ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

নতুন নতুন কোম্পানি এক সহদফতর সম্পাদকের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন বাণিজ্যে ব্যস্ত চেয়ারপারসন অফিস

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান অফিসের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। গত কয়েক বছরে তারা গড়ে তুলেছেন নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নিয়েছেন জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন। খুলেছেন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট। লেনদেনও চলছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও সবকিছু জানেন। কিন্তু ক্ষমতার দাপটের মুখে কারোরই কিছু বলার নেই। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে এক নেতা বলেন, ‘সারা দেশের নেতা-কর্মীরা যখন হামলা-মামলায় জর্জরিত তখন চেয়ারপারসন অফিসের কর্মচারীরা ব্যস্ত নতুন নতুন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে। ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত অন্য রাজনৈতিক নেতারাও তাদের উৎসাহ জোগাচ্ছেন।’ জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসের বিশ্বস্ত অফিস সহকারী মাসুদ। পুরো নাম মাসুদার রহমান। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ৫ কোম্পানি। জয়েন্ট স্টকে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলো হচ্ছে— রমা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, অ্যাকটিভ ট্রেডিং, রমা প্যাকেজিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেড, রমা অটো রাইস মিলস লিমিটেড। মাসুদের অন্য সহযোগীরা হলেন— ১. মো. এনামুল হক, পিতা-মৃত আকবর আলী। তার বাসা ধানমন্ডি ১নং সড়কে। (২). মীর শাহ আলম, পিতা-মৃত মীর মোস্তাফিজুর রহমান। তার ঠিকানা তেজগাঁও। (৩) এস এম ওবায়দুল্লাহ, পিতা মৃত মোন্তাজ আলী সরকার। তার ঠিকানা এলিফ্যান্ট রোড দেখানো হয়েছে। এই গ্রুপের আরেকজন পরিচালক হলেন— রুহুল আমিন, পিতা-দলিল উদ্দিন। তার ঠিকানাও ধানমন্ডি এক নম্বর সড়কের এনামুল হকের দেখানো একই বাড়ির পঞ্চম তলায়। জানা গেছে, এই গ্রুপের একজন চেয়ারপারসন কার্যালয়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তার দুই ভাই। একজন সহোদর, অপরজন চাচাতো। তবে তাদের ব্যবসা করা প্রসঙ্গে বিএনপির একজন নেতা বলেন, যে কারও ব্যবসা করার অধিকার রয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই। তবে অনেকের মতে, এই মুহূর্তে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মচারীরা ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়ালে সরকার তাদের অপব্যবহার করতে পারে। যা সার্বিকভাবে বিএনপির রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ২০১৩ ও ২০১৪ সালে খোলা বেশ কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে— প্রাইম ব্যাংক ধানমন্ডি শাখা, পূবালী ব্যাংকের সাইন্স ল্যাব শাখা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বগুড়া শাখা। রমা ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত হচ্ছে প্রাইম ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্ট নং-১৪৬১১০১০০১৯৮৫২ তে এবং পূবালী ব্যাংকের গুলশান মডেল টাউন ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্ট নং-০৫৬৫৯০১০২৬৪৮৯ এর মাধ্যমে। অ্যাকটিভ ট্রেডিং চলছে প্রাইম ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের ১৪৬১১৩০০১৭০৮৪, ইউসিবির বগুড়া শাখার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০০০৭১১১০০০৩১৭১০ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নং-০১-১১৬৯৩১৪০১ এর মাধ্যমে। ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে- ধানমন্ডি-১ এর ৫১৯-নং বাড়ি, গুলশান-২ এর কালাচাঁদপুরের ক-৭১ নং হোল্ডিং এবং বগুড়ার শিবগঞ্জের হুদা বালা গ্রাম।

