ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ বছরে ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে

গত ১৬ বছরের শাসনামলে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, একই সময়ে ৭০০’র বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; এটি দীর্ঘ ১৬ বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের যৌক্তিক এবং সফল পরিণতি।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন—তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। ৭০০’র বেশি মানুষ গুম হয়েছে, যাদের স্বজনরা আজও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা করেন। এছাড়া ৬০ লাখের বেশি মানুষ মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি হয়েছেন। এমনও ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হজে থাকা মানুষ কিংবা দুই হাত হারানো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বোমা হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, দেশে আবৃত্তিকে শিল্পের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নৃত্য ও সংগীতের মতো বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবৃত্তি মানুষকে গণতন্ত্রমুখী, মুক্তচিন্তার এবং মানবিক করে তোলে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এ ধরনের উদ্যোগের পাশে সরকার থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশে আবারও হিংস্র মৌলবাদের উত্থান দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল, যার অবসান হয়েছে ৫ আগস্ট। ইতিহাস প্রমাণ করে, বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে কোনো শাসনব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আরও বলেন, দেশে এখনো প্রায় ১,২০০ মানুষের হদিস মেলেনি। এ সময় অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের আয়োজক বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে দিনব্যাপী উৎসবে শোভাযাত্রা, নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, ‘জুলাইয়ের পঙক্তিমালা’ শীর্ষক কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণ, শহীদদের স্মরণে দলীয় ও একক আবৃত্তি এবং পুরস্কার বিতরণসহ নানা আয়োজন ছিল কর্মসূচিতে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

১৬ বছরে ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে

আপডেট টাইম : ০১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

গত ১৬ বছরের শাসনামলে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, একই সময়ে ৭০০’র বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; এটি দীর্ঘ ১৬ বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের যৌক্তিক এবং সফল পরিণতি।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন—তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। ৭০০’র বেশি মানুষ গুম হয়েছে, যাদের স্বজনরা আজও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা করেন। এছাড়া ৬০ লাখের বেশি মানুষ মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি হয়েছেন। এমনও ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হজে থাকা মানুষ কিংবা দুই হাত হারানো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বোমা হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, দেশে আবৃত্তিকে শিল্পের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নৃত্য ও সংগীতের মতো বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবৃত্তি মানুষকে গণতন্ত্রমুখী, মুক্তচিন্তার এবং মানবিক করে তোলে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এ ধরনের উদ্যোগের পাশে সরকার থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশে আবারও হিংস্র মৌলবাদের উত্থান দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল, যার অবসান হয়েছে ৫ আগস্ট। ইতিহাস প্রমাণ করে, বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে কোনো শাসনব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আরও বলেন, দেশে এখনো প্রায় ১,২০০ মানুষের হদিস মেলেনি। এ সময় অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের আয়োজক বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে দিনব্যাপী উৎসবে শোভাযাত্রা, নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, ‘জুলাইয়ের পঙক্তিমালা’ শীর্ষক কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণ, শহীদদের স্মরণে দলীয় ও একক আবৃত্তি এবং পুরস্কার বিতরণসহ নানা আয়োজন ছিল কর্মসূচিতে।