ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

বৈশাখী সাজগোজ নিয়ে চলছে শেষমূহূর্তের ভাবনা

প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ চলে এসেছে। বাঙালির হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্যবাহী বৈশাখের আগমনকে ঘিরে সারা দেশে চলছে উৎসবের আমেজ। বৈশাখী সাজগোজ নিয়ে চলছে শেষমূহূর্তের ভাবনা। বাংলা বছরকে বরণ করার জন্য উৎসব, তাই সাজসজ্জায়ও থাকতে হবে বাঙালিয়ানা। আর তা যেন আপনার সাথে মানানসই হয় এবং আপনি সহজেই ক্যারি করতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে নিজের আরামের বিষয়টিও।

বৈশাখকে বরণ করে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে শহরের ফ্যাশন হাউজ এবং বিউটি পার্লারগুলো। দুই তিন দিন আগে থেকে ফেসিয়াল, স্কিন পলিশ, মেনিকিওর, পেডিকিওর করে নিলে ভালো। চুলের জন্য প্রোটিন প্যাক ব্যবহার করুন। এতে মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ফ্রেস দেখাবে আর চুল ও ঝলমল করবে।

আগের রাতেই সব প্রসাধনী সামগ্রী হাতের কাছে গুছিয়ে রাখতে হবে। তাহলে সকালে তৈরি হওয়ার সময় খুব ঝামেলায় পড়তে হবে না। যেহেতু বাইরে তীব্র গরম তাই ফাউন্ডেশন বা প্যান কেক যাই ব্যবহার করা হোক সেটা যেন ওয়াটার প্রুফ হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অবশ্যই মেইকআপের আগে সানস্ক্রিন লোশন ও সানস্ক্রিনযুক্ত পাউডার ব্যবহার করতে হবে।

মুখে, গলায়, ঘাড়ে, পিঠে ও হাতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বকের ক্ষতি কম হবে। আর সঙ্গে একটি রঙিন ছাতা, ছোটপাখা ও এক বোতল পানি রাখতে মোটেও ভুল করবেন না।

মেকআপ

সময়টাজুড়ে থাকবে বেশ গরম এবং কড়া রোদ। সবকিছু বিবেচনা করে এ দিনের সাজটা হওয়া চাই একেবারেই হালকা। কেননা দিনে কড়া আলোয় এ সময় মেকাপের খুঁত সহজেই ধরা পড়ে এবং অতিরঞ্জিত হলে দৃষ্টিকটু মনে হয়। তাই যতটা সম্ভব হালকা ও ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ ব্যবহার করবেন। এবং ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন এবং যত্নসহকারে ফিনিশিং দিন। গালের চিক বোনের উপর কিছুটা ব্লাশ লাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রেও ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে চোখে আইশ্যাডো লাগাতে হবে। চোখের মেকআপের ক্ষেত্রে ন্যাচারাল আইশেড ব্যবহার করুন। সেক্ষেত্রে ব্রাউন, ব্ল্যাক, গোল্ডেন, কপারের কম্বিনেশন ভালো লাগবে। মোটামুটি সব রঙের পোশাকের সাথেই মানিয়ে যাবে।
চোখ বুঝে লাইনার ব্যবহার করুন। আপনার চোখের ও সাজের ধরনই বলে দেবে কিভাবে লাইনার ব্যবহার করে আপনার চোখকে আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।
আপার ও লোয়ার ল্যাশে দিন ঘন মাশকারার প্রলেপ। বাঙালিয়ানা সাজে চোখের লাইনার কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রাতের সাজে চোখে গাঢ় মেইকআপ বেশি মানানসই।

পোশাকের রংয়ে বা সম্পূর্ণ ভিন্ন রং কন্ট্রাস্ট আই শ্যাডোর সঙ্গে নীল, সবুজ, সোনালি বা রূপালি যে কোনো রংয়ের আইলাইনার ব্যবহার করা যেতে পারে। পাপড়িতে ঘন করে কয়েক কোট মাশকারা লাগিয়ে নেওয়া যাবে।

চোখের মেইকআপ গাঢ় হলে ন্যাচারাল, বাদামি, পিচ অথবা গোলাপি রংয়ের লিপস্টিক লাগালে ভালো লাগবে। আপনার পছন্দের লিপকালার লাগান তবে গ্লসি ও পার্লি লিপস্টিক এড়িয়ে চলাই ভালো। ক্রিম, ম্যাট লিপস্টিকই মানানসই হবে এই দিনের সাজের ক্ষেত্রে।

