ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

প্যারালাইসিসের আশঙ্কায়’ কর্নিয়া নষ্ট হয়ে অন্ধ হতে পারেন : চিকিৎসক

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসে হয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন মুক্ত অবস্থায় থাকাকালীন তার চিকিৎসায় থাকা একজন চিকিৎসক। বিএনপি নেত্রীর অন্য একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক দাবি করেছেন, ‘সুচিকিৎসা না হলে’ কর্নিয়া নষ্ট হয়ে অন্ধ হয়ে যেতে পারেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

আজ শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পর এই মত তুলে ধরেন নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক ওয়াহিদুর রহমান এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস।

এদের মধ্যে ওয়াহিদুর রহমান ডেল্টা মেডিকেলের চিকিৎসক আর আবদুল কুদ্দুস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যাওয়ার পর কোথাও চাকরি করছেন না। তারা দুই জনই দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করে আসছেন।

গত ৩০ মার্চ থেকে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো বা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির দাবিতে নানা সময় চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে নানা দাবি করেছে বিএনপি। এই প্রথম দলটি দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করেছে।

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যের পর চিকিৎসক ওয়াহিদুলকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘তিনি ম্যাডামকে বহুবার দেখেছেন। তিনি তার মতামত তুলে ধরবেন।’

চিকিৎসক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) হাড়ের ক্ষয় হয়ে নার্ভগুলো চাপা পড়ে গেছে। এতে বাম হাতের শক্তি কমে যাচ্ছে। তিনি বাম হাতে কিছুই ধরে রাখতে পারছেন না। প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। স্পাইনাল কডেও সমস্যা আছে।’

‘তার কোমরের হাড়ও ক্ষয়ে যাচ্ছে। এতে তার প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত) হওয়ার আশঙ্কা করছি।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পর খালেদা জিয়াকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি কক্ষে নেয়া হয়। গত ২৮ মার্চ তার অসুস্থতার গুঞ্জন ছড়ায় এবং পরদিন ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে কারাগারে পরীক্ষা করে।

এর মধ্যে ৩০ মার্চ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি করেন মির্জা ফখরুল। একই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, চিকিৎসকরা বললে তারা রাজি। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়ায় যে সরকারের সঙ্গে বিএনপি কোনো সমঝোতায় আসতে চাইছে কি না।

তবে বিএনপি পরে অবস্থান পাল্টে তাদের নেত্রীকে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে ভর্তি করার দাবি করছে।

এর মধ্যে ১ এপ্রিল বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় গঠন হয় মেডিকেল বোর্ড। আর ৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এনে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেশ কিছু এক্সরে করানো হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় সম্ভব সব কিছুই করা হচ্ছে। তবে বিএনপি চাইছে তাদের নেত্রীকে ইউনাইটেডে নিতে। গত ২২ এপ্রিল এই দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করেন দলটির দুই নেতা নজরুল ইসলাম খান ও হাফিজউদ্দিন আহমেদ।

সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে জেল কোডের বাইরে গিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করা হবে। তবে সব কিছুই চিকিৎসকদের পরামর্শে।

বিএনপির পক্ষ থেকে আজকের সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের মধ্যে নিউরো মেডিসিনের ওয়াহিদুর রহমানের বক্তব্যের পর কথা বলেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দাবি করেন, কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুচিকিৎসা না হলে তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।

কুদ্দুস বলেন, ‘২০১৫ ও ২০১৭ সালে তার (খালেদা জিয়া) চোখে অপারেশন করা হয়। তার চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়ার রোগ আছে।’

‘আমরা শুনেছি খালেদা জিয়ার চোখ লাল হয়ে গেছে এবং প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। তার সুচিকিৎসা করানো না হলে চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।’

দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও খালেদা জিয়ার পঙ্গুত্ব এবং অন্ধত্ব নিয়ে শঙ্কার কথা বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বলেন, ‘সরকার যে উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়েছে সে উদ্দেশ্য শেষ হয়নি। তারা চান বেগম খালেদা জিয়ার আরও ক্ষতি। সেজন্যই তাকে চিকিৎসা দিচ্ছে না। তার চিকিৎসায় একদিন বিলম্ব হলেও দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন, পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।’

ফখরুল যা বললেন

এর আগে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আগে তিনি (খালেদা) সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন, কিন্তু এখন তিনি অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার কারণে আর তা পারছেন না।’

‘আমরা বার বার বলছি, অন্তত বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাটা করাতে হবে। কিন্তু কতটা ভয়ংকর হলে চিন্তা করেন, তার চিকিৎসা পর্যন্ত জেলখানায় করা হচ্ছে না।’

‘আমরা বলে আসছি বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দের হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। এখানে এমআরআইসহ সকল পরীক্ষার যন্ত্র আছে যা অন্যখানে নেই। এজন্যই আমরা ইউনাইটেড হাসপাতালের কথা বলছি।’

ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা হচ্ছে না। বেগম জিয়ার চিকিৎসা না করানোর পেছনে একটা থিম আছে, নীল নকশা রয়েছে। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে তার স্বাস্থ্যর আরও অবনতি ঘটতে পারে। আর এর দায় দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’

বিএনপি নেতার দাবি, খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেডে চিকিৎসার বিষয়ে ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পড়ে আছে।

ফখরুলের অভিযোগ, তাদের দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর আইজি প্রিজনকে ডেকে নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে কারাকর্তৃপক্ষ চিকিৎসার বিষয় আলাপ করে একটি ফাইল তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায়। কিন্তু সেটি এখনও পড়ে আছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক, আব্দুস সালাম প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

