ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা লং মার্চ বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান শাহবাজ শরীফের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার : এলজিআরডি মন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এক বছরের মধ্যে লক্ষ্য ৫ হাজার মেগাওয়াট ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারে দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক শিক্ষার্থীরাই যার সন্তান, কল্যাণী তাদের স্বপ্নসারথি ভিকির পুলসিরাতে মেহজাবীন এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে বুধবার চুক্তি সই শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব

বিচার বিভাগ কোনো দিনই পিছপা হবে না : বিচারপতি

দেশের ক্রান্তিকালে বিচার বিভাগ পিছপা হয়নি’ এবং বিচার বিভাগ কোনো দিনই পিছপা হবে না বলে মন্ত্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আজ সোমবার প্রথমবারের মতো বিচার বিভাগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জেল জুলুম, ছেলে-মেয়ে, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে ছেড়ে এতো আত্মত্যাগের পরও জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে কিছু বিপথগামী সৈন্য এ রকম হত্যা করতে পারে! যাই হোক, শুধু তাকেই হত্যা করা হলো না, হত্যাকারী যারা তাদেরকে রক্ষার জন্য তৎকালীন সরকার ইনডেমিনিটি অর্ডিনেন্স জারি করেছিলো। এবং তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছিলো।

এরপরে এই বিচার বিভাগ-তখনকার বিচার বিভাগকে অনেকে সমালোচনা করে। যে স্বৈরশাসক সরকার ইয়ে (নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা) করেছিলো, আমাদের সিনিয়র জাজেস ছিলেন, তারা কিন্তু পিছপা হননি, এই কালো আইন বাতিল করলেন। সরকার যখন (ইনডেমিনিট)বাতিল করলো, তখন উচ্চ আদালত পর্যন্ত এটা বহাল করলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ইনডেমিনিট অধ্যাদেশ বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে যাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিলো, সেই ঘটনায় বিচারের পথ খুলে গেলো। এখানে খেয়াল করবেন, সাক্ষী ছিলেন না, কতো কষ্ট করে আমাদের একজন জেলা জজ মরহুম কাজী গোলাম রসুল এই তখনকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রায় দিলেন। এরপরে হাইকোর্টে ডেথ কনফারমেশনের জন্য প্রতিকূলতা ছিলো।

এটা আমি আর বলতে চাচ্ছি না। এটার ডেট ফিক্সড করা, বেঞ্চ গঠন করা এটা একটা নাটক ছিলো। একটা ঘটনা নিয়ে জাজেস লাউঞ্জে কনফাইন ছিলাম, আমাদের সাবেক প্রধান বিচারপতি উনি এদিকে কর্ণপাত করেননি। উনি জাজেস লাউঞ্জের পেছনের দরজা দিয়ে আমাদের ব্রাদার জাজেস একজন একজন করে মতামত নিচ্ছেন। কেউ রাজি ছিলেন, কেউ রাজি ছিলেন না, এটা নাটকের ইয়ে ছিলো। বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা এ ঘটনার সাক্ষী ছিলেন। এরপর বিচার সম্পন্ন হলো। আমি সৌভাগ্যবান, বিচার প্রক্রিয়ার আমি একজন মেম্বার ছিলাম।

রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‌বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় যে একটা অঙ্গ হিসেবে অনেকে স্বীকৃতি দিতে পিছপা হতেন। আমরা কোনো দিনই এটা প্রকাশ করিনি। আমি মনে করি, প্রশাসন, জাতীয় সংসদ তার পাশাপাশি বিচার বিভাগ যে একটা অঙ্গ সেটাকে প্রকাশ করার আমরা কি করেছি সেটা আমাদের প্রকাশ করা কর্তব্য।

আজকে আপনারা খেয়াল করবেন, বিচার বিভাগ শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা না, আমরা জেল হত্যা মামলারও রায় দিয়েছি। ৮ম, ৫ম, ১৩তম সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছি। শেষ পযন্ত ১৬তম সংশোধনী যেটা বিচারাধীন আছে সেটা নিয়ে কথা বলবো না।

