ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

নজিরবিহীন দ্রুততায় বিচার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর একটি বাসায় আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আগামী ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণার এই দিন ঠিক করেন। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৬ দিনের মাথায় মামলাটি নজিরবিহীন গতিতে বিচারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল। মামলা দায়েরের পর ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের প্রতিটি ধাপেই ছিল দ্রুতগতি।

আদালত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাওয়ার নজির দেশে খুব কমই রয়েছে। সাধারণত তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শুরু ও সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন ধাপ পার হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। গত বছর মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলার বিচার নিম্ন আদালতে শেষ হয়েছিল ২ মাস ১১ দিনের মাথায়।

গতকাল যুক্তিতর্কের শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু আসামিরা কীভাবে অভিযুক্ত, সাক্ষীরা আসামিদের বিষয়ে কী বলেছেন এবং আইনের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও রেফারেন্স তুলে ধরেন। সর্বশেষ, সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন মর্মে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, এ মামলায় কোনো ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি। আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আশপাশের কোনো সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। এ জন্য তিনি আসামিদের খালাস দাবি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক রায়ের দিন ঠিক করেন।

মামলার যুক্তিতর্ক শুনতে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও মিডিয়া কর্মী উপস্থিতি ছিল।

গত বুধবার মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সকালেই আদালতে আনা হয়। আদালতে আনার পর আসামি স্বপ্না অসুস্থ হয়ে পড়ায় পৌনে ১২টায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়। গত ২ জুন মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

সাক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।

এরপর আসামি সোহেলের কিছু বলার আছে কিনা জানতে চাইলে সোহেল আদালতকে বলেন, ‘আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে, স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন। ওকে কেউ দেখে নাই, ওরে ধরেন স্যার।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছওয়াল আছে একটা। আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার, আমাকে মাফ করে দেন। আরেকটা কথা আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ।’

এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন, আপনারটা আপনি বলেন। এরপর স্বপ্নার বক্তব্য শুনতে চান আদালত। প্রথমে নিশ্চুপ থাকলে আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দরজা কেন খোলেননি এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কিনা। এ সময় তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে একই শাস্তি আপনারও হবে। এরপর স্বপ্না আবারও বলেন, আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।

এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার ও শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।

এদিকে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামির থেকে অন্য ব্যক্তির নাম বলার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার কৌশল হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট দিয়েছি তাদের বাইরে আর কারো ইমপ্লিকেশন বা জড়িত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আসামি সোহেল রানার ফ্ল্যাটে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ১৯ মে রাত ১২টা ৫ মিনিটে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে হত্যা ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান চার্জশিট জমা দেন।

ওইদিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। সেদিন শুনানিতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

নজিরবিহীন দ্রুততায় বিচার

আপডেট টাইম : ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর একটি বাসায় আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আগামী ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণার এই দিন ঠিক করেন। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৬ দিনের মাথায় মামলাটি নজিরবিহীন গতিতে বিচারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল। মামলা দায়েরের পর ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের প্রতিটি ধাপেই ছিল দ্রুতগতি।

আদালত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাওয়ার নজির দেশে খুব কমই রয়েছে। সাধারণত তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শুরু ও সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন ধাপ পার হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। গত বছর মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলার বিচার নিম্ন আদালতে শেষ হয়েছিল ২ মাস ১১ দিনের মাথায়।

গতকাল যুক্তিতর্কের শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু আসামিরা কীভাবে অভিযুক্ত, সাক্ষীরা আসামিদের বিষয়ে কী বলেছেন এবং আইনের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও রেফারেন্স তুলে ধরেন। সর্বশেষ, সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন মর্মে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, এ মামলায় কোনো ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি। আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আশপাশের কোনো সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। এ জন্য তিনি আসামিদের খালাস দাবি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক রায়ের দিন ঠিক করেন।

মামলার যুক্তিতর্ক শুনতে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও মিডিয়া কর্মী উপস্থিতি ছিল।

গত বুধবার মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সকালেই আদালতে আনা হয়। আদালতে আনার পর আসামি স্বপ্না অসুস্থ হয়ে পড়ায় পৌনে ১২টায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়। গত ২ জুন মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

সাক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।

এরপর আসামি সোহেলের কিছু বলার আছে কিনা জানতে চাইলে সোহেল আদালতকে বলেন, ‘আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে, স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন। ওকে কেউ দেখে নাই, ওরে ধরেন স্যার।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছওয়াল আছে একটা। আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার, আমাকে মাফ করে দেন। আরেকটা কথা আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ।’

এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন, আপনারটা আপনি বলেন। এরপর স্বপ্নার বক্তব্য শুনতে চান আদালত। প্রথমে নিশ্চুপ থাকলে আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দরজা কেন খোলেননি এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কিনা। এ সময় তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে একই শাস্তি আপনারও হবে। এরপর স্বপ্না আবারও বলেন, আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।

এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার ও শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।

এদিকে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামির থেকে অন্য ব্যক্তির নাম বলার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার কৌশল হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট দিয়েছি তাদের বাইরে আর কারো ইমপ্লিকেশন বা জড়িত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আসামি সোহেল রানার ফ্ল্যাটে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ১৯ মে রাত ১২টা ৫ মিনিটে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে হত্যা ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান চার্জশিট জমা দেন।

ওইদিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। সেদিন শুনানিতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।