ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাইব্যুনালে প্রকৃত অপরাধীদেরই বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কোনো রাজনৈতিক হয়রানি নয়, বরং শুধুমাত্র প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করছে সরকার। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০’ অনুযায়ী ১৭টি মামলায় ৪৪ জন আইনজীবীকে ‘স্টেট ডিফেন্স লইয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করছে যে, শুধুমাত্র যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে তাদেরই বিচার হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”

বিচার প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্পন্ন করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন এই সংশোধনীর ফলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিচারকাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এছাড়া ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান জানান, আসামিদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার এবং আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। পলাতক হয়ে বিচার এড়ানোর প্রবণতা রোধ করতে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাইব্যুনালে প্রকৃত অপরাধীদেরই বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: আইনমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কোনো রাজনৈতিক হয়রানি নয়, বরং শুধুমাত্র প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করছে সরকার। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০’ অনুযায়ী ১৭টি মামলায় ৪৪ জন আইনজীবীকে ‘স্টেট ডিফেন্স লইয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করছে যে, শুধুমাত্র যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে তাদেরই বিচার হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”

বিচার প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্পন্ন করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন এই সংশোধনীর ফলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিচারকাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এছাড়া ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান জানান, আসামিদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার এবং আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। পলাতক হয়ে বিচার এড়ানোর প্রবণতা রোধ করতে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।