ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ‘শিল্প কোনো পাপ নয়’— পপির মন্তব্যের পর প্রভার বার্তা হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপিদের ১৫ বছরের সময় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচার সমর্থন করেনি : স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং তারা গণতন্ত্রের মহান আদর্শ রক্ষায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে পিছপা হননি। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে স্পিকার আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের পর দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম সত্ত্বেও গণতন্ত্রের মূল চেতনা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা পায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়, যিনি স্বাধীনতার ঘোষক এবং এদেশের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত।

২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো ছিল প্রহসনের শামিল, যার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই স্বৈরাচারের অবসান ঘটে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে স্পিকার বলেন, বর্তমানে এই সংসদ জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

বৈঠকে আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি শক্তিশালী ও কার্যকারী সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও সাধারণ পরিষদে বাংদেশেলার ইতিবাচক ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধের সফল নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইপিইউ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচার সমর্থন করেনি : স্পিকার

আপডেট টাইম : ৩ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং তারা গণতন্ত্রের মহান আদর্শ রক্ষায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে পিছপা হননি। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে স্পিকার আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের পর দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম সত্ত্বেও গণতন্ত্রের মূল চেতনা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা পায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়, যিনি স্বাধীনতার ঘোষক এবং এদেশের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত।

২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো ছিল প্রহসনের শামিল, যার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই স্বৈরাচারের অবসান ঘটে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে স্পিকার বলেন, বর্তমানে এই সংসদ জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

বৈঠকে আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি শক্তিশালী ও কার্যকারী সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও সাধারণ পরিষদে বাংদেশেলার ইতিবাচক ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধের সফল নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইপিইউ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।