ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

ঢাকা থেকে সরছে বাস টার্মিনাল

যানজট নিরসনে প্রধান আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো ঢাকার বাইরে সরানোর সরকারি পরিকল্পনা এগোচ্ছে। তবে এগুলো শিগগিরই একদিনে সরছে না; ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে টার্মিনালগুলোতে কোনো দূরপাল্লার বাস প্রবেশ করতে দিয়ে যাত্রী ওঠানামার জন্য আন্তঃজেলাকে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে ঢাকার বাইরে নতুন করে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন অবকাঠামো তৈরি ও জমি অধিগ্রহণ শেষ করে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে টার্মিনালগুলো স্থানান্তর করা হবে। আপাতত বিকল্প হিসাবে বাসগুলোকে ঢাকার বাইরে থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী গাবতলী টার্মিনাল পার্শ্ববর্তী হেমায়েতপুর, সায়েদাবাদ টার্মিনাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, ফুলবাড়িয়া (গুলিস্তান) টার্মিনাল কেরানীগঞ্জ, মহাখালী টার্মিনাল প্রথমে পূর্বাচল এলাকায় অস্থায়ীভাবে, পরে টঙ্গী/আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি স্থায়ী কোনো স্থানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। গত বুধবার সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শনও করেছেন সরকারের মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতারা। পরিবহন সেক্টরের মালিক-শ্রমিকরা মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক- শ্রমিক ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপির হস্তক্ষেপ বা সহযোগিতা ছাড়া সরকারের এ পরিকল্পনা কখনও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। জানতে চাইলে বলেন, শিমুল বিশ্বাস এমপি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাথে নিয়েই টার্মিনালগুলোকে সরানোর উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরি এ কাজ শেষ হবে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু টার্মিনাল সরালেই সমস্যার সমাধান হবে না; যাত্রীদের শহরে প্রবেশের ব্যবস্থা, গণপরিবহন সংযোগ এবং টার্মিনাল ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রাজধানীতে দিনে-রাতে দুর্বিষহ যানজট নতুন কোনো ঘটনা নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অবাধে ব্যাটারি রিকশাকে রাজধানীতে প্রবেশে বাধা না দেয়ায় দিন দিন যানজট বেড়েই চলেছে। যানজটের কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যানজট নিরসনে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ভয়াবহ এ যানজট নিরসনের উপায় খুঁজেও কোনো সমাধান বের করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। সে সময় সরকারকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন দুজন পরিবহন বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুই শিক্ষক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রফেসর মো. হাদিউজ্জামানের ছয়টি সুপারিশ নিয়ে কাজ শুরু করেন। কিন্তু ব্যাটারির রিকশার চাপে সেগুলো আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর প্রতিটি বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে এর আশপাশের এলাকাজুড়ে ভয়াবহ যানজট। এর মধ্যে সায়েদাবাদ টার্মিনালের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। যেসব বাস যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার ব্যবহার করেনা সেগুলো সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। টার্মিনাল থেকে গাড়িগুলো ছাড়ার কথা থাকলেও সেগুলো মূল সড়কের উপর দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। যাত্রাবাড়ি থেকে একদিকে মানিক নগর এবং অন্যদিকে টিকাটুলি ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পের উপর থেকে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার বাস ছাড়ে।

ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তান টার্মিনালেরও একই অবস্থা। এখানে কোনটা রাস্তা আর কোনটা টার্মিনাল বোঝার উপায় নেই। দেখলে মনে হবে পুরো এলাকাটাই একটা বাস টার্মিনাল। গাবতলী টার্মিনালে কিছুটা শৃঙ্খলা থাকলেও টার্মিনালের বাইরে মূল সড়কে বাস দাঁড়ানোর কারণে ঢাকার বাইরে থেকে বাসগুলো টার্মিনালে প্রবেশ করতে গিয়ে আটকে থাকে। সে কারণে সৃষ্টি হয় যানজট। মহাখালী টার্মিনালের অবস্থা মোটামুটি শৃঙ্খলিত। তবে এখানেও রাস্তার উপর বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এখন যাত্রীদের স্বস্তির পরিবর্তে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধোলাইপাড় চৌরাস্তা হয়েছে মিনি বাস টার্মিনাল। সেখান থেকে বিকালের পর থেকে শত শত বাস ছাড়ে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে। রাতে এই এলাকায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতে এখন সময় লাগছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। একইভাবে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বুড়িগঙ্গা সেতু পার হয়ে ঢাকার গুলিস্তান পর্যন্ত আসতে সময় লাগছে ২/৩ ঘণ্টা। এ ছাড়া গুলিস্তানে ফ্লাইওভার থেকে গাড়িগুলো নামার পর কোনটা কোন দিকে যাবে তা নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের কোনো দিক নির্দেশনা চোখে পড়ে না। বিশেষ করে বাসগুলো ইচ্ছেমতো ঘোরে, অথবা যাত্রী ওঠানামা করায়। যাত্রাবাড়ি-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কাজলার দিকে বাসগুলো ফ্লাইওভারের উপরেই দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে, সারিবদ্ধভাবে কাজটি করলেও কোনো সমস্যা হতো না। বাসগুলো পাশাপাশি দাঁড়ানোর কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে পেছনের দিকে শত শত গাড়ি আটকে পড়ছে। দিনের শুরু থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়ে ৪/৫ কিলোমিটার যানজটে আটকে থাকছে হাজার হাজার গাড়ি। একইভাবে গুলিস্তানের যানজট গিয়ে ঠেকে পল্টন মোড় হয়ে কাকরাইল পর্যন্ত।

অপরদিকে, ঢাকার প্রবেশ পথে উত্তরাতেও যানজটে নাকাল নগরবাসী। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটে আটকে থাকছে হাজার হাজার গাড়ি। এর বেশিরভাগই দূরপাল্লার বাস। মূল সড়ক পেরিয়ে যানজট এড়িয়ে চলতে গিয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে সবগুলো রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ডিটিসিএর ‘প্রিপারেশন অব কনসেপ্ট ডিজাইন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান ফর বাস রুট রেশনালাইজেশন অ্যান্ড কোম্পানি বেজড অপারেশন অব বাস সার্ভিস ইন ঢাকা’ শীর্ষক প্রকল্পের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন রুটে চলাচল করা ৬ হাজার ৬৪৯টি বাসের মধ্যে ৩ হাজার ৫৫০টি বাস অবৈধ। এই বাসগুলোর রুট পারমিট নেই। পাশাপাশি অনেক বাস নির্ধারিত রুট ছেড়ে অন্য রুটে চলাচল করছে। অনুমতি না নিয়ে এত বিপুলসংখ্যক বাস নামিয়ে মালিকরা সড়কে যানজট বাধিয়ে রাখছেন। এর সাথে আছে প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক, ১২ লাখ মোটরসাইকেল, নতুন অনুমোদিত উত্তর সিটির ১ লাখ ও দক্ষিণ সিটির ২ লাখ রিকশা। সবমিলিয়ে রাজধানীর ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪০ গুণেরও বেশি যানবাহন পুরো রাজধানীকে স্তব্ধ করে রেখেছে।

ঢাকা বাস রুট রেশনালাইজেশনের নিয়ম অনুযায়ী, রাজধানীর বাসগুলোকে নির্ধারিত যাত্রী ছাউনির সামনেই যাত্রী ওঠানামা করাতে হবে। ঢাকা বাস রুটের গ্রিন ক্লাস্টারের ২১ থেকে ২৮ নম্বর রুটে ৪০৬টি যাত্রী ছাউনি থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৮৩টি যাত্রী ছাউনি কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ এসব যাত্রী ছাউনির সামনে বাস দাঁড়াচ্ছে। এই আটটি বাস রুটে ১০৬টি যাত্রী ছাউনি এখনো নির্মাণই করা হয়নি। বাকি ২১৭টি স্থানে যাত্রী ছাউনি থাকলেও সেগুলো নানা কারণে কার্যকর নয়। প্রকৃতপক্ষে বাস স্টপেজ বলে চালকদের কাছে কিছু নেই। তারা যেখানে যাত্রী পায়, সেখানেই দাঁড়ায়। রামপুরা থেকে মালিবাগ রাস্তা তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। অন্যান্য এলাকার রাস্তাগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

