ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের নতুন ‘তামাশা’

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশান কার্ড (এনভিসি) দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিরোধী সে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো। যেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার কথা, তার বদলে এনভিসির নামে তাদের অভিবাসী করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। এর আগে মিয়ানমার বলছিল, স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে বাস্তুচ্যুতদের (আইডিপি) ক্যাম্পে রাখা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তেরও জোরাল বিরোধিতা করছে দেশটির বিরোধী দলগুলো।

প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের মুক্ত চলাচলের অধিকার নিয়ে বুধবার রেডিও ফ্রি এশিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। রোহিঙ্গাদের এনভিসি নিয়ে মিয়ানমারের রাজনৈতিক দলগুলোর অভিমত তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

মিয়ানমার বলছে, স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের এনভিসি কার্ড দিয়ে প্রথমে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের (আইডিপি) ক্যাম্পে রাখা হবে। এনভিসি কার্ডধারীরা মুক্তভাবে চলাচল করতে পারবে এবং নাগরিকত্বের আবেদনও করতে পারবে।

দেশটির সরকারের এ পরিকল্পনার বিরোধিতায় একাট্টা বড় ছোট সব রাজনৈতিক দল। তারা বলছে, এনভিসি কার্ডধারীদের মুক্তভাবে চলাচল দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। তাছাড়া সংবিধান তাদের সে সুযোগ দেয়নি।

গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াট আঁয় কোনও মন্ত্রী বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে গেছেন। দেশে ফিরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের ব্যর্থ হয়েছে বলে মিথ্যাচার করেন।

মিয়ানমারের মন্ত্রী সে দেশের সাংবাদিকদের জানান, ‘স্বেচ্ছায় ফিরে আসা রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের (আইডিপি) ক্যাম্পে রাখা হবে। তাদের দেওয়া হবে এনভিসি কার্ড। এটি থাকলে দেশের যে কোনও স্থানে যাতায়াত করতে পারবে রোহিঙ্গারা। এমনকি এ কার্ডধারীরা আবেদন করলে পাঁচ মাসের মধ্যে নাগরিকত্বও পেতে পারে।’

এ ঘোষণার পরই এ পরিকল্পনার বিরোধিতায় নামে দেশটির সব বিরোধীদল। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে তারা অভিন্ন দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে তারা একাট্টা হয়ে বিরোধিতা করছে সরকারের এ পরিকল্পনার।

মিয়ানমারের প্রধান বিরোধিদল ইউএসডিপির মুখপাত্র নানদা হ্লা মিয়ান্ট মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনে দলের কার্যালয়ে বলেন, ‘এনভিসি কার্ডধারীরা মুক্তভাবে চলাচল করলে দেশের জন্য বিপজ্জনক হবে’।

কট্টরপন্থী দলটির মুখপাত্র বলন, সরকার তাদের (রোহিঙ্গা) মুক্ত চলাচলের সুযোগ দিলে অন্য বিরোধিদলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জোরালো প্রতিবাদ করা হবে। এমনকি এনভিসি ইস্যুতে পার্লামেন্টেও একটি প্রস্তাব তোলা হবে।

ন্যাশনাল ইউনিয়ন পার্টির (এনইউপি) ভাইস চেয়ারম্যান হান সুয়ে ২০০৮ সালের সংবিধানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘শুধু পূর্ণ নাগরিকত্বের অধিকারী যারা কেবল তাদের নাগরিক অধিকার রয়েছে। সংবিধান এনভিসি কার্ডধারীদের মুক্ত চলাচলের অধিকার দেয়নি।’

দেশটির ডি-ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু কির দল এনএলডিকে অভিযুক্ত ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স (এনডিএফ) পার্টির চেয়ারম্যান খিন মং সুয়ে বলেন, ‘তারা (এনএলডি) এনভিসি কার্ডধারীদের মুক্ত চলাচলের সুযোগ দিতে পারে না। এটি দিলে রোহিঙ্গারা নাগরিকের মতো হয়ে যাবে। কিন্তু তারা তো মিয়ানমারের নাগরিক নয়। এনভিসি কার্ডধারীদের মুক্ত চলাচলের অধিকার দিতে হলে আগে দেশের অভিবাসন আইন সংস্কার করতে হবে।’

শতকের পর শতক ধরে রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। গত চার দশক ধরে নিজেদের রাজ্যেও তাদের চলাচলের অধিকার ছিল সীমিত। এমনকি দেশটির শিক্ষা, চাকরি ও স্বাস্থ্য সেবায়ও তাদের প্রবেশাধিকার নেই।

১৯৮২ সালে হওয়া মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশটির নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করে দেশটির তৎকালীন সামরিক সরকার। তখন থেকে নিজভূমে সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের হাতে নানাভাবে নিপীড়নের শিকার হতে থাকে রোহিঙ্গারা।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার কথিত অভিযোগ তুলে সেনা অভিযানের নামে নৃশংসতা শুরু হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এদের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এদের আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে।

