ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার আ.লীগের অপতৎপরতায় শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপহার কেনার আগে যে ৭টি বিষয় মনে রাখা জরুরি চীনে ৩০ দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের গণমাধ্যম সহযোগিতা সেমিনার আগামী বছরের জানুয়ারিতে হতে পারে ইউপি নির্বাচন: ইসি মাছউদ জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা ইমরান খানের বোনকে গ্রেপ্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা চীনা নাগরিকের ২.৫ কেজি সোনা উদ্ধার, আনসারের বিচক্ষণতায় পাচারচেষ্টা নস্যাৎ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

চীনে ৩০ দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের গণমাধ্যম সহযোগিতা সেমিনার

চীনে ৩০টি দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গণমাধ্যম সহযোগিতা বিষয়ক সেমিনার ও বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিএনপি মিডিয়া সেলের জাতীয় সমন্বয়কারী ও টিম লিডার (ডিজিটাল) আপেল মাহমুদ অংশ নেন।

সেমিনারে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনশীল প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা চীনের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতার সঙ্গে বৈঠক

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আপেল মাহমুদসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের উপমন্ত্রী সুন হাই ইয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।সাক্ষাতের পর আপেল মাহমুদ বলেন, বৈঠকের শুরুতেই সুন হাই ইয়ান সেমিনারে অংশ নেওয়া প্রত্যেকের কাজ ও ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন। বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।

আপেল মাহমুদ বলেন, অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আয়োজকদের বিস্তারিত ধারণা থাকায় তাদের প্রতি আয়োজকদের মনোযোগ এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা সম্পর্কে নিয়মিত অনুসরণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

বৈঠকে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গণমাধ্যমে প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে আলোচনা

সেমিনারে দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ নতুন প্রযুক্তির কারণে গণমাধ্যমে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিজেদের দেশের গণমাধ্যমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও মতবিনিময় করেন।

চীনের বিভিন্ন শহর ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন

সেমিনারের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য চীনের বিভিন্ন শহর, প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে তারা রাজধানী বেইজিংয়ের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।

এরপর তারা ইয়িচুয়াং এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে শিল্প, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও আধুনিক নগর উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পরে ইয়ানআন শহরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা বিপ্লবের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন তারা।

প্রতিনিধিদল ইয়াংজিয়াহে গ্রামও পরিদর্শন করে। গ্রামটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গ্রামীণ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তারা জানতে পারেন।

শানসি প্রদেশের শি’আন শহরে টেরাকোটা আর্মি জাদুঘর ও ট্যাং প্যারাডাইস পরিদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা। একই শহরে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান BYD পরিদর্শনের সময় বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পর্কে তারা ধারণা নেন।

পরে ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ ও ইউইউ শহর পরিদর্শন করেন তারা। হাংঝৌতে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি চীনা গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় হয়। ইউইউতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাজারব্যবস্থা ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনের সংযোগ সম্পর্কে ধারণা নেন তারা।

ইতিহাস ও গ্রামীণ উন্নয়ন দেখলেন প্রতিনিধিরা

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল লিয়াংঝু প্রাচীন শহর পরিদর্শন করে। সেখানে পাঁচ হাজার বছরের বেশি পুরোনো সভ্যতার বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে তারা জানতে পারেন। এসব নিদর্শনের মাধ্যমে প্রাচীন চীনের পানি ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা ও নগর পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া লিজু গ্রাম পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারেন অংশগ্রহণকারীরা।

চীনের পরিবর্তন সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে

আপেল মাহমুদ বলেন, কর্মসূচির মাধ্যমে গণমাধ্যম ও বইয়ে চীনের উন্নয়ন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি তা সরাসরি মাঠপর্যায়ে দেখার সুযোগ হয়েছে।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক স্থান, আধুনিক শহর, শিল্পকারখানা, বাজার, গ্রাম ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে। এর মাধ্যমে চীনের ইতিহাস, সভ্যতা, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, শিল্প, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বহুমাত্রিক ধারণা পাওয়া গেছে।

আপেল মাহমুদ আরো বলেন, সরাসরি এসব অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে গত কয়েক দশকে চীনের পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্পর্কে আরো বিস্তৃত ধারণা লাভের সুযোগ হয়েছে।

