ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী জানাল জেদ্দা কনস্যুলেট পৃথক অভিযোগে সৌদির কারাগারে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল-সুইটি হাজারো ডিসেম্বর আসবে, কিন্তু শেখ হাসিনা আসবে না ৩৮ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নভেম্বর থেকে ঢাকায় নতুন নিয়ম, এক রুটে চলবে এক কোম্পানির বাস ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় নিহত ৭৩ বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি, মুম্বাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মিকা সিং

সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরিতে ৩ বছরের জেল, ক্ষতি করলে ৫ বছর

দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং এ খাতের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুতের বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।

এর আগের দিন রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় পড়তে পারে, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে সরকার সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি ভবন, সাধারণ মানুষের ভবন ও পতিত জমিসহ বিভিন্ন জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা যাবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) ও ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স) দুই মডেলই রাখা হয়েছে। ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারীরা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় বহন করবেন। ক্যাপেক্স মডেলে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন করে এর মালিকানা রাখতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান নির্ধারণ করতেই অধ্যাদেশটি করা হয়েছে।

ছাদ, আঙিনা ও জলাশয়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সরকারি কোম্পানি ও বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, ভবনসংলগ্ন পতিত জমি এবং জলাশয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। এর আওতায় থাকবে সৌরচালিত সেচপাম্প, কোল্ড স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তবে বৃহৎ ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এ অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে না।

সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব আয় রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপেক্স মডেলেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারবে বলেও জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য অর্জনে সরকার প্রণোদনাও ঘোষণা করেছে।

সরকারি ভবন, সাধারণ মানুষের ভবন ও পতিত জমিসহ বিভিন্ন জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা যাবে বরে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব আয় রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপেক্স মডেলেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারবে বলেও জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও নেট-মিটারিংয়ে বিল সমন্বয়

অধ্যাদেশ অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনায় গ্রাহক, সার্ভিস প্রোভাইডার এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করতে হবে। এতে যন্ত্রপাতির গুণগত মান, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুতের বণ্টন, বিল পরিশোধ, মালিকানা, চুক্তির মেয়াদ ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি ফেরত নেওয়া এবং ই-বর্জ্য নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়ও চুক্তিতে রাখতে হবে।

অধ্যাদেশে নেট-মিটারিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক নিজের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এরপরও বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকলে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী তার মূল্য পাওয়া যাবে। এছাড়া সরকার নেট-মিটারিংয়ে প্রণোদনা দিতে পারবে।

পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্রয়ে বিশেষ বিধান

সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে ক্যাপেক্স মডেলে সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা কেনার আর্থিক সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে না। যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডারদের জেলাভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবে। তবে গ্রাহক চাইলে উন্মুক্ত দরপত্রের (ওপেক্স) মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারবেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ওপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে ১৫ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের অংশ দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান ছিল না। একইভাবে ক্যাপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬’, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ এবং ‘বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮’-এ সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না। এসব ঘাটতি পূরণে নতুন অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করা হয়।

জাতীয় পলিসি কাউন্সিল, জেলা-উপজেলায় কমিটি

সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ও নীতিগত দিক-নির্দেশনার জন্য জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠন করার কথা বলা হয়েছে অধ্যাদেশে। এতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা থাকবেন। কাউন্সিল বিনিয়োগ, নেট-মিটারিং, প্রণোদনা ও ট্যারিফ কাঠামোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।

১৩ ধারায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ১৪ ধারা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে অন্য কাউকে অবৈধ সংযোগ দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে

জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সহায়তা, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব পালন করবে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) তাদের ওয়েবসাইটে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও সচলতা পর্যবেক্ষণ করবে।

গ্রাহক নিজের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন

গ্রাহক নিজের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন

চুরি, ক্ষতিসাধন ও বাধা দেওয়ার শাস্তি

অধ্যাদেশের ১২ ধারায় বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। চোরাই বলে জানা সত্ত্বেও যন্ত্রাংশ কেনা, বিক্রি বা নিজের হেফাজতে রাখলেও একই শাস্তি হবে।

১৩ ধারায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ১৪ ধারা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে অন্য কাউকে অবৈধ সংযোগ দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

১৫ ধারায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সংযোগ, পরিদর্শন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সার্ভিস প্রোভাইডারকে বাধা দেওয়ার শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

১৬ ধারা অনুযায়ী, এ অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা, ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনা দিয়ে অপরাধ সংঘটিত করালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত একই দণ্ড পাবেন।

