ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

ভারী বৃষ্টিতে বাড়বে নদ-নদীর পানি

দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকটি অববাহিকায় পানির সমতল দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নদীতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা প্রধান অববাহিকা ও বাপাউবো জোনভিত্তিক অববাহিকাসমূহের নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদ-নদীর পানি কমেছে এবং সবগুলোই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় আগামী চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী তিন দিন বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে, আর পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। তবে উভয় নদীই বিপৎসীমার নিচে থাকবে।

সুরমা-কুশিয়ারা (আপার মেঘনা) অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমলেও কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে সুরমা-কুশিয়ারার পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এ সময় সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীগুলো সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বেড়েছে, আর ধরলা ও দুধকুমারের পানি কমেছে। তিস্তা বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া স্টেশনে সতর্ক সীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে এবং কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

আপার করতোয়া-আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা ও ঘাঘট অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আপার করতোয়ার পানি বেড়েছে, টাঙ্গন ও ঘাঘট স্থিতিশীল রয়েছে এবং আপার আত্রাই ও পুনর্ভবার পানি কমেছে। সব নদীই বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও নদীগুলোর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

রাজশাহী বিভাগের আত্রাই, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী-করতোয়া অববাহিকায় মহানন্দার পানি স্থিতিশীল থাকলেও আত্রাই, যমুনেশ্বরী ও করতোয়ার পানি কমেছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও এসব নদী বিপৎসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা বিভাগের তুরাগ, টঙ্গীখাল ও ধলেশ্বরীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। বুড়িগঙ্গা ও বালুর পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হলেও নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

ময়মনসিংহ বিভাগের জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভগাই ও কংস অববাহিকায় সোমেশ্বরী ও ভগাইয়ের পানি বেড়েছে, জিঞ্জিরাম স্থিতিশীল এবং কংসের পানি কমেছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

খুলনা বিভাগের গড়াই ও মাথাভাঙা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা অববাহিকায় সারিগোয়াইনের পানি কমলেও যাদুকাটার পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

মনু, ধলাই ও খোয়াই অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিন নদীরই পানি কমেছে। তবে আগামী এক দিন পানি স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুই দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় চারটি নদীরই পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কক্সবাজার, ফেনী ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী অববাহিকাতেও গত ২৪ ঘণ্টায় পানির সমতল বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

ভারী বৃষ্টিতে বাড়বে নদ-নদীর পানি

আপডেট টাইম : ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকটি অববাহিকায় পানির সমতল দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নদীতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা প্রধান অববাহিকা ও বাপাউবো জোনভিত্তিক অববাহিকাসমূহের নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদ-নদীর পানি কমেছে এবং সবগুলোই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় আগামী চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী তিন দিন বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে, আর পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। তবে উভয় নদীই বিপৎসীমার নিচে থাকবে।

সুরমা-কুশিয়ারা (আপার মেঘনা) অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমলেও কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে সুরমা-কুশিয়ারার পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এ সময় সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীগুলো সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বেড়েছে, আর ধরলা ও দুধকুমারের পানি কমেছে। তিস্তা বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া স্টেশনে সতর্ক সীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে এবং কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

আপার করতোয়া-আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা ও ঘাঘট অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আপার করতোয়ার পানি বেড়েছে, টাঙ্গন ও ঘাঘট স্থিতিশীল রয়েছে এবং আপার আত্রাই ও পুনর্ভবার পানি কমেছে। সব নদীই বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও নদীগুলোর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

রাজশাহী বিভাগের আত্রাই, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী-করতোয়া অববাহিকায় মহানন্দার পানি স্থিতিশীল থাকলেও আত্রাই, যমুনেশ্বরী ও করতোয়ার পানি কমেছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও এসব নদী বিপৎসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা বিভাগের তুরাগ, টঙ্গীখাল ও ধলেশ্বরীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। বুড়িগঙ্গা ও বালুর পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হলেও নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

ময়মনসিংহ বিভাগের জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভগাই ও কংস অববাহিকায় সোমেশ্বরী ও ভগাইয়ের পানি বেড়েছে, জিঞ্জিরাম স্থিতিশীল এবং কংসের পানি কমেছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

খুলনা বিভাগের গড়াই ও মাথাভাঙা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা অববাহিকায় সারিগোয়াইনের পানি কমলেও যাদুকাটার পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

মনু, ধলাই ও খোয়াই অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিন নদীরই পানি কমেছে। তবে আগামী এক দিন পানি স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুই দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় চারটি নদীরই পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কক্সবাজার, ফেনী ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী অববাহিকাতেও গত ২৪ ঘণ্টায় পানির সমতল বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।