ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান দলীয় নেতাকর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন আইনমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে : নাহিদ ইসলাম তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ দেশে ফিরে সংবর্ধনা পেল মিশর ফুটবল দল ‘তাফহীমুল কোরআন’ পোড়ানোর দায়ে গ্রেফতার মেহেদী কারাগারে আল-আকসার গ্র্যান্ড মুফতিকে আটক করল ইসরায়েল কিশোরীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, দায় স্বীকার মায়ের

স্মার্টফোন যেভাবে শনাক্ত করতে পারে ভূমিকম্প

দেশে সম্প্রতি কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে ভূমিকম্প হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম আপনার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি। এতে আপনি আশ্রয় নিতে সময় পাবেন, জীবন বাঁচাতে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

তিন বছর আগে ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়া অঞ্চলে পাঁচ দশমিক এক মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। সৌভাগ্যজনকভাবে সেটি খুব বড় মাত্রার ভূমিকম্প ছিল না, ক্ষয়ক্ষতিও তেমন হয়নি। কিন্তু অন্য একটি দিক থেকে ওই ভূমিকম্পটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কারণ, ভূমিকম্প হওয়ার আগে ওই অঞ্চলের অনেক মানুষ তাদের স্মার্টফোনে আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন।

এরপর ২০২৪ সালের ছয়ই আগস্টেও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় হওয়া পাঁচ দশমিক দুই মাত্রার এক ভূমিকম্পের আগে নোটিফিকেশন পেয়েছিলেন সেখানকার বাসিন্দারা। সেসময় অনেকে অন্তত ৩০ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন বলেও জানান।

আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফোন ব্যবহারকারীরা যে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন, সে ভূমিকম্প শুরুতে তাদের ফোনই শনাক্ত করেছিল।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল বহুবছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ বিভাগ, ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিকাল সার্ভের (ইউএসজিএস) ও ক্যালিফোর্নিয়ার বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সাথে এমন একটি প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যেটি ভূমিকম্প হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম হবে।

এই সতর্কবার্তা ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে পৌঁছানো সম্ভব। আর, ওই কয়েক সেকেন্ডই কাউকে টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সময় দেবে কিংবা ট্রেনের গতি কমানোর সুযোগ করে দেবে বলে বিশ্বাস গুগলের।

বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এই সিস্টেম অনেকের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবে বলেও মনে করে তারা।

গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের অধিকাংশ ফোনেই এক্সেলারোমিটার রয়েছে -ফোন নাড়াচাড়া করলে তা শনাক্ত করতে পারে এটি। ফোন ব্যবহারকারী কতটুকু হাঁটলো বা দৌড়ালো, এই ধরনের তথ্য দিতে ফিটনেস ট্র্যাকার জাতীয় অ্যাপগুলোকে সহায়তা করে থাকে এই টুল।

তবে, এর সেন্সরগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি একটি ছোটোখাটো সিসমোমিটার হিসেবেও কাজ করে। ভূমিকম্পের প্রাথমিক ধাক্কা শনাক্ত করার সাথে সাথে ফোনের এই সিস্টেমটি গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমে তথ্য পাঠায়।

এরপর গুগল যাচাই করে যে একই এলাকার লাখ লাখ অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে একই ধরনের তথ্য তারা পাচ্ছে কী না।

যেভাবে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আর্থকোয়েক অ্যালার্ট চালু করবেন

* অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংস অপশনে যান
* সেটিংসে ‘সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি’ অপশনে যান
* ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অপশনটি সিলেক্ট করুন

তবে এই সিস্টেমের শতভাগ সুবিধা পেতে কিছু শর্ত মানতে হবে।

ফোনের লোকেশন অন রাখতে হবে, যেন গুগল শনাক্ত করতে পারে যে আপনার ফোন কোন অঞ্চলে রয়েছে।

আর ফোনকে সিসমোগ্রাফ হিসেবে ব্যবহার করতে ডিভাইসটিকে স্থিতিশীল অবস্থানে (টেবিলের ওপর) রাখতে হবে এবং সেটিকে চার্জার এর সাথে সংযুক্ত রাখতে হবে।

অর্থাৎ আপনার ফোন যদি স্থিতিশীল অবস্থায় চার্জারের সাথে লাগানো থাকে, তাহলে এটি ভূকম্পন শনাক্ত করে গুগলের কাছে সম্ভাব্য ভূমিকম্পের তথ্য পাঠাতে পারবে।

একই অঞ্চলের বেশকিছু ফোন থেকে এ তথ্য পেলে গুগল সেগুলো বিশ্লেষণ করে বুঝতে সক্ষম হবে যে সেখানে ভূমিকম্প হতে চলেছে।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে তখন ওই এলাকা ও তার আশেপাশের এলাকার সব অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীকে আগাম সতর্কবার্তা পাঠাবে তারা।