চুলের সাজ

কীভাবে বৈশাখে সাজাতে চান আপনার চুল। সাধারণত বৈশাখের সকাল বেলায় প্রখর রোদ থাকে। সারাদিন সবার সঙ্গে আনন্দে মেতে থাকা আর ঘোরাঘুরি করতে হয়। তাই যেমনই সাজ হোক না কেন তা যেন হয় আরামদায়ক। যাদের চুল বড় এবং বেঁধে রাখতে পছন্দ করেন, তারা খোপা করে নিতে পারেন।

শাড়ি বা সালওয়ার কামিজ যাই পরুন না কেন, চুলে খোঁপা বা বেণী দুটোই ভালো মানায়। খোপায় পরার জন্য তাজা যেকোনো ফুলই সুন্দর লাগবে। তবে গাজরার মালা তার বেশি ভালো লাগে। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে একই রঙের বা বিপরীত রঙের যেকোনো ফুলই তিনি খোপায় সাজিয়ে নেন। যেমন সাদা শাড়ির সঙ্গে লাল ফুল। লালের সঙ্গে সাদা ফুল। সবুজ, গোলাপি, হলুদ অন্যান্য যেকোনো রঙের শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে যায় তেমন ফুলটিই বেছে নেন তিনি। তবে বড় ফুল ব্যবহার করতে পারেন পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে। তবে সাদা রঙের ফুল যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই মানানসই।

মানানসই কাটে মাঝারি বা ছোট চুল ছেড়ে দিলেও ভালো মানায়। উৎসবের দিন সেটাকে আয়রন করে একপাশে রেখে দিতে পারেন। ছোট্ট কোনো ব্যান্ড দিয়েও হাল্কা হাতে একটু অগোছালো করে আঁটকে নিতে পারেন।

লাল ঠোঁটে, লাল টিপের সঙ্গে লাল রঙ্গন, গোলাপ, জবা, পরলে ভালো লাগবে। সেই সঙ্গে চুলে করে নিতে পারেন হাত খোপা, বেনি খোপা, উঁচু খোপা, গোল খোপা, পনিটেইল, খেজুর বেনি, ফ্রেঞ্চরোল ইত্যাদি। অনেকগুলো ফুল বাজারে কিনতে পাওয়া না গেলেও নিজ বাগানে অথবা আশপাশের বাড়িতে পাওয়া যায়।

গহনা

শাড়ির সঙ্গে গহনা না হলে কি চলে? সেক্ষেত্রে মাটির গহনা বেছে নেয়া ভালো। মাটির মালা হতে হবে লম্বা। আবার কাঠ, রূপা, মুক্তা বা তামার মালা পরতে পারেন। ভারি গহনা পরতে না চাইলে ফুলের মালা বেছে নিন।

চুড়ি

বাঙালি নারীর হাত ভর্তি চুড়ি তো থাকতেই হবে! গয়না না পরলেও দুহাত ভর্তি চুড়ি সাজ পূর্ণ করে দেয়। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে রেশমি চুড়ি পরতে পারেন। মাটির বা কাঠের চুড়িও কিন্তু বেশ মানিয়ে যায়। পোশাকের রঙের প্রাধান্য যেটাই থাকুক না কেন, হাতে থাকা চাই রেশমি চুড়ি।

টিপ

টিপটা কেন বাকি থাকবে। যেহেতু বৈশাখ তাই গোল টিপের পাশাপাশি তুলি দিয়ে একে নিতে পারেন হালকা ডিজাইনের মানানসই টিপ। যত ফ্যাশনই থাকুক না কেন বৈশাখে বাঙালিরা নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ করে ঘরোয়া সাজে। ফুটিয়ে তুলে নিজেদের ঐতিহ্য।

ব্যাগ-জুতা ও অন্যান্য

শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্যাগ নির্বাচন করুন। কালো আর লাল কালার ব্যাগ মানিয়ে যায় সব রঙের শাড়ির সঙ্গে। মাঝারি সাইজের ব্যাগ ব্যবহার করুন। গরমের জন্য টুকটাক প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যাগে রাখবেন; ছোটপানির বোতল, হাল্কা মেকআপ, রুমাল এইসব। তবে ব্যাগ যেন বেশি ভারি না হয়।

অনেকেই হিল পরে হাঁটতে পারেন না, আর এই উৎসবে হাঁটতে তো হয়ই। তাই স্লিপার পরাই ভালো।

সারা বছরে এই পয়লা বৈশাখ একবারই পাওয়া যায়, এজন্য এর পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া দরকার। তাই দু’দিন আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছু, নিজস্ব স্টাইলে সাজুন আর আরামদায়কভাবে উৎসবটি উপভোগ করুন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

