ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

বাংলাদেশেই এক রাতের ভাড়া ১ লাখ ২০ হাজার, তবুও খালি নেই

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুড়ি এলাকায় পাহাড়ের দেড় শ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট। সবুজের বুকে গড়ে ওঠা রিসোর্টটির স্থাপত্য যেন মোগল আমলের রাজপ্রাসাদ। রাজা-বাদশাহদের কারবারই বটে। রিসোর্টের একেবারে ন্যূনতম ভাড়া ১২ হাজার টাকা। আর তিন কক্ষের প্রেসিডেনশিয়াল ভিলার ভাড়া এক দিনে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা!

ভাড়া শুনে চক্ষু চড়কগাছ হলেও হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, হঠাৎ পাওয়া দিন ছয়েকের ছুটিতে এই রিসোর্ট ফাঁকা নেই।

ছোট পাহাড়ের কোলঘেঁষা হবিগঞ্জের এই রিসোর্টটিই শুধু নয়, কক্সবাজারের সাতটির মতো তারকা হোটেল ও রিসোর্টেও লম্বা ছুটির হাওয়া এসে লেগেছে। চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলের পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফও পর্যটকে ভরা। তবে বিলাসবহুল হোটেলের ব্যবসার এমন রমরমা অবস্থার মধ্যেও কুয়াকাটার হোটেলগুলোর চিত্র মলিন। সেখানে পর্যটকের সংখ্যা আশানুরূপ না।

হবিগঞ্জের দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টে প্যালেস সূত্রে জানা গেছে, তাদের অধিকাংশ রিসোর্ট কক্ষ ও ভিলা ভাড়া হয়ে গেছে। টানা সরকারি ছুটিতে হঠাৎ করে অতিথির সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধি করেনি। ছুটিতে আসা অতিথিদের জন্য সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারে বিশেষ অফার রাখা হয়েছে।

বাহুবলের সবুজ টিলার চূড়ায় চূড়ায় গড়ে তোলা হয়েছে প্যালেসের এ ভবনগুলো। এক টিলা থেকে অন্য টিলায় যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয়েছে দুটো ঝুলন্ত সেতু। পাশে রয়েছে থরে থরে ফল আর সবজির বাগান। রিসোর্ট থেকে এক পা এগোলেই চোখে পড়বে সবুজ চা-বাগান। এ প্রকৃতির সজীবতা উপভোগ করতেই এখানে ছুটে আসছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর ভেতরে আছে বিলিয়ার্ড, রিমোট কন্ট্রোল কার রেসিং, ফুটবল, বাস্কেটবল আর টেনিস গ্রাউন্ড, আছে দুটো সিনেপ্লেক্সে থ্রিডি সিনেমা দেখার ব্যবস্থা। দোতলায় বার কাম রেস্তোরাঁ। রিসোর্টের ভেতরে চলাচলে আছে গলফ কোর্ট। যত ইচ্ছা সিনেমা দেখেন, কার্টে করে ঘুরে বেড়ান আর ইনফিনিটি পুলে সাঁতরে বেড়ান না কেন, এ জন্য আপনাকে বাড়তি টাকা গুনতে হবে না।

দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টের রিজারভেশন সুপারভাইজার জাহাদুল ইসলাম জানান, টানা ছুটির কারণে তাঁদের অতিথির সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী তাঁরা সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছেন। জাহাদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের এ লাক্সারি রিসোর্টে বিভিন্ন ধরনের কক্ষ আছে। টাওয়ারে এক্সিকিউটিভ রুমের ভাড়া ভ্যাট ছাড়া ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু। এক রুমের ভিলাগুলো ১৮ হাজার ২০০ টাকা। আছে তিন কক্ষের প্রেসিডেনশিয়াল ভিলা রবি শঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসন। ভ্যাট ছাড়াই এগুলোর জন্য দিনপ্রতি ভাড়া গুনতে হবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো।

সমুদ্র শহর কক্সবাজারের শহরে পাঁচ তারকা হোটেলের মধ্যে আছে সী-গাল, সাইমান বিচ রিসোর্ট, ওশান প্যারাডাইস, কক্স টুডে। এ ছুটিতে এসব হোটেল প্রায় পূর্ণ। এমনিতেই কয়েক মাস ধরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিদেশি কক্সবাজারে থাকছেন। প্রায় সবাই রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করছেন। আর এর ওপর ছুটির চাপ। সি গালের প্রধান নির্বাহী ইমরুল সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর হোটেলের ৯৫ শতাংশ সিট বুক হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বিদেশি। সি গালের একটি কক্ষের ভাড়া ৬ হাজার থেকে শুরু হয়ে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