প্রাপ্ত দলিলাদিতে দেখা যায়, ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টারে গড়ে তোলা আমদানি-রপ্তানি-প্যাকেজিং ও গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাকটিভ  ট্রেডিং’-এর মালিকানার শেয়ার যথাক্রমে- মাসুদুর রহমান ৩০%, ওবায়দুল্লাহ ২৫%, এনামুল হক ৩০% এবং রুহুল আমিন ১৫%। রমা প্যাকেজিংয়ে মাসুদ চেয়ারম্যান এবং পরিচালক হিসেবে এনামুল, রুহুল আমিন, ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে আছেন শাহে আলম ও রবিউল হক। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানার ঠিকানা মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকে ও পরিচালক রবিউল হকের ঠিকানা উত্তরা। তাদের প্রত্যেকেই চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। নিরাপত্তার কাজেও নিয়োজিত কেউ কেউ। রমা রাইস মিলেরও চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন মাসুদ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাহে আলম। পরিচালক- এনামুল, ওবায়দুল্লাহ ও রুহুল আমিন। রমা ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মাসুদ এবং এমডি ওবায়দুল্লাহ। এখানে দুই পরিচালক হলেন— এনামুল ও রুহুল আমিন। এই রমা ইন্টারন্যাশনালের প্রাইম ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্টে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার লেনদেনও দেখা গেছে। পূবালী ব্যাংকের গুলশান মডেল টাউন ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্টেও একই ধরনের লেনদেন আছে। এসব পরিচালকের মধ্যে কয়েকজন আগে রিকশায় চড়তে পারতেন না, তারা এখন ভক্সি গাড়ি কিনেছেন।এ ব্যাপারে মাসুদার রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে গতকাল রাতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরপর কোম্পানিগুলোর নাম উল্লেখ করে এগুলো তার মালিকানার কিনা জানতে চাইলে মাসুদ ফোন কেটে দেন। পরে একাধিক দফায় চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সহ-দফতর সম্পাদকের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন : বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু পরিচালিত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মার্কেন্টাইলের বিজয়নগর ব্রাঞ্চে মেসার্স টি ইন্টারন্যাশনালের নামে খোলা এই অ্যাকাউন্টে গত ৫ এপ্রিল ২০১৫ থেকে চলতি এপ্রিলের ৫ তারিখ পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি টাকার লেনদেন করেছেন তিনি। গত বছরের ১৮ মে গুরুত্বপূর্ণ সহ-দফতর সম্পাদক হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা টিপুর ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায়, পাবনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৩ টাকা জমা হয়েছে। তুলে নেওয়া হয়েছে চার কোটি ৩৭ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২ টাকা। সব টাকা অনলাইনে ওই হিসাব নম্বরে জমা হয়েছে। সর্বশেষ মার্চের ১৬ তারিখের পর থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ বার লেনদেন হয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, এই টাকা পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন বাণিজ্যের। তবে তাইফুলের দাবি, এটি পুরোপুরিই তার ব্যবসার লেনদেনের টাকা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

নতুন নতুন কোম্পানি এক সহদফতর সম্পাদকের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন বাণিজ্যে ব্যস্ত চেয়ারপারসন অফিস

আপডেট টাইম : ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৬

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান অফিসের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। গত কয়েক বছরে তারা গড়ে তুলেছেন নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নিয়েছেন জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন। খুলেছেন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট। লেনদেনও চলছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও সবকিছু জানেন। কিন্তু ক্ষমতার দাপটের মুখে কারোরই কিছু বলার নেই। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে এক নেতা বলেন, ‘সারা দেশের নেতা-কর্মীরা যখন হামলা-মামলায় জর্জরিত তখন চেয়ারপারসন অফিসের কর্মচারীরা ব্যস্ত নতুন নতুন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে। ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত অন্য রাজনৈতিক নেতারাও তাদের উৎসাহ জোগাচ্ছেন।’ জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসের বিশ্বস্ত অফিস সহকারী মাসুদ। পুরো নাম মাসুদার রহমান। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ৫ কোম্পানি। জয়েন্ট স্টকে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলো হচ্ছে— রমা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, অ্যাকটিভ ট্রেডিং, রমা প্যাকেজিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেড, রমা অটো রাইস মিলস লিমিটেড। মাসুদের অন্য সহযোগীরা হলেন— ১. মো. এনামুল হক, পিতা-মৃত আকবর আলী। তার বাসা ধানমন্ডি ১নং সড়কে। (২). মীর শাহ আলম, পিতা-মৃত মীর মোস্তাফিজুর রহমান। তার ঠিকানা তেজগাঁও। (৩) এস এম ওবায়দুল্লাহ, পিতা মৃত মোন্তাজ আলী সরকার। তার ঠিকানা এলিফ্যান্ট রোড দেখানো হয়েছে। এই গ্রুপের আরেকজন পরিচালক হলেন— রুহুল আমিন, পিতা-দলিল উদ্দিন। তার ঠিকানাও ধানমন্ডি এক নম্বর সড়কের এনামুল হকের দেখানো একই বাড়ির পঞ্চম তলায়। জানা গেছে, এই গ্রুপের একজন চেয়ারপারসন কার্যালয়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তার দুই ভাই। একজন সহোদর, অপরজন চাচাতো। তবে তাদের ব্যবসা করা প্রসঙ্গে বিএনপির একজন নেতা বলেন, যে কারও ব্যবসা করার অধিকার রয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই। তবে অনেকের মতে, এই মুহূর্তে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মচারীরা ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়ালে সরকার তাদের অপব্যবহার করতে পারে। যা সার্বিকভাবে বিএনপির রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ২০১৩ ও ২০১৪ সালে খোলা বেশ কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে— প্রাইম ব্যাংক ধানমন্ডি শাখা, পূবালী ব্যাংকের সাইন্স ল্যাব শাখা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বগুড়া শাখা। রমা ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত হচ্ছে প্রাইম ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্ট নং-১৪৬১১০১০০১৯৮৫২ তে এবং পূবালী ব্যাংকের গুলশান মডেল টাউন ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্ট নং-০৫৬৫৯০১০২৬৪৮৯ এর মাধ্যমে। অ্যাকটিভ ট্রেডিং চলছে প্রাইম ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের ১৪৬১১৩০০১৭০৮৪, ইউসিবির বগুড়া শাখার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০০০৭১১১০০০৩১৭১০ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নং-০১-১১৬৯৩১৪০১ এর মাধ্যমে। ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে- ধানমন্ডি-১ এর ৫১৯-নং বাড়ি, গুলশান-২ এর কালাচাঁদপুরের ক-৭১ নং হোল্ডিং এবং বগুড়ার শিবগঞ্জের হুদা বালা গ্রাম।