রক্তদান কর্মসূচি শেষে বৃক্ষরোপন করেন প্রধান বিচারপতি। রক্তদান কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা

বিচার বিভাগ কোনো দিনই পিছপা হবে না : বিচারপতি

আপডেট টাইম : ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৬

দেশের ক্রান্তিকালে বিচার বিভাগ পিছপা হয়নি’ এবং বিচার বিভাগ কোনো দিনই পিছপা হবে না বলে মন্ত্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আজ সোমবার প্রথমবারের মতো বিচার বিভাগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জেল জুলুম, ছেলে-মেয়ে, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে ছেড়ে এতো আত্মত্যাগের পরও জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে কিছু বিপথগামী সৈন্য এ রকম হত্যা করতে পারে! যাই হোক, শুধু তাকেই হত্যা করা হলো না, হত্যাকারী যারা তাদেরকে রক্ষার জন্য তৎকালীন সরকার ইনডেমিনিটি অর্ডিনেন্স জারি করেছিলো। এবং তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছিলো।

এরপরে এই বিচার বিভাগ-তখনকার বিচার বিভাগকে অনেকে সমালোচনা করে। যে স্বৈরশাসক সরকার ইয়ে (নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা) করেছিলো, আমাদের সিনিয়র জাজেস ছিলেন, তারা কিন্তু পিছপা হননি, এই কালো আইন বাতিল করলেন। সরকার যখন (ইনডেমিনিট)বাতিল করলো, তখন উচ্চ আদালত পর্যন্ত এটা বহাল করলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ইনডেমিনিট অধ্যাদেশ বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে যাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিলো, সেই ঘটনায় বিচারের পথ খুলে গেলো। এখানে খেয়াল করবেন, সাক্ষী ছিলেন না, কতো কষ্ট করে আমাদের একজন জেলা জজ মরহুম কাজী গোলাম রসুল এই তখনকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রায় দিলেন। এরপরে হাইকোর্টে ডেথ কনফারমেশনের জন্য প্রতিকূলতা ছিলো।

এটা আমি আর বলতে চাচ্ছি না। এটার ডেট ফিক্সড করা, বেঞ্চ গঠন করা এটা একটা নাটক ছিলো। একটা ঘটনা নিয়ে জাজেস লাউঞ্জে কনফাইন ছিলাম, আমাদের সাবেক প্রধান বিচারপতি উনি এদিকে কর্ণপাত করেননি। উনি জাজেস লাউঞ্জের পেছনের দরজা দিয়ে আমাদের ব্রাদার জাজেস একজন একজন করে মতামত নিচ্ছেন। কেউ রাজি ছিলেন, কেউ রাজি ছিলেন না, এটা নাটকের ইয়ে ছিলো। বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা এ ঘটনার সাক্ষী ছিলেন। এরপর বিচার সম্পন্ন হলো। আমি সৌভাগ্যবান, বিচার প্রক্রিয়ার আমি একজন মেম্বার ছিলাম।

রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‌বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় যে একটা অঙ্গ হিসেবে অনেকে স্বীকৃতি দিতে পিছপা হতেন। আমরা কোনো দিনই এটা প্রকাশ করিনি। আমি মনে করি, প্রশাসন, জাতীয় সংসদ তার পাশাপাশি বিচার বিভাগ যে একটা অঙ্গ সেটাকে প্রকাশ করার আমরা কি করেছি সেটা আমাদের প্রকাশ করা কর্তব্য।

আজকে আপনারা খেয়াল করবেন, বিচার বিভাগ শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা না, আমরা জেল হত্যা মামলারও রায় দিয়েছি। ৮ম, ৫ম, ১৩তম সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছি। শেষ পযন্ত ১৬তম সংশোধনী যেটা বিচারাধীন আছে সেটা নিয়ে কথা বলবো না।

রক্তদান কর্মসূচি শেষে বৃক্ষরোপন করেন প্রধান বিচারপতি। রক্তদান কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।