প্যারালাইসিসের আশঙ্কায়’ কর্নিয়া নষ্ট হয়ে অন্ধ হতে পারেন : চিকিৎসক

আপডেট টাইম : ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৮

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসে হয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন মুক্ত অবস্থায় থাকাকালীন তার চিকিৎসায় থাকা একজন চিকিৎসক। বিএনপি নেত্রীর অন্য একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক দাবি করেছেন, ‘সুচিকিৎসা না হলে’ কর্নিয়া নষ্ট হয়ে অন্ধ হয়ে যেতে পারেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

আজ শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পর এই মত তুলে ধরেন নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক ওয়াহিদুর রহমান এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস।

এদের মধ্যে ওয়াহিদুর রহমান ডেল্টা মেডিকেলের চিকিৎসক আর আবদুল কুদ্দুস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যাওয়ার পর কোথাও চাকরি করছেন না। তারা দুই জনই দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করে আসছেন।

গত ৩০ মার্চ থেকে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো বা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির দাবিতে নানা সময় চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে নানা দাবি করেছে বিএনপি। এই প্রথম দলটি দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করেছে।

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যের পর চিকিৎসক ওয়াহিদুলকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘তিনি ম্যাডামকে বহুবার দেখেছেন। তিনি তার মতামত তুলে ধরবেন।’

চিকিৎসক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) হাড়ের ক্ষয় হয়ে নার্ভগুলো চাপা পড়ে গেছে। এতে বাম হাতের শক্তি কমে যাচ্ছে। তিনি বাম হাতে কিছুই ধরে রাখতে পারছেন না। প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। স্পাইনাল কডেও সমস্যা আছে।’

‘তার কোমরের হাড়ও ক্ষয়ে যাচ্ছে। এতে তার প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত) হওয়ার আশঙ্কা করছি।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পর খালেদা জিয়াকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি কক্ষে নেয়া হয়। গত ২৮ মার্চ তার অসুস্থতার গুঞ্জন ছড়ায় এবং পরদিন ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে কারাগারে পরীক্ষা করে।

এর মধ্যে ৩০ মার্চ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি করেন মির্জা ফখরুল। একই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, চিকিৎসকরা বললে তারা রাজি। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়ায় যে সরকারের সঙ্গে বিএনপি কোনো সমঝোতায় আসতে চাইছে কি না।

তবে বিএনপি পরে অবস্থান পাল্টে তাদের নেত্রীকে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে ভর্তি করার দাবি করছে।

এর মধ্যে ১ এপ্রিল বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় গঠন হয় মেডিকেল বোর্ড। আর ৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এনে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেশ কিছু এক্সরে করানো হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় সম্ভব সব কিছুই করা হচ্ছে। তবে বিএনপি চাইছে তাদের নেত্রীকে ইউনাইটেডে নিতে। গত ২২ এপ্রিল এই দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করেন দলটির দুই নেতা নজরুল ইসলাম খান ও হাফিজউদ্দিন আহমেদ।

সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে জেল কোডের বাইরে গিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করা হবে। তবে সব কিছুই চিকিৎসকদের পরামর্শে।

বিএনপির পক্ষ থেকে আজকের সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের মধ্যে নিউরো মেডিসিনের ওয়াহিদুর রহমানের বক্তব্যের পর কথা বলেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দাবি করেন, কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুচিকিৎসা না হলে তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।

কুদ্দুস বলেন, ‘২০১৫ ও ২০১৭ সালে তার (খালেদা জিয়া) চোখে অপারেশন করা হয়। তার চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়ার রোগ আছে।’

‘আমরা শুনেছি খালেদা জিয়ার চোখ লাল হয়ে গেছে এবং প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। তার সুচিকিৎসা করানো না হলে চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।’

দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও খালেদা জিয়ার পঙ্গুত্ব এবং অন্ধত্ব নিয়ে শঙ্কার কথা বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বলেন, ‘সরকার যে উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়েছে সে উদ্দেশ্য শেষ হয়নি। তারা চান বেগম খালেদা জিয়ার আরও ক্ষতি। সেজন্যই তাকে চিকিৎসা দিচ্ছে না। তার চিকিৎসায় একদিন বিলম্ব হলেও দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন, পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।’

ফখরুল যা বললেন

এর আগে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আগে তিনি (খালেদা) সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন, কিন্তু এখন তিনি অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার কারণে আর তা পারছেন না।’

‘আমরা বার বার বলছি, অন্তত বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাটা করাতে হবে। কিন্তু কতটা ভয়ংকর হলে চিন্তা করেন, তার চিকিৎসা পর্যন্ত জেলখানায় করা হচ্ছে না।’

‘আমরা বলে আসছি বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দের হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। এখানে এমআরআইসহ সকল পরীক্ষার যন্ত্র আছে যা অন্যখানে নেই। এজন্যই আমরা ইউনাইটেড হাসপাতালের কথা বলছি।’

ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা হচ্ছে না। বেগম জিয়ার চিকিৎসা না করানোর পেছনে একটা থিম আছে, নীল নকশা রয়েছে। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে তার স্বাস্থ্যর আরও অবনতি ঘটতে পারে। আর এর দায় দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’

বিএনপি নেতার দাবি, খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেডে চিকিৎসার বিষয়ে ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পড়ে আছে।

ফখরুলের অভিযোগ, তাদের দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর আইজি প্রিজনকে ডেকে নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে কারাকর্তৃপক্ষ চিকিৎসার বিষয় আলাপ করে একটি ফাইল তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায়। কিন্তু সেটি এখনও পড়ে আছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক, আব্দুস সালাম প্রমুখ।