প্রাপ্ত দলিলাদিতে দেখা যায়, ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টারে গড়ে তোলা আমদানি-রপ্তানি-প্যাকেজিং ও গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাকটিভ  ট্রেডিং’-এর মালিকানার শেয়ার যথাক্রমে- মাসুদুর রহমান ৩০%, ওবায়দুল্লাহ ২৫%, এনামুল হক ৩০% এবং রুহুল আমিন ১৫%। রমা প্যাকেজিংয়ে মাসুদ চেয়ারম্যান এবং পরিচালক হিসেবে এনামুল, রুহুল আমিন, ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে আছেন শাহে আলম ও রবিউল হক। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানার ঠিকানা মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকে ও পরিচালক রবিউল হকের ঠিকানা উত্তরা। তাদের প্রত্যেকেই চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। নিরাপত্তার কাজেও নিয়োজিত কেউ কেউ। রমা রাইস মিলেরও চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন মাসুদ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাহে আলম। পরিচালক- এনামুল, ওবায়দুল্লাহ ও রুহুল আমিন। রমা ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মাসুদ এবং এমডি ওবায়দুল্লাহ। এখানে দুই পরিচালক হলেন— এনামুল ও রুহুল আমিন। এই রমা ইন্টারন্যাশনালের প্রাইম ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্টে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার লেনদেনও দেখা গেছে। পূবালী ব্যাংকের গুলশান মডেল টাউন ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্টেও একই ধরনের লেনদেন আছে। এসব পরিচালকের মধ্যে কয়েকজন আগে রিকশায় চড়তে পারতেন না, তারা এখন ভক্সি গাড়ি কিনেছেন।এ ব্যাপারে মাসুদার রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে গতকাল রাতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরপর কোম্পানিগুলোর নাম উল্লেখ করে এগুলো তার মালিকানার কিনা জানতে চাইলে মাসুদ ফোন কেটে দেন। পরে একাধিক দফায় চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সহ-দফতর সম্পাদকের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন : বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু পরিচালিত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মার্কেন্টাইলের বিজয়নগর ব্রাঞ্চে মেসার্স টি ইন্টারন্যাশনালের নামে খোলা এই অ্যাকাউন্টে গত ৫ এপ্রিল ২০১৫ থেকে চলতি এপ্রিলের ৫ তারিখ পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি টাকার লেনদেন করেছেন তিনি। গত বছরের ১৮ মে গুরুত্বপূর্ণ সহ-দফতর সম্পাদক হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা টিপুর ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায়, পাবনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৩ টাকা জমা হয়েছে। তুলে নেওয়া হয়েছে চার কোটি ৩৭ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২ টাকা। সব টাকা অনলাইনে ওই হিসাব নম্বরে জমা হয়েছে। সর্বশেষ মার্চের ১৬ তারিখের পর থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ বার লেনদেন হয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, এই টাকা পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন বাণিজ্যের। তবে তাইফুলের দাবি, এটি পুরোপুরিই তার ব্যবসার লেনদেনের টাকা।