বৈশাখী সাজগোজ নিয়ে চলছে শেষমূহূর্তের ভাবনা

আপডেট টাইম : ০৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৬

প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ চলে এসেছে। বাঙালির হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্যবাহী বৈশাখের আগমনকে ঘিরে সারা দেশে চলছে উৎসবের আমেজ। বৈশাখী সাজগোজ নিয়ে চলছে শেষমূহূর্তের ভাবনা। বাংলা বছরকে বরণ করার জন্য উৎসব, তাই সাজসজ্জায়ও থাকতে হবে বাঙালিয়ানা। আর তা যেন আপনার সাথে মানানসই হয় এবং আপনি সহজেই ক্যারি করতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে নিজের আরামের বিষয়টিও।

বৈশাখকে বরণ করে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে শহরের ফ্যাশন হাউজ এবং বিউটি পার্লারগুলো। দুই তিন দিন আগে থেকে ফেসিয়াল, স্কিন পলিশ, মেনিকিওর, পেডিকিওর করে নিলে ভালো। চুলের জন্য প্রোটিন প্যাক ব্যবহার করুন। এতে মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ফ্রেস দেখাবে আর চুল ও ঝলমল করবে।

আগের রাতেই সব প্রসাধনী সামগ্রী হাতের কাছে গুছিয়ে রাখতে হবে। তাহলে সকালে তৈরি হওয়ার সময় খুব ঝামেলায় পড়তে হবে না। যেহেতু বাইরে তীব্র গরম তাই ফাউন্ডেশন বা প্যান কেক যাই ব্যবহার করা হোক সেটা যেন ওয়াটার প্রুফ হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অবশ্যই মেইকআপের আগে সানস্ক্রিন লোশন ও সানস্ক্রিনযুক্ত পাউডার ব্যবহার করতে হবে।

মুখে, গলায়, ঘাড়ে, পিঠে ও হাতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বকের ক্ষতি কম হবে। আর সঙ্গে একটি রঙিন ছাতা, ছোটপাখা ও এক বোতল পানি রাখতে মোটেও ভুল করবেন না।

মেকআপ

সময়টাজুড়ে থাকবে বেশ গরম এবং কড়া রোদ। সবকিছু বিবেচনা করে এ দিনের সাজটা হওয়া চাই একেবারেই হালকা। কেননা দিনে কড়া আলোয় এ সময় মেকাপের খুঁত সহজেই ধরা পড়ে এবং অতিরঞ্জিত হলে দৃষ্টিকটু মনে হয়। তাই যতটা সম্ভব হালকা ও ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ ব্যবহার করবেন। এবং ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন এবং যত্নসহকারে ফিনিশিং দিন। গালের চিক বোনের উপর কিছুটা ব্লাশ লাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রেও ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে চোখে আইশ্যাডো লাগাতে হবে। চোখের মেকআপের ক্ষেত্রে ন্যাচারাল আইশেড ব্যবহার করুন। সেক্ষেত্রে ব্রাউন, ব্ল্যাক, গোল্ডেন, কপারের কম্বিনেশন ভালো লাগবে। মোটামুটি সব রঙের পোশাকের সাথেই মানিয়ে যাবে।
চোখ বুঝে লাইনার ব্যবহার করুন। আপনার চোখের ও সাজের ধরনই বলে দেবে কিভাবে লাইনার ব্যবহার করে আপনার চোখকে আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।
আপার ও লোয়ার ল্যাশে দিন ঘন মাশকারার প্রলেপ। বাঙালিয়ানা সাজে চোখের লাইনার কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রাতের সাজে চোখে গাঢ় মেইকআপ বেশি মানানসই।

পোশাকের রংয়ে বা সম্পূর্ণ ভিন্ন রং কন্ট্রাস্ট আই শ্যাডোর সঙ্গে নীল, সবুজ, সোনালি বা রূপালি যে কোনো রংয়ের আইলাইনার ব্যবহার করা যেতে পারে। পাপড়িতে ঘন করে কয়েক কোট মাশকারা লাগিয়ে নেওয়া যাবে।

চোখের মেইকআপ গাঢ় হলে ন্যাচারাল, বাদামি, পিচ অথবা গোলাপি রংয়ের লিপস্টিক লাগালে ভালো লাগবে। আপনার পছন্দের লিপকালার লাগান তবে গ্লসি ও পার্লি লিপস্টিক এড়িয়ে চলাই ভালো। ক্রিম, ম্যাট লিপস্টিকই মানানসই হবে এই দিনের সাজের ক্ষেত্রে।