তবে সরকারের আসল উদ্দেশ্য হলো ঢাকার যানজট কমানো এবং আন্তঃজেলা বাসকে শহরের বাইরে থেকেই পরিচালনা করা। তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের একটি অংশ মনে করেন, পরিবহন মালিক সমিতির নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক- শ্রমিক ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপির সহযোগিতা ছাড়া সরকারের এ উদ্যোগ আলোর মুখ দেখবে না।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারে আমলে রাজধানীর পরিবহন সেক্টরে শ্ঙ্খৃলা ফিরিয়ে আনা তথা যানজট নিরসনের জন্য ছয়টি সুপারিশ করা হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে- মূল সড়ক থেকে অবৈধ রিকশা (ব্যাটারি ও প্যাডেল) সরাতে হবে। পুলিশের সাধারণ কার্যক্রম ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। ছোট যেসব ইন্টারসেকশন (মোড়) আছে, সেখানে সিগন্যালে সময় সর্বোচ্চ ২ মিনিট আর বড় ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল সর্বোচ্চ ৫ মিনিটের বেশি সময় দেয়া যাবে না। ছোট ইন্টারসেকশনের ৫০ মিটার ও বড় ইন্টারসেকশনের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো গাড়ি পার্ক করা, যাত্রী ওঠানামা, বা গাড়ি থামানো যাবে না। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ও দুই সিটি করপোরেশন থেকে নির্ধারিত বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না। এসব স্টপেজে একটার পাশে আর একটা বাস দাঁড়ানো যাবে না। ঢাকা শহরে ট্রাফিক পুলিশের যে আটটি বিভাগ রয়েছে, এই বিভাগগুলোর প্রত্যেকটিতে একটি করে মোবাইল টিম কাজ করবে। এই মোবাইল টিমে প্রশিক্ষিত একজন ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার, একজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা, ডিটিসিএ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা থাকবেন। তাদের কাজ হবে ট্রাফিক সিস্টেম তদারকি করা। এসব পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত করা হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

ঢাকা থেকে সরছে বাস টার্মিনাল

আপডেট টাইম : ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

যানজট নিরসনে প্রধান আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো ঢাকার বাইরে সরানোর সরকারি পরিকল্পনা এগোচ্ছে। তবে এগুলো শিগগিরই একদিনে সরছে না; ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে টার্মিনালগুলোতে কোনো দূরপাল্লার বাস প্রবেশ করতে দিয়ে যাত্রী ওঠানামার জন্য আন্তঃজেলাকে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে ঢাকার বাইরে নতুন করে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন অবকাঠামো তৈরি ও জমি অধিগ্রহণ শেষ করে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে টার্মিনালগুলো স্থানান্তর করা হবে। আপাতত বিকল্প হিসাবে বাসগুলোকে ঢাকার বাইরে থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী গাবতলী টার্মিনাল পার্শ্ববর্তী হেমায়েতপুর, সায়েদাবাদ টার্মিনাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, ফুলবাড়িয়া (গুলিস্তান) টার্মিনাল কেরানীগঞ্জ, মহাখালী টার্মিনাল প্রথমে পূর্বাচল এলাকায় অস্থায়ীভাবে, পরে টঙ্গী/আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি স্থায়ী কোনো স্থানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। গত বুধবার সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শনও করেছেন সরকারের মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতারা। পরিবহন সেক্টরের মালিক-শ্রমিকরা মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক- শ্রমিক ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপির হস্তক্ষেপ বা সহযোগিতা ছাড়া সরকারের এ পরিকল্পনা কখনও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। জানতে চাইলে বলেন, শিমুল বিশ্বাস এমপি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাথে নিয়েই টার্মিনালগুলোকে সরানোর উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরি এ কাজ শেষ হবে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু টার্মিনাল সরালেই সমস্যার সমাধান হবে না; যাত্রীদের শহরে প্রবেশের ব্যবস্থা, গণপরিবহন সংযোগ এবং টার্মিনাল ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রাজধানীতে দিনে-রাতে দুর্বিষহ যানজট নতুন কোনো ঘটনা নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অবাধে ব্যাটারি রিকশাকে রাজধানীতে প্রবেশে বাধা না দেয়ায় দিন দিন যানজট বেড়েই চলেছে। যানজটের কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যানজট নিরসনে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ভয়াবহ এ যানজট নিরসনের উপায় খুঁজেও কোনো সমাধান বের করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। সে সময় সরকারকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন দুজন পরিবহন বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুই শিক্ষক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রফেসর মো. হাদিউজ্জামানের ছয়টি সুপারিশ নিয়ে কাজ শুরু করেন। কিন্তু ব্যাটারির রিকশার চাপে সেগুলো আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর প্রতিটি বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে এর আশপাশের এলাকাজুড়ে ভয়াবহ যানজট। এর মধ্যে সায়েদাবাদ টার্মিনালের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। যেসব বাস যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার ব্যবহার করেনা সেগুলো সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। টার্মিনাল থেকে গাড়িগুলো ছাড়ার কথা থাকলেও সেগুলো মূল সড়কের উপর দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। যাত্রাবাড়ি থেকে একদিকে মানিক নগর এবং অন্যদিকে টিকাটুলি ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পের উপর থেকে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার বাস ছাড়ে।

ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তান টার্মিনালেরও একই অবস্থা। এখানে কোনটা রাস্তা আর কোনটা টার্মিনাল বোঝার উপায় নেই। দেখলে মনে হবে পুরো এলাকাটাই একটা বাস টার্মিনাল। গাবতলী টার্মিনালে কিছুটা শৃঙ্খলা থাকলেও টার্মিনালের বাইরে মূল সড়কে বাস দাঁড়ানোর কারণে ঢাকার বাইরে থেকে বাসগুলো টার্মিনালে প্রবেশ করতে গিয়ে আটকে থাকে। সে কারণে সৃষ্টি হয় যানজট। মহাখালী টার্মিনালের অবস্থা মোটামুটি শৃঙ্খলিত। তবে এখানেও রাস্তার উপর বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এখন যাত্রীদের স্বস্তির পরিবর্তে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধোলাইপাড় চৌরাস্তা হয়েছে মিনি বাস টার্মিনাল। সেখান থেকে বিকালের পর থেকে শত শত বাস ছাড়ে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে। রাতে এই এলাকায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতে এখন সময় লাগছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। একইভাবে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বুড়িগঙ্গা সেতু পার হয়ে ঢাকার গুলিস্তান পর্যন্ত আসতে সময় লাগছে ২/৩ ঘণ্টা। এ ছাড়া গুলিস্তানে ফ্লাইওভার থেকে গাড়িগুলো নামার পর কোনটা কোন দিকে যাবে তা নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের কোনো দিক নির্দেশনা চোখে পড়ে না। বিশেষ করে বাসগুলো ইচ্ছেমতো ঘোরে, অথবা যাত্রী ওঠানামা করায়। যাত্রাবাড়ি-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কাজলার দিকে বাসগুলো ফ্লাইওভারের উপরেই দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে, সারিবদ্ধভাবে কাজটি করলেও কোনো সমস্যা হতো না। বাসগুলো পাশাপাশি দাঁড়ানোর কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে পেছনের দিকে শত শত গাড়ি আটকে পড়ছে। দিনের শুরু থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়ে ৪/৫ কিলোমিটার যানজটে আটকে থাকছে হাজার হাজার গাড়ি। একইভাবে গুলিস্তানের যানজট গিয়ে ঠেকে পল্টন মোড় হয়ে কাকরাইল পর্যন্ত।