তবে জাতিসংঘ বলেছে, কথিত ওই হামলার আগে থেকেই সেখানে রোহিঙ্গাবিদ্বেষী প্রচারণা চলছে। বিশ্ব সংস্থাটি রোহিঙ্গা নিধনের বর্বর ঘটনাকে পাঠ্যপুস্তকের জন্য ‘জাতিগত নির্মূলের’ একটি উদাহরণ বলেও অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টির এক প্রতিবেদনেও ‘রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের সামরিক প্রচারণা’কে সেখানকার সংকটের জন্য দায়ী করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের স্রোত শুরু হওয়ার পর বিষয়টি বাংলাদেশ তোলে জাতিসংঘে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও প্রথমে রোহিঙ্গা নির্যাতনের কথা স্বীকার না করলেও পরে ‘কিছু হত্যার’ বিষয়টি স্বীকার করেন দেশটির সেনাপ্রধান।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রথমে সমঝোতা স্মারক এবং পরে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট নামে চুক্তিও হয়েছে। প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ হিসেবে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারকে আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকাও দেয়া হয়। যদিও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাই বাছাইয়ের নামে সেখান থেকে মাত্র তিনশ মতো রোহিঙ্গাকে তাদের নাগরিক বলে দাবি করে।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে না নিয়ে নানা তালবাহানা করছে- একথা জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বাস্তবতায় রোহিঙ্গাদের জন্য মানসম্পন্ন আশ্রয় প্রকল্প নির্মাণে সরকারকে বিপুল অংকের টাকাও ব্যয় করতে হচ্ছে।

মিয়ানমারের নিউ ন্যাশনাল ডেমোক্র্যটিক পার্টির চেয়ারম্যান থিয়েন নাউন্ট বলেন, ‘তারা (রোহিঙ্গা) এখনও নাগরিক নয়। বে-নাগরিকদের মুক্ত চলাচলের নাগরিক অধিকার সরকার দিতে পারে না। এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই বিপদজনক।’

রাখাইনের আরাকান নেশনস পার্টির সেক্রেটারি তুন অং খিয়াও বলেন, ‘রাখাইনে বসবাস করা রোহিঙ্গারা বার্মিজ অথবা রাখাইন ভাষা বলতে পারে। কর্তৃপক্ষ যদি তাদের এনভিসি কার্ড দিয়ে মুক্ত চলাচলের অধিকার দেয় তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছে যারা রাখাইনে অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের যদি এনভিসি কার্ড দিয়ে মুক্ত চলাচলের অধিকার দেওয়া হয় তাহলে তা হবে খুবই বিপজ্জনক। এটা নিয়ে ভালো করে চিন্তা করতে হবে সরকারকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের নতুন ‘তামাশা’

আপডেট টাইম : ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশান কার্ড (এনভিসি) দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিরোধী সে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো। যেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার কথা, তার বদলে এনভিসির নামে তাদের অভিবাসী করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। এর আগে মিয়ানমার বলছিল, স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে বাস্তুচ্যুতদের (আইডিপি) ক্যাম্পে রাখা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তেরও জোরাল বিরোধিতা করছে দেশটির বিরোধী দলগুলো।

প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের মুক্ত চলাচলের অধিকার নিয়ে বুধবার রেডিও ফ্রি এশিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। রোহিঙ্গাদের এনভিসি নিয়ে মিয়ানমারের রাজনৈতিক দলগুলোর অভিমত তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

মিয়ানমার বলছে, স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের এনভিসি কার্ড দিয়ে প্রথমে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের (আইডিপি) ক্যাম্পে রাখা হবে। এনভিসি কার্ডধারীরা মুক্তভাবে চলাচল করতে পারবে এবং নাগরিকত্বের আবেদনও করতে পারবে।

দেশটির সরকারের এ পরিকল্পনার বিরোধিতায় একাট্টা বড় ছোট সব রাজনৈতিক দল। তারা বলছে, এনভিসি কার্ডধারীদের মুক্তভাবে চলাচল দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। তাছাড়া সংবিধান তাদের সে সুযোগ দেয়নি।

গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াট আঁয় কোনও মন্ত্রী বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে গেছেন। দেশে ফিরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের ব্যর্থ হয়েছে বলে মিথ্যাচার করেন।

মিয়ানমারের মন্ত্রী সে দেশের সাংবাদিকদের জানান, ‘স্বেচ্ছায় ফিরে আসা রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের (আইডিপি) ক্যাম্পে রাখা হবে। তাদের দেওয়া হবে এনভিসি কার্ড। এটি থাকলে দেশের যে কোনও স্থানে যাতায়াত করতে পারবে রোহিঙ্গারা। এমনকি এ কার্ডধারীরা আবেদন করলে পাঁচ মাসের মধ্যে নাগরিকত্বও পেতে পারে।’

এ ঘোষণার পরই এ পরিকল্পনার বিরোধিতায় নামে দেশটির সব বিরোধীদল। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে তারা অভিন্ন দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে তারা একাট্টা হয়ে বিরোধিতা করছে সরকারের এ পরিকল্পনার।