চুলের সাজ

কীভাবে বৈশাখে সাজাতে চান আপনার চুল। সাধারণত বৈশাখের সকাল বেলায় প্রখর রোদ থাকে। সারাদিন সবার সঙ্গে আনন্দে মেতে থাকা আর ঘোরাঘুরি করতে হয়। তাই যেমনই সাজ হোক না কেন তা যেন হয় আরামদায়ক। যাদের চুল বড় এবং বেঁধে রাখতে পছন্দ করেন, তারা খোপা করে নিতে পারেন।

শাড়ি বা সালওয়ার কামিজ যাই পরুন না কেন, চুলে খোঁপা বা বেণী দুটোই ভালো মানায়। খোপায় পরার জন্য তাজা যেকোনো ফুলই সুন্দর লাগবে। তবে গাজরার মালা তার বেশি ভালো লাগে। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে একই রঙের বা বিপরীত রঙের যেকোনো ফুলই তিনি খোপায় সাজিয়ে নেন। যেমন সাদা শাড়ির সঙ্গে লাল ফুল। লালের সঙ্গে সাদা ফুল। সবুজ, গোলাপি, হলুদ অন্যান্য যেকোনো রঙের শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে যায় তেমন ফুলটিই বেছে নেন তিনি। তবে বড় ফুল ব্যবহার করতে পারেন পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে। তবে সাদা রঙের ফুল যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই মানানসই।

মানানসই কাটে মাঝারি বা ছোট চুল ছেড়ে দিলেও ভালো মানায়। উৎসবের দিন সেটাকে আয়রন করে একপাশে রেখে দিতে পারেন। ছোট্ট কোনো ব্যান্ড দিয়েও হাল্কা হাতে একটু অগোছালো করে আঁটকে নিতে পারেন।

লাল ঠোঁটে, লাল টিপের সঙ্গে লাল রঙ্গন, গোলাপ, জবা, পরলে ভালো লাগবে। সেই সঙ্গে চুলে করে নিতে পারেন হাত খোপা, বেনি খোপা, উঁচু খোপা, গোল খোপা, পনিটেইল, খেজুর বেনি, ফ্রেঞ্চরোল ইত্যাদি। অনেকগুলো ফুল বাজারে কিনতে পাওয়া না গেলেও নিজ বাগানে অথবা আশপাশের বাড়িতে পাওয়া যায়।

গহনা

শাড়ির সঙ্গে গহনা না হলে কি চলে? সেক্ষেত্রে মাটির গহনা বেছে নেয়া ভালো। মাটির মালা হতে হবে লম্বা। আবার কাঠ, রূপা, মুক্তা বা তামার মালা পরতে পারেন। ভারি গহনা পরতে না চাইলে ফুলের মালা বেছে নিন।

চুড়ি

বাঙালি নারীর হাত ভর্তি চুড়ি তো থাকতেই হবে! গয়না না পরলেও দুহাত ভর্তি চুড়ি সাজ পূর্ণ করে দেয়। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে রেশমি চুড়ি পরতে পারেন। মাটির বা কাঠের চুড়িও কিন্তু বেশ মানিয়ে যায়। পোশাকের রঙের প্রাধান্য যেটাই থাকুক না কেন, হাতে থাকা চাই রেশমি চুড়ি।

টিপ

টিপটা কেন বাকি থাকবে। যেহেতু বৈশাখ তাই গোল টিপের পাশাপাশি তুলি দিয়ে একে নিতে পারেন হালকা ডিজাইনের মানানসই টিপ। যত ফ্যাশনই থাকুক না কেন বৈশাখে বাঙালিরা নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ করে ঘরোয়া সাজে। ফুটিয়ে তুলে নিজেদের ঐতিহ্য।

ব্যাগ-জুতা ও অন্যান্য

শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্যাগ নির্বাচন করুন। কালো আর লাল কালার ব্যাগ মানিয়ে যায় সব রঙের শাড়ির সঙ্গে। মাঝারি সাইজের ব্যাগ ব্যবহার করুন। গরমের জন্য টুকটাক প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যাগে রাখবেন; ছোটপানির বোতল, হাল্কা মেকআপ, রুমাল এইসব। তবে ব্যাগ যেন বেশি ভারি না হয়।

অনেকেই হিল পরে হাঁটতে পারেন না, আর এই উৎসবে হাঁটতে তো হয়ই। তাই স্লিপার পরাই ভালো।

সারা বছরে এই পয়লা বৈশাখ একবারই পাওয়া যায়, এজন্য এর পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া দরকার। তাই দু’দিন আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছু, নিজস্ব স্টাইলে সাজুন আর আরামদায়কভাবে উৎসবটি উপভোগ করুন।