ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

বিএনপিতে এখন চলছে মাইনাস টু ফর্মুলা

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ সামরিক বাহিনীর প্রধান ও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতায় বসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যার সংক্ষেপে ইংলিশ নাম বিএনপি। তবে দলের সমর্থক ও নেতাকর্মীরা এখন আর জিয়াকে জিয়াউর রহমান বলে সম্বোধন করে নাম বলেন শহীদ জিয়াউর রহমান।

চট্টগ্রামে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর এই শহীদ পদবি জিয়ার নামের পাশে দলীয় সমর্থকরা সংযোজন করে। এদিকে জিয়া হত্যার পর দলটি এক বিরাট ভাঙনের সম্মুখীন হয়। পাকিস্তান ফেরত বাঙালি সামরিক অফিসার, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি, বিভিন্ন ছোটখাটো ডান বাম ও দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল থেকে আগত নানা মতের ব্যক্তিদের নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে জিয়ার অবর্তমানে এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয় দলটি। বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এই সময় বলতে গেলে হঠাৎ করেই বেগম খালেদা জিয়াকে সামনে আনা হয়। একজন জেনারেল ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে রাজনীতিতে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা  ছিল না। তবুও হাল ধরতে বাধ্য হয়েছিলেন স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির।

রাজনীতির এই চলার পথে একসময় তিনি শূন্য থেকে বিত্ত হয়ে দাঁড়ালেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সাথে জিয়ার নামকে সামনে রেখে বিএনপিকে তিনি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন। তবে তার এই সফলতার পেছনে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা সামরিক অফিসারদের এক বিরাট অংশ। কারণ মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে পাকিস্তান ফেরত বাঙালি অফিসারদের আর কোনো বিকল্প ছিল না। জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে সামরিক বাহিনীর ভেতরে বিভিন্ন অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে সামরিক আদালতে একতরফা বিচারের মাধ্যমে অসংখ্য অফিসারকে হত্যা করার পেছনে এদের অনেকের হাত ছিল বলে অনেকেই বলে থাকেন। কারণ যাদের হত্যা করা হয়েছিল তারা বেশিরভাগই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। ফলে পাকিস্তান থেকে আসা সামরিক অফিসারদের বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে যতদিন আধিপত্য ছিল ততদিন বিএনপিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বিএনপির পক্ষে তাদের একটা বড় সমর্থন কাজ করেছে সবসময়।

পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া তার নিজ পরিবারের কথা চিন্তা করে বিএনপিকে জিয়া পরিবারের অধীনে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে ধীরে ধীরে নিয়ে আসেন। এই লক্ষে তিনি নিজের ভাই বোন থেকে শুরু করে ছেলে তারেক রহমানকে বিএনপির সাথে সংযুক্ত করেন। দলের ভেতরে তার এই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে অনেকের  আপত্তি থাকলেও নিজেদের স্বার্থে কেউ এর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেনি। এভাবেই একদিন জিয়ার রেখে যাওয়া অসহায় পরিবার রাতারাতি অর্থনীতিতে চাঙা হয়ে উঠে। সেই সাথে বেগম খালেদা জিয়া ও পুত্র তারেক  রহমান হয়ে উঠেন বিএনপির একচ্ছত্র সিদ্ধান্তকারী। এভাবেই ধীরে ধীরে ছেলে তারেক রহমানকে খালেদা জিয়া বিএনপির রাজনীতিতে তার উত্তরসূরি হিসেবে সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান ব্যক্তির স্থানে নিয়ে আসেন।

তবে বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে এখন আর আগের অবস্থা নেই। সেদিনের পাকিস্তান থেকে আসা সামরিক কর্মকর্তারা সবাই অবসর গ্রহণ করেছেন। এদের কেউ কেউ অবসরে গিয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এমনকি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেদের সক্রিয় রেখেছেন। এছাড়া বর্তমান সামরিক বাহিনী দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। জিয়া এরশাদ আর খালেদা জিয়ার ক্ষমতামলের মতো রাজনৈতিক কোনো দলের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। একসময় সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে জড়িয়ে ও সামরিক আইন জারি করে জেনারেল জিয়া ও পরবর্তী সময়ে জেনারেল এরশাদ যে রাজনীতির অবতারণা করেছিলেন সেই দিন এখন শেষ। সামরিক বাহিনীর  মধ্যে  হানাহানি রক্তারক্তি আর হত্যার লীলা খেলার দিন এখন শেষ। এই কারণেই সামরিক ছাউনিতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নামের দল দুইটির বর্তমান অবস্থা আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছে।

