ভারতের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি ধরপাকড় ও কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজধানী। বিক্ষোভ শুরুর আগেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪ জন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ ৭ হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিরোধীরা। এদিকে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আগামীকাল রোববারও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
প্রশাসন সূত্রের খবর, বিক্ষোভ দমন করতে দিল্লির একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়। তবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই প্রতিবাদে নামেন বিরোধী দলের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ছাত্রনেতা ও অধিকারকর্মীরা।
পুলিশের হাতে আটক শীর্ষ রাজনীবিদদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এছাড়া সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস, বিশিষ্ট আইনজীবী, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও অভিনেতা ইমরান খানকেও পুলিশ আটক করে।
আটককৃতদের সিংহভাগকে ছত্রশাল স্টেডিয়াম ও মন্দির মার্গ থানাসহ বিভিন্ন অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। তবে পরবর্তীতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা
নয়াদিল্লির এই গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও চরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর (ইউএন হিউম্যান রাইটস) এক বার্তায় জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে পুরোপুরি সম্মান ও সুরক্ষা দিতে হবে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরির অপচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্রের মোদি সরকারকে একনায়কতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অবিলম্বে এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, বর্তমান মোদি সরকার ‘গণতন্ত্রের জননীকে’ এক ‘মুখবন্ধ গণতন্ত্রে’ পরিণত করেছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ তোলেন।
রোববারেও বিক্ষোভ ও আদালতের হস্তক্ষেপ
প্রশাসনের বাধা ও চাপ সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনড় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া বার্তায় দলটি জানিয়েছে, রোববার ফের নেতাকর্মীরা ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে মার্চ করবেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি চলবে। রোববারকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে মেট্রো ও গণপরিবহন বন্ধ রাখার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত এ বিষয়ে বিশেষ শুনানির দিন ধার্য করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার বিরোধী জোটের নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঙ্কার দিয়েছেন।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























