ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস মালয়েশিয়ার সরকারের সাহসী সিদ্ধান্ত, দরকার প্রশাসন ঢেলে সাজানো সিটি করপোরেশনের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার ‘অনলাইন এডিটরস ফোরাম’ গঠন : আহ্বায়ক পিন্টু, সদস্যসচিব ইফতেখার বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক: যুদ্ধের নতুন ইঙ্গিত নাকি শান্তির বার্তা সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দাবি ইসলামী আন্দোলনের শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নে নতুন নীতিমালা বিতর্কের মাঝে বিউটি রানী পালের পাশে দাঁড়ালেন আসিফ আকবর ‘এটা নিয়ে কোনো কথা নেই’ সেই শিক্ষিকার রিলস প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ

ফয়সাল হত্যা: ১৪ বছর পর তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড

ফরিদপুর শহরে সবজি বিক্রেতা ফয়সাল শেখ (২২) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকালে ফরিদপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার চান সরদার (৪২), তার ভাই তারা সরদার (৩৫) এবং একই এলাকার বাবুল আকন্দ (৩৬)।

রায় ঘোষণার সময় আসামি বাবুল আকন্দ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহাড়ায় কারাগারে পাঠানো হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল শেখ ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। আর আসামি চান সরদার ওই বাজারের একটি আড়তে লেবার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও চরম মনোমালিন্য হয়।

এরই জের ধরে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফয়সাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছালে চান সরদার কৌশলে তাকে নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা অন্য আসামিরা ফয়সালকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে ফয়সালের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন নিহতের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এজাহারনামীয় আসামি শাহিন সরদার মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় প্রদান করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস মালয়েশিয়ার

ফয়সাল হত্যা: ১৪ বছর পর তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড

আপডেট টাইম : ৩ ঘন্টা আগে

ফরিদপুর শহরে সবজি বিক্রেতা ফয়সাল শেখ (২২) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকালে ফরিদপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার চান সরদার (৪২), তার ভাই তারা সরদার (৩৫) এবং একই এলাকার বাবুল আকন্দ (৩৬)।

রায় ঘোষণার সময় আসামি বাবুল আকন্দ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহাড়ায় কারাগারে পাঠানো হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল শেখ ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। আর আসামি চান সরদার ওই বাজারের একটি আড়তে লেবার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও চরম মনোমালিন্য হয়।

এরই জের ধরে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফয়সাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছালে চান সরদার কৌশলে তাকে নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা অন্য আসামিরা ফয়সালকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে ফয়সালের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন নিহতের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এজাহারনামীয় আসামি শাহিন সরদার মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় প্রদান করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।