সূত্র: বিবিসি

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

স্মার্টফোন যেভাবে শনাক্ত করতে পারে ভূমিকম্প

আপডেট টাইম : ২ ঘন্টা আগে

দেশে সম্প্রতি কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে ভূমিকম্প হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম আপনার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি। এতে আপনি আশ্রয় নিতে সময় পাবেন, জীবন বাঁচাতে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

তিন বছর আগে ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়া অঞ্চলে পাঁচ দশমিক এক মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। সৌভাগ্যজনকভাবে সেটি খুব বড় মাত্রার ভূমিকম্প ছিল না, ক্ষয়ক্ষতিও তেমন হয়নি। কিন্তু অন্য একটি দিক থেকে ওই ভূমিকম্পটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কারণ, ভূমিকম্প হওয়ার আগে ওই অঞ্চলের অনেক মানুষ তাদের স্মার্টফোনে আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন।

এরপর ২০২৪ সালের ছয়ই আগস্টেও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় হওয়া পাঁচ দশমিক দুই মাত্রার এক ভূমিকম্পের আগে নোটিফিকেশন পেয়েছিলেন সেখানকার বাসিন্দারা। সেসময় অনেকে অন্তত ৩০ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন বলেও জানান।

আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফোন ব্যবহারকারীরা যে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন, সে ভূমিকম্প শুরুতে তাদের ফোনই শনাক্ত করেছিল।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল বহুবছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ বিভাগ, ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিকাল সার্ভের (ইউএসজিএস) ও ক্যালিফোর্নিয়ার বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সাথে এমন একটি প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যেটি ভূমিকম্প হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম হবে।

এই সতর্কবার্তা ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে পৌঁছানো সম্ভব। আর, ওই কয়েক সেকেন্ডই কাউকে টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সময় দেবে কিংবা ট্রেনের গতি কমানোর সুযোগ করে দেবে বলে বিশ্বাস গুগলের।

বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এই সিস্টেম অনেকের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবে বলেও মনে করে তারা।

গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের অধিকাংশ ফোনেই এক্সেলারোমিটার রয়েছে -ফোন নাড়াচাড়া করলে তা শনাক্ত করতে পারে এটি। ফোন ব্যবহারকারী কতটুকু হাঁটলো বা দৌড়ালো, এই ধরনের তথ্য দিতে ফিটনেস ট্র্যাকার জাতীয় অ্যাপগুলোকে সহায়তা করে থাকে এই টুল।

তবে, এর সেন্সরগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি একটি ছোটোখাটো সিসমোমিটার হিসেবেও কাজ করে। ভূমিকম্পের প্রাথমিক ধাক্কা শনাক্ত করার সাথে সাথে ফোনের এই সিস্টেমটি গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমে তথ্য পাঠায়।

এরপর গুগল যাচাই করে যে একই এলাকার লাখ লাখ অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে একই ধরনের তথ্য তারা পাচ্ছে কী না।

যেভাবে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আর্থকোয়েক অ্যালার্ট চালু করবেন

* অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংস অপশনে যান
* সেটিংসে ‘সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি’ অপশনে যান
* ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অপশনটি সিলেক্ট করুন

তবে এই সিস্টেমের শতভাগ সুবিধা পেতে কিছু শর্ত মানতে হবে।

ফোনের লোকেশন অন রাখতে হবে, যেন গুগল শনাক্ত করতে পারে যে আপনার ফোন কোন অঞ্চলে রয়েছে।

আর ফোনকে সিসমোগ্রাফ হিসেবে ব্যবহার করতে ডিভাইসটিকে স্থিতিশীল অবস্থানে (টেবিলের ওপর) রাখতে হবে এবং সেটিকে চার্জার এর সাথে সংযুক্ত রাখতে হবে।

অর্থাৎ আপনার ফোন যদি স্থিতিশীল অবস্থায় চার্জারের সাথে লাগানো থাকে, তাহলে এটি ভূকম্পন শনাক্ত করে গুগলের কাছে সম্ভাব্য ভূমিকম্পের তথ্য পাঠাতে পারবে।

একই অঞ্চলের বেশকিছু ফোন থেকে এ তথ্য পেলে গুগল সেগুলো বিশ্লেষণ করে বুঝতে সক্ষম হবে যে সেখানে ভূমিকম্প হতে চলেছে।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে তখন ওই এলাকা ও তার আশেপাশের এলাকার সব অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীকে আগাম সতর্কবার্তা পাঠাবে তারা।

সূত্র: বিবিসি