শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন মোজতবা খামেনি তৌফিক ইমরোজ খালিদীর ইন্তেকালে প্রেসিডেন্টের শোক গুগলের নতুন এআই মডেল জেমিনি ৪ আর্গন উন্মোচন জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর চলে গেলেন বিডিনিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী ডিবি ভাই, একটু হ্যান্ডকাফ পরায়া নিয়ে যান না ভাই: আখতারুজ্জামান বিডিনিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর শোক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা ফ্রান্সে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে সহিংসতা, ৪ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, আটক ২ হাজার সরকারকে সহযোগিতা করুন, লংমার্চ কেন: রাশেদ খাঁন ইসলামবিরোধী আইন বাস্তবায়ন না করার দাবি আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার শত বছরের পুরনো মাটির ঘরের ঐতিহ্য

xr:d:DAF0C7M4m5o:37,j:4151602126755093964,t:23111411

একসময় গ্রামবাংলার পরিচয় ছিল মাটির ঘর। প্রজন্মের পর প্রজন্মের হাসি-কান্না, স্মৃতি আর ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ঘরগুলো আজ হারিয়ে যাচ্ছে আধুনিকতার স্রোতে। ইট-সিমেন্টের দালানের ভিড়ে কিশোরগঞ্জে এখন টিকে আছে হাতেগোনা কয়েকটি মাটির ঘর।

গরমে শীতল, শীতে উষ্ণতা- প্রাকৃতিকভাবেই এমন আরামদায়ক ঘর তৈরি হতো এঁটেল মাটি, পাটের আঁশ, বাঁশ, তক্তা আর খড় কিংবা টিনের ছাউনিতে। একটি ঘর নির্মাণে সময় লাগত ছয় মাস থেকে এক বছর। কিন্তু আধুনিক নির্মাণশৈলী এবং দক্ষ কারিগরের সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের এই ঐতিহ্য।  ইট-সিমেন্টের দালানের ভিড়ে মাটির ঘর খুঁজে পাওয়া দুরূহ।

পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের শুক্রবাদ, খামা, তালদর্শী, আদিত্যপাশা, বারাবর, চামরাইদ, কামারকোনা, মেহেরধনবাড়ী, মজিতপুর ও জামালপুর গ্রামের কিছু পরিবার এখনও বসবাস করছেন মাটির ঘরে। কোথাও রান্নাঘর, কোথাও গুদামঘর, আবার কোথাও পরিত্যক্ত অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের এই নিদর্শন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল মাটির ঘর। এখন নতুন প্রজন্ম ঝুঁকছে পাকা ভবনের দিকে। ফলে শুধু একটি ঘর নয়, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ স্থাপত্য, নির্মাণকৌশল আর শত বছরের জীবনধারার এক অমূল্য ইতিহাস।

কিশোরগঞ্জ আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আমিনুল হক সাদী মতে, এগারসিন্দুর শুধু একটি জনপদ নয়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রাচীন নিদর্শনের পাশাপাশি টিকে থাকা মাটির ঘরগুলো সংরক্ষণ করে এলাকাটিকে প্রত্নপল্লী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তাদের।

এই মৃৎশিল্প সংরক্ষণ না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো মাটির ঘর দেখবে শুধু বইয়ের পাতায়। তাই ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষীগুলো রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন মোজতবা খামেনি

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার শত বছরের পুরনো মাটির ঘরের ঐতিহ্য

আপডেট টাইম : ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

একসময় গ্রামবাংলার পরিচয় ছিল মাটির ঘর। প্রজন্মের পর প্রজন্মের হাসি-কান্না, স্মৃতি আর ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ঘরগুলো আজ হারিয়ে যাচ্ছে আধুনিকতার স্রোতে। ইট-সিমেন্টের দালানের ভিড়ে কিশোরগঞ্জে এখন টিকে আছে হাতেগোনা কয়েকটি মাটির ঘর।

গরমে শীতল, শীতে উষ্ণতা- প্রাকৃতিকভাবেই এমন আরামদায়ক ঘর তৈরি হতো এঁটেল মাটি, পাটের আঁশ, বাঁশ, তক্তা আর খড় কিংবা টিনের ছাউনিতে। একটি ঘর নির্মাণে সময় লাগত ছয় মাস থেকে এক বছর। কিন্তু আধুনিক নির্মাণশৈলী এবং দক্ষ কারিগরের সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের এই ঐতিহ্য।  ইট-সিমেন্টের দালানের ভিড়ে মাটির ঘর খুঁজে পাওয়া দুরূহ।

পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের শুক্রবাদ, খামা, তালদর্শী, আদিত্যপাশা, বারাবর, চামরাইদ, কামারকোনা, মেহেরধনবাড়ী, মজিতপুর ও জামালপুর গ্রামের কিছু পরিবার এখনও বসবাস করছেন মাটির ঘরে। কোথাও রান্নাঘর, কোথাও গুদামঘর, আবার কোথাও পরিত্যক্ত অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের এই নিদর্শন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল মাটির ঘর। এখন নতুন প্রজন্ম ঝুঁকছে পাকা ভবনের দিকে। ফলে শুধু একটি ঘর নয়, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ স্থাপত্য, নির্মাণকৌশল আর শত বছরের জীবনধারার এক অমূল্য ইতিহাস।

কিশোরগঞ্জ আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আমিনুল হক সাদী মতে, এগারসিন্দুর শুধু একটি জনপদ নয়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রাচীন নিদর্শনের পাশাপাশি টিকে থাকা মাটির ঘরগুলো সংরক্ষণ করে এলাকাটিকে প্রত্নপল্লী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তাদের।

এই মৃৎশিল্প সংরক্ষণ না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো মাটির ঘর দেখবে শুধু বইয়ের পাতায়। তাই ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষীগুলো রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।