ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তাফসির শাস্ত্রের কিংবদন্তি যিনি

ইসলামের জ্ঞান-ঐতিহ্যের ইতিহাসে এমন কিছু মনীষীর আবির্ভাব ঘটেছে, যাঁদের জীবন ও কর্ম যুগের গণ্ডি পেরিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্ঞানপিপাসু মানুষের পথপ্রদর্শক হয়ে আছে। ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) তাঁদেরই অন্যতম।

তিনি ছিলেন এমন এক বিস্ময়কর প্রতিভা, যিনি কোরআনের তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইতিহাস, আকিদা, উসুল, অলঙ্কারশাস্ত্রসহ ইসলামী জ্ঞানের প্রায় প্রতিটি শাখায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। পঞ্চদশ শতকের মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সাহিত্যকে তিনি এমন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে, তাঁকে ইসলামী সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বহুমুখী পণ্ডিত হিসেবে গণ্য করা হয়।ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতির পূর্ণ নাম আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সুয়ুতি। ১৪৪৫ খ্রিস্টাব্দে (৮৪৯ হিজরি) মিসরের রাজধানী কায়রোতে তাঁর জন্ম।

তবে তাঁর পূর্বপুরুষদের নিবাস ছিল মিসরের সয়ুত (Asyut) অঞ্চলে। সেই সূত্রেই তিনি ‘আস-সুয়ুতি’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। অল্প বয়সেই পিতৃহারা হলেও তাঁর শিক্ষা ও প্রতিভার বিকাশ থেমে যায়নি। শৈশব থেকেই তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর।
মাত্র আট বছর বয়সে তিনি পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করেন। পাশাপাশি তিনি হাদিস, ফিকহ, আরবি ব্যাকরণ, সাহিত্য ও অন্যান্য ইসলামী জ্ঞানশাস্ত্র অধ্যয়ন করে অল্প সময়েই সমসাময়িক আলেমদের বিস্মিত করেন।তাঁর শিক্ষাজীবনের পেছনে পরিবারের, বিশেষত অভিভাবকদের উৎসাহ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে সময়ের মিসরের শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকিহ ও ভাষাবিদদের কাছে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন। ফলে খুব অল্প বয়সেই তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুল, ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্যে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

তাঁর এই বহুমাত্রিক জ্ঞান তাঁকে সমকালীন আলেমদের মধ্যে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়।শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি কায়রোর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা শুরু করেন। তাঁর পাঠদান ছিল সুসংহত, যুক্তিনির্ভর ও প্রাঞ্জল। দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে জ্ঞান অর্জনের জন্য ছুটে আসতেন। একই সঙ্গে তিনি গবেষণা ও লেখালেখিকে জীবনের প্রধান ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। দিনের অধিকাংশ সময় তিনি পাঠ, গবেষণা, ফতোয়া প্রদান এবং গ্রন্থ রচনায় ব্যয় করতেন। তবে জ্ঞানীদের জীবন সব সময় নির্বিঘ্ন হয় না। জীবনের শেষ পর্যায়ে কিছু বিরূপ সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখোমুখি হন তিনি। আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চিন্তার মূল্যায়ন করে তিনি জনজীবন থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন এবং কায়রোর নীল নদের তীরবর্তী রাওদা দ্বীপে নির্জন পরিবেশে বসবাস শুরু করেন। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি সম্পূর্ণভাবে ইবাদত, গবেষণা ও গ্রন্থ রচনায় অতিবাহিত করেন। ১৫০৫ খ্রিস্টাব্দে (৯১১ হিজরি) সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া জ্ঞানভাণ্ডার আজও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে সমাদৃত।

ইমাম সুয়ুতির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল তাঁর অসাধারণ লেখনীশক্তি। ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। ইসলামী জ্ঞানের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ শাখা নেই, যেখানে তাঁর কলমের স্পর্শ পড়েনি। কোরআনের তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা, ইতিহাস, আকিদা, চিকিৎসা, সাহিত্য ও সমাজচিন্তা—সব ক্ষেত্রেই তিনি মূল্যবান অবদান রেখে গেছেন।

তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সহজ, সাবলীল ও পাঠকবান্ধব ভাষা। তিনি জটিল বিষয়গুলোও এমনভাবে উপস্থাপন করতেন, যাতে সাধারণ পাঠক সহজেই তা বুঝতে পারেন। এ কারণেই তাঁর রচনাগুলো শুধু আলেমসমাজেই নয়, সাধারণ মুসলমানদের কাছেও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ইসলামী জ্ঞানকে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনন্য।

ইমাম সুয়ুতির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘আল-ইতকান ফি উলূমিল কোরআন’ উলূমুল কোরআনের এক অনন্য বিশ্বকোষ হিসেবে সমাদৃত। ‘তাফসিরে জালালাইন’-এ তিনি ইমাম জালালুদ্দিন আল-মাহাল্লীর অসমাপ্ত তাফসির সম্পূর্ণ করে ইসলামী বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তাফসির রচনা করেন। ‘তারিখুল খুলাফা’ ইসলামের খিলাফতের ইতিহাসের একটি নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। এছাড়া ‘হুসনুল মুহাদারাহ ফি আখবারি মিসর ওয়াল কাহিরাহ’ মিসরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং ‘আল-মুজহির ফি উলূমিল লুগাহ’ আরবি ভাষাতত্ত্বের অন্যতম মূল্যবান গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আজও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তাঁর গ্রন্থগুলো পাঠ্য ও গবেষণার বিষয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তাঁর চিন্তা, গবেষণা ও সাহিত্যিক অবদান ইসলামী জ্ঞানচর্চাকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) ছিলেন এমন এক জ্ঞানতাপস, যিনি তাঁর মেধা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন—জ্ঞানই একজন মানুষকে অমরত্ব দান করে। তিনি শুধু তাঁর যুগের একজন শ্রেষ্ঠ আলেম নন; বরং মুসলিম জ্ঞান-সভ্যতার এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার আলো আজও বিশ্বব্যাপী জ্ঞানসন্ধানীদের পথ আলোকিত করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তাফসির শাস্ত্রের কিংবদন্তি যিনি

আপডেট টাইম : ০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
ইসলামের জ্ঞান-ঐতিহ্যের ইতিহাসে এমন কিছু মনীষীর আবির্ভাব ঘটেছে, যাঁদের জীবন ও কর্ম যুগের গণ্ডি পেরিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্ঞানপিপাসু মানুষের পথপ্রদর্শক হয়ে আছে। ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) তাঁদেরই অন্যতম।

তিনি ছিলেন এমন এক বিস্ময়কর প্রতিভা, যিনি কোরআনের তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইতিহাস, আকিদা, উসুল, অলঙ্কারশাস্ত্রসহ ইসলামী জ্ঞানের প্রায় প্রতিটি শাখায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। পঞ্চদশ শতকের মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সাহিত্যকে তিনি এমন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে, তাঁকে ইসলামী সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বহুমুখী পণ্ডিত হিসেবে গণ্য করা হয়।ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতির পূর্ণ নাম আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সুয়ুতি। ১৪৪৫ খ্রিস্টাব্দে (৮৪৯ হিজরি) মিসরের রাজধানী কায়রোতে তাঁর জন্ম।

তবে তাঁর পূর্বপুরুষদের নিবাস ছিল মিসরের সয়ুত (Asyut) অঞ্চলে। সেই সূত্রেই তিনি ‘আস-সুয়ুতি’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। অল্প বয়সেই পিতৃহারা হলেও তাঁর শিক্ষা ও প্রতিভার বিকাশ থেমে যায়নি। শৈশব থেকেই তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর।
মাত্র আট বছর বয়সে তিনি পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করেন। পাশাপাশি তিনি হাদিস, ফিকহ, আরবি ব্যাকরণ, সাহিত্য ও অন্যান্য ইসলামী জ্ঞানশাস্ত্র অধ্যয়ন করে অল্প সময়েই সমসাময়িক আলেমদের বিস্মিত করেন।তাঁর শিক্ষাজীবনের পেছনে পরিবারের, বিশেষত অভিভাবকদের উৎসাহ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে সময়ের মিসরের শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকিহ ও ভাষাবিদদের কাছে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন। ফলে খুব অল্প বয়সেই তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুল, ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্যে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

