ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ‘শিল্প কোনো পাপ নয়’— পপির মন্তব্যের পর প্রভার বার্তা হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপিদের ১৫ বছরের সময় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুপ্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬ বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এই বেতন কাঠামোয় কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিসভা কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন এবং তা বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এর আগে একই দিন সকালে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন কাঠামো চালুর ফলে জাতীয় বাজেটে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী দাঁড়াবে—তা নিয়ে আলোচনা হয়। উক্ত পর্যালোচনা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। পে-স্কেল
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে সচিব কমিটির সুপারিশে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মূল বেতনের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা ও আনুতোষিক সুযোগ-সুবিধাতেও আনা হচ্ছে ব্যাপক পরিবর্তন।
নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর তা প্রয়োজনীয় আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হলেই অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি করা হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন স্কেল অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পেতে শুরু করবেন। তবে গেজেট অক্টোবরে জারি হলেও এটি কার্যকর ধরা হবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। ফলে চলতি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বর্ধিত বেতনের অর্থ বকেয়া হিসেবে পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করে দেওয়া হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির মুখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত

আপডেট টাইম : ৩ ঘন্টা আগে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুপ্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬ বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এই বেতন কাঠামোয় কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিসভা কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন এবং তা বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এর আগে একই দিন সকালে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন কাঠামো চালুর ফলে জাতীয় বাজেটে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী দাঁড়াবে—তা নিয়ে আলোচনা হয়। উক্ত পর্যালোচনা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। পে-স্কেল
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে সচিব কমিটির সুপারিশে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মূল বেতনের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা ও আনুতোষিক সুযোগ-সুবিধাতেও আনা হচ্ছে ব্যাপক পরিবর্তন।
নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর তা প্রয়োজনীয় আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হলেই অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি করা হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন স্কেল অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পেতে শুরু করবেন। তবে গেজেট অক্টোবরে জারি হলেও এটি কার্যকর ধরা হবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। ফলে চলতি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বর্ধিত বেতনের অর্থ বকেয়া হিসেবে পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করে দেওয়া হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির মুখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।