কাউকে উপহার দেওয়া আনন্দের হলেও সঠিক উপহার বেছে নেওয়া অনেক সময় বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কী দিলে তিনি খুশি হবেন, কত টাকা খরচ করা উচিত, উপহারটি কতটা ব্যক্তিগত হওয়া দরকার এসব নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন।
ভারতের উপহারসামগ্রী প্রতিষ্ঠান আর্চিসের নির্বাহী পরিচালক হানিশা গান্ধীর মতে, কাউকে উপহার দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করলে পছন্দটি আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়। তার পরামর্শ অনুযায়ী, উপহার কেনার আগে যে সাতটি বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে
১. উপলক্ষ নয়, গুরুত্ব দিন মানুষটিকে
জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা অন্য কোনো উপলক্ষ কখন উপহার দেওয়া হবে, তা ঠিক করে।
২. তিনি নিজে যা কিনবেন না, সেটিও ভাবুন
অনেক সময় এমন কিছু মানুষ পছন্দ করেন, যা নিজের জন্য কিনতে গিয়ে খরচটাকে অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। যেমন সুন্দর একটি ডায়েরি, সুগন্ধি মোমবাতি কিংবা কোনো স্মারক।
৩. সম্পর্কের সঙ্গে মিলিয়ে উপহার বেছে নিন
উপহারের ধরন সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা ভাই-বোনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন কিছু দেওয়া যেতে পারে। আবার সহকর্মী বা নতুন পরিচিত কারও জন্য মার্জিত ও পরিমিত উপহার উপযুক্ত হতে পারে। উপহার যেন সম্পর্কের মাত্রার সঙ্গে মানানসই হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
৪. ব্যক্তিগত ছোঁয়া যোগ করুন
নাম, বিশেষ কোনো তারিখ, ছোট্ট বার্তা কিংবা দুজনের কোনো স্মৃতি—এ ধরনের ব্যক্তিগত বিষয় একটি সাধারণ উপহারকেও বিশেষ করে তুলতে পারে। এতে বোঝা যায়, উপহারটি শুধু কিনে দেওয়া হয়নি, বরং নির্দিষ্ট মানুষটির কথা ভেবেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
৫. দেখতে কেমন তার চেয়ে অনুভূতিটা গুরুত্বপূর্ণ
সুন্দর মোড়ক বা আকর্ষণীয় উপহার চোখে ভালো লাগতে পারে। কিন্তু উপহারটি পাওয়ার পর মানুষটি কেমন অনুভব করবেন, সেটিও ভাবা দরকার। তিনি কি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ, বোঝা বা আনন্দিত মনে করবেন? উপহার বাছাইয়ের সময় এই অনুভূতিকে গুরুত্ব দিলে সেটি আরও স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারে।
৬. গতানুগতিক উপহারের বাইরে ভাবুন
ফুল ও চকোলেট চিরকালই জনপ্রিয় উপহার। তবে একটু ভিন্নভাবে ভাবলে উপহার আরও ব্যক্তিগত হয়ে উঠতে পারে। যেমন আগে আলোচনায় আসা কোনো লেখকের বই, সম্প্রতি শুরু করা শখের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জিনিস কিংবা দুজনের ভাগ করা কোনো স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত ছোট্ট উপহার দেওয়া যেতে পারে।
৭. হাতে লেখা একটি নোট দিন
উপহারের সঙ্গে ব্যক্তিগত কয়েকটি কথা লিখে দেওয়া সেটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে। বড় কোনো বার্তা প্রয়োজন নেই মাত্র দুই-তিনটি আন্তরিক লাইনও যথেষ্ট। উপহারটি একসময় ব্যবহার করা বা সরিয়ে রাখা হলেও হাতে লেখা সেই কথাগুলো স্মৃতি হয়ে থেকে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, উপহারের মূল্য সবসময় তার দামের ওপর নির্ভর করে না। বরং যাকে উপহার দেওয়া হচ্ছে, তার প্রতি কতটা মনোযোগ ও আন্তরিকতা থেকে সেটি বেছে নেওয়া হয়েছে সেটিই উপহারটিকে বিশেষ করে তুলতে পারে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