কক্সবাজারে ইনানী সৈকতের কাছে প্যাঁচার দ্বীপ এলাকায় মারমেড ইকো রিসোর্ট ও বিচ রিসোর্টের ভাড়া ৭ হাজার থেকে ৮৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। রিসোর্টের মহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাদের রিসোর্ট এখন প্রায় পূর্ণ।

দেশের চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে আজ শুক্রবার এবং কাল শনিবার দুদিন কোনো কক্ষ খালি নেই। এ কথা জানান হোটেলটির জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক পলাশ চৌধুরী। তিনি জানান, এখন সামার প্যাকেজ চলছে। শুরুর ভাড়া ১৪ হাজার ৭৭৭ টাকা। এই মূল্যে দুজন থাকতে পারেন। সর্বোচ্চ ভাড়া ৩৯ হাজার ৭৭৭ টাকা। এখানে চারজন থাকতে পারবে। দুটি প্যাকেজেই সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার যুক্ত আছে। বাড়তি ট্যাক্স বা ভ্যাটও দিতে হবে না।

তারকা হোটেলের এমন রমরমা অবস্থার মধ্যে কুয়াকাটার হোটেলগুলো কিন্তু শুভ সংবাদ নেই। কুয়াকাটার অভিজাত হোটেল সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলা এবং কুয়াকাটা গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড সি রিসোর্ট পর্যটকদের আগমনের জন্য বাড়তি প্রস্তুতি নিলেও সেভাবে বুকিং না থাকায় এ দুটি হোটেলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হতাশ। সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জয়নাল আবেদীন চোকদার হতাশার সুরে বলেন, ‘আমাদের ১২টি ভিলা এবং এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের ৬৮টি রুম রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০টি রুম ভাড়া হবে কি না, সন্দেহ রয়েছে।’

কুয়াকাটা গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড সি রিসোর্টের ফ্রন্ট অফিস এক্সিকিউটিভ শাকিল মজুমদার বলেন, ‘আমাদের হোটেলে ৬ ধরনের ২৬টি রুম রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২টি রুম বুকিং হয়েছে। ছুটির অন্য সময়ে যেভাবে চাপ পড়ে এবার সে রকম মনে হচ্ছে না।’

কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটার ১১ কিলোমিটার খানাখন্দে ভরা সড়ক, কুয়াকাটার অভ্যন্তরীণ সড়কের নাজুক হাল এবং স্থানীয় অবকাঠামোর বেহাল অবস্থার জন্যই বড় ছুটিতেও পর্যটকেরা এই এলাকার কম আসছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

বাংলাদেশেই এক রাতের ভাড়া ১ লাখ ২০ হাজার, তবুও খালি নেই

আপডেট টাইম : ০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৮

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুড়ি এলাকায় পাহাড়ের দেড় শ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট। সবুজের বুকে গড়ে ওঠা রিসোর্টটির স্থাপত্য যেন মোগল আমলের রাজপ্রাসাদ। রাজা-বাদশাহদের কারবারই বটে। রিসোর্টের একেবারে ন্যূনতম ভাড়া ১২ হাজার টাকা। আর তিন কক্ষের প্রেসিডেনশিয়াল ভিলার ভাড়া এক দিনে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা!

ভাড়া শুনে চক্ষু চড়কগাছ হলেও হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, হঠাৎ পাওয়া দিন ছয়েকের ছুটিতে এই রিসোর্ট ফাঁকা নেই।

ছোট পাহাড়ের কোলঘেঁষা হবিগঞ্জের এই রিসোর্টটিই শুধু নয়, কক্সবাজারের সাতটির মতো তারকা হোটেল ও রিসোর্টেও লম্বা ছুটির হাওয়া এসে লেগেছে। চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলের পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফও পর্যটকে ভরা। তবে বিলাসবহুল হোটেলের ব্যবসার এমন রমরমা অবস্থার মধ্যেও কুয়াকাটার হোটেলগুলোর চিত্র মলিন। সেখানে পর্যটকের সংখ্যা আশানুরূপ না।

হবিগঞ্জের দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টে প্যালেস সূত্রে জানা গেছে, তাদের অধিকাংশ রিসোর্ট কক্ষ ও ভিলা ভাড়া হয়ে গেছে। টানা সরকারি ছুটিতে হঠাৎ করে অতিথির সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধি করেনি। ছুটিতে আসা অতিথিদের জন্য সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারে বিশেষ অফার রাখা হয়েছে।