প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার

অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হবে। এসব অপরাধ মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্ত হলে মোবাইল কোর্টেও বিচার করা যাবে। তদন্ত, তল্লাশি, জব্দ, গ্রেফতার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে অধ্যাদেশের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ না হলে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে

সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরিতে ৩ বছরের জেল, ক্ষতি করলে ৫ বছর

আপডেট টাইম : ১২ ঘন্টা আগে

দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং এ খাতের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুতের বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।

এর আগের দিন রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় পড়তে পারে, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে সরকার সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি ভবন, সাধারণ মানুষের ভবন ও পতিত জমিসহ বিভিন্ন জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা যাবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) ও ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স) দুই মডেলই রাখা হয়েছে। ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারীরা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় বহন করবেন। ক্যাপেক্স মডেলে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন করে এর মালিকানা রাখতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান নির্ধারণ করতেই অধ্যাদেশটি করা হয়েছে।

ছাদ, আঙিনা ও জলাশয়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সরকারি কোম্পানি ও বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, ভবনসংলগ্ন পতিত জমি এবং জলাশয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। এর আওতায় থাকবে সৌরচালিত সেচপাম্প, কোল্ড স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তবে বৃহৎ ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এ অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে না।

সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব আয় রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপেক্স মডেলেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারবে বলেও জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য অর্জনে সরকার প্রণোদনাও ঘোষণা করেছে।

সরকারি ভবন, সাধারণ মানুষের ভবন ও পতিত জমিসহ বিভিন্ন জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা যাবে বরে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব আয় রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপেক্স মডেলেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারবে বলেও জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও নেট-মিটারিংয়ে বিল সমন্বয়

অধ্যাদেশ অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনায় গ্রাহক, সার্ভিস প্রোভাইডার এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করতে হবে। এতে যন্ত্রপাতির গুণগত মান, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুতের বণ্টন, বিল পরিশোধ, মালিকানা, চুক্তির মেয়াদ ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি ফেরত নেওয়া এবং ই-বর্জ্য নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়ও চুক্তিতে রাখতে হবে।

অধ্যাদেশে নেট-মিটারিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক নিজের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এরপরও বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকলে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী তার মূল্য পাওয়া যাবে। এছাড়া সরকার নেট-মিটারিংয়ে প্রণোদনা দিতে পারবে।

পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্রয়ে বিশেষ বিধান

সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে ক্যাপেক্স মডেলে সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা কেনার আর্থিক সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে না। যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডারদের জেলাভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবে। তবে গ্রাহক চাইলে উন্মুক্ত দরপত্রের (ওপেক্স) মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারবেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ওপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে ১৫ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের অংশ দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান ছিল না। একইভাবে ক্যাপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬’, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ এবং ‘বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮’-এ সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না। এসব ঘাটতি পূরণে নতুন অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করা হয়।

জাতীয় পলিসি কাউন্সিল, জেলা-উপজেলায় কমিটি

সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ও নীতিগত দিক-নির্দেশনার জন্য জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠন করার কথা বলা হয়েছে অধ্যাদেশে। এতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা থাকবেন। কাউন্সিল বিনিয়োগ, নেট-মিটারিং, প্রণোদনা ও ট্যারিফ কাঠামোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।

১৩ ধারায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ১৪ ধারা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে অন্য কাউকে অবৈধ সংযোগ দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে

জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সহায়তা, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব পালন করবে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) তাদের ওয়েবসাইটে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও সচলতা পর্যবেক্ষণ করবে।

গ্রাহক নিজের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন

গ্রাহক নিজের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন

চুরি, ক্ষতিসাধন ও বাধা দেওয়ার শাস্তি

অধ্যাদেশের ১২ ধারায় বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। চোরাই বলে জানা সত্ত্বেও যন্ত্রাংশ কেনা, বিক্রি বা নিজের হেফাজতে রাখলেও একই শাস্তি হবে।

১৩ ধারায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ১৪ ধারা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে অন্য কাউকে অবৈধ সংযোগ দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

১৫ ধারায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সংযোগ, পরিদর্শন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সার্ভিস প্রোভাইডারকে বাধা দেওয়ার শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

১৬ ধারা অনুযায়ী, এ অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা, ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনা দিয়ে অপরাধ সংঘটিত করালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত একই দণ্ড পাবেন।

প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার

অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হবে। এসব অপরাধ মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্ত হলে মোবাইল কোর্টেও বিচার করা যাবে। তদন্ত, তল্লাশি, জব্দ, গ্রেফতার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে অধ্যাদেশের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ না হলে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হবে।