তাঁর এই বহুমাত্রিক জ্ঞান তাঁকে সমকালীন আলেমদের মধ্যে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়।শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি কায়রোর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা শুরু করেন। তাঁর পাঠদান ছিল সুসংহত, যুক্তিনির্ভর ও প্রাঞ্জল। দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে জ্ঞান অর্জনের জন্য ছুটে আসতেন। একই সঙ্গে তিনি গবেষণা ও লেখালেখিকে জীবনের প্রধান ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। দিনের অধিকাংশ সময় তিনি পাঠ, গবেষণা, ফতোয়া প্রদান এবং গ্রন্থ রচনায় ব্যয় করতেন। তবে জ্ঞানীদের জীবন সব সময় নির্বিঘ্ন হয় না। জীবনের শেষ পর্যায়ে কিছু বিরূপ সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখোমুখি হন তিনি। আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চিন্তার মূল্যায়ন করে তিনি জনজীবন থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন এবং কায়রোর নীল নদের তীরবর্তী রাওদা দ্বীপে নির্জন পরিবেশে বসবাস শুরু করেন। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি সম্পূর্ণভাবে ইবাদত, গবেষণা ও গ্রন্থ রচনায় অতিবাহিত করেন। ১৫০৫ খ্রিস্টাব্দে (৯১১ হিজরি) সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া জ্ঞানভাণ্ডার আজও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে সমাদৃত।

ইমাম সুয়ুতির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল তাঁর অসাধারণ লেখনীশক্তি। ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। ইসলামী জ্ঞানের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ শাখা নেই, যেখানে তাঁর কলমের স্পর্শ পড়েনি। কোরআনের তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা, ইতিহাস, আকিদা, চিকিৎসা, সাহিত্য ও সমাজচিন্তা—সব ক্ষেত্রেই তিনি মূল্যবান অবদান রেখে গেছেন।

তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সহজ, সাবলীল ও পাঠকবান্ধব ভাষা। তিনি জটিল বিষয়গুলোও এমনভাবে উপস্থাপন করতেন, যাতে সাধারণ পাঠক সহজেই তা বুঝতে পারেন। এ কারণেই তাঁর রচনাগুলো শুধু আলেমসমাজেই নয়, সাধারণ মুসলমানদের কাছেও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ইসলামী জ্ঞানকে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনন্য।

ইমাম সুয়ুতির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘আল-ইতকান ফি উলূমিল কোরআন’ উলূমুল কোরআনের এক অনন্য বিশ্বকোষ হিসেবে সমাদৃত। ‘তাফসিরে জালালাইন’-এ তিনি ইমাম জালালুদ্দিন আল-মাহাল্লীর অসমাপ্ত তাফসির সম্পূর্ণ করে ইসলামী বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তাফসির রচনা করেন। ‘তারিখুল খুলাফা’ ইসলামের খিলাফতের ইতিহাসের একটি নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। এছাড়া ‘হুসনুল মুহাদারাহ ফি আখবারি মিসর ওয়াল কাহিরাহ’ মিসরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং ‘আল-মুজহির ফি উলূমিল লুগাহ’ আরবি ভাষাতত্ত্বের অন্যতম মূল্যবান গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আজও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তাঁর গ্রন্থগুলো পাঠ্য ও গবেষণার বিষয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তাঁর চিন্তা, গবেষণা ও সাহিত্যিক অবদান ইসলামী জ্ঞানচর্চাকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) ছিলেন এমন এক জ্ঞানতাপস, যিনি তাঁর মেধা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন—জ্ঞানই একজন মানুষকে অমরত্ব দান করে। তিনি শুধু তাঁর যুগের একজন শ্রেষ্ঠ আলেম নন; বরং মুসলিম জ্ঞান-সভ্যতার এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার আলো আজও বিশ্বব্যাপী জ্ঞানসন্ধানীদের পথ আলোকিত করছে।