অপরদিকে, ঢাকার প্রবেশ পথে উত্তরাতেও যানজটে নাকাল নগরবাসী। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটে আটকে থাকছে হাজার হাজার গাড়ি। এর বেশিরভাগই দূরপাল্লার বাস। মূল সড়ক পেরিয়ে যানজট এড়িয়ে চলতে গিয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে সবগুলো রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ডিটিসিএর ‘প্রিপারেশন অব কনসেপ্ট ডিজাইন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান ফর বাস রুট রেশনালাইজেশন অ্যান্ড কোম্পানি বেজড অপারেশন অব বাস সার্ভিস ইন ঢাকা’ শীর্ষক প্রকল্পের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন রুটে চলাচল করা ৬ হাজার ৬৪৯টি বাসের মধ্যে ৩ হাজার ৫৫০টি বাস অবৈধ। এই বাসগুলোর রুট পারমিট নেই। পাশাপাশি অনেক বাস নির্ধারিত রুট ছেড়ে অন্য রুটে চলাচল করছে। অনুমতি না নিয়ে এত বিপুলসংখ্যক বাস নামিয়ে মালিকরা সড়কে যানজট বাধিয়ে রাখছেন। এর সাথে আছে প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক, ১২ লাখ মোটরসাইকেল, নতুন অনুমোদিত উত্তর সিটির ১ লাখ ও দক্ষিণ সিটির ২ লাখ রিকশা। সবমিলিয়ে রাজধানীর ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪০ গুণেরও বেশি যানবাহন পুরো রাজধানীকে স্তব্ধ করে রেখেছে।

ঢাকা বাস রুট রেশনালাইজেশনের নিয়ম অনুযায়ী, রাজধানীর বাসগুলোকে নির্ধারিত যাত্রী ছাউনির সামনেই যাত্রী ওঠানামা করাতে হবে। ঢাকা বাস রুটের গ্রিন ক্লাস্টারের ২১ থেকে ২৮ নম্বর রুটে ৪০৬টি যাত্রী ছাউনি থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৮৩টি যাত্রী ছাউনি কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ এসব যাত্রী ছাউনির সামনে বাস দাঁড়াচ্ছে। এই আটটি বাস রুটে ১০৬টি যাত্রী ছাউনি এখনো নির্মাণই করা হয়নি। বাকি ২১৭টি স্থানে যাত্রী ছাউনি থাকলেও সেগুলো নানা কারণে কার্যকর নয়। প্রকৃতপক্ষে বাস স্টপেজ বলে চালকদের কাছে কিছু নেই। তারা যেখানে যাত্রী পায়, সেখানেই দাঁড়ায়। রামপুরা থেকে মালিবাগ রাস্তা তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। অন্যান্য এলাকার রাস্তাগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

তবে সরকারের আসল উদ্দেশ্য হলো ঢাকার যানজট কমানো এবং আন্তঃজেলা বাসকে শহরের বাইরে থেকেই পরিচালনা করা। তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের একটি অংশ মনে করেন, পরিবহন মালিক সমিতির নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক- শ্রমিক ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপির সহযোগিতা ছাড়া সরকারের এ উদ্যোগ আলোর মুখ দেখবে না।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারে আমলে রাজধানীর পরিবহন সেক্টরে শ্ঙ্খৃলা ফিরিয়ে আনা তথা যানজট নিরসনের জন্য ছয়টি সুপারিশ করা হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে- মূল সড়ক থেকে অবৈধ রিকশা (ব্যাটারি ও প্যাডেল) সরাতে হবে। পুলিশের সাধারণ কার্যক্রম ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। ছোট যেসব ইন্টারসেকশন (মোড়) আছে, সেখানে সিগন্যালে সময় সর্বোচ্চ ২ মিনিট আর বড় ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল সর্বোচ্চ ৫ মিনিটের বেশি সময় দেয়া যাবে না। ছোট ইন্টারসেকশনের ৫০ মিটার ও বড় ইন্টারসেকশনের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো গাড়ি পার্ক করা, যাত্রী ওঠানামা, বা গাড়ি থামানো যাবে না। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ও দুই সিটি করপোরেশন থেকে নির্ধারিত বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না। এসব স্টপেজে একটার পাশে আর একটা বাস দাঁড়ানো যাবে না। ঢাকা শহরে ট্রাফিক পুলিশের যে আটটি বিভাগ রয়েছে, এই বিভাগগুলোর প্রত্যেকটিতে একটি করে মোবাইল টিম কাজ করবে। এই মোবাইল টিমে প্রশিক্ষিত একজন ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার, একজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা, ডিটিসিএ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা থাকবেন। তাদের কাজ হবে ট্রাফিক সিস্টেম তদারকি করা। এসব পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত করা হয়নি।