মিয়ানমারের প্রধান বিরোধিদল ইউএসডিপির মুখপাত্র নানদা হ্লা মিয়ান্ট মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনে দলের কার্যালয়ে বলেন, ‘এনভিসি কার্ডধারীরা মুক্তভাবে চলাচল করলে দেশের জন্য বিপজ্জনক হবে’।

কট্টরপন্থী দলটির মুখপাত্র বলন, সরকার তাদের (রোহিঙ্গা) মুক্ত চলাচলের সুযোগ দিলে অন্য বিরোধিদলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জোরালো প্রতিবাদ করা হবে। এমনকি এনভিসি ইস্যুতে পার্লামেন্টেও একটি প্রস্তাব তোলা হবে।

ন্যাশনাল ইউনিয়ন পার্টির (এনইউপি) ভাইস চেয়ারম্যান হান সুয়ে ২০০৮ সালের সংবিধানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘শুধু পূর্ণ নাগরিকত্বের অধিকারী যারা কেবল তাদের নাগরিক অধিকার রয়েছে। সংবিধান এনভিসি কার্ডধারীদের মুক্ত চলাচলের অধিকার দেয়নি।’

দেশটির ডি-ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু কির দল এনএলডিকে অভিযুক্ত ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স (এনডিএফ) পার্টির চেয়ারম্যান খিন মং সুয়ে বলেন, ‘তারা (এনএলডি) এনভিসি কার্ডধারীদের মুক্ত চলাচলের সুযোগ দিতে পারে না। এটি দিলে রোহিঙ্গারা নাগরিকের মতো হয়ে যাবে। কিন্তু তারা তো মিয়ানমারের নাগরিক নয়। এনভিসি কার্ডধারীদের মুক্ত চলাচলের অধিকার দিতে হলে আগে দেশের অভিবাসন আইন সংস্কার করতে হবে।’

শতকের পর শতক ধরে রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। গত চার দশক ধরে নিজেদের রাজ্যেও তাদের চলাচলের অধিকার ছিল সীমিত। এমনকি দেশটির শিক্ষা, চাকরি ও স্বাস্থ্য সেবায়ও তাদের প্রবেশাধিকার নেই।

১৯৮২ সালে হওয়া মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশটির নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করে দেশটির তৎকালীন সামরিক সরকার। তখন থেকে নিজভূমে সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের হাতে নানাভাবে নিপীড়নের শিকার হতে থাকে রোহিঙ্গারা।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার কথিত অভিযোগ তুলে সেনা অভিযানের নামে নৃশংসতা শুরু হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এদের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এদের আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে।

তবে জাতিসংঘ বলেছে, কথিত ওই হামলার আগে থেকেই সেখানে রোহিঙ্গাবিদ্বেষী প্রচারণা চলছে। বিশ্ব সংস্থাটি রোহিঙ্গা নিধনের বর্বর ঘটনাকে পাঠ্যপুস্তকের জন্য ‘জাতিগত নির্মূলের’ একটি উদাহরণ বলেও অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টির এক প্রতিবেদনেও ‘রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের সামরিক প্রচারণা’কে সেখানকার সংকটের জন্য দায়ী করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের স্রোত শুরু হওয়ার পর বিষয়টি বাংলাদেশ তোলে জাতিসংঘে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও প্রথমে রোহিঙ্গা নির্যাতনের কথা স্বীকার না করলেও পরে ‘কিছু হত্যার’ বিষয়টি স্বীকার করেন দেশটির সেনাপ্রধান।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রথমে সমঝোতা স্মারক এবং পরে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট নামে চুক্তিও হয়েছে। প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ হিসেবে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারকে আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকাও দেয়া হয়। যদিও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাই বাছাইয়ের নামে সেখান থেকে মাত্র তিনশ মতো রোহিঙ্গাকে তাদের নাগরিক বলে দাবি করে।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে না নিয়ে নানা তালবাহানা করছে- একথা জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বাস্তবতায় রোহিঙ্গাদের জন্য মানসম্পন্ন আশ্রয় প্রকল্প নির্মাণে সরকারকে বিপুল অংকের টাকাও ব্যয় করতে হচ্ছে।

মিয়ানমারের নিউ ন্যাশনাল ডেমোক্র্যটিক পার্টির চেয়ারম্যান থিয়েন নাউন্ট বলেন, ‘তারা (রোহিঙ্গা) এখনও নাগরিক নয়। বে-নাগরিকদের মুক্ত চলাচলের নাগরিক অধিকার সরকার দিতে পারে না। এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই বিপদজনক।’

রাখাইনের আরাকান নেশনস পার্টির সেক্রেটারি তুন অং খিয়াও বলেন, ‘রাখাইনে বসবাস করা রোহিঙ্গারা বার্মিজ অথবা রাখাইন ভাষা বলতে পারে। কর্তৃপক্ষ যদি তাদের এনভিসি কার্ড দিয়ে মুক্ত চলাচলের অধিকার দেয় তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছে যারা রাখাইনে অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের যদি এনভিসি কার্ড দিয়ে মুক্ত চলাচলের অধিকার দেওয়া হয় তাহলে তা হবে খুবই বিপজ্জনক। এটা নিয়ে ভালো করে চিন্তা করতে হবে সরকারকে।