ঢাকা , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছাদে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা সুদ-ঘুসের টাকায় বাড়ি-গাড়ি, তওবায় ক্ষমা হবে কি শাহজালালে জমজমের পানি নিয়ে তুলকালাম, নেপথ্যে কী বিশ্ব শিক্ষক দিবস : ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে সরকার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ আখতারুজ্জামানের শুনানিতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি ভারতে মুসলিম যুবক হত্যা ও বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের নিন্দা নেজামে ইসলাম পার্টির এক বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে : অর্থমন্ত্রী প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী চিয়া সিড কখন খেলে সবচেয়ে ভালো

আখতারুজ্জামানের শুনানিতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি

সরকারি কাজে বাধা ও এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে।

আজ রোববার ঢাকার আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন তার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত কক্ষে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

আজ দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে মাথায় হেলমেট ও হাতে হাতকড়া পরিয়ে আখতারুজ্জামানকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। তবে এদিন তিনি হেলমেট ছুড়ে ফেলেননি। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম।

আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার পর বিচারক জামসেদ আলম এজলাসে ওঠেন। এ সময় এজলাসে দাঁড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে প্রথমে হট্টগোল এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বেলা ২টা ৪১ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর বিচারক পুনরায় এজলাসে ওঠেন।

এ সময় আখতারুজ্জামান হাত তুলে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবী কথা বলবেন। ১০ জনের হিয়ারিংয়ের অনুমতি প্রার্থনা করছি।’

এরপর জামিন শুনানি শুরু করেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সবকিছুর সিসিটিভি ফুটেজ আছে। শুধু মারধরের দৃশ্য নেই। মূল ব্যাপার হলো রাজনৈতিক পটভূমি। তিনি নতুন দলে যোগ দিয়েছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ, ৭৩ বছর বয়সী ব্যক্তি। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তার জামিন প্রার্থনা করছি।’

এ সময় আখতারুজ্জামান নিজেও কথা বলতে চাইলে বিচারক বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে কথা বললে তো শুনতে পাব না। একজন একজন করে বলেন।’

জামিনের বিরোধিতা করে ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘প্রতিবাদ করার ধরন আছে। ধরন ঠিক না থাকলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।’

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর একটি কাজ হচ্ছে উন্নয়নমূলক কাজে অংশ না নিয়ে কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা। বিএনপি বহুদলীয় রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। অন্য দলে যোগ দেওয়ার কারণে বিএনপি মামলা করে না।

জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধু খেয়ে বেঁচে ছিলেন।’ তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এতে আদালত কক্ষে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়।

ওমর ফারুক বলেন, ‘আপনারা রাজনীতি না আনলে আমিও আনতাম না। উনি যে কাজ করেছেন, তা অপরাধ। মামলা জামিন অযোগ্য ধারায়। জামিনের বিরোধিতা করছি।’

এ সময় ওমর ফারুকের বক্তব্যের বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তিনি আসামিকে ‘বাতিল মাল’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ বক্তব্য নিয়েও আদালতে উত্তেজনা তৈরি হয়।

আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘উনাদের ভূমিকা ইতিবাচক হওয়া দরকার। তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। তার জামিন প্রার্থনা করছি।’

পরে আদালত আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানি শেষে আদালত ভবনের নিচে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে অবস্থানরত জামায়াতের সমর্থকদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজনকে মারধর করে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা তাদের নেতাকর্মীদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরের দিন গতকাল শনিবার আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাদে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা

আখতারুজ্জামানের শুনানিতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি

আপডেট টাইম : ৪৫ মিনিট আগে

সরকারি কাজে বাধা ও এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে।

আজ রোববার ঢাকার আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন তার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত কক্ষে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

আজ দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে মাথায় হেলমেট ও হাতে হাতকড়া পরিয়ে আখতারুজ্জামানকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। তবে এদিন তিনি হেলমেট ছুড়ে ফেলেননি। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম।

আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার পর বিচারক জামসেদ আলম এজলাসে ওঠেন। এ সময় এজলাসে দাঁড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে প্রথমে হট্টগোল এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বেলা ২টা ৪১ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর বিচারক পুনরায় এজলাসে ওঠেন।

এ সময় আখতারুজ্জামান হাত তুলে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবী কথা বলবেন। ১০ জনের হিয়ারিংয়ের অনুমতি প্রার্থনা করছি।’

এরপর জামিন শুনানি শুরু করেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সবকিছুর সিসিটিভি ফুটেজ আছে। শুধু মারধরের দৃশ্য নেই। মূল ব্যাপার হলো রাজনৈতিক পটভূমি। তিনি নতুন দলে যোগ দিয়েছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ, ৭৩ বছর বয়সী ব্যক্তি। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তার জামিন প্রার্থনা করছি।’

এ সময় আখতারুজ্জামান নিজেও কথা বলতে চাইলে বিচারক বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে কথা বললে তো শুনতে পাব না। একজন একজন করে বলেন।’

জামিনের বিরোধিতা করে ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘প্রতিবাদ করার ধরন আছে। ধরন ঠিক না থাকলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।’

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর একটি কাজ হচ্ছে উন্নয়নমূলক কাজে অংশ না নিয়ে কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা। বিএনপি বহুদলীয় রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। অন্য দলে যোগ দেওয়ার কারণে বিএনপি মামলা করে না।

জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধু খেয়ে বেঁচে ছিলেন।’ তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এতে আদালত কক্ষে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়।

ওমর ফারুক বলেন, ‘আপনারা রাজনীতি না আনলে আমিও আনতাম না। উনি যে কাজ করেছেন, তা অপরাধ। মামলা জামিন অযোগ্য ধারায়। জামিনের বিরোধিতা করছি।’

এ সময় ওমর ফারুকের বক্তব্যের বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তিনি আসামিকে ‘বাতিল মাল’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ বক্তব্য নিয়েও আদালতে উত্তেজনা তৈরি হয়।

আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘উনাদের ভূমিকা ইতিবাচক হওয়া দরকার। তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। তার জামিন প্রার্থনা করছি।’

পরে আদালত আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানি শেষে আদালত ভবনের নিচে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে অবস্থানরত জামায়াতের সমর্থকদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজনকে মারধর করে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা তাদের নেতাকর্মীদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরের দিন গতকাল শনিবার আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।