ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মানসম্মত উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি’ শাহজালালে বিমানের জরুরি অবতরণের পর ছুটে গেলেন মন্ত্রী এআই দিয়ে জামায়াত-শিবির সরকারবিরোধী যে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, তা আ. লীগও করেনি দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী আঙুলের কালির দাগ শুকানোর আগেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে ৪ সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ ৭ হাজারের বেশি আটক: মোদি সরকারকে তীব্র নিন্দা জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টিসহ বিরোধীদের আগামী বছরের রমজান শুরু হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি ক্যামেরার ফ্রেমে পরিযায়ী পাখির চোখজুড়ানো দৃশ্য পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদির সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার সহায়তা

ভোরের শিশিরকণা-কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা

গভীর রাতে টিনের চালে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ নয়, ভোরের প্রকৃতিতে ঘাসে ঘাসে আর পাতায় পাতায় জমে থাকা শিশিরকণা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শরতের এই সময়ে হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চারপাশ।

ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস আর কুয়াশার আবছা দৃশ্য বলে দিচ্ছে, শীত আসন্ন। সবুজ ধানক্ষেতে শিশিরকণা আর কুয়াশার যেন চলছে লুকোচুরি।কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গ্রামজুড়ে এখন এমনই প্রকৃতির রূপ। গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ।

ফজরের পর ভোরের আলোয় চারপাশের অস্পষ্ট দৃশ্য যেন প্রকৃতির দরজায় কড়া নাড়া শীতের আগমনী বার্তা বহন করছে। ফজরের নামাজের পর পাখপাখালির কিচিরমিচির, মেঠোপথে হাঁটার সময় শরীরে লাগা শীতল বাতাস—সব মিলিয়ে হৃদয়ে জাগায় এক অন্য রকম শিহরণ।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রকৃতির পালাবদলে ভোরের পরিবেশে এসেছে ভিন্নতা। সবুজ পাতার ওপর, সোনালি ধানের শীষে ও দূর্বাঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরকণা তৈরি করেছে অপরূপ দৃশ্য।

মাকড়সার জালে জমে থাকা শিশিরও প্রকৃতিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য। ছোট-বড় গাছের পাতায় লেগে থাকা শিশির আর হালকা কুয়াশায় চারপাশের প্রকৃতি যেন সেজেছে স্নিগ্ধ সাজে।মেঠোপথ ধরে হাঁটতে গিয়ে প্রকৃতির এই অপরূপ রূপে হারিয়ে যায় মন। ফসলের মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কিংবা ভোরের শিশিরভেজা ঘাসের দিকে তাকিয়ে থাকার মধ্যেও রয়েছে অন্য রকম প্রশান্তি। ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহল থেকে দূরে গ্রামের এমন সকাল মনকে করে তোলে সতেজ ও উজ্জীবিত।

কটিয়দীর জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামে সকালে শরীরচর্চা করেন একদল বয়স্ক মানুষ। তাদের মধ্যে শফিউল হক ও মেরাজ মাস্টার বলেন, ‘এখনকার সকাল শরীরকে শীতল করে তোলে। শীতের আগাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমরা সকালে হাঁটতে বের হই। গ্রামে থাকলে প্রকৃতির এই পালাবদল কাছ থেকে দেখা যায়। অন্য সময়ের সকালের চেয়ে এখনকার সকালটা যেন একটু আলাদা। প্রকৃতি যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক ছবি।’

শুধু জালালপুর ইউনিয়ন নয়, আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের সকালও শুরু হয় কর্মব্যস্ততায়। ফজরের পরপরই কৃষকেরা জমিতে কাজে নেমে পড়েন। কেউ ক্ষেত থেকে শাকসবজি তুলে বিক্রির জন্য নিয়ে যান হাটে। কেউ ভোরের চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুরু করেন দিনের পথচলা। আবার কেউ দলবেঁধে হাঁটতে বেরিয়ে ক্লান্তি শেষে পথের ধারে বসে মেতে ওঠেন খোশগল্পে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের বাজারগুলোও হয়ে ওঠে সরগরম। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর মানুষের কর্মব্যস্ততা মিলিয়ে গ্রামীণ জনপদে ফুটে ওঠে এক চিরচেনা সকাল। ঘাসের ডগায় জমে থাকা ছোট ছোট শিশিরকণা যেন নীরবে মনে করিয়ে দেয় ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে শীত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