জিয়ার পরে খালেদা জিয়া এবং তার পরবর্তী সময়ে এই পরিবার থেকে কোনো ব্যক্তিকে বিএনপির কর্ণধার হিসেবে সামনে আনা হবে তা প্রথমদিকে কেউ ভাবেনি। যেদিন দলের তারেক রহমানকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে মা খালেদা জিয়া নিযুক্ত করেন সেদিন দলের সিনিয়র নেতারা সিদ্ধান্তটাকে সহজভাবে গ্রহণ করেনি। কিন্তু ক্ষমতার লোভে কারো প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি। তবে দলের ভেতরে একটি চাপা বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠে। কিন্তু দলের কর্ণধার খালেদা জিয়া সিনিয়র নেতাদের এই অসন্তুষ্টতাকে পাত্তা দেননি। এভাবেই বিএনপির একক ক্ষমতাসীন খালেদা জিয়া নিজ পরিবারকে বিএনপির রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করেন।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে বিএনপি অবস্থান এখন সব কিছুতেই উলট-পালট হয়ে গেছে। বর্তমান বিএনপি থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বাহিরে অবস্থান করছেন। একজন দুর্নীতির দায়ে আদালতের রায়ে দীর্ঘদিন থেকে  কারাদ-আর অন্যজন একই কারণে দিত হওয়ায় কারাদের ভয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেনষ অর্থাৎ বিএনপিতে এখন চলছে মাইনাস টু ফর্মুলা। যাকে বলা যায় খালেদা-তারেকবিহীন বিএনপি। আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতি বলছে শিগগিরই তাদের পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়া বর্তমান  বিএনপির অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে নেমেছে যে দলটি এখন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে যোগ দিয়েছে। এখানে নেতৃত্বটা ড. কামাল হোসেনের কাছে বিএনপির কাছে নয়। অথচ এখনো বিএনপিকে একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। বিএনপি এখানে অন্যান্য দলের মতোই একটি শরিক দল মাত্র। এককভাবে  খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার মতো শক্তি না থাকায় ঐক্যজোটের শরণাপন্ন হয়েছে বিএনপি। খালেদা-তারেকবিহীন বিএনপির এই হলো বর্তমান অবস্থা।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

বিএনপিতে এখন চলছে মাইনাস টু ফর্মুলা

আপডেট টাইম : ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ সামরিক বাহিনীর প্রধান ও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতায় বসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যার সংক্ষেপে ইংলিশ নাম বিএনপি। তবে দলের সমর্থক ও নেতাকর্মীরা এখন আর জিয়াকে জিয়াউর রহমান বলে সম্বোধন করে নাম বলেন শহীদ জিয়াউর রহমান।

চট্টগ্রামে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর এই শহীদ পদবি জিয়ার নামের পাশে দলীয় সমর্থকরা সংযোজন করে। এদিকে জিয়া হত্যার পর দলটি এক বিরাট ভাঙনের সম্মুখীন হয়। পাকিস্তান ফেরত বাঙালি সামরিক অফিসার, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি, বিভিন্ন ছোটখাটো ডান বাম ও দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল থেকে আগত নানা মতের ব্যক্তিদের নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে জিয়ার অবর্তমানে এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয় দলটি। বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এই সময় বলতে গেলে হঠাৎ করেই বেগম খালেদা জিয়াকে সামনে আনা হয়। একজন জেনারেল ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে রাজনীতিতে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা  ছিল না। তবুও হাল ধরতে বাধ্য হয়েছিলেন স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির।

রাজনীতির এই চলার পথে একসময় তিনি শূন্য থেকে বিত্ত হয়ে দাঁড়ালেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সাথে জিয়ার নামকে সামনে রেখে বিএনপিকে তিনি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন। তবে তার এই সফলতার পেছনে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা সামরিক অফিসারদের এক বিরাট অংশ। কারণ মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে পাকিস্তান ফেরত বাঙালি অফিসারদের আর কোনো বিকল্প ছিল না। জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে সামরিক বাহিনীর ভেতরে বিভিন্ন অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে সামরিক আদালতে একতরফা বিচারের মাধ্যমে অসংখ্য অফিসারকে হত্যা করার পেছনে এদের অনেকের হাত ছিল বলে অনেকেই বলে থাকেন। কারণ যাদের হত্যা করা হয়েছিল তারা বেশিরভাগই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। ফলে পাকিস্তান থেকে আসা সামরিক অফিসারদের বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে যতদিন আধিপত্য ছিল ততদিন বিএনপিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বিএনপির পক্ষে তাদের একটা বড় সমর্থন কাজ করেছে সবসময়।

পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া তার নিজ পরিবারের কথা চিন্তা করে বিএনপিকে জিয়া পরিবারের অধীনে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে ধীরে ধীরে নিয়ে আসেন। এই লক্ষে তিনি নিজের ভাই বোন থেকে শুরু করে ছেলে তারেক রহমানকে বিএনপির সাথে সংযুক্ত করেন। দলের ভেতরে তার এই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে অনেকের  আপত্তি থাকলেও নিজেদের স্বার্থে কেউ এর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেনি। এভাবেই একদিন জিয়ার রেখে যাওয়া অসহায় পরিবার রাতারাতি অর্থনীতিতে চাঙা হয়ে উঠে। সেই সাথে বেগম খালেদা জিয়া ও পুত্র তারেক  রহমান হয়ে উঠেন বিএনপির একচ্ছত্র সিদ্ধান্তকারী। এভাবেই ধীরে ধীরে ছেলে তারেক রহমানকে খালেদা জিয়া বিএনপির রাজনীতিতে তার উত্তরসূরি হিসেবে সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান ব্যক্তির স্থানে নিয়ে আসেন।

তবে বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে এখন আর আগের অবস্থা নেই। সেদিনের পাকিস্তান থেকে আসা সামরিক কর্মকর্তারা সবাই অবসর গ্রহণ করেছেন। এদের কেউ কেউ অবসরে গিয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এমনকি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেদের সক্রিয় রেখেছেন। এছাড়া বর্তমান সামরিক বাহিনী দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। জিয়া এরশাদ আর খালেদা জিয়ার ক্ষমতামলের মতো রাজনৈতিক কোনো দলের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। একসময় সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে জড়িয়ে ও সামরিক আইন জারি করে জেনারেল জিয়া ও পরবর্তী সময়ে জেনারেল এরশাদ যে রাজনীতির অবতারণা করেছিলেন সেই দিন এখন শেষ। সামরিক বাহিনীর  মধ্যে  হানাহানি রক্তারক্তি আর হত্যার লীলা খেলার দিন এখন শেষ। এই কারণেই সামরিক ছাউনিতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নামের দল দুইটির বর্তমান অবস্থা আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছে।

জিয়ার পরে খালেদা জিয়া এবং তার পরবর্তী সময়ে এই পরিবার থেকে কোনো ব্যক্তিকে বিএনপির কর্ণধার হিসেবে সামনে আনা হবে তা প্রথমদিকে কেউ ভাবেনি। যেদিন দলের তারেক রহমানকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে মা খালেদা জিয়া নিযুক্ত করেন সেদিন দলের সিনিয়র নেতারা সিদ্ধান্তটাকে সহজভাবে গ্রহণ করেনি। কিন্তু ক্ষমতার লোভে কারো প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি। তবে দলের ভেতরে একটি চাপা বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠে। কিন্তু দলের কর্ণধার খালেদা জিয়া সিনিয়র নেতাদের এই অসন্তুষ্টতাকে পাত্তা দেননি। এভাবেই বিএনপির একক ক্ষমতাসীন খালেদা জিয়া নিজ পরিবারকে বিএনপির রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করেন।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে বিএনপি অবস্থান এখন সব কিছুতেই উলট-পালট হয়ে গেছে। বর্তমান বিএনপি থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বাহিরে অবস্থান করছেন। একজন দুর্নীতির দায়ে আদালতের রায়ে দীর্ঘদিন থেকে  কারাদ-আর অন্যজন একই কারণে দিত হওয়ায় কারাদের ভয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেনষ অর্থাৎ বিএনপিতে এখন চলছে মাইনাস টু ফর্মুলা। যাকে বলা যায় খালেদা-তারেকবিহীন বিএনপি। আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতি বলছে শিগগিরই তাদের পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়া বর্তমান  বিএনপির অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে নেমেছে যে দলটি এখন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে যোগ দিয়েছে। এখানে নেতৃত্বটা ড. কামাল হোসেনের কাছে বিএনপির কাছে নয়। অথচ এখনো বিএনপিকে একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। বিএনপি এখানে অন্যান্য দলের মতোই একটি শরিক দল মাত্র। এককভাবে  খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার মতো শক্তি না থাকায় ঐক্যজোটের শরণাপন্ন হয়েছে বিএনপি। খালেদা-তারেকবিহীন বিএনপির এই হলো বর্তমান অবস্থা।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক