ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাছের সংকটে অস্তিত্বের লড়াইয়ে ভাঙ্গুড়ার ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্প ইয়োহেই সাসাকাওয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী, ভ্যাকসিন উৎপাদন কারখানা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর গুরুত্বপূর্ণ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ জাইকার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সেই বই থেকে দাঁড়িপাল্লা বাদ, সংশোধিত পৃষ্ঠা চূড়ান্ত সোনালী ব্যাংকের এমডি বহাল, তিন ব্যাংকে নতুন নিয়োগ মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযান মালিকদের জন্য সুখবর ড় সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে নতুন কুঁড়ির ৪০ জন ফ্রান্স থেকে স্পেন : ইউরোপজুড়ে কেন আন্দোলনে নেমেছে জেন-জি

রঙ-রূপে অনন্য বসন্ত বাউরি

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ বসন্ত বাউরি। কেউ কেউ মনে করেন, বসন্তকালে বেশি দেখা যায় বলেই পাখিটির এমন নাম। রানীর মতো মাথায় টকটকে সিঁদুরে লাল মুকুটে ঋতুরাজ বসন্তে বেশি নজরে পড়ে। এ জন্য বসন্ত বাউরি নামটি তারই মানায়। রঙ-রূপে অনন্য সুন্দর এই পাখিটির ইংরেজি নাম-ঞযত্ড়ধঃবফ ইধত্নবঃ। মেগালাইমিদি গোত্রের এই পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম-গবমধষধরসধ ঐধবসধপবঢ়যধষধ। ঘন পাতার বড় গাছে বেশি বিচরণ এদের। ঘন পাতার আড়ালে থাকতে ভালোবাসলেও খাবারের অভাবে কখনও কখনও বাড়ির সফেদা, আতা, জামরুল, পেঁপে, জলপাই কিংবা গ্রামীণ মেঠোপথের পাশের খেজুর গাছে রসের হাঁড়িতেও দেখা মেলে বৃক্ষচারি এই পাখিটির। ২২-২৪ সেন্টিমিটার লম্বা এ পাখিটির কপাল ও বুক টকটকে লাল। এর মধ্যে আছে কালো ছোপ। চোখের দু’পাশে ও গলায় আসমানি সবুজে ঘেরা। শরীর ঘাসরঙা সবুজ। মুখাবয়ব কালচে। চোখ কালচে-ধাতব। শক্ত-মজবুদ ঠোঁট হলুদ-কালচে। ঠোঁটের গোড়ায় বিড়ালের গোঁফের মতো কয়েকটি শক্ত লোম আছে। লীলাভ-সবুজ প্রান্তের খাটো লেজ। পা হলদে-বাদামি। কিছুটা ছোট হলেও হঠাত্ টিয়ে পাখির মতো মনে হতে পারে। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির মধ্যে রঙ-রূপের পার্থক্য আছে। পুরুষ পাখিটি একটু বড়সড়। কপাল ও মাথায় টকটকে লাল রঙ নেই। মাথা, ঘাড়, গলা বাদামি ধূসর রঙের। পাখার নিচের পালক ধূসর-কালো। বনভূমি, বুনো ফল-ফলাদি কমে যাওয়ায় বাসস্থান, প্রজননে বাসা তৈরি, খাদ্য সঙ্কটে কমছে এই দৃষ্টিনন্দন বসন্ত বাউরি পাখির সংখ্যা। বট-পাকুড়ের মতো বুনো ফল-ফলাদি প্রধান খাদ্য। পেঁপে, পেয়ারা, জাম, আতা, সফেদা, খেজুরের রসেও আসক্তি এদের। খাবারের অভাবে পোকামাকড়ও খায়। কুট-উ-রুক স্বরে ডাকে। অনেক দূর থেকেও ডাক শোনা যায়। এদের গতি স্বাভাবিক। এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। অনেক সময় ছোট দল বেঁধেও থাকে। খুলনা বিভাগীয় মত্স্য বিশেষজ্ঞ ও বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দর দৃষ্টিনন্দন অবয়বের নরম ফলাহারী পাখি বসন্ত বাউরি। বসন্তে বেশি নজরে এলেও বছরের অন্য সময়েও এদেরকে কম-বেশি দেখা যায়। ভারতের হিমালয়ে এদের বেশি সংখ্যায় দেখা যায়। আমাদের দেশে পাঁচ-ছয় প্রজাতির বসন্ত বাউরি দেখা যায়। নিজেরা গর্ত করে না, তবে অন্যের ব্যবহূত খোড়ল কিংবা প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা গাছের কোঠরে বা ফোকরে ফেব্রুয়ারি-এপ্রিলে এরা বাসা বানায় এবং ৩-৪টি ডিম দেয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ১৫-১৬ দিন সময় নেয়। ২০-২২ দিনে বাচ্চারা ডানা মেলে আকাশে ওড়ে। বৈশ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তন, মানুষের রূঢ় আচরণে পরিবেশ-প্রকৃতির বিপর্যয় ও বনভূমি উজাড় হয়ে খাবারের সঙ্কটে কমে যাচ্ছে বসন্ত বাউরির মতো অপরূপা সুন্দর পাখিগুলো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মাছের সংকটে অস্তিত্বের লড়াইয়ে ভাঙ্গুড়ার ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্প

রঙ-রূপে অনন্য বসন্ত বাউরি

আপডেট টাইম : ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ বসন্ত বাউরি। কেউ কেউ মনে করেন, বসন্তকালে বেশি দেখা যায় বলেই পাখিটির এমন নাম। রানীর মতো মাথায় টকটকে সিঁদুরে লাল মুকুটে ঋতুরাজ বসন্তে বেশি নজরে পড়ে। এ জন্য বসন্ত বাউরি নামটি তারই মানায়। রঙ-রূপে অনন্য সুন্দর এই পাখিটির ইংরেজি নাম-ঞযত্ড়ধঃবফ ইধত্নবঃ। মেগালাইমিদি গোত্রের এই পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম-গবমধষধরসধ ঐধবসধপবঢ়যধষধ। ঘন পাতার বড় গাছে বেশি বিচরণ এদের। ঘন পাতার আড়ালে থাকতে ভালোবাসলেও খাবারের অভাবে কখনও কখনও বাড়ির সফেদা, আতা, জামরুল, পেঁপে, জলপাই কিংবা গ্রামীণ মেঠোপথের পাশের খেজুর গাছে রসের হাঁড়িতেও দেখা মেলে বৃক্ষচারি এই পাখিটির। ২২-২৪ সেন্টিমিটার লম্বা এ পাখিটির কপাল ও বুক টকটকে লাল। এর মধ্যে আছে কালো ছোপ। চোখের দু’পাশে ও গলায় আসমানি সবুজে ঘেরা। শরীর ঘাসরঙা সবুজ। মুখাবয়ব কালচে। চোখ কালচে-ধাতব। শক্ত-মজবুদ ঠোঁট হলুদ-কালচে। ঠোঁটের গোড়ায় বিড়ালের গোঁফের মতো কয়েকটি শক্ত লোম আছে। লীলাভ-সবুজ প্রান্তের খাটো লেজ। পা হলদে-বাদামি। কিছুটা ছোট হলেও হঠাত্ টিয়ে পাখির মতো মনে হতে পারে। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির মধ্যে রঙ-রূপের পার্থক্য আছে। পুরুষ পাখিটি একটু বড়সড়। কপাল ও মাথায় টকটকে লাল রঙ নেই। মাথা, ঘাড়, গলা বাদামি ধূসর রঙের। পাখার নিচের পালক ধূসর-কালো। বনভূমি, বুনো ফল-ফলাদি কমে যাওয়ায় বাসস্থান, প্রজননে বাসা তৈরি, খাদ্য সঙ্কটে কমছে এই দৃষ্টিনন্দন বসন্ত বাউরি পাখির সংখ্যা। বট-পাকুড়ের মতো বুনো ফল-ফলাদি প্রধান খাদ্য। পেঁপে, পেয়ারা, জাম, আতা, সফেদা, খেজুরের রসেও আসক্তি এদের। খাবারের অভাবে পোকামাকড়ও খায়। কুট-উ-রুক স্বরে ডাকে। অনেক দূর থেকেও ডাক শোনা যায়। এদের গতি স্বাভাবিক। এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। অনেক সময় ছোট দল বেঁধেও থাকে। খুলনা বিভাগীয় মত্স্য বিশেষজ্ঞ ও বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দর দৃষ্টিনন্দন অবয়বের নরম ফলাহারী পাখি বসন্ত বাউরি। বসন্তে বেশি নজরে এলেও বছরের অন্য সময়েও এদেরকে কম-বেশি দেখা যায়। ভারতের হিমালয়ে এদের বেশি সংখ্যায় দেখা যায়। আমাদের দেশে পাঁচ-ছয় প্রজাতির বসন্ত বাউরি দেখা যায়। নিজেরা গর্ত করে না, তবে অন্যের ব্যবহূত খোড়ল কিংবা প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা গাছের কোঠরে বা ফোকরে ফেব্রুয়ারি-এপ্রিলে এরা বাসা বানায় এবং ৩-৪টি ডিম দেয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ১৫-১৬ দিন সময় নেয়। ২০-২২ দিনে বাচ্চারা ডানা মেলে আকাশে ওড়ে। বৈশ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তন, মানুষের রূঢ় আচরণে পরিবেশ-প্রকৃতির বিপর্যয় ও বনভূমি উজাড় হয়ে খাবারের সঙ্কটে কমে যাচ্ছে বসন্ত বাউরির মতো অপরূপা সুন্দর পাখিগুলো।