বাহুবলের সবুজ টিলার চূড়ায় চূড়ায় গড়ে তোলা হয়েছে প্যালেসের এ ভবনগুলো। এক টিলা থেকে অন্য টিলায় যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয়েছে দুটো ঝুলন্ত সেতু। পাশে রয়েছে থরে থরে ফল আর সবজির বাগান। রিসোর্ট থেকে এক পা এগোলেই চোখে পড়বে সবুজ চা-বাগান। এ প্রকৃতির সজীবতা উপভোগ করতেই এখানে ছুটে আসছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর ভেতরে আছে বিলিয়ার্ড, রিমোট কন্ট্রোল কার রেসিং, ফুটবল, বাস্কেটবল আর টেনিস গ্রাউন্ড, আছে দুটো সিনেপ্লেক্সে থ্রিডি সিনেমা দেখার ব্যবস্থা। দোতলায় বার কাম রেস্তোরাঁ। রিসোর্টের ভেতরে চলাচলে আছে গলফ কোর্ট। যত ইচ্ছা সিনেমা দেখেন, কার্টে করে ঘুরে বেড়ান আর ইনফিনিটি পুলে সাঁতরে বেড়ান না কেন, এ জন্য আপনাকে বাড়তি টাকা গুনতে হবে না।

দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টের রিজারভেশন সুপারভাইজার জাহাদুল ইসলাম জানান, টানা ছুটির কারণে তাঁদের অতিথির সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী তাঁরা সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছেন। জাহাদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের এ লাক্সারি রিসোর্টে বিভিন্ন ধরনের কক্ষ আছে। টাওয়ারে এক্সিকিউটিভ রুমের ভাড়া ভ্যাট ছাড়া ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু। এক রুমের ভিলাগুলো ১৮ হাজার ২০০ টাকা। আছে তিন কক্ষের প্রেসিডেনশিয়াল ভিলা রবি শঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসন। ভ্যাট ছাড়াই এগুলোর জন্য দিনপ্রতি ভাড়া গুনতে হবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো।

সমুদ্র শহর কক্সবাজারের শহরে পাঁচ তারকা হোটেলের মধ্যে আছে সী-গাল, সাইমান বিচ রিসোর্ট, ওশান প্যারাডাইস, কক্স টুডে। এ ছুটিতে এসব হোটেল প্রায় পূর্ণ। এমনিতেই কয়েক মাস ধরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিদেশি কক্সবাজারে থাকছেন। প্রায় সবাই রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করছেন। আর এর ওপর ছুটির চাপ। সি গালের প্রধান নির্বাহী ইমরুল সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর হোটেলের ৯৫ শতাংশ সিট বুক হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বিদেশি। সি গালের একটি কক্ষের ভাড়া ৬ হাজার থেকে শুরু হয়ে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

কক্সবাজারে ইনানী সৈকতের কাছে প্যাঁচার দ্বীপ এলাকায় মারমেড ইকো রিসোর্ট ও বিচ রিসোর্টের ভাড়া ৭ হাজার থেকে ৮৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। রিসোর্টের মহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাদের রিসোর্ট এখন প্রায় পূর্ণ।

দেশের চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে আজ শুক্রবার এবং কাল শনিবার দুদিন কোনো কক্ষ খালি নেই। এ কথা জানান হোটেলটির জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক পলাশ চৌধুরী। তিনি জানান, এখন সামার প্যাকেজ চলছে। শুরুর ভাড়া ১৪ হাজার ৭৭৭ টাকা। এই মূল্যে দুজন থাকতে পারেন। সর্বোচ্চ ভাড়া ৩৯ হাজার ৭৭৭ টাকা। এখানে চারজন থাকতে পারবে। দুটি প্যাকেজেই সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার যুক্ত আছে। বাড়তি ট্যাক্স বা ভ্যাটও দিতে হবে না।

তারকা হোটেলের এমন রমরমা অবস্থার মধ্যে কুয়াকাটার হোটেলগুলো কিন্তু শুভ সংবাদ নেই। কুয়াকাটার অভিজাত হোটেল সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলা এবং কুয়াকাটা গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড সি রিসোর্ট পর্যটকদের আগমনের জন্য বাড়তি প্রস্তুতি নিলেও সেভাবে বুকিং না থাকায় এ দুটি হোটেলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হতাশ। সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জয়নাল আবেদীন চোকদার হতাশার সুরে বলেন, ‘আমাদের ১২টি ভিলা এবং এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের ৬৮টি রুম রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০টি রুম ভাড়া হবে কি না, সন্দেহ রয়েছে।’

কুয়াকাটা গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড সি রিসোর্টের ফ্রন্ট অফিস এক্সিকিউটিভ শাকিল মজুমদার বলেন, ‘আমাদের হোটেলে ৬ ধরনের ২৬টি রুম রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২টি রুম বুকিং হয়েছে। ছুটির অন্য সময়ে যেভাবে চাপ পড়ে এবার সে রকম মনে হচ্ছে না।’

কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটার ১১ কিলোমিটার খানাখন্দে ভরা সড়ক, কুয়াকাটার অভ্যন্তরীণ সড়কের নাজুক হাল এবং স্থানীয় অবকাঠামোর বেহাল অবস্থার জন্যই বড় ছুটিতেও পর্যটকেরা এই এলাকার কম আসছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।