প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ও শীতের সময়ে ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে প্রশ্ন উঠেছে— এসব কর্মসূচি বাস্তবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কতটা ভূমিকা রাখছে, আর বিএনপি সরকারই-বা রাজনৈতিকভাবে এর সুফল কতটুকু পাচ্ছে?
দলটির নেতাদের ভাষ্য, সরকারের এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনকালীন ইশতেহার অনুযায়ী কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রেখে কর্মসূচিগুলো পরিচালনার মাধ্যমে তৃণমূলে দলীয় সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদারের চেষ্টাও চলছে।

বিএনপির একাধিক মধ্যম সারির নেতা জানান, সংকটকালে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া বিএনপির জন্য নতুন কিছু নয়। অসহায় মানুষকে খাদ্য ও ত্রাণ দেওয়া, শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা ও দুর্যোগকবলিত এলাকায় পাশে দাঁড়ানো দলটির নিয়মিত কর্মসূচির অংশ। এসব উদ্যোগের ইতিবাচক দিক হলো— রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন দূর করতে সহায়ক।
তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা সতর্ক করে জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বা হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হলেও অতিরিক্ত রাজনৈতিকীকরণ এর গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দিতে পারে। সাধারণ মানুষ যদি মনে করে এগুলো কেবলই রাজনৈতিক প্রচারণা, তবে কাঙ্ক্ষিত জনসম্পৃক্ততা নাও আসতে পারে। এছাড়া, সাময়িক সহায়তার চেয়ে নিয়মিতভাবে স্থানীয় চাহিদা চিহ্নিত করে কাজ করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা হেলথ কার্ড দেওয়ার কার্যক্রমগুলো একদম শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো মূলত সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচির অংশ। আগামী এক বা দেড় বছরের মধ্যে এসব উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ রূপ নেবে। তবে, দায়িত্ব নেওয়ার ছয়-সাত মাসের মধ্যে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে আমরা বেশ আশাবাদী।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো উদ্যোগ কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে জনআস্থা তৈরিতে ব্যর্থ হতে পারে। স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা এবং মানুষের প্রকৃত প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেই এর সুফল দৃশ্যমান হবে। তাদের মতে, আয়োজনের সংখ্যার চেয়ে কতজন মানুষ প্রকৃত সহায়তা পেলেন এবং সহায়তার ধারাবাহিকতা কতটা ছিল— সেটাই সাফল্যের মূল মাপকাঠি।

সার্বিক বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ঢাকা পোস্ট-কে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বা হেলথ কার্ড একটি সরকারের খুবই ক্ষুদ্র সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। সরকারের আসল সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ভর করবে মূলত বিদ্যুৎ সংকট সমাধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করার ওপর।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আগে থেকেই শতাধিক স্কিম চালু রয়েছে, নতুন উদ্যোগগুলো তার সঙ্গে যুক্ত হলো মাত্র। তবে, এসব বিচ্ছিন্ন কার্ড দেওয়ার চেয়ে সব প্রকল্পকে একত্রিত ও সুসংহত (কনসোলিডেট) করে একটি স্থায়ী রূপ দেওয়াই বেশি প্রয়োজন ছিল।’

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