সেমিনারে অংশ নেওয়া ৩০টি দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে তৈরি হওয়া যোগাযোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, এ যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও জনগণের মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে তা ভূমিকা রাখতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সরকার আ.লীগের অপতৎপরতায় শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চীনে ৩০ দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের গণমাধ্যম সহযোগিতা সেমিনার

আপডেট টাইম : ২৯ মিনিট আগে
চীনে ৩০টি দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গণমাধ্যম সহযোগিতা বিষয়ক সেমিনার ও বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিএনপি মিডিয়া সেলের জাতীয় সমন্বয়কারী ও টিম লিডার (ডিজিটাল) আপেল মাহমুদ অংশ নেন।

সেমিনারে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনশীল প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা চীনের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতার সঙ্গে বৈঠক

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আপেল মাহমুদসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের উপমন্ত্রী সুন হাই ইয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।সাক্ষাতের পর আপেল মাহমুদ বলেন, বৈঠকের শুরুতেই সুন হাই ইয়ান সেমিনারে অংশ নেওয়া প্রত্যেকের কাজ ও ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন। বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।

আপেল মাহমুদ বলেন, অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আয়োজকদের বিস্তারিত ধারণা থাকায় তাদের প্রতি আয়োজকদের মনোযোগ এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা সম্পর্কে নিয়মিত অনুসরণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

বৈঠকে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গণমাধ্যমে প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে আলোচনা

সেমিনারে দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ নতুন প্রযুক্তির কারণে গণমাধ্যমে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিজেদের দেশের গণমাধ্যমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও মতবিনিময় করেন।

চীনের বিভিন্ন শহর ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন

সেমিনারের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য চীনের বিভিন্ন শহর, প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে তারা রাজধানী বেইজিংয়ের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।

এরপর তারা ইয়িচুয়াং এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে শিল্প, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও আধুনিক নগর উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পরে ইয়ানআন শহরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা বিপ্লবের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন তারা।

প্রতিনিধিদল ইয়াংজিয়াহে গ্রামও পরিদর্শন করে। গ্রামটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গ্রামীণ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তারা জানতে পারেন।

শানসি প্রদেশের শি’আন শহরে টেরাকোটা আর্মি জাদুঘর ও ট্যাং প্যারাডাইস পরিদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা। একই শহরে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান BYD পরিদর্শনের সময় বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পর্কে তারা ধারণা নেন।

পরে ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ ও ইউইউ শহর পরিদর্শন করেন তারা। হাংঝৌতে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি চীনা গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় হয়। ইউইউতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাজারব্যবস্থা ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনের সংযোগ সম্পর্কে ধারণা নেন তারা।

ইতিহাস ও গ্রামীণ উন্নয়ন দেখলেন প্রতিনিধিরা

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল লিয়াংঝু প্রাচীন শহর পরিদর্শন করে। সেখানে পাঁচ হাজার বছরের বেশি পুরোনো সভ্যতার বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে তারা জানতে পারেন। এসব নিদর্শনের মাধ্যমে প্রাচীন চীনের পানি ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা ও নগর পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া লিজু গ্রাম পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারেন অংশগ্রহণকারীরা।

চীনের পরিবর্তন সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে

আপেল মাহমুদ বলেন, কর্মসূচির মাধ্যমে গণমাধ্যম ও বইয়ে চীনের উন্নয়ন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি তা সরাসরি মাঠপর্যায়ে দেখার সুযোগ হয়েছে।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক স্থান, আধুনিক শহর, শিল্পকারখানা, বাজার, গ্রাম ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে। এর মাধ্যমে চীনের ইতিহাস, সভ্যতা, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, শিল্প, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বহুমাত্রিক ধারণা পাওয়া গেছে।

আপেল মাহমুদ আরো বলেন, সরাসরি এসব অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে গত কয়েক দশকে চীনের পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্পর্কে আরো বিস্তৃত ধারণা লাভের সুযোগ হয়েছে।

সেমিনারে অংশ নেওয়া ৩০টি দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে তৈরি হওয়া যোগাযোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, এ যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও জনগণের মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে তা ভূমিকা রাখতে পারে।