‘পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মানসম্মত উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি’

ভোরের শিশিরকণা-কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা

আপডেট টাইম : ১৬ ঘন্টা আগে
গভীর রাতে টিনের চালে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ নয়, ভোরের প্রকৃতিতে ঘাসে ঘাসে আর পাতায় পাতায় জমে থাকা শিশিরকণা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শরতের এই সময়ে হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চারপাশ।

ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস আর কুয়াশার আবছা দৃশ্য বলে দিচ্ছে, শীত আসন্ন। সবুজ ধানক্ষেতে শিশিরকণা আর কুয়াশার যেন চলছে লুকোচুরি।কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গ্রামজুড়ে এখন এমনই প্রকৃতির রূপ। গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ।

ফজরের পর ভোরের আলোয় চারপাশের অস্পষ্ট দৃশ্য যেন প্রকৃতির দরজায় কড়া নাড়া শীতের আগমনী বার্তা বহন করছে। ফজরের নামাজের পর পাখপাখালির কিচিরমিচির, মেঠোপথে হাঁটার সময় শরীরে লাগা শীতল বাতাস—সব মিলিয়ে হৃদয়ে জাগায় এক অন্য রকম শিহরণ।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রকৃতির পালাবদলে ভোরের পরিবেশে এসেছে ভিন্নতা। সবুজ পাতার ওপর, সোনালি ধানের শীষে ও দূর্বাঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরকণা তৈরি করেছে অপরূপ দৃশ্য।

মাকড়সার জালে জমে থাকা শিশিরও প্রকৃতিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য। ছোট-বড় গাছের পাতায় লেগে থাকা শিশির আর হালকা কুয়াশায় চারপাশের প্রকৃতি যেন সেজেছে স্নিগ্ধ সাজে।মেঠোপথ ধরে হাঁটতে গিয়ে প্রকৃতির এই অপরূপ রূপে হারিয়ে যায় মন। ফসলের মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কিংবা ভোরের শিশিরভেজা ঘাসের দিকে তাকিয়ে থাকার মধ্যেও রয়েছে অন্য রকম প্রশান্তি। ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহল থেকে দূরে গ্রামের এমন সকাল মনকে করে তোলে সতেজ ও উজ্জীবিত।

কটিয়দীর জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামে সকালে শরীরচর্চা করেন একদল বয়স্ক মানুষ। তাদের মধ্যে শফিউল হক ও মেরাজ মাস্টার বলেন, ‘এখনকার সকাল শরীরকে শীতল করে তোলে। শীতের আগাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমরা সকালে হাঁটতে বের হই। গ্রামে থাকলে প্রকৃতির এই পালাবদল কাছ থেকে দেখা যায়। অন্য সময়ের সকালের চেয়ে এখনকার সকালটা যেন একটু আলাদা। প্রকৃতি যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক ছবি।’

শুধু জালালপুর ইউনিয়ন নয়, আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের সকালও শুরু হয় কর্মব্যস্ততায়। ফজরের পরপরই কৃষকেরা জমিতে কাজে নেমে পড়েন। কেউ ক্ষেত থেকে শাকসবজি তুলে বিক্রির জন্য নিয়ে যান হাটে। কেউ ভোরের চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুরু করেন দিনের পথচলা। আবার কেউ দলবেঁধে হাঁটতে বেরিয়ে ক্লান্তি শেষে পথের ধারে বসে মেতে ওঠেন খোশগল্পে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের বাজারগুলোও হয়ে ওঠে সরগরম। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর মানুষের কর্মব্যস্ততা মিলিয়ে গ্রামীণ জনপদে ফুটে ওঠে এক চিরচেনা সকাল। ঘাসের ডগায় জমে থাকা ছোট ছোট শিশিরকণা যেন নীরবে মনে করিয়ে দেয় ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে শীত।